প্রতিভাস: এপ্রিল ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি
তাপস সরকার
কিন্তু ঠিক মানুষ হওয়ার যাত্রাপথে কিছু মানুষ আছে যারা ঠিক মানুষ না হলেও কাছাকাছি এমন কিছু যাদের সান্নিধ্যে থাকতে ভালোবাসে ঠিক মানুষরা। এই তথ্যটা জানিয়ে রিক্ত আমাকে এমন উৎসাহিত করে দিল যে নিজের অন্যান্য বিপদ-আপদের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম। এই কাছাকাছি ঠিক মানুষ খুঁজে বার করার নেশায় মেতে হিতাহিত মাথায় থাকল না। রিক্ত যেমন আমার উপকার করে তেমনি বিস্তর বিপদেও ফেলে। ওর পাল্লায় পড়েই আমি মানুষ দেখে বেড়াবার বদভ্যাস গড়ে তুলেছি আর ঠিক মানুষ খুঁজে পাওয়ার নেশায় ভুগছি। এতে কী বিপদ হয়েছে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। কোন মানুষকেই আর এখন মানুষ মনে হয় না, নিজেকেও নয়…
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
আগরপাড়ার এক ছাত্র আচমকাই আমার কাছে জানতে চাইল আমি কোন পথে হাঁটবো। আমার জীবনদর্শন আমাকে দিকনির্দেশ করছে, মানুষের কথা বলো, একবিন্দু ডানেও নয়, বামেও নয়, ধর্মীয় পরিচয়কে উপেক্ষা কর, পৃথিবীর যাবতীয় মানুষের মুখগুলো কিন্তু একই পঙক্তিতে দাঁড়িয়ে আছে, তাকে আমি উপেক্ষা করি কী করে, খ্রিষ্ট শব্দের মোড়কে মুড়িয়ে ফেলতে হবে, এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয় নি অথচ আমি কিনা আইরিশ-ইংলিশ, এই পরিচয় আমি কোথায় লুকাবো, ধর্মপ্রচারক সত্তাকে কোনোভাবে ঘুম পাড়িয়ে রাখা যায়…..
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
অন্তরে বিপ্লবের শিখা নিয়ে প্রীতিলতা এরপর কলকাতা থেকে আসেন চট্টগ্রামে। পুলিশকে ধোঁকা দেবার উদ্দেশ্যে শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কাজ নেন। যার টানে চট্টগ্রাম আসে প্রীতিলতা তারই জন্য সে ১৯৩২ এর ১৩ জুন ছুটে যায় ধলঘাট গ্রামে মাস্টারদার গোপন আশ্রয় স্থলে। আর হবি তো হ সেই রাতেই মাস্টারদার আশ্রয় গৃহে পুলিশ হানা দেয় ফলে শুরু হয় খন্ড যুদ্ধ…..
.
.
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
জুমুকেন বা এক্সমুকেন তার ছেলেদের খেলার বল ও সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখত কারণ সে চায় না যে তার নাতিরা তাদের বাবা এবং কাকার সাথে কী ঘটেছে তা জানুক এবং তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করুক। কিন্তু ভবিতব্য খন্ডাবে কে? যমজরা সরঞ্জামটি খুঁজে পায় এবং তারা দুর্ধর্ষ খেলোয়াড় হয়ে ওঠে। তাছাড়া তারা দুর্দান্ত শিকারী এবং জাদুকরী ক্ষমতাও অর্জন করে। একদিন শিকার করতে গিয়ে তারা একটি ইঁদুর ধরে এবং ইঁদুরটি তাদের বলে, পাতালে তাদের বাবা এবং কাকার সাথে কী ঘটেছিল। তারা তখন মনেমনে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিজেদের তৈরি করে….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
জীবন কোন মানুষকে কোথায় যে নিয়ে যায়, সেটা তার নিজেরও জানা থাকে না। ভাবনা আর বাস্তব – সময়ের অগ্রগতিতে ঠিক কোথায় গিয়ে উপনীত হয়, সেটা কি শুধুই প্রচেষ্টা নাকি পূর্বনির্ধারিত – এর প্রকৃত সদুত্তর কিছু না থাকলেও কিছু মানুষের সাধনা, ভালোবাসা হয়ে ওঠে একটা অনন্য দৃষ্টান্ত।
যাঁকে নিয়ে এই লেখা, তিনি শ্যামল গুপ্ত। হ্যাঁ, গীতিকার শ্যামল গুপ্ত…..
.
.
ছোট গল্প
.

কবিতা
.

এখানে ওখানে
সুদীপ ঘোষাল
কথিত আছে সপত্নীপীড়িতা খুল্লনা উজানির কাছে ছাগল চরাতেন। যে স্থানে ভাত রান্না করে মাড় গালতেন সেই স্থানটি মাড়গড়া নামে পরিচিত ছিল। চণ্ডীমঙ্গলের ধনপতি দত্ত এই ভ্রমরার দহ থেকেই ডিঙায় চেপে সিংহলে বাণিজ্যে গিয়েছিলেন। আবার তাঁর পুত্র শ্রীমন্তও মঙ্গলচণ্ডীর চরণে পুজো দিয়ে সিংহলে পিতার অনুসন্ধানে যেতে ভ্রমরার দহ থেকেই সাত খানি ডিঙা ভাসিয়েছিলেন। যে স্থানে দাঁড়িয়ে সাতখানি ডিঙা দেখেছিলেন সেই স্থানটি শ্রীমন্তর ডাঙা নামে পরিচিত ছিল….
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
যদি জিজ্ঞেস করা হয় দিয়েত্রিচ নিকারবোকার আসলে কে চট করে উত্তর দেওয়া হয়তো সহজ নয়। অথবা জোনাথান ওল্ডস্টাইলা বা জিওফ্রে ক্রেয়ন কে ছিলেন, এই প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়া কঠিনই হবে। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় রিপ ভ্যান উইংকেল সম্পর্কে তাহলে অনেকেই নিশ্চয় এই নামটি চিনতে পারবেন...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
কম্পিউটার সফটওয়্যার-এর মত ডিএনএ কোড হচ্ছে সেই জেনেটিক ভাষা যা অর্গানিক সেলকে তথ্য সরবরাহ করে থাকে। এই ডিএনএ কোড বাইনারি কোডের ফ্লপি ডিস্কের মতো, এর মূল গঠনের ক্ষেত্রে খুবই সোজাসাপ্টা। কিন্তু এর বিভিন্ন পর্যায় এবং কার্যপদ্ধতি ভীষণভাবেই জটিল……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
গল্প ওকে টানে প্রচন্ড নেশায়। পড়ার চেয়েও বেশি আগ্রহ শোনায়। শুরু করেছিলাম রূপকথা-টুপকথা কিছু একটা দিয়ে, সেই যখন কথাও শেখেনি ঠিকমতো। তখন থেকেই আমার কোলে শুয়ে ঘুমানো অভ্যেস। প্রথমে কোলের চেয়েও লম্বা ছোট, তারপর কোলের সমান সমান, শেষে পা বেরিয়ে গেল কোল থেকে। এখন আমার কোল থেকে এতটাই বেড়ে গেছে যে ঘুমোবার সময় আর কোলে নিয়ে রাখার প্রশ্নই নেই। কিন্তু গল্প শোনার নেশাটা থেকেই গেছে, বিশেষ করে, হাতির গল্প…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
একদিন ভিডিও কল করল রুন। বলল, চিনতে পারছ? বলত দেখি এরা কারা? দেখি দুজন বয়স্ক মানুষ। দু জনেরই মাথায় সাদাচুল ইতস্তত এখানে ওখানে। আমি ভেবেছি এরা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আমি ও অনিন্দিতা অসহায় তাকিয়ে আছি তিনজনের দিকে। রুন বলল, আমার বাঁদিকের জন হিরো আঙ্কেল আর ডান দিকে শিব আঙ্কেল। এরা আমার বাড়ির খুব কাছেই থাকেন। দুজনই খুব বড় চাকুরে। শুনে আমাদের সেই মাদ্রাজের দিন মনে পড়ল…
.
.

কালজয়ী চলচ্চিত্র
শিশির আজম
এই সিনেমার প্রধান চরিত্র সম্ভবত ক্যামেরা নিজেই। নিজের চোখে সে সবকিছু দেখছে। ধর্ম, রীতি, নৈতিকতা কিছুই তার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। ভের্তভের এই সিনেমা পরবর্তীতে চলচ্চিত্রকারদের ওপর কতোটা প্রভাব ফেলেছে তা চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীগণ সবাই জানেন। গোদার-ক্রুফো-ব্রেঁসো-রেহমারের কথা তো বলেছিই। আরেকটু পরে আব্বাস কিয়ারোস্তামি বা মোহসেন মাখমালবাফকে আমরা দেখবো সিনেমাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নিতে। এবং সেখানে চলচ্চিত্রের দৃশ্যে ক্যামেরাকে লুকিয়ে রাখার দরকার পড়ছে না…..
..
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
হাচিয়া ফাল যাচ্ছিল তখন সেখান দিয়ে। যাচ্ছিল আরো অনেকেই, তবে কেউই দুম খো যে তার বাচ্চা ছেলেটাকে পেটাচ্ছিল তাতে ভ্রুক্ষেপ করছিল না। কেউ কিছু বলছে না দেখে দুম খো আরো বেশি উৎসাহ পেয়ে ছেলেকে আরো প্রবল বিক্রমে প্রহার করে যাচ্ছিল। এমনিতে হাচিয়া ফাল নিজেও বাচ্চাদের পছন্দ করে না, সুযোগ পেলে সেও যেকোনো বাচ্চাকেই মনের সুখে পিটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এখানে তার যে কী দুর্মতি হল! সে হঠাৎ দাঁড়িয়ে দুম খো-কে বাধা দিয়ে বলল…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
জলবায়ু পরিবর্তন ও সুন্দরবন
.
বিদগ্ধ কৌতুক
সঞ্জীবচন্দ্র , রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন, অস্কার ওয়াইল্ড
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী





Views Last 30 days : 3325
Total views : 40717