প্রতিভাস: মার্চ ২০২৬

ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি

তাপস সরকার 

সকাল সকাল স্নান সেরে পুজোয় বসে, উপোস করে সকাল থেকে। অতিথিদের সে আদর-আপ্যায়ন করে। প্রত্যেকবারই বায়না ধরে আমাকে যাওয়ার জন্য, পাড়া-বেপাড়া থেকে কে কে গেছে তার উৎসবে সেই তালিকা শোনায়। আমি তবু যাই না। সে দুঃখপ্রকাশ করে সদাসর্বদা। আমার দাদা সপরিবারে গিয়েছে, আমার মেয়ে আর তার মাও গিয়েছিল একবার। তাতেও খুশি হয় না হারা, বড়ই তার অনুযোগ আমি যাই না বলে। যাওয়া হয়ে ওঠেনা নানা কারণে। জীবনে অনেক আকর্ষণ, অনেক ভালোলাগা রয়েছে যাদের পেতে ব্যস্ত থাকি সর্বসময়। হারার মন্দির বা বাৎসরিক উৎসব তাদের মধ্যে একটিও হতে পারেনি আমার কাছে। আমি বেঁচে আছি আমার নিয়মে, সেখানে হারা বা তার উৎসবের ছাপছোপ দেখা পাওয়া যায় না…….

 

.

শরদিন্দু সাহা

‘শর্মিষ্টা’ নাটক অভিনীত হচ্ছিল বেলগাছিয়া রঙ্গালয়ে। কবি মধুসূদন দত্ত পায়চারি করছিলেন কি এক অজানা আশঙ্কায়। মনের কোণে জেগে ওঠা ভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে বলে উঠলাম মানুষটাকে একবার চোখের দেখা দেখব, দেখিই না এই নব্য বাঙালির সঙ্গে আমার কল্পনার মিলন ঘটে কিনা। খালি মনে হচ্ছিল এমন উদ্দীপনা নিয়ে যে মানুষটা বেঁচে আছে তাঁর জীবনদর্শন ভিন্ন মাত্রার না হয়ে যাবে না। পরখ করাটা অন্য দু-চারজন ব্যক্তিত্বের মতো অবশ্যই হবার নয়, নতুন এক দিশার খোঁজ মিলবেই মিলবে…..


.

ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী

তুষার বরণ হালদার

.

.

.

আশিস ভৌমিক

প্রথমে দেবতারা মাটি দিয়ে মানুষ তৈরি করলো। কিন্তু মাটি দিয়ে তৈরি এই মানুষরা ঠিক সেরকম না, যা দেবতারা চাইছিলেন। তারা খুবই নরম আর ভঙ্গুর, সোজা হয়ে দাঁড়াতেও এদের সমস্যা হচ্ছিল। আর বৃষ্টি হওয়ার পর তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দেহ থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছিল। এর চেয়েও বড় কথা হলো, তাদের দেখার মতো চোখ কিংবা কাজ করার জন্য কোনো মস্তিষ্ক ছিল না। শুধু কথা বলার জন্য মুখ দেওয়া হয়েছে। মস্তিষ্কবিহীন এই মানুষরা ঠিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে না পারায় অর্থহীন কথা বলে বেড়াচ্ছিল। শেষমেশ বিরক্ত হয়ে দেবতারা এই মাটির মানুষগুলোকে ধ্বংস করে দিলেন….

.

অমিতাভ সরকার

.

.

.

.

.

দীপান্বিতা

১৯৮৩ সালে মালান আমিন কানোর মৃত্যুর পর তিনি পিপলস রিডেম্পশান পার্টির জাতীয় উপসভাপতি নির্বাচিত হন। নাইজেরিয়ার হাইনেমান এডুকেশনাল বুকস-এর পরিচালক হিসেবে প্রচুর আফ্রিকার লেখকদের বই ছাপিয়েছেন ও উৎসাহ দিয়েছেন। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দ্বিভাষিক পত্রিকা উহ্বা নাদি ইগোবো চালু করেন যা পরবর্তীকালে ইগবো শিক্ষার মূল্যবান উৎস হয়ে দাঁড়ায়...

.

প্রীতন্বিতা

এর আকার পৃথিবীর তুলনায় দশ শতাংশ বেশি। কিন্তু এর ভর, আকার ও আয়তন জানা নেই। আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল যে এটি পাথুরে হওয়ার সম্ভাবনা। এই আবিষ্কারের আগে পৃথিবীর আকারের গ্রহগুলির মধ্যে কেপলার ৬২ পৃথিবীর থেকে আকারে চল্লিশ শতাংশ বেশি ছিল……

.

তপোপ্রিয়

বর্ষাদিনের ঝমাঝম বৃষ্টির মতই মুখরিত স্মৃতিগুলি আমার, যারা কেবলই বর্ষার আমি তাদের হাতিয়ে দেখি। মনে ভাসে মায়ের মুখ, অরণ্যময় পাহাড়ি রাজ্যের স্বপ্নিল পরিবেশে আমার কৈশোর, উপত্যকায় আর শালের জঙ্গলে বন্ধু সঙ্গী করে ঘোরাফেরা আর রবীন্দ্র-নজরুলের বর্ষাসংগীত, বৃষ্টিজল টৈটম্বুর মাঠগুলিতে সদলবলে ছোটাছুটি আর মায়ের শাসনবাণী…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো

.

.

.

.

নীলাদ্রি পাল

‘হিপ্পোলো হুকুম্মা’, ‘হিপ্পোলো হুকুম্মা’। ক্রমাগত কানে বাজছে এই সুর আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরির নর্থ গেটে কর্মরত এক প্রহরীর। অমাবস্যার রাত, তার ওপর রাত গভীর। দু’চোখ বন্ধ হওয়ার কোনো উপায় নেই। কারণ ডিউটি। রাতের শিফটে পাহারা দেওয়ার ডিউটি। চোখ ঘুমে জড়িয়ে না আসার ওষুধ হিসেবে খৈনি ডলছিল সে। হঠাৎ অমন সুরে একটানা শব্দে ন্যাশনাল লাইব্রেরির ভিতর দিকে তাকাতেই তার আক্কেল গুড়ুম। পালকি বাহকেরা লাইব্রেরির বিল্ডিংয়ের দিক থেকে নর্থ গেটের দিকে একটানা ‘হিপ্পোলো হুকুম্মা’, ‘হিপ্পোলো হুকুম্মা’ আওয়াজ তুলে বয়ে আনছে একটা পালকি। পালকিটা হঠাৎ বাঁক নেওয়ার সময় প্রহরী দেখতে পেলো পালকির ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক সাহেবকে….

.

শিশির আজম

‘রশোমন’ দেখতে বসে চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক রুচি-চরিত্র-আচার নিয়ে কিছু প্রশ্ন দর্শকের মাথায় ভীড় করতে পারে। ‘রশোমন’ কি কেবলই সিনেমা? আর এই সাদা-কালো সিনেমায় এতো রং কেন? হ্যা, এই সিনেমায় কুরোসাওয়া সিনেমার ট্র্যাডিশানকে যেভাবে ধারণ করেছেন, আবার তাকে ভেঙেছেন, আর এই ভাঙচূরের ভিতর নিজের কথাগুলো বলতে চেয়েছেন, এই জারণ-বিজারণে ফরাসি পোস্ট-ইম্প্রেশনিজমের পেইন্টিংয়ের হানা কি আমরা টের পাইনে…..

..

.

বাজারের ডিম বিক্রেতার নাম ঝাঁঝাঁ ঝোল। তার কাছে গেল হাচিয়া ফাল। তাকে দেখেই ঝাঁঝাঁ ঝোল দন্ত বিকশিত হাসি হেসে বলল, ‘আরে এসো এসো, কত জন্ম দেখিনি তোমাকে। ছিলে কোথায়? হনুলুলু না হন্ডুরাস? গত বছর গোটা পাঁচেক ডিম কিনেছিলে। মাত্র এক বছরেই খেয়ে শেষ করে দিলে? নাকি এখনো সবকটা খেয়ে উঠতে পারোনি?’ দেখে আর শুনে হাড়পিত্তি জ্বলে গেল। লোকটা শত্রুরও অধম। তবুও রাগ দমন করে হাচিয়া ফাল তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘শোনো ঝাঁঝাঁ, তোমার কাছে পচা ডিম আছে? আমার কিছু পচা ডিম লাগবে।’…..

.

.

বই আলোচনা

.

রিচার্ড ফেইনম্যান, আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ, জগদানন্দ রায়

সম্পাদক দীপান্বিতা 

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর 

সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :

প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী

Visitors

018812
Views Last 30 days : 2694
Total views : 37796