প্রতিভাস: মে ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি
তাপস সরকার
এরাই ঠিক মানুষ। যারা আমকে কেবল আম হিসেবেই দেখে তারা আমি-তুই জাতীয় সাধারণ জনতা, যে আমের মধ্যে অন্য ফলকেও খুঁজে পায় সে আরেকটু উন্নত, যে এক আমে আরও পঞ্চাশটা ফল দেখবে সে আরও উন্নত এবং এমন করে করে উন্নত হওয়ার মাত্রা বাড়তে থাকবে, তারপর একজনকে পাওয়া যাবে যে সমস্ত ফলকে দেখবে এক আমের মধ্যে। তার চেয়েও উন্নত যেজন সে আমের মধ্যে সব ফল ছাড়াও অন্য অনেক কিছুর অবস্থান দেখতে পাবে আর এভাবেই আংশিক ঠিক মানুষের উন্নতি ঘটতে থাকবে…
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
আমার ইচ্ছা ও আগ্ৰহ দুটোই যেন মিলেমিশে আমাকে ওঁরই প্রতিষ্ঠিত স্কুলে টেনে নিয়ে যায়, এই ঘটনাকে কাকতালীয় ছাড়া কিইবা বলা যায়। এই আত্মপ্রচার বিমুখ মানুষটার মুখোমুখি হয়ে যাবো কখনও, ভাবি নি। প্রথম সাক্ষাতেই বললেন, আমি শুনেছি অনেক কথাই লঙ সাহেব, ছাত্রদের জ্ঞানের স্পৃহা জাগাতে আপনার খ্যাতি আজ বঙ্গবাসীর মুখে মুখে। নিজের লজ্জা লুকোতে গিয়ে বললাম, আপনি কি শুনেছেন জানি না, তবে বঙ্গদেশে আপনার মতো উদার মনের মানুষের বড় প্রয়োজন। ওরা সকলে মুখ চেয়ে বসে আছে, কে ওদের আলোয় ফেরাবে…..
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
এই তিন তরুণের প্রত্যেকেই মাতৃভূমির স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারকল্পে চরম আত্মত্যাগ করে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তিকামী মানুষের মনে আজও তাদের পবিত্র স্মৃতি রয়েছে অম্লান। এবং সেদিন ম্রিয়মাণ পরাধীন জাতির চিত্তে যে সুগভীর দেশপ্রেম ও আত্মবিসর্জনের প্রেরণা তারা জাগিয়েছিলেন তারই সামান্য স্মারক রূপে এই ঘটনার প্রায় চল্লিশ বছর পর, ১৯৬৯ সালের ৮ ডিসেম্বর মহাকরণের সম্মুখস্থ ডালহৌসি স্কোয়ার নাম বদলিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিনয় বাদল দীনেশ বাগ বা ‘ বিবাদী বাগ ‘….
.
.
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
এক্সবালাংখুয়ে ও হুনাহপু দুই যমজ ভাই তাদের বাবা কাকার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পাতাল-লোকে যাওয়ার জন্য তারা তাদের বাবা কাকার পথ অনুসরণ করল অর্থাৎ পাতাল-লোকের প্রবেশ দ্বারের মুখে খেলার মাঠে জোরে জোরে চিৎকারপুর্বক খেলতে লাগল। তাদের একটানা জোরে জোরে চিৎকার শুনে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন নরকদেব এক্সিবালবা। আগের বারের মতই এবারেও তিনি দুটি দূত পাঠালেন সমন পাঠিয়ে যে, তারা যেন এক্সিবালবার সাথে দেখা করে এবং সেখানে এসে খেলে এক্সিবালবাকে যেন হারিয়ে দেয়…
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
তিনি নিজেই ছিলেন চলমান এক সঙ্গীত। অনুভূতিকে সুরে ফুটিয়ে সরগমের নিখাদ জড়ানো মীড় গলায় নিয়ে একটা গানকে যে কোন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়- সতীনাথ মুখোপাধ্যায় তার উজ্জ্বল উদাহরণ। শ্রোতারা ভালোবেসে ’মরমি’ শিল্পী আখ্যায়িত করলেও রাগপ্রধান গানে ওঁর দাপট ছাপিয়ে যেত জোয়াড়ির অদ্ভুত অনুপমেয়তায়। তালিম, স্বরক্ষেপণ, আকুতি – সব মিলিয়ে যেন সাক্ষাৎ ইষ্ট মন্ত্রোচ্চারণ….
.
.
ছোট গল্প
.

কবিতা
.

এখানে ওখানে
সুদীপ ঘোষাল
ঝালংয়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে জলঢাকা নদী। বনবাংলোর পাশে ঝোলুং ঝোরা এঁকেবেঁকে গিয়ে মিশেছে জলঢাকা নদীতে। সামনে জলঢাকার ওপর ব্রিজ। ঝালং থেকে পাহাড়ি পথে ছোট্ট গ্রাম প্যারেন হয়ে ভুটান সীমান্তে ভারতের শেষ জনপদ বিন্দু। পথে পড়বে ঝালং-এ জলঢাকা হাইডেল পাওয়ার প্রজেক্ট, প্যারেনে রঙিন রঙিন কাঠের বাড়িঘর আর রাস্তার ধারে কমলালেবুর বাগান। ছবির মতো পাহাড়ি গ্রাম বিন্দু….
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
প্রাচীন হিন্দু এবং চৈনিক সংস্কৃতি তাঁকে খুবই প্রভাবিত ও আচ্ছন্ন করেছিল। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের মধ্যভাগে তাঁর পরিবার খুবই সংকটপূর্ণ সময়ের ভিতর দিয়ে যায়। তাঁর প্রথমা স্ত্রী মারিয়ার মানসিক বৈকল্য হয় এবং ছোট ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই সময় লেখা তাঁর বই রোনাল্ডোতে তিনি শিল্পীদের বিয়ে করার যৌক্তিকতা নিয়ে অনেক বোঝাপড়া করেন এবং সবশেষে নেতিবাচক রায় দেন, মনে হয় যেন তাঁর নিজের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
মাল্টিভার্স তত্ত্বে রয়েছে বহু অসংগতি। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা বোধহয় এই যে এমন বহু বিশ্বের অস্তিত্ব না যায় প্রমাণ করা, না যায় অস্বীকার করা। তাই পুরো তত্ত্বটিই কেমন একটা ফন্দি করে করা বলে মনে হয়। তাছাড়া বিশ্বনিখিলের এই প্রাণ সহায়তা যেহেতু কোনমতেই সৃষ্টি রহস্যভেদের পরিপূরক নয়, কোনরকম নির্বাচন প্রক্রিয়া বা সৃষ্টির ক্রমবিকাশ এর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
সেই বিকেলে আমাদের ওই কুয়োতলার পাশে নিরিবিলি আমেজে শুয়ে থাকা ভিজে ভিজে সমতলভূমিটাতে আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম। ছেলে মেয়ে মিলিয়ে দশ-পনেরো জন তো হবেই। বুনো গাছের ডাল ভেঙে হৈ হৈ করে সবাই মিলে ঘাসের জমিটাতে দাগ কেটে কেটে দাড়িয়াবান্ধা খেলার ঘর বানানো হলো। কাজ এতোটুকু তো হল্লা চার গুণ। বহু বাদানুবাদ, চেঁচামেচি করে দল তৈরি হলো…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি। দেখি তখন তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেছে। ধারাল অন্য দৃষ্টি। এর পর আর কিছুই কথা বলার সুযোগ থাকে না। চুপ করে থাকতেন তিনি। আমার সঙ্গে অনেকদিন এমন উদাসীন সময় কেটেছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হত, আমাকে কেন এই সব বলেন? পরে বুঝেছি, তার নিজের কথা বলার লোক ছিল না…
.
.

যাপনচিত্র
কুন্তল দাশগুপ্ত
আজ তোকে মাটির দুধ খাওয়াতেই নে এলুম— মিহিরের মুখে এমন একটা ভাব যেন বুবুনকে ও একটা রূপকথার দেশে নিয়ে চলেছে। মাটির দুধ! কেমন স্বাদ তার? কারা কীভাবে দোয়? তার বাড়িতে গরু আছে। মাসী দোয়। কারা মাটি দোয়? কৌতুহল চাপতে না পেরে বুবুন জিজ্ঞেস ক’রে ফেলে— মাটির দুধ কে দোয় রে? আবার হেসে ওঠে সবাই। বুবুন বোঝে তার বোকামিতে হাসছে ওরা। মিহির আঙুল দেখিয়ে বলে— ঐ ওরা। মিহিরের আঙুল নির্দেশ করছে মাঠে নিড়োচ্ছে যে চাষীরা তাদের দিকে দেখে বুবুনের চোখ বড় বড় হয়ে ওঠে….
..
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
রাস্তাভর্তি কুকুরের পাল ঘুরে বেড়ায় দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা। ওই রাস্তাই তাদের বাড়িঘর। তা ঘুরে বেড়াক ক্ষতি নেই, রাস্তা সবার ঘুরে বেড়ানোর জন্যই। পাগল-ফকির, গাড়ি-ঘোড়া, লোকজন ইত্যাদি সবাই যদি ঘুরে বেড়াতে পারে কুকুরদের বাধা কোথায়? কুকুররা সরকারকে ট্যাক্স দেয় না বলে রাস্তায় ঘুরতে পারবে না এই যুক্তি হাচিয়া ফাল মানে না। তার আপত্তি অন্য জায়গায়। রাস্তায় কুকুরগুলি ঘুরে বেড়ায় বলে নয়, আপত্তি তারা দিনরাত যে পরিমাণে চিল্লামিল্লি করে তার জন্য…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
বিষণ্ণ বর্ণমালার নেপথ্যে
.
বিদগ্ধ কৌতুক
আইনস্টাইন , দাদাঠাকুর, জগদানন্দ রায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী






Views Last 30 days : 1482
Total views : 42194