প্রতিভাস: ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি
তাপস সরকার
কুরজাখানায় সকল বস্তুই টালমাটাল, সকলই অস্থির, শান্তিতে থাকে না কোন কিছুই একদণ্ড। কেউ এখন ওপরে তো তখন নিচে, পরক্ষণেই আবার তার গড়াগড়ি খাওয়ার মত পরিস্থিতি। কেউ যদি কুরজাখানায় পাকেচক্রে চলে যায় তো সে দেখতে পাবে ধরাধামে সুস্থিরতা শব্দটি সর্বতোভাবে অর্থহীন। সে এক এমন প্রদেশ বা ঘটনাপ্রবাহ যে তার অন্তর্গত সমস্ত উপাদান অলীক বলে ধারণা করা যেতে পারে। মজার কথা এই যে কেউ তারা অদৃশ্য নয় এবং চোখের সামনেই ঘোরাঘুরি করে। সেখানে আকাশ-পাতাল কোন কিছুরই হদিশ নেই। আকাশ থাকলে আছে, না থাকলেও কারো কিছু যায়-আসে না। ওপরদিকে তাকালে যেমন আকাশ দেখা যাবে, সেখানে কিন্তু তেমনটা নাও হতে পারে…….
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে গিয়ে যে পূর্বসুরীদের অপূর্ণতা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে তাকে অস্বীকার করবো এমন বুকের পাটা আমার নেই। মালদহের জন্ এলার্টন, চুঁচুড়ায় রেভারেন্ড রবার্ট মে, বর্ধমানের ক্যাপ্টেন জেম্স স্টিওয়ার্ট, কালনা ও চন্দননগরের জন্ পীয়ার্সন ও জে হার্লিদের কল্পনা আর বাস্তবের মেলবন্ধন চাক্ষুষ করিনি বটে কিন্তু উপলব্ধিতে বার বার ঘুরে ফিরে আসে যা এই দেশটাকে নিজের করে নিতে যেন প্রলুব্ধ করে দেয়। মিস কুক তো চেষ্টার কসুর করেননি, আট আটটি স্কুল স্থাপন করেছেন…..
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
লাহোর জেলের অস্বস্তিকর পরিবেশ, বন্দীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, নিকৃষ্টমানের খাদ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য বৈষম্যমূলক নীতি এবং কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তিনি আমরণ নিরম্বু অনশন শুরু করলেন ১৩ই জুলাই থেকে। ( এখনকার মত অনশন নয়, দিনে না খেয়ে রাত্রে চব্য- চোষ্য – লেহ্য – পেয় গ্রহণের ভন্ডামি) ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ তাকে কোনভাবেই খাওয়াতে রাজি করাতে পারেনি…..
.
.
.
পুরোনো পাড়ার গল্প
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস
আসলে কষ্ট পেতে পেতেই আমরা শক্ত হয়ে উঠি, ভেঙে পড়তে পড়তেই আমরা নতুন কিছুর তাগিদ পাই। মনে মনে বলি, ভালো থেকো নতুন হয়ে ওঠা পাড়া, পাল্টাতে থাকা কালনা। কোথাও আমি আছি। আমি থাকবো। সেই থাকাকে মুছে দিতে পারবে না বর্মণ ডাক্তারখানা মোড়ে মিষ্টির দোকানের গা লেগে ওঠা একটা অর্বাচীন বহুতল। ভালো থেকো কালনা....
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, ফ্রান্সিসকান মিশনারিরা তাদের ধর্মকে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় মায়াদের প্রায় সমস্ত লিখিত নথি পুড়িয়ে ফেলেন। আজ, মাত্র তিন বা চারটি মায়া কোডেক্স অবশিষ্ট আছে। এর মধ্যে তিনটির নামকরণ করা হয়েছে ইউরোপীয় শহরগুলির নাম অনুসারে যেখানে এগুলি রাখা হয়েছে – ড্রেসডেন, প্যারিস এবং মাদ্রিদ। চতুর্থ বই গ্রোলিয়ার কোডেক্স, যা বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত, তার সত্যতা এখনও বিতর্কিত….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
অর্ঘ্য সেনের গান মানেই এক অতিন্দ্রিয় সুধারস ঢালা প্রাণের আকুল আকুতি- স্থান-কাল-পাত্রনির্বিশেষে তা যেন শান্তির জীবন বাণী হয়ে মরমে প্রবেশ করে। স্বরক্ষেপণ, ভাব, সুর -এসব তো আছেই – কোন ধরনের গানে গলার কীরকম ওঠানামা হবে (বিখ্যাত সুরকার কমল দাশগুপ্ত, ফিরোজা বেগমের কাছে শেখা ভয়েস মডুলেশনের ট্রেনিং তো ছিলই) -তার এক স্বার্থক দৃষ্টান্ত এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী…..
.
.
ছোট গল্প
.
কবিতা
.

চলচ্চিত্রের সেকাল একাল
সৌমিতা রায় চৌধুরী
আশির দশকে বলিউডে চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগ শুরু হয়। শিল্পী সত্ত্বার পাশাপাশি অর্থকরী দিকেও বলিউড চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এই সময়ের বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম হল ‘দোস্তানা’। রাজ খোসলা পরিচালিত ছবিটি সেই বছরে চতুর্থ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে বলিউডে জায়গা করে নেয়। ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন যশ জোহর। সেলিম জাভেদের গল্পের ওপর ভিত্তি করে চিত্রটি নির্মাণ করা হয়.....
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
ইনিড ব্লাইটন দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মময় জীবনে শিশুদের নিয়ে ছশরও বেশি বই রচনা করেছিলেন। তাঁর বিশ্ব বিখ্যাত রচনার নাম দা ফেমাস ফাইভ। জুলিয়ান, ডিক, অ্যানি, জর্জ এবং টিম নামে একটি কুকুর— এরাই হলো দ্য ফেমাস ফাইভের মূল চরিত্র। ১৯৮০ সালের মধ্যে ইনিডের লেখা এই রচনা বিশ্বের বাজারে ছ কোটি কপিরও বেশি বিক্রি হয়। প্রায় ৭০ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল এই রচনা...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
সাম্প্রতিক এক রহস্যজনক আবিষ্কার কিন্তু এসব ধারণার মূল ধরে নাড়া দিয়েছে। সন্দেহ দেখা দিয়েছে, পাশ দিয়ে চলে যাওয়া তারকার টানে ক্যুইপার বেল্ট সৃষ্টি হওয়ার তত্ত্বটিতেও। কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা গভীর মহাকাশে সৌরজগতের প্রায় বাইরে এক শিলাগঠিত বস্তুপিণ্ড খুঁজে পেয়েছেন যা সৌরজগৎ সৃষ্টির মূল তত্ত্বকে যথেষ্ট ধাক্কা দিয়েছে……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
আমাদের বাড়ির একেবারে শেষে ছিল ডাকমা জলা। সেই আশ্চর্য জলাভূমির নিবাস এখনও আমার মনে। উঁচু টিলা নেমে গেছে জলার দিকে, নেমেই আমাদের পুকুর। একধারে বেতঝোপ, পুকুরের মধ্যেই তার সবংশ-সংসার। পুকুরের অন্য পাশে গা এলিয়ে থাকা এক অলস আমগাছ, বর্ষায় পুকুরের জল ফুলে উঠলে ওই গাছের পাতা আর ডালপালাও ডুবে যেত…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
এতই অসুস্থ হয়েছিলাম যে হাসপাতালে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যখন ঘুম ভাঙল, তখন পরের দিন। সেই আমার পৃথিবীকে অন্য চোখে দেখা। ক্যাপ্টেন আমাকে তার বাড়ি নিয়ে গেল। আমি এক খালাসী থেকে অন্য খালাসীতে পালটে গেলাম। ক্যাপ্টেনের বাড়িতে গিয়ে আমি তো অবাক। ক্যাপ্টেনের তিন স্ত্রী। বেশ অবস্থাপন্ন। তিনটি স্ত্রীর মধ্যে বড় স্ত্রী খুব মমতাময়ী। আমাকে সারা বাড়ির কাজ করতে হত। খুব ছোটোবেলায় মাকে হারিয়েছিলাম। বড় বউ আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমার জ্বর হলে কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন…
.
.
.
.

বাংলার আনাচে কানাচে
নীলাদ্রি পাল
তোরণ তৈরির নেপথ্যে ঘটে যাওয়া বাপারগুলি কিন্তু বেশ উল্লেখযোগ্য। ১৯০৩ সালে ছোটলাট লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার বোর্ডিলিয়ন সাহেবের উপস্থিতিতে বিজয় চাঁদের রাজ্যাভিষেক ঘটে। সেই বছরই তোরণটি তৈরির পরিকল্পনা হয় এবং কাজ শুরু হয়। পরের বছর ১৯০৪ সালে বর্ধমানে পরিদর্শনে আসেন লর্ড কার্জন। স্টার গেট অফ ইন্ডিয়ার দ্বারোদঘাটন করেন এবং সেই পথ দিয়েই বর্ধমান শহরে প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে ইংরেজ প্রভুর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য বিজয়চাঁদ তোরণের নাম বদলে ‘কার্জন গেট’ রাখেন….
.

কালজয়ী চলচ্চিত্র
শিশির আজম
ওজুর চলচ্চিত্রে যে নীরবতা আর ছোট ছোট দৃশ্য, এটা সময়ের অনিবার্যতাকে জোরালো করে তোলে। An Autumn Afternoon সিনেমায় জীবনের স্বাভাবিক সরলতাকে আমরা ধীরে ধীরে এক গভীরতর উপলব্ধিতে পাই। এতে কোন তাড়াহুড়ো নেই, অস্থিরতা নেই, নাটকীয় সংলাপ নেই। জাপানের মানুষ ও প্রকৃতিতে যে সরলতা ও নিয়মনিষ্ঠতা আছে তা থেকে ওজুর ক্যামেরা আমাদের বঞ্চিত করেনি…..
..
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
আপনার মত গুণী ব্যক্তি প্রথমবার আমার বাড়ি এলেন। তেমন কিছু আয়োজন করতে পারলাম না, বড়ই দুঃখের কথা। আপনি আমার সানাই শুনে প্রশংসা করতে এসেছেন, জানি। আজকাল আপনার মত এমন মহান বোদ্ধা শ্রোতা ক’জন আর আছে বলুন? আমার বাজনা যে আপনাকে এত মুগ্ধ, এত সন্তুষ্ট করেছে তাতে আমি ধন্য। বলে কী রে লোকটা! হাচিয়া ফাল খাবার খেতে খেতে খাবিও খাচ্ছিল। এতটাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল এবং খাবার খেতে এমনই ব্যস্ত ছিল যে কিছু আর বলতেই পারল না। হঠাৎ ‘দাঁড়ান, আসছি’ বলে মধুরেন সমাপয়েৎ দৌড়ে ভিতরে চলে গিয়ে আবার দু’ মিনিটের মধ্যেই এসে হাজির হাতে সেই সানাই নিয়ে…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
চুম্বন শব্দটির পরিচয় ভিন্ন
.
বিদগ্ধ কৌতুক
চার্লি চ্যাপলিন, ক্ষিতিমোহন সেন, রজনীকান্ত সেন, জর্জ বার্নার্ড শ
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী






Views Last 30 days : 3124
Total views : 35014