প্রতিভাস: জুলাই ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি
তাপস সরকার
তবুও অন্তরে শান্তি বা সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছিল যে একটা গোটা ডাক্তারকে গিলে খেয়ে বসে আছি। সাপ হয়ে খাই বা অন্য কিছু হয়ে, খেয়েছি তো? একটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আমারই কারণে শেষ হয়ে গেছে। যদি ব্যাপারটা মাথায় না থাকত, যদি সর্পমূর্তি ধারণ করে আমি কে ভুলে যেতাম তাহলেও কথা ছিল। কিন্তু সব যে আমার মনে টাটকা জেগে আছে। সাপ হই আর যা হই, অঘটনটা ঘটাবার সময় কেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না? সেই কথাটাই বলে যেতে লাগলাম। রিক্ত তখন বলল আমাকে…
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
কিশোরী চাঁদ মিত্র মহাশয়ের কাছে এর কোনো সঠিক জবাব ছিল না বলেই জানি। আমি না হয় বিদেশি যাজক, এনাদের হলোটা কি, দেশীয় বিদ্বজ্জন বই তো নয়? এতটা আনুগত্য মানানসই নয় তো বটেই, বিসদৃশ লাগে। আমার ভাবতে ইচ্ছে করে দেশটাকে এরা কোন দৃষ্টিতে ভাবে। এনাদের ভাবনার মধ্যেই কোনো গলদ আছে। এই মাটি জলহাওয়াকে এরা হেলায় উপেক্ষা করেছে, না হয় এমনটা হয়! জানতে ইচ্ছে করে কেন এত উদাসীনতা। এক চাষী সেদিন আমার বিদ্যালয়ের বারান্দায় এসে বলে গেলেন – বলতে পারেন আমরা কেন এককোনে পড়ে থাকি…..
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী সেই সময় দিল্লিতে স্থানান্তরিত হলে, দিল্লিতে প্রভাবশালী এবং বিত্তবান মানুষদের নিয়ে জমকালো শোভাযাত্রার আয়োজন করেন লর্ড হার্ডিঞ্জ। ব্রিটিশ শাসিত ভারতের বড়লাট হাতির পিঠে চড়ে হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে দিল্লির চাঁদনীচক পার হয়ে কুইন্স গার্ডেনের দিকে যাচ্ছিলেন। এইরকম পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন বিপ্লবী রাসবিহারী বসু। তাই শোভাযাত্রা হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই লর্ড হার্ডিঞ্জকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি এবং এ ব্যাপারে তিনি গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেন মাত্র ১৭ বছর বয়স্ক বসন্ত বিশ্বাসের উপর…
.
.
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
প্রাচীন মায়ারা তাদের পৃথিবীকে তিন স্তর বিশিষ্ট মহাবিশ্ব হিসেবে কল্পনা করত, যার মধ্যে ছিল আকাশের গম্বুজ তৈরি করা, চার পার্শ্বযুক্ত পৃথিবী যা মানুষের আবাসস্থল এবং পৃথিবীর নীচের পৃথিবী অর্থাৎ পাতাল। পৃথিবী নিজেই একটি জলাবদ্ধ ভিত্তির উপর ভাসমান, যা প্রায়শই পাতালের সাথে যুক্ত। তিনটি স্তরের সংযোগকারী হল অক্ষ মুন্ডি, বিশ্ববৃক্ষ, বা মহাবিশ্বের কেন্দ্র, সাধারণত একটি গাছ দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা হয় যার শাখা আকাশে থাকে, যার কাণ্ড পৃথিবীর মধ্য দিয়ে উঠে আসে এবং যার শিকড় পাতালের দিকে প্রসারিত হয়….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
ছোটোবেলা থেকেই বেলা মুখোপাধ্যায়ের ওপর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে। অল্পবয়সে বাবা চলে যাওয়ায় তিনি এবং বোন আভাকে স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই অর্থ উপার্জনের চিন্তা করতে হয়েছিল। পারিবারিক সূত্রেই গানটাকে উত্তরাধিকার হিসাবে পেয়েছিলেন। জন্ম ১৯৩০ সালের ২৯শে মে মুর্শিদাবাদে মামার বাড়িতে। সিউড়ির জমিদার পরিবারের মানুষ হলেও বাবার চাকরিস্থল ছিল ধানবাদে। তবে মধ্য কলকাতায় চলে আসায় ছোটোবেলা এখানেই অতিবাহিত হয়েছিল….
.
.
ছোট গল্প
.

কবিতা
.

এখানে ওখানে
সুদীপ ঘোষাল
অনেক বছর আগে এই গ্রামে তিলি বংশজাত ভূপাল নামক এক রাজা বাস করতেন। সেই রাজার একটি ছেলে ছিল, তার নাম চন্দ্রকেতু। মনে করা হয় চন্দ্রকেতুর নামেই এই গ্রামের নাম হয়েছে কেতুগ্রাম। প্রাচীনত্ত্বের বিচারে এই কেতুগ্রামের বয়স অনেক। অনেকের মতে এই কেতুগ্রামেই জন্মেছিলেন নানুরের বিশালাক্ষী-বাশুলি দেবীর উপাসক চন্ডীদাস। এই গ্রামে ছিল তাঁর আদি বাসস্থান। এই কেতুগ্রামের উত্তরদিকের একটি জায়গাকে স্থানীয় মানুষজন চন্ডীভিটা বলে সম্বোধন করে থাকে ...
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
ওয়েলস টমাস মোরলে অ্যাকাডেমিতে পড়তে পড়তে পড়া ছাড়তে বাধ্য হন, কেননা তাঁর বাবার পা ভেঙে যায় এবং তিনি আর ক্রিকেট খেলতে পারলেন না। ফলে ছেলের পড়াশোনার খরচ দিতে পারতেন না। ১৪ বছর বয়সে ওয়েলস একজন বস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন যে অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা তাঁর পরবর্তী লেখাতে প্রতিফলিত হয়েছে...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
বিবর্তনবাদ বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে জীবনের উৎস বলে ধরে নিলে মানতেই হয় যে পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টি হয়েছিল আকস্মিকভাবে, কোন পরিকল্পনা বা লক্ষ্য ছিল না এই সৃষ্টির পিছনে। জীবনের এই উৎসের বীজ তাহলে সুপ্ত ছিল অজৈব উপাদান সমূহের মধ্যে। অজানা অতীতে কোন এক সময় অজৈব উপাদানগুলি থেকে হঠাৎ অকারণে, একেবারেই এলোমেলো ভাবে বিবর্তন ঘটেছিল জৈব উপাদানগুলির। এমন ঘটনা কি বাস্তবে ঘটতে পারে……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
আজ এতদিন পর আমার অতীত বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নিজেকে খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। মা যত সহজে লক্ষ্মীদের পরিবারের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছিল, লক্ষ্মীরা যেভাবে আমাদের আপন করে নিয়েছিল আমি তেমন কোনদিনই পারিনি। চিরকাল আমার মধ্যে দম্ভ, জড়তা, উন্নাসিকতা কাজ করে এসেছে।। এসব জটিলতা আমাকে দিল খোলা হতে দেয়নি অনেক সময়। তার জন্য জীবনের অনেক সুষমা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
আমি বললাম, আপনি বসুন। রাকেশ বসল। তারপর বলল, আজ ম্যাগনোলিয়া গাছটাতে অনেক ফুল ফুটেছে। সাদা ফুল। আমি কাল অনেকগুলো কুড়ি দেখেছিলাম। আজ আস্তে আস্তে ফুটছে। বলে ধীরে ধীরে ঘরের ভিতরে চলে গেল।বিপুলা নিচু গলায় বলল, ম্যাগনোলিয়া ফুলের গাছ এখানে চৌহদ্দির মধ্যে নেই। ও সারা দিন এই সব দেখে। কোন এক গভীর যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথ খোঁজে সারা দিন। আর আমি ছাত্রীদের নিয়ে থাকি…
.
.

যাপনচিত্র
কুন্তল দাশগুপ্ত
আপনার বিচারে পুষ্করের কী শাস্তি বিধান করেছেন? বেতস লতার মত হিলহিলে শ্যামাঙ্গী নীলাম্বরা মধুজার স্বরে সম্ভ্রম। হয় মজুরী নয় ডাবের কাঁদি। ব্যারিটোনে সুকান্তি। এই টোন হেজিমনিক। গলে যায় মধুজা। অভিভাবকহীন নিরালম্বতা আলম্বন বিন্দু অভিসারী হতে প্রাণপণ করে। আপনি কোনটা দেবেন ঠিক করেছেন? অর্ধনমিত মুখে প্রশ্ন রাখে মধুজা সাবধানে। ডাবের কাঁদি। জানতে চাও কেন? সুকান্তির কথা-প্রান্তে মুখ তোলে সুনেত্রা মধুজা। পূর্ণ দৃষ্টিতে চায়… চেয়ে ব’সে থাকে। পুষ্কর রোজ ভ্যান রিকশায় ঘুরে ঘুরে ডাব বিক্রী করে….
..
.
বিশেষ প্রতিবেদন

চাওয়া-পাওয়ার সীমানায় নাটক
কৃষ্ণপদ দাস
নাট্যচর্চার সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে চর্যাপদ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। কেননা পদকর্তাদের লেখনীতে মুখ্য রয়েছে জন-জীবন। আবার এই জনজীবনই নাটকের প্রধান উপকরণ । সময়ের পরিবর্তনের ঢেউ নাটকের বিষয়েও পরিবর্তন এনে দিল। ব্রিটিশ আমল থেকেই এদেশে নাট্যশালা তৈরীর প্রবণতা দেখা যায় । ধনী জমিদার নাট্যশালা তৈরী করে নিজেকে মহান ভাবেন। সে সময়ের সফল নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণের নাম করতেই হবে । তারপর হার ধরলেন মধুসূদন । অলীক কুনাট্য থেকে নাটককে মুক্তি দিতে লিখলেন মহাকাব্যের ঘটনা অবলম্বনে নাটক …..
.
.
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
সত্যি কথাটা হলো এই যে হাচিয়া ফাল ওই দীর্ঘ কবিতার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছিল না। চেনা চেনা শব্দ দিয়ে বানানো লাইনগুলি লাইন হওয়ার পরই দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছিল। সে বসেছিল তার কোন কাজ ছিল না বলে। তারপর লোকজন চলে যেতে থাকলে তার আরো আনন্দ হল। অত বড় অডিটোরিয়ামে একা বসে থাকার মজাই আলাদা। না বুঝলেও সুর করে পড়তে থাকা কবিতা শুনতে তার ভালই লাগছিল এবং আরামে ঘুমিয়ে যাচ্ছিল মাঝেমধ্যে। এখন পুলকিত পলায়নের সাদর আমন্ত্রণ পেয়ে সে নিজেও পুলকিত হয়ে গেল। ঠিক করল, পরদিন সকালে উঠে সে চলে যাবে কবির বাড়ি…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও তাঁর প্রবন্ধ
.
বিদগ্ধ কৌতুক
জর্জ ডব্লিউ বুশ , বার্নার্ড শ, স্বামী বিবেকানন্দ, হিটলার
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী






Views Last 30 days : 2849
Total views : 46631