সঞ্জয় দাস
ক্ষমতা শুধু পুলিশ আর সেনাবাহিনী দিয়ে হয় না—
এ কথা আমরা শুনেছি বহুবার,
যেমন শুনি সকালের আবহাওয়া
বা বাজারদরের ভদ্র সহিংসতা।
ক্ষমতা স্কুলের ঘণ্টায় ঢোকে,
কলেজের সিলেবাসে চুপচাপ পাত পাড়ে ,
পাঠ্যবইয়ের মার্জিনে নোট হয়ে থাকে—
স্বাভাবিক,
প্রয়োজনীয়,
এভাবেই তো হয়।
খবরের কাগজের জনমুখী সম্পাদকীয়
মধু মেশানো ভাষায় বলে—
তোমাদের জন্যই এই ব্যবস্থা,
তোমাদের নিরাপত্তা,
তোমাদের উন্নতি।
শব্দগুলো নরম,
কিন্তু দাঁত আছে।
মানবিকতার নামে
ধীরে ধীরে মাথার ভিতরে সাজানো হয়
একটি আরামদায়ক ঘর—
যেখানে প্রশ্ন ঢুকলে
জুতো খুলে ঢুকতে হয়,
আর বেশিক্ষণ থাকলে
নিজেকেই অশোভন মনে হয়।
গণতন্ত্র
স্তরে স্তরে
শাখা-প্রশাখা ছড়ায়—
ফর্ম, ভোট, টক-শো, হ্যাশট্যাগ,
মতামতের অনুমোদিত ব্যালকনি।
তুমি দাঁড়িয়ে ভাবো—
এই যে আমি বলছি,
অতএব আমি আছি।
কিন্তু অদৃশ্য আঙুলগুলো
বাক্যের গতি ঠিক করে দেয়,
স্বপ্নের উচ্চতা,
রাগের অনুমোদিত মাত্রা।
আমরা চালক ভাবি নিজেকে—
স্টিয়ারিং ঘোরাই,
ইন্ডিকেটর দিই,
হর্ন বাজাই স্বাধীনভাবে।
পরে দেখা যায়
রাস্তা আগে থেকেই লেখা ছিল।
ক্ষমতার মিছরির তন্ত্রে
সবাই পুতুল—
কেউ সুতো দেখে,
কেউ দেখে না,
কেউ সুতোকে বলে সম্পর্ক,
কেউ তাকে বলে সংস্কৃতি,
কেউ বলে নিয়তি।
মিছরি মুখে দিলে
তিক্ততা বোঝা যায় না—
বরং মনে হয়
এই স্বাদই জন্মগত।
এবং একদিন
পুতুলেরা সভা ডাকে,
প্রস্তাব পাস করে—
“আমরাই নাচছি,
কারও হাতে সুতো নেই।”
তখন অদৃশ্য মঞ্চের অন্ধকারে
হালকা হাততালি শোনা যায়।
পর্দা নামে না।
কারণ নাটক শেষ হয় না।
কারণ দর্শকরাও
ধীরে ধীরে
পুতুল হয়ে যায়।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
