রবীন্দ্রনাথের সেজ বৌদি কাদম্বরী দেবী খাওয়াতে খুব ভালবাসতেন। ভোজনরসিক কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রায়ই নিমন্ত্রণ হত। সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথও নানা রকম মুখরোচক খাবার খাওয়ার সুযোগ পেতেন। তেমন এক ভোজে কবি খেতে বসেছেন। কাদম্বরী দেবী জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঠাকুরপো, রান্না কেমন হয়েছে ?’ রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘পাক তো খুব ভালো হয়েছে। এখন পরিপাক হলেই বাঁচি।’
.
.
বিখ্যাত পদার্থবিদ ফেইনম্যান একবার এক চায়ের আসরে নিমন্ত্রিত হয়েছেন। প্রিন্সটন গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ডিন সেই আসরের আয়োজন করেছিলেন। ডিনের অহংকারী স্ত্রী ফেইনমানের সামনে এসে জানতে চাইলেন, ‘আপনি দুধ দিয়ে না লেবু দিয়ে, কী দিয়ে চা খাবেন, মিস্টার ফেইনম্যান?’ বেশ সপ্রতিভ ভঙ্গিতে ফেইনম্যান জবাব দিলেন, ‘আমি দুধ-লেবু দুটো দিয়েই চা খাব।’ ডিনের স্ত্রী বেশ বিভ্রান্ত হয়ে বললেন, ‘আপনি নিশ্চয় মজা করছেন, মিস্টার ফেইনম্যান?’
.
.
নাট্যকার চার্লস ম্যাকআর্থার হলিউডের কোন এক সিনেমার চিত্রনাট্য লিখছিলেন। একদিন একটা বিশেষ দৃশ্য লিখতে গিয়ে তিনি চার্লি চ্যাপলিনের কাছে পরামর্শ চাইলেন। বেশ চিন্তিতভাবে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘মনে করুন, এক মোটা ভদ্রমহিলা ফিফথ অ্যাভিনিউ ধরে যেতে যেতে কলার খোসায় পা দিয়ে আছাড় খেল। দৃশ্যটা দেখে সবাই হাসবে কোন্ অবস্থায়? ব্যাপারটা অনেক ভাবেই দেখানো যায়। মুশকিল হল, কিভাবে দেখালে হাসিটা বেশি হবে? প্রথমে কি আমি কলার খোসাটা দেখাব, তারপর মোটা মহিলা তার দিকে এগিয়ে আসবে আর পা দিয়েই ধরাশায়ী হবে, নাকি প্রথমে মোটা মহিলাকে দেখিয়ে পরে কলার খোসা আর আছাড় খাওয়াটা দেখাব?’ চ্যাপলিন উত্তর দিতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করলেন না। বললেন, ‘যা ভেবেছেন তার কোনটাই করবেন না। প্রথমে আপনি দেখান মোটা মহিলাটি এগিয়ে আসছে। তারপর কলার খোসাটি দেখাবেন তৃতীয় দৃশ্যে। মোটা মহিলা ও কলার খোসাটিকে একসঙ্গে দেখান। সবশেষে দেখাবেন, মহিলা কলার খোসাতে পা দিল এবং দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যানহোলের ভিতর অদৃশ্য হয়ে গেল।’
.
.
এক পাওনাদার বিশ্ব বিখ্যাত নাট্যকার ও লেখক জর্জ বার্নার্ড শ-র কাছে কুড়ি পাউন্ড ফেরত চেয়ে পত্র লিখলে লেখক তাকে পাঁচ পাউন্ডের একটি চেক পাঠিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে লেখক এর সেক্রেটারি পাওনাদারকে জানান যে তার দেনা মিটিয়ে দেওয়া হলো। পাওনাদারটি বলল, ‘আমার পাওনা বাকি ১৫ পাউন্ড কবে শোধ করলেন?’
সেক্রেটারি মৃদু হেসে বলল, ‘আরে মশাই, চেকের নিচে শ-র যে সইটা আছে সেটা বাজারে বিক্রি করলে কমপক্ষে ১৫ পাউন্ড পাবেন। আপনার ওটা ব্যাংককে ভাঙানোর দরকার নেই। কোন অটোগ্রাফ শিকারীকেই ওটা বেচে দিন।’
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
সংগৃহীত
![]()
