প্রতিভাস: আগস্ট ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি
তাপস সরকার
এক বা একাধিক বজ্রদানব আমাকে উদরস্থ করে বসে আছে। আমার জন্মলগ্ন থেকে এবং অদ্যাবধি আমি সেই বিকটদর্শন উৎকট হিংস্র জীবটির খপ্পর থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারিনি। চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখিনি মুক্তিলাভের আতীব্র বাসনায়। ফল শূন্য। সেই বজ্রদানবের রাহুগ্রাস থেকে আমি না পারি স্বাধীনভাবে চলতে-ফিরতে, না জীবনযাপন করতে। আমার স্বাধীন ভাবনাচিন্তার অধিকারও বিসর্জিত।তাদের সুবিশাল হাঁ-মুখ, তারা উদরসর্বস্ব প্রাণী। যা পায় তাই উদরস্থ করে । আমার কোন দোষ ছিল না, তারা যে আমাকে গিলে খেয়ে রেখেছে তা আমার নিয়তি…
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
আমি সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করি ইংরেজি উন্নত ভাষা হলেও জনগণের ভাষা নয়। এটা তো ঠিক বিদেশী ভাষায় শত পারদর্শিতা অর্জন করলেও ইংরেজরা কোন বিদেশীকে, অধীনস্থ এদেশীয়দের, তাঁদের ভাষায় পন্ডিত হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইবেন না। কি জানি দেশীয় চিন্তাশীল ব্যক্তিরা এই বিষয়ে আমার ভাবনার সঙ্গে কতটা একমত হবেন। মতপার্থক্য তো থাকতেই পারে, তাই বলে দৃশ্যমানতাকে তো অস্বীকার করা যাবে না। এক শ্রোতা দর্শকাশন থেকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিল, ‘ সাহেব বাবা আপনি যে এত মাতৃভাষা আর স্ত্রীশিক্ষা নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন তা-কি মাতৃভাষায় ঘরের মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলবেন এই লক্ষ্যে নাকি ধরে ধরে মাথাটা চিবিয়ে খৃষ্টান বানাবেন বলে?’ কথাটা আমার কানে বাজল, জবাব না দিয়েই….
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
এলো সেই দিন – ১৯৩২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সিলেট কনভোকেশন হলে গভর্নর স্টানলি জ্যাকসন ভাষণ দিচ্ছেন, বীনা তার আসন ছেড়ে উঠে এসে কয়েক হাত দূর থেকে গভর্নর কে লক্ষ্য করে গুলি চালালেন। রিভলবার চালনার অভ্যাস না থাকায় গুলি চলে গেল গভর্নরের পাশ দিয়ে। ভাইস চ্যান্সেলর সুওরাবর্দি মঞ্চ থেকে ছুটে এসে বিনার গলা টিপে ধরেন। বিনা বাকি কটি গুলিও চালান কিন্তু সাফল্য আসেনি। এরপর গ্রেপ্তার, একদিনের বিচারে নয় বছরের জন্য সশ্রম কারাদণ্ড....
.
.
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
২৬০ দিনের এই গণনা, যা মানুষের গর্ভধারণের সময়কাল এবং একটি ভুট্টা গাছের ফল ধরতে যে সময় লাগে তার আনুমানিক হিসাব, আজও কিছু মায়া সম্প্রদায়ে ব্যবহৃত হয়, প্রধানত গুয়াতেমালার পার্বত্য অঞ্চলে । ২৬০ দিনের ক্যালেন্ডারের উদ্দেশ্য হল কৃষি সময়সূচীকে দৃশ্যমান করা। ক্যালেন্ডারটি ফেব্রুয়ারির শুরুতে শুরু হয়; ফেব্রুয়ারির শুরুতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অমাবস্যার এক বা দুই দিন পরে প্রথম দৃশ্যমান চাঁদ হল ক্যালেন্ডারের শুরুর বিন্দু। চন্দ্রকলা দ্বারা সময় নির্ধারিত এই ব্যবস্থাটি মায়া জনগণকে সূর্যগ্রহণ সহ চন্দ্র সংক্রান্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণে আগ্রহী করে তুলেছিল….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
পরপর টানা তিন তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেটা গায়ক, বা সুরকার হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেই, এখনও অবধি যা রেকর্ড। যখন অন্য গীতিকাররা তৎকালীন সামাজিক অবস্থা, অবক্ষয়, দেশভাগ, উন্নয়ন, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি নানান ভালো-মন্দ দিক নিয়ে গান লিখছেন, তখনও এই কবির কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে শাশ্বত প্রেমের গান। প্রেমই শ্রেষ্ঠ দাওয়াই, যা কিনা মানুষ তথা সমাজের সব রোগ সারিয়ে তুলতে পারে, জাতি-ধর্মকে পিছনে ফেলে মানবতারই জয়গান রচনা করা এই কবি হলেন শাকীল বদায়ুনি….
.
.
ছোট গল্প
.

কবিতা
.

এখানে ওখানে
সুদীপ ঘোষাল
রাতের আকাশে জঙ্গলময় পরিবেশে শিয়াল আর প্যাঁচার ডাকে জলবাড়ি রহস্যময় হয়ে ওঠে। চারপাশে জঙ্গল আর সাপ। তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ঈশানী নদী। এই নদীকে স্থানীয় লোকেরা কাঁদর বলে থাকে।পুরোনো মন্দির আর মসজিদ,গির্জা আমার মন টানে। কালের প্রবাহে সেগুলো অক্ষত না থাকলেও পুরোনো শ্যাওলা ধরা কোনো নির্মাণ দেখলেই আমি তার প্রেমে পড়ে যাই একদম অজ পাড়াগাঁ। মাটির রাস্তা ধরে বাবলার বন পেরিয়ে স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করতে হবে ...
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
কানাডার মন্ট্রিয়াল শহরের কাছেই কুইবেক নামে মফস্বল অঞ্চল। সেখানকার ল্যাচিন সিটি হলে লাগল ভয়ানক আগুন। আরো অনেক কিছুর সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে গেল এমন একজনের জন্ম বৃত্তান্ত পরবর্তীকালে যে ব্যক্তির হাত ধরে নবজন্ম ঘটবে ইহুদী মার্কিন সাহিত্যের। কে জানত, জন্মপঞ্জি বিহীন এই অজ্ঞাত মানুষটির কলম থেকেই একদিন জন্ম নেবে অজি মার্চ, মোজেস ই হারজগ, চার্লি সাইট্রিন বা আর্থার ম্যামলার ইত্যাদি যুক্তরাষ্ট্র মাতানো কালজয়ী সাহিত্যের চরিত্রগুলি...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
লেজার আর এখন কল্পবিজ্ঞান কাহিনীতে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণাগারের গণ্ডি কাটিয়ে লেজার মানুষের সমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে। চিকিৎসা, শিল্প, বিনোদনের জগত থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তি, যোগাযোগ, মহাকাশযাত্রা, সামরিক ক্ষেত্র ইত্যাদি সব জায়গাতেই লেজার অপরিহার্য। চিকিৎসায় লেজার হল রক্তপাতশূন্য ছুরি……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
ও প্রান্তের কণ্ঠ জানালো তার নাম আর অসম্ভব দ্রুত কয়েক লাইনে পরিচিতি। আমি তাকে চিনে গেছি ততক্ষণে। আমার সেই কয়েক দল বন্ধুদের একজন, যারা আমার জীবন প্রসঙ্গ থেকে উহ্য হয়ে গেছে, যাদের আমি হারিয়ে রেখেছি আমার শৈশব-কৈশোরের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ত্রিপুরাতে। যতই প্রিয় হোক না কেন ওই স্থান এখন আমার জন্য শোকের অধ্যায়…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
কথাটা দুদিন পর শীলা খুব গম্ভীর মুখ করে শারাদকে বলল, সনু আলিগড়ের এক নবাবের পরিবারের মেয়েকে সাদি করবে বলছে। নাম লুৎফা। শারাদ প্রথমে বুঝতে পারেনি। তারপর শীলার দিকে তাকিয়ে বলল, তাই নাকি? কোথায় সনু? শীলা কিছুটা ভয়ার্ত গলায় বলল, ঘরে আছে, বেশি কিছু বলতে যেও না। শীলা ভেবেছিল আজ কিছু একটা করে ফেলবে শারাদ। শারাদ সনুর ঘরের দরজা খুলে সনুকে জড়িয়ে ধরল। কানে কানে বলল, সাবাস বেটা। এবার লুৎফাকে বলে নবাবি বিরিয়ানির জবরদস্ত রেসিপি জোগাড় করে দে তো বেটা। আমি নেহেরু প্লেসে একটা বিরিয়ানি সেন্টার খুলবো। আমার অনেক দিনের শখ…
.
.

যাপনচিত্র
কুন্তল দাশগুপ্ত
গোতে জানে সবাই ওকে ভয় পায়। একবার দুরুদা গোতের কান মলে দুগালে দুটো থাপ্পর মেরে খবর্দার বলে আঙুল নেড়ে শাষিয়েছিল। সেদিন গোতে পাগলের মত একটা সজনা গাছে ছুরি মারছিল। গাছেরা মারতে ধরতে পারে না বলে গোতে ঐরম করতে পারে। হাঁফাচ্ছিল গোতে। গাছেরা ডালপালা নেড়ে বাতাস করছিল। মা। গাছ মা। নাঃ মা তো মারে। গাছ তো মারে না। ওরা মায়ের থেকেও বেশি। বড়মা। হ্যাঁ, ঠিক বড়মা। বড়মা-ই তো। খেতে দেয়। বকুনি, মার-ধোর থেকে বাঁচায়। জলায় ছুটোছুটি করে হাঁফিয়ে পড়লে বটগাছের তলায় যেমন ঠাণ্ডা মেলে বড়মাকে জড়িযে ধরলে ঐরম ঠাণ্ডা লাগে….
..
.
বিশেষ প্রতিবেদন

চিত্তপটে নাট্যভাবনা
কৃষ্ণপদ দাস
একুশ শতকের বাংলা নাটক ও নাট্যাভিনয়ের আরো কিছু গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করা যায় । একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে মূলত বাংলা নাটকে নতুনভাবে আবার লেখা ছিল ‘কোম্পানি থিয়েটার’ শব্দটি । বাংলা থিয়েটারের প্রথম পর্যায়ে এই কোম্পানি থিয়েটার জাঁকিয়ে বসেছিল । অর্থাৎ একজন ব্যক্তিমালিক এই থিয়েটারকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি তাঁর পছন্দ মতো অভিনেতা, পরিচালক, কর্মী নিয়োগ করবেন এবং নাট্য প্রযোজনা করাবেন তাঁদের দিয়ে । তার বিনিময়ে তারা মাস-মাইনে পাবেন । আর ঐ প্রযোজনার সম্পূর্ণ লভ্যাংশ থাকবে ঐ ব্যক্তিমালিকের …..
.
.
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
ততক্ষণে পুলকিত পলায়ন খাতা খুলে কবিতা পড়তে শুরু করে দিয়েছে। পরবর্তী দু’ঘণ্টায় সাতখানা কবিতা পাঠের পর তার আবার খিদে পেল এবং সে বিস্কুট ভর্তি বয়াম এনে একের পর এক বিস্কুট খেতে লাগলো। দু’চারটে হাচিয়া ফালকেও খেতে দিল। দশ মিনিটে বিস্কুটের বয়াম পুরো ফাঁকা। তারপর আবার শুরু হলো কবিতা পাঠ। এভাবে আরো ঘন্টাচারেক সময় কাটিয়ে যখন সে বিদায় নিল তখন হাচিয়া ফালের রান্নাঘরের যাবতীয় খাবার শেষ। যাওয়ার আগে পুলকিত পলায়ন তাকে বলে গেল, ‘কাল আবার আসব। সকাল সকাল চলে আসব। রান্নাঘরে কাব্যচর্চা বেশ জমজমাট ব্যাপার। কী বলেন আপনি…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
নজরুলের সাম্যের সুর আজ এক ধোঁয়াশায় !
.
বিদগ্ধ কৌতুক
রবীন্দ্রনাথ , ফেইনম্যান, চার্লি চ্যাপলিন, জর্জ বার্নার্ড শ
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী
![]()
![]()
