নির্বাক বসুদত্ত
একটি তারার জন্ম হল। তাব্রিপস সরস্কোয়াকার জানল যে ওটাই তার মা। তাকে ব্যাপারটা জানালো তার বন্ধু পার্সিলোন ব্রুমাস। সে পৃথিবীর অন্যতম সেরা বিজ্ঞানপ্রতিভা হতে চলেছে, তার সমস্ত অবিশ্বাস্য আবিষ্কার আর তত্ত্বপ্রতিষ্ঠার জন্য। তারা বসে মাউন্ট গিলকাকোর দূরবীক্ষণিক মানমন্দিরের অভ্যন্তরস্থ এক কক্ষে, যেখানে সমস্ত ঘরের চার দেয়াল আর ছাদে এবং মেঝেতে সুসজ্জিত নানা আকার-আকৃতির গ্রাহক-প্রেরক এবং পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত যন্ত্রসমূহ। তাদের অজস্র খুঁটিনাটি, নানামাত্রিক নানাকৌণিক নানাআঙ্গিক প্রকাশ ও অবস্থান। নানা চিত্র-বিচিত্র ও নানাজাতীয় শব্দসমূহের আয়োজন ও আগমন বা বিকাশ ঘটেই চলেছে একটানা।
‘এই তারাটির কথা এখনও কেউ জানে না, যেহেতু এখনই তার জন্ম হল। স্ক্যানারে আমিই তাকে প্রথম খুঁজে পেলাম আর তোকে দেখালাম। তার আগে আমার থিওরি অ্যাপ্লাই করে বুঝে নিলাম যে তোর মা নিঃসন্দেহে এই তারাটিই। মা চলে গেছে বলে আর দুঃখ করিস না, বরং তারাটির কী নাম দিবি ঠিক কর্। ওই নামটাই আমি রেকমেন্ড করব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল কনভেনশনে। ওটা অ্যাকসেপটেড হবেই, আমি শিওর। তুই তোর মাকে পেয়ে যাবি আকাশের একটি নির্দিষ্ট তারায়। সারাজীবন।’
দীর্ঘক্ষণ কথা বলে থামল পার্সিলোন। মনিটরের পর্দায় চোখ রেখে নিশ্চল বসেছিল তাব্রিপস। পর্দার গায়ে আমাদেরই গ্যালাক্সির পটভূমিকা যার এক কোণায় সদ্য জন্ম নেওয়া সেই বিশেষ তারাটি, যাকে তার জন্য জুম ইন করে স্পষ্ট করে রাখা হয়েছে।
‘কিরে, নামটা ঠিক করলি?’
তাকে নির্বাক দেখে তাড়া দিল পার্সিলোন। সে সত্যিই বিহ্বল হয়ে গিয়েছিল। সদ্যপ্রয়াত তার মা ওই তারা? নিষ্পলক তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মনে হচ্ছিল বুঝি সে তার মায়েরই স্নেহার্দ্র দুটি চোখ দেখতে পাচ্ছে তারাটির উজ্জ্বলতায়। বুঝিবা বড় করে রাখা তারাটির আলোর বিকিরণে সে শুনতে পাচ্ছে তার মায়েরই নির্বাক সম্ভাষণ,
‘তাব্রি, ভালো আছিস বাবা?’
তার বিস্ময়ের ঘোর ভাঙ্গল বন্ধুর তাড়ায়। সম্বিত ফিরে পেয়ে সে কোনক্রমে বলতে পারল,
‘না-নাম? কী নাম দেব?’
‘সেটা তুই ঠিক কর্। তোর তারা, তোর মা। মাকে যে নামে জানতিস সেটাই তো দিতে পারিস। আমরা তো গ্রহ-তারাদের সেভাবেই নামকরণ করতাম বা এখনও করি। যেমন অ্যান্ড্রোমিডা, পারসিউস, পুলস্ত, পুলহ। তুইও তেমনই করতে পারিস।’
প্রস্তাবটা পছন্দসই হল। একটু ভেবে নিয়ে তাব্রিপস বলল,
‘প্রলিতিয়াভা। ওটাই আমার মায়ের নাম।’
‘তাহলে এটাই হবে এই তারারও নাম।’
এবার সন্দেহ হতে লাগল তার মনে। এই তারা তার মা? কী করে সম্ভব? জীবন ছিল তার মায়ের, তারার জীবন কোথায়? অবশ্য তার বন্ধু এই তত্ত্ব প্রায় প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে আর আলোড়ন তুলে দিয়েছে বিজ্ঞান মহলে। তার আবিষ্কার হল, মানুষ বা সপ্রাণ বস্তু মৃত্যুর পর সত্যিই আকাশের তারা হয়ে যায়। আবার উল্টোভাবেও ব্যাপারটা সত্যি। এমন অকাট্য তার যুক্তি ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আর তথ্য-প্রমাণ যে তার এই আবিষ্কার কেউ অস্বীকার করতে পারছে না। তবুও সন্দেহ থেকেই যায়। একটা অবিশ্বাস দানা বাঁধতে থাকে মনের মধ্যে। একটা অস্বস্তি বা বিস্ময়। তারই প্রকাশ ঘটে তার প্রশ্নে,
‘ওই তারাই আমার মা বুঝলি কী করে?’
‘তোর মায়ের মৃত্যু আর ওই তারার জন্ম, এ দুটি ঘটনা একই সঙ্গে ঘটেছে।’
‘কিন্তু পারসি, তুই তো বলেছিস যে কোন সময় মহাবিশ্বে কোটি কোটি তারা জন্ম নিতে পারে। তাহলে তাদের কেউ আমার মা হবে না কেন? কেন এই তারাটিকেই তুই আমার মা বলে বেছে নিলি?’
তাব্রিপসের কথাগুলি মন দিয়ে শুনল পার্সিলোন। সব শুনে শান্তভাবে জানালো বন্ধুকে,
‘ওটাই তো আমার তত্ত্ব, আমার আবিষ্কার। এটা নিয়েই তো যত বিতর্ক। কী জানিস, আবিষ্কারের ভাষা বা পদ্ধতি কেউ বুঝে উঠতে পারছে না। খুবই জটিল বিষয়। তোকে কিভাবে বোঝাবো বল্ তো? তোর তো বিজ্ঞান নয় পড়াশোনার বিষয়।’
মনিটরের পর্দাতেই চোখ ছিল তাব্রিপসের। বন্ধুর কথাগুলি শুনলো সে চুপচাপ এবং সব শুনে পর্দা থেকে চোখ না সরিয়েই প্রশ্ন তুলল,
‘তবুও আমার মত করে কিছু কি বোঝাতে পারিস না?’
কিছুটা সময় কী যেন ভাবল পার্সিলোন। তাব্রিপস একইভাবে বসে থাকলো ততক্ষণ। মুখ নিচু করে কপালে আঙ্গুলের টোকা দিতে দিতে ভাবছিল বিজ্ঞানী বন্ধু। তারপর হালকাভাবে গলা ঝেড়ে কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিতে বলতে লাগলো,
‘আসলে ওটা আমার আবিষ্কারের মূল ভিত্তি, ফেব্রিক্যাল কন্টিনিউয়াম। কোন জীবন শেষ হলে তার মন-প্রাণ ও অন্যান্য উপাদান দেখি আমরা বিলীন হয়ে গেল, হারিয়ে গেল। তা আসলে হারিয়ে যায় না। তার প্রকাশ ঘটে কোন একটি তারার জন্ম দিয়ে। কোন জীবের স্বকীয়তা তার মৃত্যুর পর পর জন্ম নেওয়া সব তারার মধ্যে পাওয়া যাবে না, একটি নির্দিষ্ট তারাতেই থাকবে তা। এটাই হল ফেব্রিক্যাল কন্টিনিউয়াম-এর মূল কথা। সেই নির্দিষ্ট তারাটি হবে সেই মৃত জীবের নতুন প্রকাশ। বুঝতে পারলি কি?’
বন্ধুর মুখ দেখে ইতরবিশেষ বোঝা গেল না। সে উঠে দাঁড়াল। একটা ক্যাবিনেটের সামনে দাঁড়িয়ে হাতল ধরে ডালা খুলে ফুটখানেক লম্বা একটা ভিউটাব নিয়ে এসে প্রাইম মনিটরের সামনে রাখল। তারপর কয়েকটি বোতাম টিপে প্রলিতিয়াভা তারাটির রেপ্লিকা ভিউটাবে চালান করে দিতে দিতে বন্ধুকে বলল,
‘আর বেশি বুঝে কাজ নেই।এই ভিউটাবে তোর তারা হয়ে যাওয়া মাকে দিয়ে দিলাম। নিয়ে বাড়ি চলে যা। নির্জন ঘরে বসে একটু চেষ্টা করলেই দেখবি তারা হয়ে যাওয়া মায়ের সঙ্গে তুই দিব্যি বাক্য বিনিময় করতে পারছিস।’
বন্ধুর হাতে ভিউটাবটা তুলে দিল পার্সিলোন। ভিউটাব হাতে নিয়ে তার দিকে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের চোখে তাকালো তাব্রিপস, মুখে তার বিমূঢ় ভাবও বর্তমান।
*****
ফেব্রিক্যাল কনটিনিউয়াম তত্ত্ব আবিষ্কার ও তার প্রমাণ দাখিল করার বেশ কিছু বছর আগে বিজ্ঞানী জিওরকার্ন কোন একদিন রাতে তার প্রিয় ছাত্র তরুণ গবেষক পার্সিলোন ব্রুমাসকে বলেছিলেন,
‘জানবে পার্সি, মানুষ যাই ভাবুক না কেন তার সবকিছুই এই মহাবিশ্বের অন্তর্গত। কোন ভাবনা বা কল্পনা যতই আজগুবি-অবাস্তব মনে হোক না কেন তা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না কোথাও বাস্তব এবং সত্যি। মানুষের মস্তিষ্ক এমন কোন বিষয় কল্পনা করতে পারে না যা এই মহাবিশ্বে নেই।’
‘তাহলে স্যার, সব মিথ, সব ধারণা, রূপকথার সব গল্পকাহিনী?’
‘সব বাস্তব পার্সি, সব। এই মহাব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না কোথাও।’
‘মানুষের সব প্রবাদ, প্রবচন সব সত্যি?’
‘সত্যি পার্সি, সত্যি। যেহেতু এই মহাবিশ্বের অণু-পরমাণু থেকে মানুষের জন্ম, তার জ্ঞান ও কল্পনাশক্তির উপাদানও এই মহাবিশ্ব থেকেই প্রাপ্ত। সে এমন কিছু ভাবতেই পারবে না যা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কাঠামো বা আঙ্গিকের বহির্ভূত হবে।’
‘তাহলে স্যার, কোনো না কোনো একদিন আমরা প্রমাণ পেতে থাকবো এক এক করে যে মানুষের বানানো সব মিথ, সব ধারণা, সব বিশ্বাস, সব প্রবাদ, সব কল্পনা সবই তৈরি কোন না কোন বাস্তব অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে?’
‘ঠিক তাই পার্সি, ঠিক তাই।’
আর সেদিনের এই আলোচনায় ছিল বিশ্বে আলোড়ন তোলা ফেব্রিক্যাল কন্টিনিউয়াম তত্ত্ব আবিষ্কারের স্ফুলিঙ্গ, যা প্রমাণ করে যে মানুষ বা যেকোন জীব মৃত্যুর পর আকাশের তারা হয়ে যায়।
*****
ফেব্রিক্যাল কন্টিনিউয়াম তত্ত্বের আবিষ্কার ও তার সত্যতা প্রমাণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘটনা। কেউ কেউ মনে করে যে এটা সর্বকালীন সেরা এক কীর্তি। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানের সঙ্গে দর্শন এবং ধর্ম সবকিছুকে একসঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। মানুষকে বুঝতে শিখিয়েছে, কোন কিছুই অবাস্তব নয়। মানুষের সমস্ত ধ্যানধারণা ও ভাবনাচিন্তা সমস্তই এই মহাবিশ্বের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এই বিশ্বকাঠামোর বহির্ভূত নয়। মানুষ এমন কিছু ভাবতেই পারবে না যা এই মহাব্রহ্মাণ্ডের আঙ্গিকের বাইরে থাকবে বা বিশ্বকাঠামোর সঙ্গে বেমানান। মানুষের সব বিশ্বাস, সব ধারণা, সব কল্পনা, সব ভাবনা কোনটাই শূন্য থেকে আসে না। সেসবের পিছনে কিছু না কিছু ভিত্তি অবশ্যই বর্তমান। কেবল সেসব আবিষ্কারের জন্য অপেক্ষারত।
ততদিনে দশ হাজার বছরের মানবসভ্যতা শিল্প ও প্রযুক্তিগত দুটি মহাবিপ্লব পেরিয়ে এসেছে। তার প্রথম বিপ্লব ছিল আগুনের আবিষ্কার। পরবর্তী ক্ষেত্রে চাকার ব্যবহার। তারও আগে অন্য প্রাণীদের চেয়ে সে নিজের পার্থক্য বুঝিয়েছিল দেহবহির্ভূত উপকরণকে ব্যবহারের মাধ্যমে। গুহাগাত্রে চিত্রমালা ও শিলালিপি বানাতে বানাতে সে করে ফেলল লিপিমালার উদ্ভাবন। সে ভাষা বলতে ও লিখতে শিখল। কয়েক হাজার বছরের মধ্যে বাড়িঘর ও অন্য সব ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসমূহ বানাবার পর প্রাগৈতিহাসিক মানুষ হয়ে গেল আধুনিক মানুষ। সে বাণিজ্যিক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলল স্থলযানের পাশাপাশি জলযান উদ্ভাবনের মাধ্যমে। তারপর ঘটালো সে শিল্পবিপ্লব। যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহারের উপায় সে জানল। প্রাগৈতিহাসিক মানুষ যে উদ্ভাবনের সম্পূর্ণ ব্যবহার আয়ত্ত করতে কয়েক হাজার বছর ব্যয় করতো এখন সে কয়েকশো বছরে তা আরো বেশি দক্ষতার সঙ্গে হস্তগত করতে লাগলো। স্থল ও জলপথের পাশাপাশি আকাশপথে বিচরণ করতে শিখল। বড় বিপ্লব ঘটালো মুদ্রণশিল্পে। ছাপাখানার উদ্ভাবন এবং তার উন্নয়ন ও ব্যবহার হাতিয়ার করে কোটি কোটি বই বানাতে লাগলো। গড়ে তুলল জ্ঞানভান্ডার হিসেবে গ্রন্থাগার। চার থেকে পাঁচশ বছরে সে শিল্পবিপ্লবের সুফলকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে যেতে ঘটিয়ে ফেলল তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব যা তার সভ্যতায় দ্বিতীয় মহাবিপ্লব। প্রথম শিল্পবিপ্লবের অভ্যাসগুলি বর্জন করতে করতে সে মুদ্রণশিল্পকে বিসর্জন দিল। অফলাইনকে ছেড়ে অনলাইন প্রক্রিয়াকে বরণ করে সে হয়ে গেল অত্যাধুনিক মানুষ। প্রাগৈতিহাসিক মানুষ কয়েক হাজার বছরে তার উন্নয়ন ঘটাতো, আধুনিক মানুষের তা করতে লাগতো কয়েকশ বছর আর এখন অত্যাধুনিক মানুষ তা ঘটাতে লাগলো একেক দশকে। মুদ্রণশিল্প বর্জন করার প্রক্রিয়ায় সে বই ও পত্রপত্রিকার ব্যবহার ছেড়ে লেখাটাকেও বাদ দিয়ে কাজ চালাতে লাগলো কথা বলা, দেখা ও শোনার মাধ্যমে।
তারপর সে ঘটালো তৃতীয় মহাবিপ্লব। এবার কথা বলা, দেখা ও শোনাটাকেও বর্জন করার কৌশল আয়ত্ত করতে করতে শিখল মানসিক যোগাযোগ সংস্থাপনের উপায়। সে যানবাহনের ব্যবহারও বর্জন করতে শিখল। গাড়ি-ঘোড়া, প্লেন-জাহাজ, ট্রেন বা কিছুই আর থাকল না এখন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তন ঘটিয়ে সে শিখে গেল নিজেকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর কৌশল। তার জন্য সে তার বস্তুনির্ভর শরীরটাকে শক্তিপুঞ্জে পরিণত করে নিয়ে যেখানে যাওয়ার ইচ্ছে সেখানে গিয়ে আবার নিজের বস্তুনির্ভর মূল চেহারাটা ফেরত পাওয়ার উপায় বার করল। সে হয়ে উঠল সর্বাধুনিক মানুষ। উন্নয়ন ঘটতে লাগলো এখন বছরে বছরে। এই কাহিনী তেমনি একসময়ের।
*****
কয়েকদিন পর মাউন্ট গিলকাকোতে বন্ধুর গবেষণাগারে হাজির হল তাব্রিপস। বিষণ্ণ মুখ, অবসন্ন শারীরিক ভাষা। হাতে অবহেলায় ধরে রাখা বন্ধুর দেওয়া ভিউটাব, সেটা সে অশ্রদ্ধার ভঙ্গিতে টেবিলের ওপর এক রকম ফেলে দিয়ে হতাশ নিঃশ্বাস ছেড়ে একটা চেয়ারে বসলো। পার্সিলোন অবাক হলো তাকে দেখে। জিজ্ঞেস করল,
‘কথা হল মায়ের সঙ্গে?’
‘না, হলো না।’
তাব্রিপসের গলার স্বর বেশ রুক্ষ। বন্ধুর গলা শুনে ও ভাবভঙ্গি দেখে বিস্মিতভাবে জানতে চাইলো পার্সিলোন,
‘কেন? প্রলিতিয়াভা তারা, মানে তোর মায়ের সঙ্গে ভাষা বিনিময় করে কথা হয়নি তোর?’
‘না, হয়নি।’ কর্কশ গলায় বলতে লাগলো তাব্রিপস, ‘একটা নিষ্প্রাণ তারা কথা বলবে কোন মানুষের সঙ্গে ব্যাপারটা গোড়াতেই আমার পাগলামি বলে মনে হয়েছিল। মানুষের সঙ্গে আকাশের তারা কথা বলতে পারে না, অসম্ভব। মানুষ মৃত্যুর পর আকাশের তারা হয় এই ধারণা আজগুবি। মানুষের বানানো গল্পকথা। তোর আবিষ্কারটা বোগাস, ধাপ্পাবাজি। আমি জানতাম একটা তারা আমার মৃত মা হতে পারে না। বিশ্বাস হয়নি। এ ক’দিনে তার প্রমাণও পেলাম। তোর কুবুদ্ধিতে দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেছি ভিউটাবের সামনে, জড়পিণ্ড তারাটার রেপ্লিকার দিকে তাকিয়ে। কথা বলার চেষ্টাও করেছি নানাভাবে। কিন্তু তারার তরফ থেকে কোন বার্তা আসেনি আমার জন্য। সব বুজরুকি।’
বন্ধুর কথা শেষ হতে চেয়ারটা টেনে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসল পার্সিলোন। গভীর চোখে তাকিয়ে গাঢ় গলায় জানতে চাইল,
‘তুই কথা বলার কী চেষ্টা করেছিস? কিভাবে?’
‘জানতাম লাভ নেই, আজগুবি ব্যাপার, তবুও রোজ বসে হাজারবার কথা বলতাম। একতরফা কথা, অনেকটা পাগলের প্রলাপের মত।’
‘কী বলতিস?’
‘বলতাম, তুমি আমার মা? যদি মা হও তো জানাও তা, কথা বলো আমার সঙ্গে।’
একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে বসল পার্সিলোন। অপ্রসন্ন গলায় বলতে লাগলো,
‘প্রথম থেকেই ধরে নিয়েছিলি তুই যে ওই তারা তোর মা হতে পারে না। অবিশ্বাসটা ছিল গোড়াতেই। কখনো কি ওই তারাকে মা বলে ডেকেছিস সেই মনোভাব বা বিশ্বাস নিয়ে যেমন তোর মাকে জীবিত থাকার সময় ডাকতিস?’
‘কেন ডাকবো? একটা অজানা তারার নিষ্প্রাণ রেপ্লিকা, আমার মা হবে সে কোন্ গুণে? হলে তো নিজেই কথা বলত আমার সঙ্গে।’
বিরক্তি স্পষ্ট তাব্রিপসের গলায়। আবারো দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল বিজ্ঞানী বন্ধু। বলল,
‘ওখানেই তো ভুলটা করেছিস। এই তারাকে তুই মা বলে ভেবে নিতেই পারিসনি মন থেকে। বিশ্বাস ছিল না, আবেগ ও আন্তরিকতা ছিল না তোর মধ্যে। তাই এই তারার ভাষা বুঝতে পারিসনি। সে কিন্তু তার ভাষায় তোর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে গেছে, মনপ্রাণ ঢেলে তা বুঝে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলি না তুই। সেজন্য কমিউনিকেশন গ্যাপটা দূর হয়নি। আমার আবিষ্কারের অন্য একটা মূল কথা কী জানিস? সেটা হল, নিষ্প্রাণ কি সপ্রাণ, সব বস্তুরই নিজস্ব একটা ভাষা আছে। যার মধ্যে আন্তরিক ইচ্ছে আর ক্ষমতা আছে সে তাদের সবার ভাষা বুঝে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারে। তার জন্য তাকে অটুট বিশ্বাস আর ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। জগতের সব বস্তু কথা বলতে জানে, সবাই কিন্তু সবার সঙ্গে কমিউনিকেট করতে পারে না। এটাই মূল সমস্যা। ধৈর্য আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং তার সঙ্গে নিখাদ আত্মবিশ্বাস বা আস্থা হবে যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে জড় বা জীব সবার সঙ্গে কমিউনিকেট করার ক্ষমতা এসে যাবে। গোড়াতেই তুই গন্ডগোল করে ফেলেছিস মনে সন্দেহ রেখে, তারার ভাষা বোঝার উপযুক্ত মানসিকতা ছিল না তোর মধ্যে। তাই শুনতে পাসনি তারা হয়ে যাওয়া তোর মায়ের কণ্ঠস্বর, বুঝতে পারিসনি তার ভাষা। তুই ভেবেছিস তোর জীবিত মানুষ মা যেভাবে যেমন কথা বলতো মৃত্যুর পর তারা হয়ে যাওয়া তোর মা-ও তেমন ভাবেই কথা বলবে। বুঝিসনি এখন তোর ওই তারা হয়ে যাওয়া মায়ের ভাষা ও তার প্রকাশটা অন্যরকম। সেটা বুঝতে হলে তোরও অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি আনা দরকার।’
কিছুটা অবসন্ন মনে হল পার্সিলোনের গলা। এতক্ষণ কথা বলার জন্যই হয়তো। সে থামতে আগের মতই কঠিন ভঙ্গিতে প্রশ্ন তুলল তাব্রিপস,
‘দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালেই সবাই সবকিছু দেখতে পাবে, বুঝতে পারবে?’
‘একশবার।’ পার্সিলোনের গলাতে জোর এবং সেই একই ভঙ্গিতে সে বলতে লাগলো, ‘দেখার চোখটাই আসল। দেখার চোখ থাকলেই সব জায়গায় সবকিছু দেখা যাবে। সেটা থাকলেই তুই পৃথিবীতে থেকে মঙ্গলগ্রহে চলে যাবি। দেখার চোখ না থাকলে মঙ্গলগ্রহে গিয়েও তুই মঙ্গলগ্রহটাকে পাবি না। আমরা সবাই জলভরা বাথটাবে বসি, জল উপচে পড়ে দেখি। সবাই ভাবি, জলভর্তি বাথটাবে বসলে জল উপচে পড়বে, এতে আর দেখার কী আছে? কিন্তু আর্কিমিডিস বুঝিয়ে গেছেন যে বাথটাব থেকে এই জল উপচে পড়ার ঘটনাটাতেও দেখার অনেক কিছু আছে। আমরা দেখি, গাছ থেকে আপেল মাটিতে পড়ে। এতো নিত্য ঘটনা, এ আর দেখার কী? কিন্তু নিউটন বুঝিয়ে গেছেন এটার মধ্যে দেখার কী অবিশ্বাস্য বিষয় সাধারণের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। যার চোখ আছে সে সবকিছুতে সবকিছু দেখতে পাবে, যার চোখ নেই সে কোনকিছুতেই কোনকিছু খুঁজে পাবে না। তোর মধ্যেও দেখার সেই মানসিকতা ছিল না বলে তারা হয়ে যাওয়া তোর মায়ের ভাষা বুঝতে পারিসনি। ভেবেছিস তোর তারা হয়ে যাওয়া মা আর জীবিত মানুষ মা একই ভাষায় কথা বলবে। দেখার মানসিকতা যদি আনতে পারিস তো দেখবি তোর তারা হয়ে যাওয়া মা ঠিক তোর জীবিত মা যেমন ছিল তেমনিই আছে, তেমনইভাবে তোর সঙ্গে কথা বলছে।’
থামল পার্সিলোন। চুপ করে থেকে সব কথা শুনলেও সে থামতেই অবিশ্বাসের গলায় বলল তাব্রিপস,
‘তুই যতই জ্ঞানগর্ভ কথা বলে আমাকে বোঝাতে চাস না কেন, আমি একটা তারাকে মনপ্রাণ থেকে আমার মা বলে মানতে পারবো না কিছুতেই।’
‘ওটাই তোর আসল সমস্যা।’ হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে বিজ্ঞানী বন্ধু বোঝাবার চেষ্টায় বলতে লাগলো, ‘কিন্তু বিশ্বাস কর্, আমার ফেব্রিক্যাল কন্টিনিউয়াম থিওরি মিথ্যে হতে পারে না। এই তত্ত্ব আমি আবিষ্কার করেছি মানুষের হাজার বছরের প্রচলিত এক বিশ্বাস বা মিথ থেকে। তা হল, মানুষ মরে তারা হয়ে যায়। জানবি, যুগ যুগ ধরে যে বিশ্বাস তৈরি হয় তা মিথ্যে হতে পারে না। এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই আমি গবেষণা চালিয়েছি এবং সফলও হয়েছি শেষপর্যন্ত। আমার ফেব্রিক্যাল কন্টিনিউয়াম থিওরি দিয়ে পরীক্ষা করে আমি দেখেছি, তোর মা যে মুহূর্তে মারা গেলেন তার কন্টিনিউইটি বা নিরবচ্ছিন্নতা একমাত্র এই তারাটির জন্মের মধ্যেই আছে, সেই সময়ে জন্ম নেওয়া আর কোন তারাতে নেই। তোর মায়ের প্রাণ-মন-দেহের সমস্ত অনু-পরমাণু এই তারার বস্তুপিণ্ডে হুবহু বর্তমান। অন্য কথায়, তোর মায়ের মৃত্যুর কারণেই এই তারার জন্ম। তোর মা বেঁচে থাকলে এ তারার জন্ম হতোই না। অনেকটা ঠিক ব্ল্যাক হোল আর হোয়াইট হোল তত্ত্বের মতো ব্যাপার। আমার থিওরি ভুল হতে পারে না। আমি প্রায় একশ মানুষের মৃত্যু আর নতুন তারার জন্ম নিয়ে পরীক্ষা করে আসছি গত সতেরো বছর ধরে, বলতে পারিস একশ শতাংশ নির্ভুল প্রমাণ পেয়েছি। প্রত্যেকটি জীবের মৃত্যু একটি নতুন তারার জন্ম দেয়, সে তারা কোটি কোটি তারার ভিড়ে হারিয়ে থাকে, তাকে খুঁজে পাওয়া খড়ের গাদায় সূঁচ খুঁজে পাওয়ার মত কঠিন কাজ। তোর মাকে আমি খুঁজে পেয়েছি এই তারার মধ্যে। এ মিথ্যে হতে পারে না কিছুতেই। তোর সামনে আমার এই উপস্থিতি যতটা বাস্তব, এই তারার মধ্যে তোর মায়ের উপস্থিতিও ততটাই সত্যি।’
হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো তাব্রিপস। বন্ধুকে থামিয়ে দিয়ে উদ্ধত ভঙ্গিতে বলল কর্কশ গলায়,
‘তোর এইসব আজগুবি বিশ্বাস আর তত্ত্ব নিয়ে তুই থাক্, আমাকে বিশ্বাস করার কথা বলবি না। তোর তারা তোর কাছেই থাকুক। আমি চললাম। এসব পাগলের প্রলাপ শুনতে চাই না আর।’
পার্সিলোন তবুও চেষ্টা করল বন্ধুকে থামাতে, বোঝাতে তার কথা। কিন্তু পারলো না। তার সব চেষ্টা বিফল হলো। তাব্রিপস এতটাই বিগড়ে গিয়েছিল যে কান দিল না কোন কথায়। বন্ধুকে ক্রুদ্ধভাবে অশালীন ভাষায় রীতিমতো অপমান করে উত্তেজিত ভঙ্গিতে বেরিয়ে গেল তার বাড়ি থেকে। মর্মাহত বিজ্ঞানী বন্ধু হতাশ হয়ে বসে রইল।
*****
তখন মধ্যরাত। তাব্রিপস ঘুমোচ্ছিল।
মাউন্ট গিলকাকো থেকে সে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছিল বিকেল নাগাদ। তার মধ্যে রাগ, উত্তেজনা আর হতাশা তাকে অশান্ত করে রেখেছিল। একটা অজানা অস্থিরতা পাগল করে দিচ্ছিল। তার তাড়নায় সে কখনো বসছিল, কখনো পায়চারি করে যাচ্ছিল। ছটফট করছিল কেন ওভাবে নিজেও জানে না।
তার বাড়িটা পাঁচিলঘেরা এক বড় বাংলো, অনেক জায়গা নিয়ে। ধারেকাছে আর কোন বাড়িঘর নেই। এত বিশাল বাড়িতে সে থাকতো তার মাকে সঙ্গী করে এতদিন। এখন সম্পূর্ণ একা। কোন সঙ্গী নেই। পরিচিত লোকজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গও সে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। একমাত্র পার্সিলোনের সঙ্গেই ছিল তার মেলামেশা। এখন সেটাও বুঝি চুকে গেল। বন্ধুবিচ্ছেদ যে ঘটে গেছে সেটা বুঝতে পারছিল সে। তাই কি তার মধ্যে এত অশান্তি এত অস্থিরতা দেখা যাচ্ছিল? সেটাও সে স্বীকার করতে সম্মত ছিল না, কারণ তার বিশ্বাস যে পার্সিলোন তাকে একটা ভাঁওতাবাজি দিয়েছিল। সবটাই বুজরুকি, আর তাকে বলছিল সেটা বিশ্বাস করতে। এটা কি বন্ধুর কাজ? এমন বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
অস্থিরতার মধ্য দিয়ে সন্ধে পেরিয়ে রাত চলে এলো। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টায় তাব্রিপস তার বাড়ির সুইমিংপুলে ডুবে রইল অনেকটা সময়। কয়েকটা ঘন্টা ওভাবে কাটিয়ে শেষপর্যন্ত উত্তেজনা দমন করতে পারল। খিদেও পেয়ে গিয়েছিল। অল্পকিছু খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ির মধ্যেই লনে পায়চারি করে কাটালো কিছুক্ষণ। তারপর ড্রয়িংরুমে এসে গা এলিয়ে দিল একটা আরাম কেদারায়। ওভাবে থাকতে থাকতে একসময় ঘুম পেয়ে গেল তার। বিশাল বেডরুমে ঢুকে সে শুয়ে পড়ল বিছানার ওপর।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিল তাব্রিপস। যেন সে একটা ঝিমধরা নিঝুম পরিবেশের মধ্যে এসে পড়েছে। কোথাও কোন রং নেই, উত্তাপ নেই, শব্দ নেই। জনপ্রাণী তো দূরের কথা, কোন একটি বস্তুও কোথাও আছে বলে মনে হচ্ছিল না। একেবারেই ফাঁকা চারপাশ, রহস্যময়, কিন্তু অন্ধকারও নেই। নিজের অবস্থান কোথায় সেটাও সে বুঝতে পারছিল না।
তারপর সে দেখতে পেল একটা চলমান আলোক উৎস, সেটা যেন ক্রমশ দূর থেকে নিকটবর্তী হচ্ছে। তখনই সে শুনতে পেল কেউ যেন তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে,
‘তাব্রি, আমি আসছি। একটু সময় লেগে গেল তোর কাছে আসতে। আমার প্রচন্ড উত্তাপকে স্নিগ্ধ করতে হল, যাতে তোর কাছে উপস্থিত হতে পারি। আমার ভিতরের মহাগর্জনকে তোর বোধগম্য ভাষা করে তুলতে হল, যাতে তুই আমার কথা বুঝতে পারিস। তুই তো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলি না, তাই আমাকেই সক্রিয় হতে হল, যাতে তুই আমাকে বিশ্বাস করতে পারিস।’
ক্রমশ সেই চলমান আলোক উৎস কাছাকাছি চলে আসছিল, সেটা বোঝা যাচ্ছিল তার আকার বড় হতে থাকায়। সঙ্গে সেই কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল আরো স্পষ্টভাবে, উচ্চগ্রামে।
‘এতটা সময় লেগে গেল তাই। সবচেয়ে বড় কথা, আমাকে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হচ্ছে। অনেক অনেক আলোকবর্ষ। আমাকে একটি অতিরিক্ত মাত্রার বিশ্বে হাজির হতে হয়েছে নিজের অর্ধেক জ্বালানি বিসর্জন দিয়ে যাতে তোর কাছে আসার সহজ ও সংক্ষেপ পথটি পাওয়া যায়। বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না। পৃথিবীর হিসেবে মাত্র এক মিনিট থাকা সম্ভব হবে। তার বেশি সময় থাকলে আমার অবশিষ্ট জ্বালানি সব ফুরিয়ে আমি একটি মৃত তারা হয়ে যাব।’
সেই ঝিমধরা পরিবেশ এখন মুখরিত আলোর বন্যায়, কারণ সেই আলোক উৎস পূর্ণাবয়ব প্রাপ্ত হয়ে চারপাশ ভরিয়ে দিয়েছে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই তাব্রিপস এবার তার ঠিক কানের কাছে শুনতে পেল সেই কন্ঠস্বর,
‘তাব্রি, আমি এসে গেছি।’
মনে হল কেউ বুঝি তাকে একটা প্রচন্ড ধাক্কা দিল। নাকি একটা ঝাপটা? যেন প্রবল একটা ঢেউ তার ঘুমন্ত শরীরটাকে টালমাটাল করে ফেলল। সেটা আলোর ঢেউ। সেই ঝাপটাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল তাব্রিপসের। সে ধড়মড় করে উঠে বসলো বিছানার ওপর। তার ঘর ভাসছে তখন অপরূপ আলোর বন্যায়। এত আলো, এত আলো যে তার দাপটে চারপাশে আর কিছু দেখাই যাচ্ছে না। বুঝি সমস্ত জগতে আলো ছাড়া আর কিছুই নেই। অথচ সেই আলো স্নিগ্ধ, আছে তাতে কোমল আদর।
আর কিছু না দেখা গেলেও তারপর তাব্রিপস দেখতে পেল সেই আলোক উৎসটিকে। কিছুটা ওপরে, হয়তো আন্দাজে তার বেডরুমের ছাদের কাছে টলমল করছে আলোর একটি বৃত্ত।
বড়ই চেনা মনে হলো সেই আলোক বৃত্তটিকে। তার বন্ধু পার্সিলোন ভিউটাবে একেই দিয়েছিল। হ্যাঁ, কোন সন্দেহ নেই তাতে।
আলোক বৃত্তটি আসলে প্রলিতিয়াভা তারা।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
