প্রতিভাস: ডিসেম্বর ২০২৫
ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি
তাপস সরকার
আছিম উপলব্ধি করল, তার চতুর্পার্শ্বে অমরালোকের আগমন ঘটেছে এবং সে স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কী করে ঘটেছিল ঘটনাটা আছিম তার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, তবে জানিয়েছিল যে উপস্থিত অপরাপর ব্যক্তিবর্গ কোন আজব মন্ত্রবলে তেত্রিশ কোটি দেবতা হয়ে গিয়েছিল। গুণে দেখেনি যদিও তবুও আছিম নিশ্চিত ছিল যে সংখ্যাটা তেত্রিশ কোটিই হবে। অবশ্য তাকে বাদ দিলে তেত্রিশ কোটির চেয়ে একজন কম…….
.

আমি-ই জেমস লঙ
শরদিন্দু সাহা
কে গাইছে এমন করে! এই দেশের আকাশে বাতাসে কি গানের সুর ঘুরে বেড়ায়। সোনালী ধানের ছড়াগুলো হাওয়ায় হাওয়ায় দুলে দুলে লুটিয়ে পড়ছে। ভেতরটা কেমন করে ওঠে, বোঝাতে পারি না। এই দেশের চাষীদের কাছে কি এমন জাদুকাঠি আছে, যার জেরে ওরা এমন ফসল ফলায়, ধানের শীষে চলে এমন রঙের খেলা। খুশিতে মনটা আনচান করে উঠলে আলপথ ধরে হাঁটা শুরু করি…..
.
ধারাবাহিক রচনা
উনিশ শতকের বাঙালী মনীষার ভারতবিদ্যাচর্চা
তুষার বরণ হালদার
উভয় দেশের পণ্ডিতদের এই পারস্পরিক যাতায়াতের ফলে সংস্কৃত এবং পালি ভাষা থেকে অনেক গ্রন্থ চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে দেখা গেছে এমন বহু গ্রন্থের আদি সংস্কৃত ও পালি রূপ খুঁজে পাওয়া যায়নি বা নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু চীনা ভাষায় অনুবাদের সূত্র ধরে সেই গ্রন্থ গুলির বিষয়বস্তু বা মতার্থ উদ্ভাবন করা সম্ভবপর হয়েছিল। সাহিত্য আচার্য প্রবোধচন্দ্র চীনা ভাষায় অনুবাদের একটা ধারাবাহিক ইতিহাস আবিষ্কার করেছিলেন….
.
পুরোনো পাড়ার গল্প
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস
নব্বই পঁচানব্বই সাল বুকের মাঝে ধাক্কা দেয়। বৈদ্যনাথ স্যারের বাড়ি, সামনে কুয়োওয়ালা মুদিখানা, চপ দোকান, সরিৎ স্যারের বাড়ি, ছোটদেউড়ির দিকে ছুট দেওয়া প্রায় অন্ধকার গলি, সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরের ওপাশে গঙ্গার হাওয়ায় শুনশান সন্ধ্যার নেমে আসা সব যেন এক লহমায় আমায় বলে, এই মোড়ের মাথার ঝকঝকে চকচকে আলোগুলো মিথ্যে। এরা আমার নয়, এরা কোনোদিন ভালোবাসেনি আমায়....
.

সুমেরীয় পুরাণ কথা
আশিস ভৌমিক
পৃথিবী আকৃতি লাভের আগে, কেবল বিশৃঙ্খলা ছিল—গভীর, নীরব এবং অনির্ধারিত। প্রাচীন সুমেরীয় পৌরাণিক কাহিনীতে, দেবতাদের জন্মের আগেও এই বিশৃঙ্খলা রাজত্ব করেছিল। তারপর ঐশ্বরিক ব্যবস্থার উত্থান ঘটে। স্বর্গের দেবতা আন এবং বায়ুর দেবতা এনলিল নিরাকারদের কাছে রূপ নিয়ে আসেন। তাদের ভাই এনকিকে একটি বৃহত্তর কাজের ভার দেওয়া হয়েছিল তা জীবন্ত জগৎকে রূপ দেওয়া….
.

ফেলে আসা গান
অমিতাভ সরকার
সে সময় পল্লীগীতি, লোকসঙ্গীতেই বাঁশির ব্যবহার ছিল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কিংবা ভারতীয় সঙ্গীতের অন্যান্য ক্ষেত্রেও যে বাঁশির ব্যবহার করা যায়, সেই ধারণাও তেমনভাবে কারোর ছিল না বললেই চলে। ছোটো ধরনের ছাড়া বাঁশির রকমফেরও সেরকম কিছু ছিল না। পান্নালাল ঘোষই প্রথম সাত ছিদ্রযুক্ত ৩২ ইঞ্চি লম্বা বাঁশের বাঁশি তৈরি করেন…..
.
.
ছোট গল্প
.
কবিতা
.

চলচ্চিত্রের সেকাল একাল
সৌমিতা রায় চৌধুরী
‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ চলচ্চিত্রে যে সমস্ত চরিত্র একসময় জীবিত অবস্থায় দাপটের সাথে জীবনকে যাপন করেছেন, মৃত্যুর পর অশরীরী আত্মা হয়ে সেই জীবনের ধারাবাহিকতা বহন করেছেন। তাই এই সিনেমায় চরিত্রেরা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ.....
.

বিশ্বসাহিত্য
দীপান্বিতা
দু বছরের মাথায় আবার তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন ও প্যারিসে যে লজিং হাউসে থাকতেন সেখান থেকে তাঁর সর্বস্ব চুরি হয়ে যায়। অর্থাভাবে তিনি তখন হোটেলে বাসন-কোষন ধোয়ার কাজ করতেন। তারপর তিনি ফিরে আসেন ইংল্যান্ডের পৈত্রিক ভিটেতে...
.

বিজ্ঞান
প্রীতন্বিতা
১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী মহলে হঠাৎ এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। জানা গেল যে নৃতত্ববিদরা আবিষ্কার করেছেন পিল্টডাউন ম্যানের ফসিল এবং এরাই হলো সেই মিসিং লিঙ্ক। এই নিয়ে প্রায় ৪০ বছর ধরে অন্তত পাঁচশো রচনা প্রকাশিত হলো বিভিন্ন জার্নালে। তারপর একদিন প্রমাণ পাওয়া গেল যে পুরো ব্যাপারটাই ধাপ্পাবাজি……
.
স্মৃতিচিত্রণ
তপোপ্রিয়
দিন ফুরোবার সময় দেখি তার গায়ের আনাচে-কানাচে জমে ওঠে কচি কচি বিষণ্ণ বিলাপ, তারা থেকে থেকে কান্না আনে আমার দিনান্তের নানান অলিন্দে। কত কিছু হারিয়ে গেছে, কত কিছু হারিয়ে যায় ধরাছোঁয়ার সীমানা থেকে। কেমন করে হারিয়ে গেছে আমার মা। এদের কিছুই আবার কি ফিরে আসবে আমার প্রাত্যহিক ঘনঘটায়…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো
সুতপন চট্টোপাধ্যায়
আমার শশুরমশাইয়ের একটা দারুণ গুণ ছিল। কোথাও যাবার আগে তিনি সেই জায়গার ইতিহাস, ভূগোল, জলবায়ু প্রায় মুখস্ত করে ফেলতেন। আর সেখানে গিয়েই যে লোক্যাল গাইড থাকে, তাদের কথা ভুল হলেই পদে পদে শুধরে দিতেন। সেটাই তাঁর ছিল বেড়ানোর অধিক অনেক বেশি আনন্দ…
.

সাহিত্যকৃতী
সুদীপ ঘোষাল
কাশীরামের পূর্বে ও পরে আরও অনেকে পূর্ণ ও খন্ডিত আকারে মহাভারত রচনা করেছেন; কিন্তু সেগুলির মধ্যে কাশীরামের গ্রন্থই শ্রেষ্ঠ। বেদব্যাসের সংস্কৃত মহাভারত ও অন্য অনেক উৎস থেকে উপাদান নিয়ে কাশীরাম প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা মহাভারত রচনা করেন….
.
.
.

বাংলার আনাচে কানাচে
নীলাদ্রি পাল
কলকাতা পুলিশের অত্যাচারী ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে ১৯৩০ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনয়, বাদল, দীনেশ এইখানে হত্যা করেন। ভীষণ মাত্রায় স্বদেশি বিরোধী সিম্পসন বিভিন্ন নতুন ধরনের কৌশলে বিপ্লবীদের ওপর অত্যাচার করতেন। সিম্পসনের অতৃপ্ত আত্মা এখনো রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দাপিয়ে বেড়ায় বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়াও অনেক অলৌকিক কার্যকলাপ এখানকার রাতের রক্ষীদের চোখে পড়েছে বলে শোনা যায়….
.

কালজয়ী চলচ্চিত্র
শিশির আজম
একক মানুষের জীবনও তো বাজে সব রঙের সমাহার, না কি! রং আর আলোছায়ার মুন্সিয়ানা তো বিশ্ব চলচ্চিত্রের দিকপালদের কাজে কম আমরা দেখিনি। গদার গোটা ব্যাপারটাকেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। আর্টের ওসব ক্লাসিক ফাংশনাল ব্যাপারগুলো থেকে নিজেকে সদম্ভে সরিয়ে নিয়েছেন। আর্টকে পারফেক্ট হবার দরকার নেই। পবিত্র হয়ে উঠবার প্রবণতা আর্টের এ্যাটিচুডের সঙ্গে যায় না। এই জায়গাটায় ঋত্বিক এসে যান…..
..
.

রম্যরচনা
হাচিয়া ফালের শত্রুরা
রাস্তায় যেসব লোকেরা পিছনে থাকে তাদের নিয়েই যত দুশ্চিন্তা। শান্তিতে থাকা যায় না চলাচল করার সময়। পিছন থেকে তারা যা খুশি করতে পারে, ছোরাছুরি মারাও বিচিত্র নয়। হাচিয়া ফাল যখন রাস্তাঘাটে যায় তখন তার মাথায় সর্বক্ষণ এই পিছনে থাকা লোকগুলির কথা ঘুরে বেড়ায়। বারবার পিছনে ফিরে তাকাতে তাকাতে একসময় সে পুরোপুরি পিছন দিকে ঘুরে সেদিকেই চলতে থাকে। তাতে এতক্ষণ পিছনে থাকা লোকগুলি চোখের সামনে এলেও যারা সামনে ছিল তারা আবার পিছনে চলে যায়। অশান্তি তাই যেমন ছিল তেমনই থাকে…..
.
.

বই আলোচনা
পাঠক মিত্র
এক অনন্য ঘ্রাণের কাব্য
.
বিদগ্ধ কৌতুক
অস্কার ওয়াইল্ড, ক্ষীতিমোহন সেন, দাদাঠাকুর, রজনীকান্ত সেন
সম্পাদক দীপান্বিতা
CONTACT US
Email : prativas2004@gmail.com

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর
সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :
প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী







Views Last 30 days : 2000
Total views : 31332