সুতপন চট্টোপাধ্যায়
গীতা সেন
গীতা সেন দিল্লির এক প্রথিতযশা ভাগ্য নির্ণায়ক। চিত্তরঞ্জন পার্কের নতুন এক বাড়িতে উঠে এসেছেন। সঙ্গে কাজের দুই চাকর। তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে পনেরো দিন অপেক্ষা করতে হয়। বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, বিজনেসম্যান ও কনসুলেটের লোকেরা দেখা করতে আসেন। এমনি এক হাই প্রোফাইল কর্পোরেট ধাঁচের পসার।
চাপ সামলাতে না পেরে বছর দুই হল একজন রিসেপশনিস্ট রেখেছেন। সেই সময় বলে দেয়। প্রধানত সন্ধ্যে ছটা থেকে বসেন গীতা সেন। চেম্বার করার সময় দু’কাপ চা আর দুটো বিস্কুট খান। তার বেশী ফুরসত থাকে না। মাঝে অনেক ফোন আসে জুয়ার বোর্ডও থেকে। ইনস্ট্যান্ট বলতে হয় কত নম্বরে টাকা লাগালে জেতার সম্ভাবনা। সব সময় লাগে যে তা নয়। তবুও ফোন আসে।
এই সব তার একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অনেক সঠিক প্রেডিকশানের দৌলতে তিনি আজ গীতা সেন হয়ে উঠেছেন। না হলে তিনি তো সামান্য এক গীতা সরকার ছিলেন যাদবপুরের বস্তি সংলগ্ন একটি বাড়িতে।
একুশ বছর বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন। স্বামী এক কথায় সুপুরুষ, লম্বা, ফর্সা, তীক্ষ্ণ নাসা। এমন মানুষকে ছেড়ে খুব কী বেশি দিন থাকা যায়? গীতা সরকারের মনে হয়েছিল বিদ্যা পরেও অর্জন করা যাবে।
কলেজে পড়াশোনার সঙ্গে বউবাজারে এক জ্যোতিষের কাছে শিক্ষা নিতেন তিনি। সেই গুরু প্রেমিকের জন্ম তারিখ থেকে ছক করলেন। বললেন, দেরি করো না। একেবারে রাজযোটক। বিয়ে কেউ আটকে রাখে না। বাকি সব পরে হবে। গীতা সরকার বেঁটে, গায়ের রঙ ময়লা, কিন্তু মুখটি পদ্ম ফুলের মত স্নিগ্ধ, চোখ ছিল গভীর স্বপ্ন মাখা, দৃষ্টিতে সে যেকোন পুরুষের ভিতর নাড়িয়ে দিতে পারতেন। বিয়ে মেনে নেয়নি স্বামীর পরিবার। স্বামী তখন একটা বিদেশী কোম্পানিতে তরুন এ্যাপ্রেন্টিস ইঞ্জিনিয়ার। মাইনে খুব সামান্য। কলেজ ছেড়ে এক হোটেল কোম্পানিতে সামান্য চাকরি নিলেন। অফিসে অনেকের বিনা পয়সায় হাত দেখে খ্যাতির পরিধি বাড়তে লাগল দিন দিন গীতা সেনের।
বিয়ের পর গীতা সেন তার জ্যোতিষ গুরুর পরামর্শে বাড়ি নিলেন ঢাকুরিয়ার রেল ক্রসিং এর ধারে।
সেই জায়গাটা নাকি তাদের জন্য সেফ। গণনা তাই বলে। সাজানো গোছানো সংসারে স্বামীকে নিয়ে বেশ ছিলেন। জ্যোতিষ শিক্ষার শেষে পরীক্ষা পাশ করার দিন দশেক পরে একদিন গড়িয়াহাটের মোড়ে ট্রামের ধাক্কায় তার স্বামী অজ্ঞান হয়ে আছড়ে পড়লেন রাস্তায়। ভর্তি হলেন শিশু- মঙ্গল হাসপাতালে। মাথায় ক্রমাগত রক্তক্ষরণের ফলে মাথায় রক্ত জমে যাচ্ছিল। সেই রক্তক্ষরণ আর বন্ধ করতে পারল না ডাক্তারেরা। হাসপাতালে কোমায় ছিলেন সাত দিন। তার পর একাই চলে গেলেন ।
২
একা একাই ফিরে এসেছিলেন যাদবপুরের বাড়িতে। যে সংসার ছিল রেল লাইনের ধারে, সেখান থেকে কিছুই এল না। সব দান করে শুধু তাদের বিয়ের ছবি নিয়ে চলে এলেন এক সন্ধ্যেবেলা। কিছুতেই মেলাতে পারছিলেন না বিবাহ বন্ধন। গুরুর কাছে ভগ্ন মনে একদিন গিয়েছিলেন। তিনি কিছুই বুঝতে পারেন নি। বলেছিলেন হঠাৎ কোন গ্রহ নক্ষত্রের চলাচলে এমনটা ঘটেছে। অনেকটা গেরিলা যুদ্ধের মতো। এই সব সর্বনাশা গ্রহের প্রবেশ ও প্রস্থান আগে থেকে বলা যায় না অনেক সময়। সব শুনে চলে এসেছিলেন। আবার তার একাকী পথ চলা শুরু।
এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি গীতা সেন। মনে মনে ভেবেছিলেন এটার কারণ তার স্বামীর জন্মের তারিখ ও সময় ভূল ছিল। তার বা তার গুরুর প্রেডিকশান ঠিকই ছিল। এখন সে কাকে দোষ দেবে? শশুরবাড়ির সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক নেই।
এক অবাঙালী পরিবারের ছোট মেয়েকে দত্তক নিলেন। যে ভাবে দত্তক নেয় সেই ভাবে নয়। তাকে তার মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা করতে চান নি। শুধু তার ভরণপোষন ও লেখাপড়ার খরচার ব্যয় ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। চার কন্যা সন্তানের পিতা, সামান্য মুদির দোকানদারের পরিবারের কাছে ছিল এই অনেক। ছোট্টো মেয়েকে অফিস ফেরতা নিয়ে আসতেন নিজের কাছে। পড়াতেন, গান শেখাতেন, আবৃত্তি শেখাতেন। এক অনাস্বাদিত জীবনে সামান্য হলেও এক চিলতে রোদ এসে পড়ে ছিল গীতা সেনের জীবনে। মনে মনে ঠিক করেছিলেন, আর বিয়ে করবেন না। এভাবেই কাটিয়ে দেবেন। ছোট্ট মেয়েটা বড় হয়ে একদিন চলে যাবে। আবার তিনি একা হবেন, ততদিনে নিজেও অনেকটা এগিয়ে যাবেন। নিজের জীবনের কক্ষপথ নিয়ে খুব একটা ভাবতেন না তিনি আর। মনে হয়েছিল, একবার নিজের কুন্ডলীটা খুলে দেখবেন, সেখানে আর কোনও দুর্ঘটনার ছিটে লেগে আছে কিনা। পরে ভেবেছেন, কুন্ডলীতে থাকলে গুরু তাকে নির্দেশ দিতেন। ধরে নিতে হবে, ছিল না। সেই প্রথম তিনি অনুভব করেছিলেন জীবন-কুন্ডলীর থেকে জীবন অনেক অনেক বড়।
চাকরির সামান্য আয়ে লড়াই করতে করতে নিজে যখন ক্লান্ত, তখনি তাকে বদলি করে দেওয়া হল দিল্লিতে। কোম্পানীর পাঁচ তারা হোটেলে, যেখানে তাকে জ্যোতিষের চেম্বারে বসিয়ে দেওয়া হল হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে। রিসেপশনের পাশে। এমন একটি জায়গায়, যা সকলের চোখে পড়ে।
নিমেষে জীবন বদলে গেল যাদবপুরের গীতা সেনের। সর্দার প্যাটেল মার্গের উপর শেরাটন হোটেলের ঝাড়বাতির ঝলমলে আলোর নীচে সাজানো একটি ছোট্ট ঘরে তিনি বসেন। হোটেলের বেশীরভাগ বিদেশি পর্যটক। স্বদেশীও আছেন যারা প্রভূত বিত্তবান। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় গীতা সেন বসেন চেম্বারে। বাকি সময় তিনি অফিসের কাজ করেন ভিতরের ঘরে। মানুষের কাছে তার নতুন পরিচয় কনসালটেন্ট এ্যাস্ট্রোলজার। জীবনের দরজা খুলে গেল ঝটকা হাওয়ায়। ঠিক সেই সময় আমার সঙ্গে পরিচয় দিল্লিতে।
৩
দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের ডি-ব্লকের দুকামড়ার বাসায় একদিন আমাকে ডেকে বললেন, আমার কাছে মাঝে মাঝে এসো। হাত দেখাতে নয়। এমনি। গল্প করব।
এমনি একদিন তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি নিজের ছক দেখেছেন? রাজ্যের লোকের ভবিষ্যবানী করেন, নিজেরটা একবার দেখুন না? গীতাদি হেসে উত্তর দিলেন, ডাক্তাররা নিজের চিকিৎসা করে না। উনি চলে যাবার পর আমি কোনওদিন আর আমার ছকের দিকে তাকাই নি।
দিল্লি এমন একটা জায়গা, যেখানে বাইরে তার যেমন চঞ্চলতাভরা, ভিতরের জীবন তার চেয়েও রোমাঞ্চকর। একদিন আমাকে বললেন, যাদবপুরের বস্তিতে বড় হয়েছি বাঙাল পরিবারে। ইংলিশ বলতে পারি না। এখানে ইংলিশ না বললে চলবে না। আমার সেভেন্টি পারসেন্ট ক্লায়েন্ট বিদেশী। কি যে অসুবিধা হয়! আমার বাঙ্গাল উচ্চারণের ইংলিশ শুনে তারা ভিড়মি খায়। তারা কিছুই বুঝতেই পারে না। আমাকে একজন ঠিক করে দাও।
আমি একটি মেয়েকে স্পোকেন ইংলিশের টিচার হিসেবে খুঁজে দিই। কালক্রমে সেই মেয়েই তার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করত। নিজের বাড়িতে সন্ধ্যেবেলা চেম্বার করতেন। চিত্তরঞ্জন পার্ক সংলগ্ন গ্রেটার কৈলাশ দুই ও কালকাজী ঘন পাঞ্জাবি জনবসতি। বিত্তবান। খবরটা ছড়াতে সময় লাগল না। কয়েক বছরে গীতাদির পসার তর তর করে আকাশ্চুম্বী হয়ে উঠল।
দেখতাম, কালক্রমে দু’ধরনের লোকের ভীড় বাড়তে লাগল। এক রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, আধা মন্ত্রী। তাদের জন্য চেম্বারে আসতেন তাদের স্ত্রীরা।
প্রশ্ন তাদের নানান ধরনের। স্বামী কি এবার প্রধানমন্ত্রীর পদ পাবে? বা কোন দলে শিফট করলে মন্ত্রিত্ব পাবার সম্ভবনা। কিংবা কেউ অনেক উচ্চপদে আছেন তার স্ত্রী জানতে এসেছেন কবে তার স্বামীর বিদেশে পোস্টিং পাবে? আবার কেউ নির্বাচনে কোন পার্টির হয়ে লড়বেন?
আর অন্য দিকে মাঝারি পাঞ্জাবি, হরিয়ানভি, উত্তরপ্রদেশী ব্যাবসাদার। যারা দিনের শেষে দু্টোই খুব অনিশ্চয়তা নিয়ে বাস করে। এক ফাটকায় অর্থ বিনিয়োগ আর দুই, পুরুষ ও স্ত্রীদের উভয়েই অন্যত্রে গোপন অভিসার। এই দ্বিতীয় ভাগের ভবিষ্যবানী গীতাদি করতেন ফোনে। তাদের কুন্ডলী গীতাদির জানা।
আমি এমন কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে দেখেছি জানতে এসেছেন, সরকারের স্বায়িত্ব কত কাল? গীতাদি নির্বিকার চিত্তের তাদের কথা শুনতেন। কিন্তু ভি আই পি বলে কোনদিন কাউকে আগে পিছে করেন নি। সেক্রেটারি যে টোকেন নম্বর দিত সেই ভাবে ডাকতেন। তার কোন ভি আই পি কালচার ছিল না। একদিন দেখেছিলাম, দেশের বাঙালি অর্থমন্ত্রীর স্ত্রীকে চেম্বারে বসিয়ে রেখেছেন, তার টোকেন সাত নম্বর। তাকে সাত নম্বরে ডাকলেন। সেদিন গীতাদিকে আমার এক মহান মহিয়সী শক্তিশালী মহিলা মনে হয়েছিল। আমি এমন শক্তিশালী মহিলা আগে দেখি নি। চেম্বার করার সময় মাঝে মাঝে পান খেতে বাইরে আসতেন। ছাঁচি পান মুখে দিয়ে আবার ঢুকে যেতেন ভিতরে।
আমি একদিন জানতে চেয়ে ছিলাম, আচ্ছা গীতাদি, আপনি যে মন্ত্রীদের স্ত্রীদের বসিয়ে রাখেন, আপনার ভয় করে না? বুক ঢিপ ঢিপ করে না?
গীতাদি স্বাভাবিক গলায় বললেন, না একেবারেই না। জানিস তো ভাগ্যের কাছে সবাই এক, সে প্রধানমন্ত্রী হোক বা দেশের সেরা শিল্পপতি হোক, সব অসহায়। ভাগ্যের মার যে কখন কোন দিক থেকে আসে সে কে বলতে পারে?
বলেছিলাম, কেন আপনি তো বলতে পারেন? পারেন বলেই তো আপনার কাছে আসে ।
মুচকি হেসেছিলেন গীতাদি। তারপর বলেছিলেন, মানুষের ভাগ্য অনেকটা গিরগিটির মত। মাঝে মাঝে রঙ বদলায়। কখন বদলায় বোঝা মুশকিল।
–তাহলে জোতিষিরা কি করে ভবিষ্যতবানী করে?
এবারেও মুচকে হাসলেন গীতাদি। বললেন, আকাশে মেঘ জমলে যেমন বৃষ্টি প্রেডিক্ট করা যায়, বৃষ্টি হবে কি হবে বলা যায় না। অনেক সময় উড়ো মেঘ এসে কালোমেঘ উড়িয়ে নিয়ে যায় অন্য কোথাও, আমাদের ব্যাপারটা অনেকটা তেমনি।
–তাহলে সব প্রেডিকশন মেলে না?
–তোর সব দিন কি এক রকম যায়? প্রশ্ন করেছিলেন গীতাদি। তারপর টানাটানা চোখে তাকিয়ে বলেছিলেন, ভাগ্যের সঙ্গে কিচুক্ষণ খেলা করি রে। খেল্লেই কি আর সব সময় গোল করা যায় ?
আমি নাছোড়, তাহলে আপনি যে জুয়ার বোর্ডের থেকে ফোন ধরে কি ভবিষ্য বলেন? সেখানে তো খেলার সময় থাকে না? সঙ্গে সঙ্গে বলতে হয়?
–বলি। যা মনে হয়। সিক্সথ সেন্স। আসলে সবাই আমরা ভাবি পরের দিন নিজের মনোমত হবে। তা হয় কি? আমরা সবাই ওই সিক্সথ সেন্সের উপর চলি, জীবন চালাই। এই করতে করতে একদিন মরে যাই। মনে রাখবি, এই সিক্সথ সেন্সেই জীবনের সব। প্রধান চালক।
আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি। দেখি তখন তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেছে। ধারাল অন্য দৃষ্টি। এর পর আর কিছুই কথা বলার সুযোগ থাকে না। চুপ করে থাকতেন তিনি। আমার সঙ্গে অনেকদিন এমন উদাসীন সময় কেটেছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হত, আমাকে কেন এই সব বলেন? পরে বুঝেছি, তার নিজের কথা বলার লোক ছিল না।
৪
একদিন বাড়িতে গিয়ে দেখি তিনি দুটো সুটকেস গোছাচ্ছেন। কি ব্যাপার?
বিদেশ যাব। আমার দুজন ক্লায়েন্ট ইংল্যান্ড থেকে আমন্ত্রণ করেছে। যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা করেছে। অনেকগুলো শহরে সেশান করতে হবে। ভালোই টাকা দেবে কথা হয়েছে। তাই তারই তোরজোর।
ঠিক এমন সময় দেখি একটি মেয়ে ঘরের ভিতরে থেকে বেরিয়ে এল। গীতাদি আলাপ করিয়ে দিলেন, আমার মেয়ে । এখন থেকে এখানেই থাকবে আমার কাছে। এখানেই কলেজে ভর্তি করে দেব। ফিরে এসে মেয়েকে নিয়ে অনেক কাজ।
বাঙালি মেয়েদের মত মুখে লালিত্য নেই কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত মুখ, ফর্সা রঙ। আচমকা সুন্দরী।
গীতাদি বললেন, বেশী দিন নয়। দিন কুড়ির পর ফিরে আসব। কত কিছু কাজ বাকি আছে!
আমি মজা করে বললাম, ভালই হল, বিলাত ফেরত ডাক্তার দেখেছি, আপনি হবেন বিলাত ফেরত এ্যাস্ট্রোলজার।
হাসলেন গীতা দি। বললেন, এসে আমি অনেক কিছু করব। আগে আমি একটা ভাল বাড়িতে উঠে যাব। চেম্বারটা আলাদা বানাব। এই বাড়িটা খুব ছোট। বিদেশী ক্লায়েন্টরা এলে এই বাড়িতে বসতে দিই কি করে বলত?
গীতাদি চলে গেলেন। ফেরার সময় অনেক কিছু নিয়ে এলেন। বেশির ভাগ চকোলেট। আমি তার ভাগ পেলাম।
তারপরই উঠে এলেন এই নতুন বাড়িতে।
আসার দিন মাস খানেক পরেই খুব অসুস্থ হলেন। বাড়ি থেকে চিকিৎসা চলছিল। একদিন হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। তখন জানতে পারলাম, শরীরের অনেক অঙ্গ ঠিক রাখতে তাকে রোজ মুঠো মুঠো ওষুধ খেতে হয়। হাসপাতাল থেকে আর তার নতুন বাড়িতে ফেরা হল না।
আমি অনেক দিন ভেবেছি, গীতাদি কি একবারও নিজের কুন্ডলী দেখেন নি? নাকি সকলের ভাগ্যের সঙ্গে খেলতে খেলতে নিজের সঙ্গে খেলা আর হয়েও ওঠেনি?
আবার এমনও হতে পারে, তিনি এতও দিন কেবল সিক্সথ সেন্স নিয়ে বেঁচে ছিলেন?
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
