প্রতিভাস: সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধারাবাহিক উপন্যাস

এটাই আমার দ্বীপ
তাপস সরকার
সমুদ্রতীর থেকে দূরে দেখা যায় আমার দ্বীপের দুটি যমজ পাহাড়চূড়া। তাদের স্বর্গীয় সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ হতে বাধ্য। এদের একটির নাম আনন্দ এবং অন্যটির নাম সুখ। এরা আমার ও আমার দ্বীপের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এদের বাদ দিয়ে আমি এক মুহুর্ত বেঁচে থাকার কথা ভাবতে পারি না। এরা অপরূপ বর্ণোজ্জ্বল, যাদের একেকটি টুকরো কাউকে সারাদিন মাতিয়ে রাখতে পারে। এছাড়া আমার দ্বীপকে চারদিকে ঘিরে রেখেছে নীল সুগভীর সমুদ্র যার নাম শান্তি। এই শান্তি সমুদ্রের জলের স্বাদ কি কেউ পেতে চায়? আশ্চর্য হলেও এটা সত্যি যে এই জলের স্বাদ নোনতা নয়। এর স্বাদ এতটাই স্বস্তিদায়ক যে সবাই চাইবে সারাক্ষণ এখানে ডুবে থাকতে…
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
আমি ঘরে ঢুকেই দেখলাম হরিশচন্দ্রের কোনোদিকেই খেয়াল নেই, একমনে পায়চারী করছেন। আমার উপস্থিতিও টের পেলেন না। নিজেই ওর নীরবতা ভাঙিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আবার কি নতুন বিপদ হলো? উদ্বিগ্ন হয়ে বললো, লঙ আপনি এসে গেছেন। আপনাকেই এই সময় প্রয়োজন। বললাম, কেন কী হয়েছে! অনর্গল বলে যেতে লাগলো এমন করে যেন এক ভারি বোঝা মাথা থেকে নামাতে পারলে শান্তি পান – আচ্ছা আমাদের গভর্ণমেন্ট করছেটা কী, নীল চাষীদের আর বাঁচতে দেবে না নাকি? দিনরাত দলে দলে নীলকরসাহেবদের দ্বারা অত্যাচারিত লোক ভিড় করছে। তাদের কাতর আর্তি শুনে উকিলের কাছে সুপারিশ চিঠি পাঠাতে হচ্ছে, কারও মোকদ্দমার হাল শুনতে হচ্ছে, অফিস যাবার সময় হচ্ছে না….
.
ধারাবাহিক রচনা

অবজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী
তুষার বরণ হালদার
বিখ্যাত এই মেলায় উৎসবের অন্ত নেই। বৈকুণ্ঠ ও চন্দ্রমা ছদ্মবেশে এ মেলায় এসেছিলেন। মেলা ছেড়ে সবেমাত্র তারা গণ্ডক ব্রিজের উপর উঠেছে তাদের গন্তব্যস্থল এক গুপ্ত জায়গায় যাওয়ায় জন্য। এমন সময় পুলের দুই দিক থেকে অতর্কিতে পুলিশ এসে তাদের গ্রেপ্তার করে ফেলল। ধস্তাধস্তি হলো প্রচুর কিন্তু পুলিশের দল ভারি। বোঝা গেল যে কোথাও বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে যে জন্য পুলিশ পূর্বেই তাদের সন্ধান জেনে ফেলে তাদের অনুসরণ করতে পেরেছে। সেই অশুভ দিনটি ছিল ১৯৩৩ সালের ৬ জুলাই। বিভীষণ হত্যার প্রায় 8 মাস পর....
.
.
.

মায়া পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
মায়াদের দেব-দেবীদের প্রায়শই একাধিক নাম থাকত; তারা বিভিন্ন গল্পেও আবির্ভূত হতেন এবং তাদের বিভিন্ন রূপ ও চেহারা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ইৎসামনাকে কখনও কখনও সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে চিত্রিত করা হতো, যিনি আকাশে এক দ্বি-মস্তক মূর্তি। একটি মস্তক ছিল একটি ইগুয়ানা; অন্যটি ছিল একটি সাপ। অন্যান্য চিত্রে, ইৎসামনাকে লম্বা নাক, ট্যারা দৃষ্টি এবং এক-দাঁতযুক্ত মুখসহ একজন বৃদ্ধ হিসেবে দেখানো হতো। আরেকটি চিত্রে ইৎসামনাকে চারজন দেবতা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যারা পৃথিবীকে আবৃত করে রেখেছেন। এই রূপগুলো কম্পাসের কাঁটার সাথে সম্পর্কিত ছিল….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
সি এইচ আত্মা ভারতের বাইরে বিদেশে সফররত প্রথম গায়ক ছিলেন। ১৯৫৭ সালে (পূর্ব আফ্রিকায়) কেনিয়ার নাইরোবিতে গান পরিবেশন এবং বিদেশ সফর করেছিলেন। তাঁর দলে গজল-ঈ-শাহেনশাহ তালাত মাহমুদও ছিলেন। তবে এসবের পরেও বলিউড সেভাবে কণ্ঠকে ব্যবহার করেনি। ব্যক্তিগত জীবনেও সুখী ছিলেন না। কণ্ঠের মধ্যে দিয়েই অন্তরের ‘পুকার’ বেরিয়ে আসতো তাঁর গানে। ‘জীবন এক অধুরা স্বপ্না’, ‘ক্যাহনে কো বহুত কুছ থা’,’ক্যাইসা প্যার কাঁহা কি মহব্বত’- সি এইচ আত্মার এইসব রেকর্ড শুনলে মনে হয়, গীতিকারেরা যেন তাঁর জন্যই গানগুলো লিখেছিলেন….
.
.
ছোট গল্প
.

কবিতা
.

এখানে ওখানে
সুদীপ ঘোষাল
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দেবী যোগাদ্যাকে ক্ষীরগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বয়ং রাম। লংকায় রাম রাবণের যুদ্ধ চলাকালীন রাবণের ছেলে মহীরাবণ রাম ও লক্ষণকে মায়াজালে আবদ্ধ করে পাতালে নিয়ে আসে বলি দেবার জন্য।এই পাতালে মহীরাবণের আরাধ্যা দেবী ছিলেন ভদ্রকালি তথা দেবী যোগাদ্যা ।প্রতিদিন দেবীর সামনে নরবলি দেওয়া হতো। কিন্তু মহীরাবণের সেই উদ্দশ্য সফল হয় নি। হনুমান মহীরাবণকে পরাজিত করে রাম ও লক্ষণ কে উদ্ধার করেন ...
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
সময়টা গত শতাব্দীর ত্রিশের দশক। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বার্ড অ্যান্ড বেবি পাবকে ঘিরে আড্ডা জমে উঠেছিল একদল সাহিত্যপ্রেমীর। দা ইনক্লিংকস্ নামে সুপরিচিত এই সাহিত্য গোষ্ঠীর সদস্যরা আড্ডায় নিজেদের লেখা গল্প চিৎকার করে অন্যদের পড়ে শোনাতেন। বার্ড অ্যান্ড বেবি পাবে তাঁদের শনিবারের মধ্যাহ্ন ভোজের আসর অক্সফোর্ডের সামাজিক জীবনের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। অনেকটা যেন আমাদের কলেজস্ট্রিট কফি হাউসের আড্ডা...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
শব্দতরঙ্গ শূন্য মাধ্যম ধরে এগোতে পারে না। তাহলে মহাকাশে এই রহস্যময় চিৎকারের শব্দ ধরা পড়লো কোন্ কায়দায়? আলোক তরঙ্গ ছাড়া বেতার তরঙ্গ কিন্তু শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে। দূরবর্তী মহাকাশ থেকে আসা ওই মহাগর্জন জানা গেল বেতার তরঙ্গ থেকে। প্রকৃতপক্ষে শব্দ তরঙ্গ না হলেও বেতার তরঙ্গ আসলে তড়িৎচুম্বক তরঙ্গ এবং তা বর্ণালী বীক্ষণের নিম্নতরঙ্গ দৈর্ঘ্যের প্রান্তে অবস্থান করে। মহাবিশ্বের অনেক বস্তু থেকেই শব্দ তরঙ্গ, বিশেষ করে বেতার তরঙ্গ নির্গত হয়……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
আমার দিন গুলিতে প্রায়ই এখন বিস্ময় ঘনিয়ে আসে। আমি বুঝতে পারি না কেন মাকে খুঁজে পাই না কোথাও। কেন মৃত্যু এত জীবন্ত কাউকে এমন বরাবরের মতো অদৃশ্য করে দেয়? এই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মানে কি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া? এই যে আমার নিজস্ব চেতনা কিভাবে তা নিশ্চিহ্ন হতে পারে? কায়া না হয় হারিয়ে গেল, কিন্তু চেতনা? যাকে কোনদিনও চোখে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না সে কেন দেহের সঙ্গে একই নিয়মে বিনষ্ট হবে…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
বিনতাদি হেসে উঠলেন। এই প্রথম তার নির্মল হাসি আমরা অবাক হয়ে দেখলাম। তিনি সুন্দরী নন। কিন্তু তার এই হাসি মুক্তর মত ছড়িয়ে পড়ল সারা ক্লাসময়। ঝকঝকে দাঁতের পাটি, নিখুত সাজানো দাঁত, সারা মুখে হাসির আলো ঝলমল করে উঠল। দাঁড়িয়ে পড়াচ্ছিলেন।নিজের চেয়ারে বসলেন। তারপর যুগলের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি পড়তে পড়তে বুঝেছিলাম, আমাদের দেশে ঠিক ইংরেজী না শিখলে বড় চাকরি পাবি না, দেশের বাইরে যেতে পারবি না, জীবনে উন্নতি করতে হলে এই ভাষাটা শিখতে হবে। শহরে শেখানোর অনেক মাস্টার মশাই আছে। আমার সেখানে দরকার নেই। আমি নরম মাটির সন্ধান করছিলাম।কাদা মাটি…
.
.

যাপনচিত্র
কুন্তল দাশগুপ্ত
নাঃ বৃষ্টিটা ধরছে না তো। আঁধার ঘনাচ্ছে। একটু পরেই বর্ষানন্দে মাতোয়ারা সবুজের মহিমা কালো ঘোমটায় মুখ ঢাকবে। চোখাচোখি হবে না। ধুৎ, তারচে সাইকেলটা সিঁড়ির নীচে রেখে হাঁটা লাগাই, তুমুল ভেজাও হবে আর সবুজ মাখাও হবে। হুঁ হুঁ মোর কোন ইন্দ্রধনুউউউউ কার হুঁ হুঁ হুঁহুঁতে চায় হৃদয় হারাতে চায়। এবেরে গেটে তালা দিয়ে চাবি দিতে যেতে যেতে একলা পথে পাব সবুজ সাথি ঘোর লেগেছে ওরে আমার ঘোর চায় না ছাতি… আহ… কে যে বৃষ্টিকে চপলা চঞ্চলা মেয়ে রূপে দেখেছে….
..
.
বিশেষ প্রতিবেদন

পরতে পরতে নাট্য ও কাব্যের উন্মোচন
কৃষ্ণপদ দাস
রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের কবিতার পাশাপাশি নাটকও বর্তমানে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন পাঠ্যক্রমে। কবিতা আবৃত্তির প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতাও শ্রোতা দর্শকদের মন কেড়েছে। সুস্থ সংস্কৃতির প্রচারের লক্ষ্যে পাড়ায় পাড়ায় এর প্রচলন এখনও চালু আছে। কিন্তু, আকাশবাণী ও দূরদর্শনের ভুমিকাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পঁচিশে বৈশাখের প্রভাতী অনুষ্ঠান তো সরাসরি সম্প্রচার হয়ই। সেখানে রবীন্দ্র-গানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্র নাটকের সম্প্রচার হয় বেতার ও দূরদর্শনের কল্যাণেই। সকলেই তা জানেন…..
.
.
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
টানা কয়েকদিন ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছিল হাচিয়া ফাল কবি পুলকিত পলায়নের ভয়ে। পরে লোকটা কুকুরের তাড়া খেয়ে পা ভেঙে বাড়িতে শয্যাশায়ী হওয়ার পর তার দুর্ভোগ কাটল। বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ করে সে আবার বাড়িতে থাকতে লাগল। তিন দিন নিরাপদে কাটল তার। চতুর্থ দিন সকালের একটু পর বকমার্কা চেহারার জনৈক ব্যক্তি দেখা করতে এলো তার সঙ্গে, হাতে একতারা কাগজ। বিপদের সূত্রপাত সেখানেই। কিন্তু বিপদ যে কতটা তা হাচিয়া ফালের মত অভিজ্ঞ মানুষও নিরীহ বকমার্কা চেহারার ওই লোকটাকে দেখে ধারণাই করতে পারেনি…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
গান্ধীজী এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ও রাষ্ট্র
.
বিদগ্ধ কৌতুক
লিও টলস্টয় , পঞ্চম জর্জ, আর্থার কোনান ডয়েল, আইনস্টাইন
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী
![]()
