প্রতিভাস: এপ্রিল ২০২৬

ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি

তাপস সরকার 

সকাল সকাল স্নান সেরে পুজোয় বসে, উপোস করে সকাল থেকে। অতিথিদের সে আদর-আপ্যায়ন করে। প্রত্যেকবারই বায়না ধরে আমাকে যাওয়ার জন্য, পাড়া-বেপাড়া থেকে কে কে গেছে তার উৎসবে সেই তালিকা শোনায়। আমি তবু যাই না। সে দুঃখপ্রকাশ করে সদাসর্বদা। আমার দাদা সপরিবারে গিয়েছে, আমার মেয়ে আর তার মাও গিয়েছিল একবার। তাতেও খুশি হয় না হারা, বড়ই তার অনুযোগ আমি যাই না বলে। যাওয়া হয়ে ওঠেনা নানা কারণে। জীবনে অনেক আকর্ষণ, অনেক ভালোলাগা রয়েছে যাদের পেতে ব্যস্ত থাকি সর্বসময়। হারার মন্দির বা বাৎসরিক উৎসব তাদের মধ্যে একটিও হতে পারেনি আমার কাছে। আমি বেঁচে আছি আমার নিয়মে, সেখানে হারা বা তার উৎসবের ছাপছোপ দেখা পাওয়া যায় না…….

 

.

শরদিন্দু সাহা

‘শর্মিষ্টা’ নাটক অভিনীত হচ্ছিল বেলগাছিয়া রঙ্গালয়ে। কবি মধুসূদন দত্ত পায়চারি করছিলেন কি এক অজানা আশঙ্কায়। মনের কোণে জেগে ওঠা ভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে বলে উঠলাম মানুষটাকে একবার চোখের দেখা দেখব, দেখিই না এই নব্য বাঙালির সঙ্গে আমার কল্পনার মিলন ঘটে কিনা। খালি মনে হচ্ছিল এমন উদ্দীপনা নিয়ে যে মানুষটা বেঁচে আছে তাঁর জীবনদর্শন ভিন্ন মাত্রার না হয়ে যাবে না। পরখ করাটা অন্য দু-চারজন ব্যক্তিত্বের মতো অবশ্যই হবার নয়, নতুন এক দিশার খোঁজ মিলবেই মিলবে…..


.

ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী

তুষার বরণ হালদার

.

.

.

আশিস ভৌমিক

প্রথমে দেবতারা মাটি দিয়ে মানুষ তৈরি করলো। কিন্তু মাটি দিয়ে তৈরি এই মানুষরা ঠিক সেরকম না, যা দেবতারা চাইছিলেন। তারা খুবই নরম আর ভঙ্গুর, সোজা হয়ে দাঁড়াতেও এদের সমস্যা হচ্ছিল। আর বৃষ্টি হওয়ার পর তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দেহ থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছিল। এর চেয়েও বড় কথা হলো, তাদের দেখার মতো চোখ কিংবা কাজ করার জন্য কোনো মস্তিষ্ক ছিল না। শুধু কথা বলার জন্য মুখ দেওয়া হয়েছে। মস্তিষ্কবিহীন এই মানুষরা ঠিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে না পারায় অর্থহীন কথা বলে বেড়াচ্ছিল। শেষমেশ বিরক্ত হয়ে দেবতারা এই মাটির মানুষগুলোকে ধ্বংস করে দিলেন….

.

অমিতাভ সরকার

.

.

.

.

.

দীপান্বিতা

যদি জিজ্ঞেস করা হয় দিয়েত্রিচ নিকারবোকার আসলে কে চট করে উত্তর দেওয়া হয়তো সহজ নয়। অথবা জোনাথান ওল্ডস্টাইলা বা জিওফ্রে ক্রেয়ন কে ছিলেন, এই প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়া কঠিনই হবে। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় রিপ ভ্যান উইংকেল সম্পর্কে তাহলে অনেকেই নিশ্চয় এই নামটি চিনতে পারবেন...

.

প্রীতন্বিতা

কম্পিউটার সফটওয়্যার-এর মত ডিএনএ কোড হচ্ছে সেই জেনেটিক ভাষা যা অর্গানিক সেলকে তথ্য সরবরাহ করে থাকে। এই ডিএনএ কোড বাইনারি কোডের ফ্লপি ডিস্কের মতো, এর মূল গঠনের ক্ষেত্রে খুবই সোজাসাপ্টা। কিন্তু এর বিভিন্ন পর্যায় এবং কার্যপদ্ধতি ভীষণভাবেই জটিল……

.

তপোপ্রিয়

গল্প ওকে টানে প্রচন্ড নেশায়। পড়ার চেয়েও বেশি আগ্রহ শোনায়। শুরু করেছিলাম রূপকথা-টুপকথা কিছু একটা দিয়ে, সেই যখন কথাও শেখেনি ঠিকমতো। তখন থেকেই আমার কোলে শুয়ে ঘুমানো অভ্যেস। প্রথমে কোলের চেয়েও লম্বা ছোট, তারপর কোলের সমান সমান, শেষে পা বেরিয়ে গেল কোল থেকে। এখন আমার কোল থেকে এতটাই বেড়ে গেছে যে ঘুমোবার সময় আর কোলে নিয়ে রাখার প্রশ্নই নেই। কিন্তু গল্প শোনার নেশাটা থেকেই গেছে, বিশেষ করে, হাতির গল্প…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো

.

.

শিশির আজম

এই সিনেমার প্রধান চরিত্র সম্ভবত ক্যামেরা নিজেই। নিজের চোখে সে সবকিছু দেখছে। ধর্ম, রীতি, নৈতিকতা কিছুই তার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। ভের্তভের এই সিনেমা পরবর্তীতে চলচ্চিত্রকারদের ওপর কতোটা প্রভাব ফেলেছে তা চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীগণ সবাই জানেন। গোদার-ক্রুফো-ব্রেঁসো-রেহমারের কথা তো বলেছিই। আরেকটু পরে আব্বাস কিয়ারোস্তামি বা মোহসেন মাখমালবাফকে আমরা দেখবো সিনেমাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নিতে। এবং সেখানে চলচ্চিত্রের দৃশ্যে  ক্যামেরাকে লুকিয়ে রাখার দরকার পড়ছে না…..

..

.

হাচিয়া ফাল যাচ্ছিল তখন সেখান দিয়ে। যাচ্ছিল আরো অনেকেই, তবে কেউই দুম খো যে তার বাচ্চা ছেলেটাকে পেটাচ্ছিল তাতে ভ্রুক্ষেপ করছিল না। কেউ কিছু বলছে না দেখে দুম খো আরো বেশি উৎসাহ পেয়ে ছেলেকে আরো প্রবল বিক্রমে প্রহার করে যাচ্ছিল। এমনিতে হাচিয়া ফাল নিজেও বাচ্চাদের পছন্দ করে না, সুযোগ পেলে সেও যেকোনো বাচ্চাকেই মনের সুখে পিটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এখানে তার যে কী দুর্মতি হল! সে হঠাৎ দাঁড়িয়ে দুম খো-কে বাধা দিয়ে বলল…..

.

.

বই আলোচনা

.

সঞ্জীবচন্দ্র , রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন, অস্কার ওয়াইল্ড

সম্পাদক দীপান্বিতা 

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর 

সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :

প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী

Visitors

020471
Views Last 30 days : 3181
Total views : 40557