প্রতিভাস: অক্টোবর ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

এটাই আমার দ্বীপ
তাপস সরকার
ছোট্ট বয়সে আমি ফড়ি্ংদের সঙ্গে খেলে বেড়াতে ভালবাসতাম। তারা যখন ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়াত আমি তাদের পিছনে ছুটোছুটি করে যেতাম। আমার মা দেখে খুব খুশি হত কারণ সে ভাবত এভাবেই আমার মধ্যে প্রকৃতির জন্য ভালোবাসা জন্ম নেবে। কিন্তু সে জানত না আমার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। উড়ন্ত ফড়িংরা আমার নাগালের বাইরে থাকত বলে আমি তাদের আমার অধীনে ও নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইতাম। এক সাম্রাজ্যলোভী বিজেতার মত মানসিকতা গড়ে উঠছিল আমার মধ্যে। হাজার চেষ্টা করেও আমি তাদের ধরতে পারতাম না বলে আমার বেশ রাগ হত। শেষে একদিন আমার চেষ্টা সফল হল, আমি একটি ফড়িং ধরতে পারলাম। আমি এটিকে অন্যান্য সমস্ত ফড়িংদের প্রতিনিধি হিসেবে ধরে এমনভাবে শাস্তি দিতে চাইলাম যাতে এটি কোনভাবে আমার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে। আমি এর ডানাগুলি ছিঁড়ে ফেললাম। পতঙ্গটির যন্ত্রণাকাতরতা আমাকে বেশ খুশি ও পরিতৃপ্ত করল…
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
কল্পনার নদীতে যখন ডুবুরি সেজে ডুব দিতে চাইছি, হঠাৎই দেখা পেয়ে গেলাম খিদিরপুরের এক অঞ্চলে কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই মানুষটি তাঁর সৃষ্টিতে সেতুবন্ধন ঘটিয়েছে গুপ্তকবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত আর এক শক্তিমান কবি মধুসূদন দত্তের সঙ্গে। ইতিহাস আশ্রিত বিষয়কে কাব্য রচনার বিষয় করেছেন। বললাম, আপনার ‘পদ্মিনী’ উপাখ্যান আমার সঙ্গেই রয়েছে। বললেন, ‘কেমন লেগেছে আপনার?’ প্রশংসায় পঞ্চমুখ না হয়ে ওঁর বিষয়ের দিকেই খানিকটা ঘুরে গেলাম।, বললাম, এত কবিত্ব শক্তি নিয়ে নিজেকে লালন করাই তো কঠিন….
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
ফাঁসির পূর্ব দিন ১৩ই মে ১৯৩৪ সাল ৭ ডিগ্রি সেল থেকে সন্ধ্যায় আনা হবে সুকুলকে ১৫ ডিগ্রির এক নম্বর সেলে। এক নম্বর সেল থেকেই অপেক্ষিত ফাঁসির আসামিকে অতি প্রত্যুষে নিয়ে যাবার নিয়ম ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলাবার জন্য। সেদিন অপরাহ্নে জেনারেল লকআপ নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই খোলা হবে। কয়েদিদের যার যার ব্যারাকে ও সেলে ঢোকানো হচ্ছে। বিভূতি বাবুরাও তালা বন্ধ হয়ে গেছেন সাত তাড়াতাড়ি। এবার বিভূতি বাবুর লেখার মর্ম উদ্ধৃত হচ্ছে: ” তখন সন্ধ্যা হয়নি, বিকেলটা সন্ধ্যার দিকে চলেছে, প্রচন্ড শীতে কম্বল কুর্তা গায়ে চড়িয়ে লোহার গড়াদ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ঝনঝন আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে বৈকুণ্ঠ ১৫ ডিগ্রির করিডোরে ঢুকলেন চিৎকার করে বললেন ‘ দাদা, আ গ্যয়া....
.
.
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
পৌরাণিক কাহিনী এবং এরসঙ্গে জড়িত গল্পগুলো বিভিন্ন সমসাময়িক ও পরবর্তী সভ্যতার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। নিঃসন্দেহে, চিচেন ইৎজা এবং টলটেক তোলান শহর দুটির বিন্যাস, স্থাপত্য , শিল্পকলা এবং প্রতিমাশিল্পের দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ইঙ্গিত দেয় যে টলটেক এবং ইউকাটেক মায়াদের মধ্যে ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক যোগসূত্র ছিল। কিন্তু কোনটি অন্যটিকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করেছিল তা পণ্ডিতদের মধ্যে এখনও বিতর্কের বিষয়, কারণ পৌরাণিক কাহিনীগুলো খণ্ডিত এবং পরবর্তীকালের ঐতিহ্যের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে ও মিশে গেছে। অধিকন্তু, টিকে থাকা ভৌত প্রমাণগুলো পরস্পরবিরোধী। উদাহরণস্বরূপ, চিচেন ইৎজার দেয়ালচিত্রে নৌ-আক্রমণ এবং নৃশংস যুদ্ধের দৃশ্য দেখানো হলেও , তা ইউকাটান উপদ্বীপে শান্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আসা একজন জ্ঞানী ও পরোপকারী কুকুলকানের গল্পের সাথে মেলে না….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
বাবা উপেন্দ্রনাথ সেন কাশিমবাজার রাজবাড়িতে গান করতেন। সে আমলে সংগীতজ্ঞ হিসাবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। প্রাথমিক ভাবে পুত্রকে গানের শিক্ষা দিলেও উনি নিজে কিন্তু কখনওই চাননি যে ছেলে গায়ক হোক, পরন্তু দুর্গাদাসকে গণপতি ভট্টাচার্যের কাছে যাদুবিদ্যা শিখিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। অল্প বয়স থেকেই দুর্বল দৃষ্টিশক্তি দুর্গাদাসের যাদুকর হয়ে ওঠার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। গুরুর একজন প্রিয় শিষ্য হয়েও তাই জাদুকর হয়ে ওঠা আর হলো না। ওরিয়েন্টাল সেমিনারি স্কুল (মতান্তরে কুমার রাধাপ্রসাদ ইনস্টিটিউশন) থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পরই ষোল বছর বয়সে বাবার মৃত্যু হলে জীবনের সেদিনের সেই দিশাহীন অবস্থায় সংগীতকে অবলম্বন করেই বেঁচে থাকার একটা অধ্যায় শুরু হয়….
.
.
ছোট গল্প
.

কবিতা
.
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
গুন্টার গ্রাসের ডানজিগ ট্রিলোজির প্রথমভাগ টিন ড্রাম, দ্বিতীয়টি ছিল বিড়াল ও ইঁদুর। এই উপন্যাসে ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৪ সালের পটভূমিকায় স্থানীয় নিম্ন মধ্যবিত্ত যুবকদের কথা উঠে এসেছে। তৃতীয় ভাগটির নাম ডগ ইয়ার্স। এখানে নাৎসিদের অপরাধ ও তাদের যুদ্ধোত্তর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এরপর লেখক পটভূমি হিসেবে বার্লিন শহরকে বাছাই করেন...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
সংঘর্ষে জন্ম নেওয়া সুপারস্টার ক্লাস্টারগুলির অধিকাংশেরই মৃত্যু হলেও অন্তত দশ শতাংশ এক কোটি বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। অ্যান্টেনা গ্যালাক্সিদের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল আজ থেকে পঞ্চাশ কোটি বছর আগে। সেই পর্যায়েই এই নক্ষত্রগুলির লেজ সৃষ্টি হয় যা দেখতে কিনা অনেকটা অ্যান্টেনার মত……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
সারাজীবন মাকে এমনই দেখেছিলাম। এখন বিশ্লেষণ করে দেখতে পাই, মা কখনো সমস্যা থেকে পালিয়ে যেতে চাইত না। সমস্যা এলে তাকে মোকাবিলা করার মনোভাবটা আমার মধ্যে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া উপহার। মা বিশ্বাস করত, সমস্যা একা আসেনা, সঙ্গে নিয়ে আসে সমাধানের ইঙ্গিত। সেই ইঙ্গিতটুকু ধৈর্য ধরে বুঝে নিতে হয়। ধৈর্য হারালে চলেনা। তাহলে সমাধানের সূত্র অনাবিষ্কৃত থেকে যায়…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
সবশেষে আমার পরিচয়ের পর্বের পর সে উঠে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিল, স্যার আপনি কখনও আমাদের দেশে গেছেন? আমি বলেছিলাম, না। বেগম সে দিনই আমন্ত্রণ করে বলেছিল, একবার আসবেন আমাদের দেশে। খুব ভালো লাগবে। দিল্লীর মত এমন গা জ্বালানি গরম নেই। কাঠ ফাটা রোদ নেই, লু বয় না। সারা ক্লাসের মতোই আমিও অবাক হয়েছিলাম। আফ্রিকা অথচ গরম নেই? মেয়েটা কি বানিয়ে নিজের দেশের গুণগান করছে…
.
.

যাপনচিত্র
কুন্তল দাশগুপ্ত
নিজেদের খাওয়া সারা হতে হতে বেলা চারটে বেজে গেল। এরপরে বাদ দেওয়া যাক প্রসাধন থেকে স্ত্রী-আচার পর্যন্ত কাল পর্ব যা একেবারেই ছিল রীতিমতো। অবশেষে অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার… বিয়ের ডেট ফাইনাল হওয়া থেকে এই স্ত্রীআচার পর্যন্ত প্রতিটি পল সে প্রতীক্ষা করেছে এই মুহূর্তটির। মুখোমুখি হবে এবং হওয়াবে সত্যর। তারপর সে দেখবে পুরুষ তোর দম কত… খুট করে শব্দ হল, ধীরে যেন সন্তর্পণে ঢুকলেন বর মহোদয়। কাজরীকে বিছানার ওপর বসে থাকতে দেখে যেন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল….
..
.
বিশেষ প্রতিবেদন

ছ’য়ের দশকে বহুরূপীর রবীন্দ্র নাটক ও শম্ভু মিত্রের নাটক – প্রযোজনা
কৃষ্ণপদ দাস
আধুনিক বাংলা-নাট্যের আলোচনায় অন্যতম ব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র। অভিনেতা, নাট্যকার, পরিচালক এবং সংগঠকের ভূমিকায় থেকে প্রথম গ্রুপ থিয়েটারের সূত্রপাতের জনক তিনিই। প্রথম গ্রুপ থিয়েটার ‘বহুরূপী’ — যা তৈরীর কৃতিত্ব শম্ভু মিত্রের। গণনাট্য সংঘ থেকে বেরিয়ে এসে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে নিয়ে ‘বহুরূপী’ খুব স্বল্প সময়েই বিশেষ উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছে রবীন্দ্র-নাট্যের প্রযোজনা দিয়ে — যা পাঁচের দশক থেকে শুরু হয়েছিল। পাঁচের দশকে ‘রক্তকরবী’, ছয়ের দশকে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে ‘বিসর্জন’ ‘রাজা’ নিয়ে জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠে বহুরূপী…..
.
.
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
পরে খোঁজখবর নিয়ে সে জানতে পেরেছিল আসল রহস্য। বিশ্রী সংঘের সদস্যরা ইচ্ছে করেই তাদের সাইনবোর্ড ওইভাবে রাস্তায় ফেলে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে কাছাকাছি। কেউ তার মত সাইনবোর্ড তুলে বেদির গর্তে বসিয়ে দিতে গেলেই তারা সদলবলে তার ওপর হামলা চালিয়ে টাকা আদায় করে। ওই জন্যই রাস্তা দিয়ে চলা সমস্ত লোকজনরা সাইনবোর্ডটাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
বিদ্রোহী কবির অকাল জীবন
.
বিদগ্ধ কৌতুক
নিউটন, শরৎচন্দ্র, মার্ক টোয়েন, ডারউইন
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী
![]()
