শরদিন্দু সাহা

লেখক পরিচিতি

বাংলা কথা সাহিত্যের সুপরিচিত লেখক শরদিন্দু সাহা। লেখক সত্তা ও জীবনকে বিচ্ছিন্ন করে দেখতে তিনি অভ্যস্ত নন। নিছক লেখক হওয়ার জন্য তিনি কলম ধরেননি, সামাজিক দায়বদ্ধতাই তাঁকে সৃষ্টিকর্মে উদ্বুদ্ধ করে। শৈশব থেকে সৃষ্টিশীল মন লালন করে প্রস্তুতি পর্ব সারলেও নয়ের দশকের গোড়া থেকে তাঁর লেখালেখি শুরু। এ-পর্যন্ত শতাধিক গল্প, গোটা কয়েক উপন্যাস এবং অন্যান্য গদ্য মুদ্রিত হয়েছে। দশটি উপন্যাস আর সাতটি গল্পগ্রন্থ সহ মোট গ্রন্থের সংখ্যা ষোলো। ১৯৯৮ সালে ‘কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগার পুরস্কার’ পান। ২০০৪ সালে ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি প্রদত্ত সোমেন চন্দ পুরস্কার’ পান। ওই  বছরেই কাটোয়া লিটল ম্যাগাজিন মেলা কর্তৃক সংবর্ধিত হন। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘হল্ অব্ ফেম’-এ সম্মানিত করেন। ২০০৫ সালে ‘ভাষা শহিদ বরকত স্মরণ পুরস্কার’ পান। ২০০৭ সালে সাহিত্য আকাদেমি’র আমন্ত্রণে গৌহাটিতে বাংলা-অসমীয়া গল্পকার সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে ‘আমি’ পত্রিকা তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য বিশেষ সম্মান দেন। প্রসার ভারতী’র আমন্ত্রণে নানা সময়ে সাহিত্য-সংস্কৃতি অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মিলিয়ে অনেক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পত্রে ও ওয়েব ম্যাগাজিনে লিখে চলেছেন। ইতিমধ্যেই নিজস্ব এক ঘরানা সৃষ্টি করে তিনি পাঠকের মন জয় করেছেন।সম্প্রতি লেখক ‘দীপ্তি রায়চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৪’-এ সম্মানিত হয়েছেন।

বিষয় পরিচিতি

(রেভারেন্ড জেমস্‌ লঙ  যে লক্ষ্য স্থির রেখে জীবনকে চালনা করেছেন তা শুধুমাত্র ঘটনাক্রম দিয়ে ধরা যায় না। তাঁর কর্মজীবনের পরিক্রমায় যে অন্তর্নিহিত শক্তি ও প্রভাব রয়েছে তাকে কোনও এক শিল্প মাধ্যম দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না। কারণ কোনো সরলরেখায় তিনি তাঁর কাজকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, নানা উত্থান পতন ঘাত প্রতিঘাত তাকে পীড়িত করেছিল, বিপর্যস্ত করেছিল। তিনি প্রবল আত্মশক্তিতে তার মোকাবেলা করেছিলেন এবং কর্তব্যকর্মে অটুট ছিলেন। তাঁর কাজের পরিধি ও ব্যাপ্তি একজন শিক্ষকের, সমাজসেবকের, মানবপ্রেমির যা মূলত শাসক ও শোষিতর মাঝখানে একজন প্রতিবাদীর, সত্যবাদীর, বলা যায় একজন দ্বান্দ্বিক ব্যক্তিত্বের। যার না-বলা কথা, জানা-অজানার কল্পনা ও বাস্তবের মিলন নিয়ে উপন্যাস লেখা সম্ভব অসম্ভবের দোলাচল মাত্র, তবুও শব্দের মায়ায় ধরার সামান্য প্রচেষ্টা। কোথায় তার অন্ত হবে প্রকৃত অর্থে বলা খুব কঠিন। এই মহান মানুষটির শৈল্পিক জীবনকে ছুঁয়ে যাওয়া আর কি।)

নেই তো পথ, পথের খোঁজে সবুর কর

 ধোঁয়া ধোঁয়া আকাশটা যে নির্মল হবে এমন সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবুও আশায় মরে চাষা। চাষার আসনে বসতে দোষের কী আছে যখন ঝড় জল রোদ বৃষ্টি কোনোটাই বাদ পড়ছে না। রাস্তা ভিজছে, রোদে পুড়ছে, মানুষগুলো ফিরে ফিরে দেখছে কোথায় গেলে স্বস্তি পাবে। আচ্ছাদন ও তেমন নেই। এক বুক ভরা শূন্যতা নিয়ে ওরা ধুঁকছে, ওদের রক্ত নিংড়ে নিতে কেউ দ্বিধা করছে না। কারা যেন খড়গহস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কারা তারা – ইংরেজ প্রশাসনের সৈন্যদল, না আরও কেউ কেউ। এক অন্তহীন জিজ্ঞাসা আমাকে ঘিরে রাখে। কে কাকে দোহাই দেয় ? এমন এক আঁধার টুকরো টুকরো হয়ে যখন ছড়াতে চাইছে তখন পরিত্রাণের কোনো রাস্তা খোলা আছে কী! আছে বোধ হয়। যারা পা চালিয়ে এসে হাজারে হাজারে প্রতিকার দাবি করেছিল, মাঝরাস্তায় কচুকাটা করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল কারা, তারা তো প্রভু। প্রভুত্বকে স্বীকার করেনি বলেই তো স্বদেশের মাটি নিজেদের তাজা রক্তে লেপ্টে দিয়েছে ওরা। এই বেদনার প্রশমনের সুযোগ আমার তেমন আর নেই যেমন করে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু আসল কথা হলো সকলে তো উৎসবে মেতে আছে, কত কিছুরই তো মোচ্ছব চলেছে চারপাশে। নগরায়ন আর নবজাগরণ, দুই তো কেমন গলাগলি করে রাস্তা অতিক্রম করবে বলে উঠৈপড়ে লেগেছে। এই বিশ্বাস আমি রাখি না, এমনটা তো নয়, তাহলে সংঘর্ষ কোথায়! আছে বই কি, পথটা যে বড় আঁকাবাঁকা।

প্যারীচরণ সরকার দিনে দিনে সকলের নজর কেড়েছেন। ইতিমধ্যেই মেয়েদের শিক্ষার জন্য তাঁর প্রচেষ্টা সাহেবরাও উপেক্ষা করতে পারছেন না। তিনি যে আপাদমস্তক একজন শিক্ষক তাই তো নানা পরিকল্পনা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনকে উন্মোচিত করে। মানুষটার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের দিনটি আমি ভুলি কেমন করে। বারাসাত বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি যখন ছাত্রদের শৃঙ্খলার পাঠ পড়াচ্ছিলেন সেদিন আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ এসে খেঁজুর গাছের আড়ালে যেন মাথা খুঁড়ে মরছিল, তাতেও কিন্তু উজ্জ্বল আলোর কোনো অভাব হয় নি। ছাত্রদলের উজ্জ্বল মুখগুলো সেই আলোকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাঁহাতের তালুতে বন্দী বই আর ডান হাতে ছড়ি নিয়ে এক এক করে গুনে চলেছেন নতুন কোনো ছাত্র সারিতে এসে যোগ দিল কিনা। মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি স্বেচ্ছায় স্কুলে এসেছ, না কেউ জোর করে ঠেলে পাঠিয়েছে? ছাত্রটি এমন একটি প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিল না। সে জানত না আসলে শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে ভাবের আদানপ্রদান কেমন করে হয়। আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম শিক্ষকের হাতের ছোঁয়ায় কেমন জাদু আছে। ছেলেটি থলে থেকে একটি বই করে বলল, আমি পড়তে চাই স্যার। শিক্ষক মহাশয় নিজেকে সংবরণ না করতে পেরে বললেন, বেঁচে থাকো বাবা, আমি আশীর্বাদ করি তোমার ইচ্ছে যেন পূরণ হয়। এমন এক সরস মুহূর্তের সাক্ষী যে হতে পারবো আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। ভাবলাম, জীবনে কত কীই না ঘটে, শিক্ষক হয়ে আর এক শিক্ষকের অনুভূতি আমাকে নাড়িয়ে দিল। জিজ্ঞেস করলাম, এই সমাজ ও জীবনকে আপনি কোন আলোকে দেখছেন। উত্তর এলো, ছেঁড়া ছেঁড়া ইলোরা এখনও জানা বাঁধতে শেখেনি, হোঁচট খাওয়া পথটা এখনও এবড়োখেবড়ো হয়ে শুয়ে বসে আছে, স্বপ্নের দোলাচলে দোল খায়। বললাম, দোল খায় তো বটে, মনের কথা খুলে বলে না, দিনান্তে অস্তগামী সূর্যের আলো এসে উঁকিঝুঁকি দেয় তো বটে। শুন্যে দৃষ্টি মেলে বললেন, বালিকাদের বিদ্যালয়টির ভাগ্যে বেসরকারি প্রথম বালিকা বিদ্যালয়ের তকমা জুটেছে বটে, কত কী করার তো বাকি রয়ে গেছে। অফিস ঘরের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইপত্রগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন এক মনে, অস্ফূট শব্দগুলো দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে যেন আপনমনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বললাম, হবে হবে, সব হবে, একদিন আপনার কল্পনার কৃষি বিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা বাস্তবে রূপ পাবে। এক গাল উজ্জ্বল হাসিতে ফেটে পড়ে বললেন, ‘আপনি পাদ্রী শিক্ষক, যীশু খ্রীষ্টের ভক্ত, আপনার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক, এই বাংলা যেন অচিরেই এইসবের মুখ দেখে। বুঝলেন লঙ, আজকাল সবকিছুই মনে হয় একটা শৃঙ্খলকর্ম, একটিতে ছোঁয়া লাগলেও অন্যটি তার রূপ দেখাতে শুরু করে। জীবনটা বড় আশ্চর্যের জানেন, যা কিছু করবো বলে আগলে বসে থাকি, তা যেন করা হয়ে ওঠে না, তবে আজ না হয় কাল, কোনো একদিন করে ফেলতে হবে। একদিন একটা ‘প্রিপেরেটরী স্কুল’ খুলবো, গরীব দুঃস্থদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শিখবে, ওদের জন্য জ্ঞানের দরজা খুলে যাবে, অন্ধকার সব অনেক দূরে চলে যাবে। দেশে সোনা ফলবে, আহাঃ সেই দিনটার কথা ভাবলে মনটা কেমন অস্হির হয়ে ওঠে। বুঝলেন লঙ, বৈষম্য এক অভিশাপ যেন ভারতীয়দের জীবনে, কবে যে এই জাতি বুঝতে শিখবে? বললাম, সূর্য অস্ত গেল বটে, আপনার ভাবনাগুলো যেন অস্ত না যায়, তাছাড়া একজন শিক্ষক হয়ে ওঠাও তো কম বড় কথা নয়।

সবকিছুই আমি যেন জুড়তে জুড়তে যাই। এই ভূমিকায় সবকিছুই নতুন নতুন লাগে। কোনো এক সকালে উঠলেই মনে হয়, এই বুঝি আজ আকাশে এক নতুন তারার জন্ম হলো, হাজারো তারার ভিড়ে মিশে আছে, দিনের আঁচল তাদের ঢেকে দিয়েছে আপন ছন্দে, মনের মাধুরী মিশবে না তাই আবার হয় নাকি, সকলেরই অবয়বে প্রাণের ইশারা আছে যে। যাই, আমিও তাই বেরিয়ে পড়ি সেই নতুন তারার খোঁজে।  বাবু হরচন্দ্র ঘোষের খ্যাতি আমাকে আকর্ষণ করে নি এমন নয়, তবু কোথাও সংকোচ ছিল, এত উঁচুদরের মানুষ, বিচারকের সম্ভ্রম তো কম নয়। স্বয়ং ডালহৌসির সঙ্গে সখ্যতা কারও তো অজানা নয়। শোনা যায়, সংবাদপত্রে বিরূপ সমালোচনার জন্য পুলিশকোর্টে  জুনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট পদ গ্ৰহণ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তিনি ঘোষ মহাশয়কে বুঝিয়ে রাজি করিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ‘দেখ হরচন্দ্র, সংবাদপত্রগুলি তো আমার বিরুদ্ধে প্রতিদিন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য কি আমি আমার কর্তব্য সাধন থেকে সরে গেছি? ওদের সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হওয়ার কিছু নেই। তোমার স্বদেশীদের উন্নতি ও অগ্রগতি এখন সংকটের মুখে, তোমার নিজের দৃষ্টান্ত দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, ইউরোপীয়দের মতোই তোমরাও উচ্চ ও সম্মানিত পদ লাভের যোগ্য।’ এও সত্যি তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর কার্যকলাপ অন্তরের সঙ্গে ঘৃণা করতেন।  আমার ইচ্ছা ও আগ্ৰহ দুটোই যেন মিলেমিশে আমাকে ওঁরই প্রতিষ্ঠিত স্কুলে টেনে নিয়ে যায়, এই ঘটনাকে কাকতালীয় ছাড়া কিইবা বলা যায়। এই আত্মপ্রচার বিমুখ মানুষটার মুখোমুখি হয়ে যাবো কখনও, ভাবি নি। প্রথম সাক্ষাতেই বললেন, আমি শুনেছি অনেক কথাই লঙ সাহেব, ছাত্রদের জ্ঞানের স্পৃহা জাগাতে আপনার খ্যাতি আজ বঙ্গবাসীর মুখে মুখে। নিজের লজ্জা লুকোতে গিয়ে বললাম, আপনি কি শুনেছেন জানি না, তবে বঙ্গদেশে আপনার মতো উদার মনের মানুষের বড় প্রয়োজন। ওরা সকলে মুখ চেয়ে বসে আছে, কে ওদের আলোয় ফেরাবে। চুলে বিলি কাটতে কাটতে বললেন, ইউরোপীয় পাদ্রীদের নিয়ে অনেক কথাই আমার কানে আসে, কিন্তু সাধারণের জন্য আপনার অনুরাগ মিলে কোথায়। ভাবলাম, এই কথাগুলো ওনার মনের কথা, না আমাকে খুশি করবেন বলে প্রশস্তি বাক্য আওড়াচ্ছেন, কি জানি। কিন্তু ওঁর দৃঢ় উচ্চারণ দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে না। এই দেখুন না, এই তো সেদিন স্কটল্যান্ডবাসী একজন জেলা জজ কেমন অবলীলায় বলে দিলেন, ‘তোমার ইংরেজী শিক্ষা আমার ভালো লাগে না। আমরা এদেশ জয় করেছি, সেইজন্যই আমরা (পরাজিত) এ-দেশবাসীকে কোন দিক দিয়েই আমাদের সমকক্ষ ভাবতে পারি না।… শুনতে তোমার খুব খারাপ লাগবে, কিন্তু জেনে রেখ, মোটামুটিভাবে এই হলো সব ইউরোপীয়ের চিন্তাধারা।’ স্বজাতীয়দের এমন তিক্ত মনোভাবে লজ্জিত না হয়ে উপায়ই বা কি। এই দেশীয় অভ্যাস তো রপ্ত করেছি, হাত দুটো টেনে নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বললাম, লজ্জা দেবেন না, ওদের হয়ে মাফ চেয়ে নিচ্ছি। হৃদয়বান মানুষ তো, বললেন, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখাই ভালো, জাত হিসেবে দেখলে জবাবদিহি করতে হয়। আত্মম্ভরিতাকে জয় করলে এইসব কথার অর্থই ম্লান হয়ে যায়।

মানুষকে খুঁজতে খুঁজতেই জগৎ চেনা। উঁচু ইমারতের ছাদ থেকে না দেখে সিঁড়ি ভেঙে পথের ধুলোয় মানুষগুলোকে জড়িয়ে ধরা, তবে না সত্যাসত্য যাচাই করা যায়, না হলে সকল কথা সকল সুর বেসুর হয়ে যায়। সেই মুখগুলো দেখবো বলেই তো মাঠে নেমেছি, দেখা তো মিলবেই, এই আশায় জলাঞ্জলি দিই কী করে! ভেবে মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই এই দেশের বাবুরা ‘মহারাজা বাহাদুর’ ‘রাজা বাহাদুর’ ‘চার হাজারী’, ‘দোহাজারী’, ও দিল্লীশ্বরের দেওয়া ‘মহারাজা’ উপাধি পেয়ে দিব্যি মনের সুখে আত্মসুখে মগ্ন হয়ে কাল কাটিয়ে ভবনদী পার করে যান। কি জানি আমি জানি না এটা সফলতার মাপকাঠি কিনা, নাকি অন্যের বশ্যতা স্বীকার করে বশংবদ হয়ে বেঁচে থাকা। জীবন আমাদেরকে কত কিছুই না শিখিয়ে দেয়, কোনটা গ্ৰহণ করা উচিত আর কোনটা বর্জন করলে আসলে কয়েক কদম এগিয়েই যাওয়া যায় সেটা সহজবোধ্য নয়। মানুষের সভ্যতার ইতিহাস আসলে কোনটা, বুঝতে গেলে বোধ হয় আরও কয়েক শতাব্দী কাটাতে হবে। মানুষের অস্তিত্বের প্রকৃত অর্থ কি বুঝতে গেলে এখনও খুঁড়ে খুঁড়ে দেখতে হবে জীবনের মণি মাণিক্যগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে। ইউরোপীয়ানরা পাওনা গণ্ডা নিয়ে হিসেব করে আর এশীয়দের সভ্যতার পাঠ পড়ায়, কোথাও না কোথাও বোধ হয় দাঁড়ি টানা জরুরি, না হয় বাবুরা বুঝবেন কেমন করে যাদের মোসাহেবী করে ওঁরা ধনসম্পদ বৃদ্ধি করে চলেছে তা একদিন ওদের জাতভাইদের আত্মাভিমানে ঘা মারবে। এটা কি ওঁরা জানে না, হয়তো জানে, জেনেশুনে চুপ থাকে। আমার ভূমিকা নিয়ে আমি এখনও সন্দিহান – যাবো তো যাবো, কোন পথে যাবো, কোন পথ দিয়ে হেঁটে চলে বেড়াবো, বড় জটিল সে অঙ্ক, তবে সমাধানের পথে ওই মানুষগুলোর বুলি মাঝে মাঝেই উঁকিঝুঁকি মারে। কী নিদারুণ সেই জ্বালা! কী অসম্ভব অস্মিতা নিয়ে ওরা দিন গুজরান করছে, তাকে একটু উল্টেপাল্টে দেখলেই হয়তো আসল পথের দিশা মিলবে। ওই যে একদিন এক বৈরাগী বলেছিল – যেজন পথের হিসেব জানে না, তাকে খুঁজে করবি কী? অবাক হয়ে চেয়ে দেখেছিলাম ওর মুখটা মুহূর্তে মুহূর্তে কেমন পাল্টে পাল্টে যাচ্ছে, এক অনির্দিষ্ট নিয়ম যেন সেখানে খেলা করতে করতে চলে যাচ্ছে কদম কদম।

কোন্নগরে শিবচন্দ্র দেব-এর চিন্তাধারা সমাজ চিন্তায় ডিরোজিওর প্রভাব ছিল না এইকথা বলা যায় না। তিনি নিজে ডেপুটি কালেক্টর হলেও কীভাবে সমাজের জড়ত্ব উৎপাটন করা যায় এই নিয়ে তাঁর চিন্তার অন্ত ছিল না। ওনার প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়ে যখন তাঁকে প্রথম দেখি বুঝেছি আর পাঁচ জন সাধারণের মতো আরাম আয়েশে জীবন কাটিয়ে দেওয়ার মানুষ তিনি নন। স্ত্রী শিক্ষার প্রসঙ্গ উঠতেই আঙ্গুল তুলে দেখালেন যে মেয়েগুলো গুটি গুটি পায়ে বিদ্যালয়ের অঙ্গনে প্রবেশ করছে, ওদের দেখতে পাচ্ছেন তো! বললেন, লঙ সাহেব, আমাদের দেশের মেয়েদের দুরাবস্থার শেষ নেই, অথচ দেখুন পাশ্চাত্যের নারীরা কেমন তরতাজা বৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছে, নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দিচ্ছে, প্রমাণ করে দিচ্ছে পুরুষদের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দেওয়ার মতো ওরা সকল গুণেরই অংশীদার। অথচ, দেখুন তো আমরা কিছুতেই মেয়েদের ঘরের বাইরে টেনে আনতে পারছি না। সমাজ কোনও না কোনওভাবে ওদের আঁচল টেনে ঘরে বসিয়ে রাখছে। বললাম, মহাশয়, আপনি কী মনে করেন, কীভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো সম্ভব? আমার চোখে চোখ রেখেই জবাব দিলেন, শুধু শহরের মানুষগুলোর মনে আলো ফেললে হবে না, গ্ৰামীণ সমাজের খোলনলচে আমূল পাল্টে দিতে হবে। আমি জানি না কে এই দায়ভার নেবে? সকলে তো সুযোগ বুঝে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে, কেউ শহরতলির গ্ৰামগুলোর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না, দূর দূর হতদরিদ্র গ্ৰামগুলো যে কী দশায় আছে, ভাবলেই আমার গা শিউরে ওঠে। শিবচন্দ্র বাবুর অন্তরের ছবিটা যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করে বললাম, এই অন্ধকার এত সহজে দূর হবার নয় মহাশয়, আরও অনেক সময়ের পদধ্বনি আর সময়ের যোগফলে যদি কোনদিন নতুন সূর্য ওঠে। আপনি তো মেদিনীপুরে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেছেন, কোন্নগরে হিতৈষণী সভা স্থাপন করেছেন, প্রদীপ তো জ্বালিয়ে দিয়েছেন, এইবার সেই আলো এসে সকলের আঙ্গিনায় এসে যে পড়বে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে। লঙ সাহেব, আপনি শুধু একটি দিক দেখলেন, এই দেশের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি আর মনের ফাটল তো দেখলেন না, আপনার ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র প্রশাসকরা এর মেরামত কীভাবে করবে এখনও জানে না, ওরা শুধু দিনরাত শহুরে জমিদার আর বাবুদের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকে। সকলের আগে এই মানুষগুলোর বন্দী থাকার কারণগুলো বুঝতে হবে গর্ভণমেন্টকে, না হয় সবকিছু মাঠে মারা যাবে, বিদ্রোহের আগুন যে ধিকি ধিকি জ্বলছে, তা আছড়ে পড়বে মাঠে ময়দানে আর কালে কালে শহরের অলিগলিতে, তখন কিন্তু সামলানো দুষ্কর হবে। বললাম, আপনি তো সমস্যার গোড়া ধরে টান দিয়েছেন। লঙ সাহেব, আমার মতো সরকারি চাকুরে কি সরকারি দপ্তরে ঘা মারতে পারি, আপনাদের চোখ দিয়েই তো সরকার দেখে, আপনাদের কান দিয়ে শোনে, আপনারা এই মানুষগুলোকে না বুঝলে চলবে কেন? এই তরী বাইতে আরও শক্তিশালী মাঝির প্রয়োজন। শহরের  সাময়িকপত্র ‘এডুকেশন গেজেট’ তো রয়েছে, বলুন না এই ছাপোষা মানুষগুলোর জ্বালা যন্ত্রণার প্রকৃত ছবিটা  তুলে ধরতে।

খুঁজলেই তো মানিক রতন মেলে। নির্লোভ মানুষরা কখন যে নিজের মতো বেড়ে ওঠে ডালপালা মেলতে শুরু করে কেউ জানে না। এই মানুষগুলো সুযোগ পেলেই অন্যের কষ্ট লাঘব করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। হরচন্দ্র ঘোষকে আমি যখন প্রথম দেখি, তিনি তখন ছোট আদালতের প্রথম বাঙালি জজ। শুনেছি লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক তাঁকে গভর্নর জেনারেলের দেওয়ানের পদ দিতে চাইলে জননীর প্রতিকুলতার জন্য তিনি তা গ্ৰহণ করতে অসম্মত হন। কোর্ট চত্বরেই আচমকাই ওঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। একজন পাদ্রীকে কীভাবে যে তিনি এত সহজে আপন করে নিলেন কী জানি। তাঁর এই মুক্ত চিন্তার পেছনে ডিরোজিও-এর একাডেমিক এসোসিয়েশন- এর ভূমিকা যে নেই এ-কথা বলা যাবে না, নিজেও যে কম উদ্যোগী ছিলেন না। প্রথম দর্শনেই জানতে চাইলেন, রেভারেণ্ড লঙ আপনার শিক্ষাক্রম কেমন চলছে আজকাল। কত কথাই তো কানে আসে। তবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটা পরামর্শ দিই সুনাম দুর্নামের তোয়াক্কা করবেন না। তাহলে সকল কাজই  মুখ থুবড়ে পড়বে মাঝপথে। বললাম, আপনি তো ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’-এর সম্পাদক কৃষ্ণদাস পালকে পুত্র নির্বিশেষে সহায়তা করেছিলেন, কালীপ্রসন্ন সিংহের অভিভাবক হয়েছেন। দেখুন রেভারেন্ড লঙ, আমি জীবনে যা সঠিক বলে মনে করি এবং যাতে সমাজের হিতসাধন হয় তাই করি, দুষ্ট লোকের মন্দ কথা কখনও কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। মহাশয়, এই দেশের শিক্ষার জন্য আপনার অবদান সর্বজনবিদিত। লঙ সাহেব, আমি মনে করি না এটা এমন কোন বড় কাজ, যারা সুযোগ পেয়ে শিক্ষিত হয়েছে, সেই দেশবাসীর ভাবনায় থাকা উচিত কীভাবে সকলকে টেনে তোলা যায়। যদি পঞ্চাশ জনকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করা যায়, তারা প্রত্যেকেই আরও পঞ্চাশ জনকে শিক্ষিত করে তুলবে, এই কাজে কোনো বাহাদুরি নেই, বরঞ্চ দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে।

 বললাম, তাই কী আপনি বাঁকুড়া ও সরশুনায় স্কুল স্থাপন করেছিলেন? বললেন, হয়তো তাই। আপনি একজন অ্যাংলো-আইরিশ  মিশনারি শিক্ষাবিদ হয়ে এই দেশের জন্য নিজেকে বাজি রেখে প্রাণপাত করতে পারেন, তাহলে স্বদেশী হয়ে যদি এই সামান্য কাজটুকু করতে না পারি, তাহলে এই লজ্জা কোথায় ঢাকবো, বলতে পারেন?  ভাবলাম, ও গড, সব মানুষ কেন এমন হৃদয়ের অধিকারী হয় না, তাহলে এই দেশ কেননা, সকল দেশের মানুষ যাবতীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে যেত।

আপার চিৎপুর রোডের রামমোহন রায় ‘ব্রহ্মসভা’ স্থাপন করেছিলেন। পথের দুপাশ দিয়ে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল নিশ্চয়ই এই শহরটা একদিন পাল্টে যাবে। কত রঙ এসে লাগবে মানুষের শরীরে আর শহরের সৌন্দর্য আপন রঙ নিয়ে জানান দেবে। একটা প্রশ্ন কেন জানি না বারবার করে উঁকিঝুঁকি মারে – ইংরেজ শাসনেই কি এদেশের মঙ্গল নাকি কোন অনাগত ভবিষ্যৎ অন্য কথা বলবে। নবজাগরণের ঢেউয়ে দোল খেতে খেতে মানুষ খুঁজে চলেছে আত্মমুক্তির খোঁজ। সত্যি যেদিন জেগে উঠবে, কেমন হবে এদেশের মানুষ, সকল রূপ রস গন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করবে শাসককে, এটা তো ভবিতব্য। তবে এত যে কর্মযজ্ঞ চলছে, কেমন হবে এর পরিণতি! এই দেশের মানুষের চোখের আলোয় চিকচিক করছে যে পরশমণি তা কী কোন সোজাসুজি হেঁটে অন্য দিকে বাঁক নেবে, তাকে বিনির্মাণের ক্ষমতা হয়তো জন্ম দেবে এক প্রতিদ্বন্দ্বীর, আজকের সম্পর্কের আদল ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। কোন এক ইমারতের ধারে একদল ছেলে ডাংগুলি খেলছিল, ওদের বিমূর্ত কল্পনা আমার মূর্ত কল্পনায় এসে থাবা বসালো। মানুষের চিন্তার ভুবনটা হয়তো এরকমই হয়, বর্তমান আর ভবিষ্যতকে নিয়ে এমন করেই ডাংগুলি খেলে, কোনটা দৃশ্যমান হয়, আর কত কিছুই ঘুরপাক খেতে খেতে নানা বৃত্তে বন্দি হয়ে যায়। আমার দেশের মানুষ চাইছে টেনে হিঁচড়ে এই মানুষগুলোকে নিজেদের ছাঁচে ফেলে গড়ে পিঠে নিতে, অথচ আমি এমন মূর্খ আমি চাইছি ওরা ওদের এতকালের নিজস্বতা নিয়ে নতুন পোশাক পরে নিক। বিদ্যাসাগর মহাশয়কে মনের কথা উগড়ে দিতে উনি তো হেসেই কুটুকুটি, আমার মুখে দেশীয় প্রবাদবাক্য শুনে কী বলবেন ভেবেই পান নি। বেশ মজার ছলেই বলেছিলাম – ‘ আসল ঘরে ফসল নাই, ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া।’ কথাটা যেন ওঁর মনের মধ্যে গেঁথেই গেল। বললেন, ইংরেজ শাসকদের জায়গায় আমি হলে এজন্য আপনাকে পুরস্কৃত করতাম। যার মর্মাথ স্বদেশী বুঝলো না, আপনি কত সহজ করেই না বুঝলেন। কথাটা শুনে খানিকটা লজ্জিত হলাম। যেই সেই লোক তো নয়, বিদ্যাসাগরের মুখে এমন প্রশস্তিবাক্য। মনে মনে তৃপ্তিও পেলাম, এতদিনে বোধ হয় এই দেশের মানুষের মনকে সামান্য হলেও বুঝতে শিখেছি।

সময়টা কী শেষ হয়ে এল নাকি এর জের টেনে চলে যাওয়া যাবে অনেক দূর। জীবন মাঝে মাঝে এরকম কেন হয়? ধূসর মনে হয় চারপাশ, শেষ হয়ে যাবে কি একদিন এইভাবেই। শশ্মানের পথে চলেছে একদল লোক, মৃত শরীর কাঁধে নিয়ে চলেছে হরিবোল হরিবোল শব্দে, আমি জানি না ওরা এই মুহূর্তে বাঁচার জন্য উদ্‌গ্ৰীব হয়ে আছে কিনা, নাকি শোকেই মূহ্যমান। গঙ্গার ধারে শরীর পুড়ছে, ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে পোড়া হাঁড়ের গন্ধ লেগে আছে, সেই ধোঁয়া ছড়াচ্ছে আমার নাকে মুখে। আমি শুঁকছি আর উপলব্ধি করছি শরীর আর একটা শরীরকে বন্ধনে জড়িয়ে ফেলছে। লাশের পর লাশ  মানুষের কাঁধ থেকে নেমে আসছে ঘাসের উপর সারি সারি। মহামারীর কোপে পড়েছে এক পাড়া থেকে অন্য পাড়া। মানুষ বড় কাঁদছে, কে এদের চোখের জল মোছাবে। এই দেশে কলেরা রোগের প্রতিষেধক কে এসে পৌঁছে দেবে ঘরে ঘরে। গোটা দুনিয়া এখনও জানে না এই রোগের পরিত্রাণের উপায়। শুধু দুহাত তুলে কেউ উপরওয়ালার কাছে উত্তর খোঁজে, কেউ রোদনে ভাসিয়ে দিয়ে আর এক মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় গোণে। ভাবনায় ডুবে দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি  মানুষ কত ঘটনার কাছেই কেমন নিঃসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মাঝেও কি সাহেবদের আর বাবুদের উল্লাসের ভাটা পড়ছে? না, ওদের বোধে আসে না, আজ যাকে ওরা নিরাপদ আশ্রয় মনে করছে, কাল যে শূন্য মানুষের হাহাকারে তা ছারখার হয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না, এই সার কথা কবে আর বুঝবে। শাসক এখন নিশ্চুপ, ওরা শাসনের ফন্দিফিকির খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু এমন করে উদাসীন হয়ে যাওয়া সকল গর্বকে নস্যাৎ করে দেওয়ার সামিল, এই দর্শনকে অস্বীকার করা একপ্রকার মানবিকতার মৃত্যু ছাড়া আর কি। ডা. সাইমন নিকোলাস, ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অফ সার্জনস-এর ফেলো, কলকাতার প্রখ্যাত ডাক্তার, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা.এম জে ব্রামলি, ড. মধুসূদন গুপ্ত,শবব্যবচ্ছেদকারী প্রথম ভারতীয় রয়েছেন, এঁদের সকলের নাম মুখে মুখে ফেরে কিন্তু তাতে কী! সাধারণ মানুষ ছুটছে, কে যে কার দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছে, কেইবা পৌঁছে দেবে নূন্যতম পরিষেবা, এমন পরিকাঠামো এখনও পর্যন্ত এইদেশে নেই, কবে তৈরি হবে, কেইবা জানে। কোম্পানির লোক আর মোসাহেবরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতেই উঠেপড়ে লেগেছে, গাঁ-গঞ্জের মানুষ যে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, অলিগলিতে বেঘোরে মরছে, মুনাফাখোররা মুনাফা লুটছে, আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে, চোখ মেলে যে দেখবে তার ইচ্ছেটুকুই তো নেই। দেশ তুমি কার – আমার আমার, আর কারও নয়।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas magazine

(পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *