অমিতাভ সরকার

‘কেন পথ পানে চেয়ে চেয়ে’

দুর্গা সেন

তখন বাংলা চলচ্চিত্র ‘নির্বাক’ থেকে ‘সবাক’ হয়েছে, বেশি হয়নি। প্লেব্যাক সিস্টেম চালু হলেও কণ্ঠশিল্পীদের কোনো অধিকার তৈরি হয়নি, পুরোপুরিই তাঁদের সংগীত পরিচালকদের উপর নির্ভর করতে হতো, সিনেমার ভালো-মন্দও নির্ভর করত সুরকার বা সংগীতপরিচালকদের নির্মিত গানের উপরেই। এইরকম একটা সময়ে কয়েকজন প্রতিভাবান সুরকারের আবির্ভাব হয়, যাঁরা সিনেমার জন্য অসামান্য সব গান উপহার দিয়ে গেছেন। যেমন- হিমাংশুকুমার দত্ত, রাইচাঁদ বড়াল, অনুপম ঘটক, পঙ্কজকুমার মল্লিক, শচীন দেববর্মন, তিমিরবরণ, তুলসী লাহিড়ী, দুর্গা সেন অন্যতম।  দুর্গা সেনকে নিয়েই এই নিবন্ধ।

আসল নাম দুর্গাদাস সেন হলেও উনি দুর্গা সেন নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯৪০ থেকে ১৯৬১-পর্যন্ত চলচ্চিত্র জগতে মূলত সুরকার হিসাবেই ছিল ওঁর কার্যকাল। বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন ভাষায় ওঁর গাওয়া বেসিক গানের রেকর্ডের মোট সংখ্যা প্রায় হাজারের মতো। এছাড়া বেতার, যাত্রার গানেও দুর্গা সেন ছিলেন একটি স্বতন্ত্র নাম। বেতারের রম্যগীতি, এ মাসের গান-য়ে ওঁর সুরকৃত গানের সংখ্যাও প্রচুর। 

কর্মজীবনে দুর্গা সেন কাজী নজরুলের সহকারী হিসাবে ‘নাই চিনিলে আমায় তুমি’,’গোঠের রাখাল বলে দেরে’,’আর অনুনয় করিবে না কেহ’ -ইত্যাদি গীতিকবিতায় সুর দিয়েছিলেন। ওঁর কাছে বহু বিখ্যাত শিল্পীরা গানের শিক্ষা নিয়েছেন, জগন্ময় মিত্র, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, রবীন মজুমদার, সত্য চৌধুরী, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রভা সরকার, অসিতবরণ, বিমলভূষণ, গৌরীকেদার ভট্টাচার্য, উৎপলা সেন, অপরেশ লাহিড়ী, বাঁশরী লাহিড়ী, সাবিত্রী ঘোষ, ইলা বসু, শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ইত্যাদি অনেকেই। তাঁর সুরে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রাদেশিক সুরেরও প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। 

একটা সময় দুর্গা সেনের হৃদয়-প্লাবিত সুর শ্রোতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে শুধুই তাঁর কর্মকাণ্ডের ক্লান্তিকর  বিবরণ না লিখে এই অনন্য সুরস্রষ্টার জীবনের দিকে একটু ফ্ল্যাশব্যাক করা যাক।

১৯২০ সালের (মতান্তরে ১৯১৪) ২১শে আগস্ট আদিবাড়ি আহিরীটোলাতেই সম্ভবত তাঁর জন্ম। বাবা উপেন্দ্রনাথ সেন কাশিমবাজার রাজবাড়িতে গান করতেন। সে আমলে সংগীতজ্ঞ হিসাবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। প্রাথমিক ভাবে পুত্রকে গানের শিক্ষা দিলেও উনি নিজে কিন্তু কখনওই চাননি যে ছেলে গায়ক হোক, পরন্তু দুর্গাদাসকে গণপতি ভট্টাচার্যের কাছে যাদুবিদ্যা শিখিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। অল্প বয়স থেকেই দুর্বল দৃষ্টিশক্তি দুর্গাদাসের যাদুকর হয়ে ওঠার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। গুরুর একজন প্রিয় শিষ্য হয়েও তাই জাদুকর হয়ে ওঠা আর হলো না। ওরিয়েন্টাল সেমিনারি স্কুল (মতান্তরে কুমার রাধাপ্রসাদ ইনস্টিটিউশন) থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পরই ষোল বছর বয়সে বাবার মৃত্যু হলে জীবনের সেদিনের সেই দিশাহীন অবস্থায় সংগীতকে অবলম্বন করেই বেঁচে থাকার একটা অধ্যায় শুরু হয়।

বাবার কাছে শেখা গান, কয়েকটা গানের টিউশনি থেকে পাওয়া টাকা – এসব সম্বল করেই তখন জীবন চলছে। এরমধ্যেই অনেক প্রতিকূলতা সামলে উস্তাদ জমিরউদ্দীন খাঁর(অন্য মতে খলিফা বদল খাঁ) শিষ্য ভোলানাথ দে ও পরে মাস্তান গামার কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিতে আরম্ভ করেন। পরবর্তী সময়ে সুরকার হিসেবে বিখ্যাত হলেও দুর্গা সেন কিন্তু প্রথমে কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী হিসেবেই জীবন শুরু করেছিলেন। সেইসময় শাহেনশা রেকর্ড কোম্পানির কলকাতায় তাদের শাখা(ব্রাঞ্চ) চালু করলে সেখান থেকেই ১৯৩৪ সালের অক্টোবরে দুর্গা সেন নিজের কণ্ঠে ছাত্রী বিভা সেনের সঙ্গে রেকর্ড করেছিলেন ‘তব চরণতলে ভক্ত মিলিত মোরা’ এবং ‘কমলাসনা কমলা এস’-এই দুটি পুজোর গান। কথা লিখেছিলেন মতিলাল রায় এবং সুর ছিল বিমল দাশগুপ্তের। ১৯৩৬ সালে ব্রডকাস্ট কোম্পানির ডাকে মুম্বাইয়ে গিয়ে কয়েকটি গান রেকর্ড করা এবং সে-বছরই আকাশবাণীর কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতিলাভ। এরপর শুধুই গান… শুধু গান।

ওই সময় কলকাতার ব্রডকাস্ট কোম্পানিতে বিমল দাশগুপ্তের সরকারী হিসাবে সুর সংযোজনার কাজ শুরু করেন। তখনকার ব্রডকাস্ট কোম্পানির কর্মসচিব ধীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের রচিত একটি গানে সুর করার মধ্যে দিয়েই সেদিন সম্ভাবনাময় তরুণ দুর্গা সেনের সুরকার হিসাবে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠালাভ। এর অল্পকাল পরে কমল দাশগুপ্তের দাদা সুরকার বিমল দাশগুপ্তের অকালমৃত্যু হয়। এছাড়া আয়ের অতিরিক্ত খরচের কারণে ব্রডকাস্ট কোম্পানি কলকাতার শাখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গা সেন সেনোলা, মেলোডি ও পরে হিন্দুস্থান কোম্পানিতে গানের শিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন। এই হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানিতেই কিংবদন্তী অনুপম ঘটকের সংস্পর্শে আসা এবং এই নৈকট্য থেকেই সুরের সাধনায় অবিচল  দুর্গা সেন গতায়তির ভারাক্রান্ত জীবনে এক আনন্দময় প্রশান্তি অনুভব করতে থাকেন।  

অনুপম ঘটকের সহকারী হয়ে তেলেগু সিনেমা ‘বিপ্রনারায়ণ’ এবং হিন্দি ‘টার্জন কি বেটি’ সিনেমায় সংগীত পরিচালনা সামলালেও তেলেগু ছবি ‘আত্মা’ এবং উক্ত চলচ্চিত্রের বাংলা ভার্সান ‘শুকতারা’(১৯৪০) -তেই এককভাবে সুরকার হিসেবে প্রথম কাজ(‘শুকতারা’-য় দুর্গা সেনের সহকারী ছিলেন রবীন চট্টোপাধ্যায়।)। এই সিনেমায় প্রথম সুর করা গান বেচু দত্তের কণ্ঠে ‘সুরের আকাশে গানের বিরহ বাণী’ এবং ‘বাঁকা পথ গেছে রাঙায়ে পথের ধূলি’। গান দুটো লিখেছিলেন শৈলেন রায়। এছাড়া ‘শুকতারা’-চলচ্চিত্রে ‘মন পবনের পক্ষীরাজ’(সুপ্রভা সরকার),’কাঁদে ঝরা ফুল হায়’, ’নয়নে আমার বিরহ অশ্রু’(শৈল দেবী),’কার তরে তুই কেঁদে ফিরিস’(সুধীন চট্টোপাধ্যায়, বর্তমান প্রজন্মের বিখ্যাত শিল্পী কবীর সুমনের পিতা এই গানটি গেয়েছিলেন) ইত্যাদি গানও বেশ জনপ্রিয় হয়। ‘শুকতারা’-র সাফল্যের ফলে সুরকার হিসেবে দুর্গা সেনের খ্যাতি আরও বাড়তে থাকে। গ্রামোফোন রেকর্ড কোম্পানিগুলোতেও ডাক পেতে থাকলেন। তাঁর সুরে বেচু দত্তের ‘হে উদাসী বারে বারে’ (সুরকার হিসেবে দুর্গা সেনের প্রথম আধুনিক গান। কথা শৈলেন রায়ের। রেকর্ডের অপর পিঠে ছিল  ‘জাগো প্রিয় রাতি পোহালো’। দ্বিতীয় গানটি দুর্গা সেন ১৯৩৮ সালে নিজের কণ্ঠে রেকর্ডও করেছিলেন।), গৌরীকেদার ভট্টাচার্যের ‘ভালোবাসি আলেয়ারে’, রবীন মজুমদারের ‘কবির বাসবদত্তা’, সত্য চৌধুরীর ‘কত যে ব্যথা ভুলালে জীবনে’, তালাত মাহমুদের ‘যদি জীবনে কেবলি ক্ষতিই রহিল জমা’ ইত্যাদি গান বিখ্যাত হয়ে গেছে। ১৯৪৮-১৯৪৯ সালের সময়টা দুর্গা সেনের সুরকার হিসাবে শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় থেকে গৌরী মিত্র, সত্যগোপাল দেব, জগন্ময় মিত্র অনেকেই ওঁর সুরে অসাধারণ সব গান রেকর্ড করে প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। 

তাঁর সুরে ১৯৫২ সালে সি এইচ আত্মার গাওয়া ‘না মিটিতে সাধ এ জীবনে’, উৎপলা সেনের ‘দূরে গেলে মনে রবে না’(১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বর বিশ্বরঞ্জন ভাদুড়ীর কথায় দুর্গা সেনের সুরে পুজোর গান হিসাবে এটাই ছিল উৎপলা ঘোষের(সেন) প্রথম রেকর্ড, রেকর্ড নং এইচ ১০৫৭), সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের ‘ওরে ও বিজন রাতের পাখি’, অখিলবন্ধু ঘোষের কণ্ঠে ‘মায়ামৃগ সম তুমি কি গো'(১৯৫৩), দীপালি নাগের ‘উতলা পবনে বাজে'(১৯৫৪), কিংবা সাবিত্রী ঘোষের গাওয়া ‘যারা আকাশছোঁয়া প্রাসাদতলে’(১৯৫৫) ইত্যাদি গান শুনলে শ্রোতারা আজও অনুভব  করতে পারবেন যে সুর কাকে বলে! কী মাধুর্য, তেমনি স্বরবিন্যাস, সুরের তেমনি গভীরতা, প্রতিটি স্বরের চলনেও কী অসম্ভব স্বচ্ছন্দ – যেজন্য সেকালে দুর্গা সেনের সুর মানেই শিল্পী, শ্রোতা সবার মধ্যেই একটা আলাদা আগ্রহ জন্ম নিত।

চলচ্চিত্রের কথা বলতে গেলে ‘শুকতারা’ ছাড়াও ‘রাসপূর্ণিমা’, ‘ব্রাহ্মণকন্যা’(১৯৪১)(এই চলচ্চিত্রে দুর্গা সেনের সহকারী ছিলেন গোপন মল্লিক। ‘ব্রাহ্মণকন্যা’তেই সুধীরলাল চক্রবর্তীর প্রথম প্লেব্যাক),‘চৌরঙ্গী’(১৯৪২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় ‘আরতি প্রদীপ জ্বালি’ গানটিতেই শুধু দুর্গা সেন সুরারোপ করেছিলেন। অপর সুরকার ছিলেন কাজী নজরুল স্বয়ং এবং তাঁর সহকারী কালীপদ সেন), ‘ভীষ্ম’(১৯৪২),’স্বামীর ঘর’, ’পোষ্যপুত্র’(১৯৪৩),’ধাত্রীদেবতা’(১৯৪৮), ‘ইন্দ্রনাথ’(১৯৫০) ইত্যাদি বেশকিছু চলচ্চিত্রে সুরসৃষ্টি করেছিলেন। কাজী নজরুল থেকে হীরেন বসু, বিজয় গুপ্ত, প্রণব রায়, শিশির সেন, অরূপ ভট্টাচার্য, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, শ্যামল গুপ্ত -প্রভৃতি বিভিন্ন গীতিকারদের গানে সুর দিয়েছেন।

মাত্র কুড়ি বছরেই দুর্গা সেন কেবল সুরকার হিসাবেই মঞ্চ এবং বেতারেও বেশ নাম করে ফেলেছিলেন। প্রথমদিকে কণ্ঠশিল্পী হিসাবে সংগীতজীবন শুরু করলেও পরে শুধু সুররচনাতেই মনোনিবেশ করেন, তৎকালীন অন্যান্য কিছু গায়ক-সুরকারের মতো দুই ভূমিকায় বিচরণ করেননি।    

তখনকার রেকর্ডের লেবেলে কণ্ঠশিল্পীর নামের বদলে সিনেমা বা নাটকের চরিত্রের(যার মুখে গান রয়েছে) নাম দেওয়া থাকত। যার ফলে অনেকক্ষেত্রে প্রকৃত শিল্পীর নাম থেকে যেত অজানা। আবার অনেক ভালো ভালো গান হারিয়ে গেছে শুধুমাত্র রেকর্ড কোম্পানির বিলুপ্তি এবং রেকর্ডের দুষ্প্রাপ্যতার ফলে। হারিয়ে গেছে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পীর নাম। রেকর্ড সংগ্রাহকদের পক্ষেও কাজগুলো কষ্টসাধ্য। তবে এটা ঠিক যে, গান হিট হলে রেকর্ড কোম্পানিগুলো পুনরায় গানগুলো রেকর্ড করতেন। 

দুর্গা সেনের সুরকৃত ফিল্মি গানের মধ্যে ‘পোষ্যপুত্র’ সিনেমায় প্রতিশ্রুতিবান শিল্পী কুমারী ইন্দ্রাণী রায়ের গাওয়া ‘বঁধু ছাড়িয়া না দিব তোরে’(হিন্দুস্থান রেকর্ড থেকে বেরোনো), ‘পথের সাথী’(১৯৪৬) সিনেমার ‘ওগো নতুন দিনের সাথী’(গিয়েছিলেন কুমারী তৃপ্তি সিংহ), ‘সঞ্চালী’(১৯৪৮) চলচ্চিত্রে গায়ক-অভিনেতা অসিতবরণের(কালোদা) গাওয়া  ‘শুধু মালাটি দিও না গো’, সাবিত্রী ঘোষের কণ্ঠে ‘যে আমারে জয় করে লবে’ ইত্যাদি গানের কথা উল্লেখ করা যায়। তবে ১৯৫৫ সালের দিকে বাংলা গানের ধরন বদলে যাওয়া এবং তৎসহ বিভিন্ন নবীন সুরকারদের সাফল্যে দুর্গা সেন নামটি ক্রমশ বিস্মৃত হয়ে যায়। তাঁর সুরকৃত শেষ চলচ্চিত্র ‘দেবর্ষি নারদের সংসার’, যা মুক্তি পায় ১৯৬১ সালে। কাজ করেছেন নরেশ মিত্র, জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়, নিরঞ্জন পাল, কালীপ্রসাদ ঘোষের মতো সে আমলের তাবড় তাবড় সব চিত্রপরিচালকদের সঙ্গে। 

একুশ বছরে চোদ্দোটি মতো চলচ্চিত্রে সুর করেছিলেন তিনি। কাজ অনুযায়ী যথাযোগ্য তিনি সম্মান পাননি। পরবর্তীকালে দুর্গা সেন নাটকের গানে সুর করতে থাকেন (তবে শুরুটা হয়েছিল ১৯৪২ সালে নাট্যভারতীতে ‘দুই পুরুষ’ নাটকের সংগীত পরিচালনা দিয়ে।)। নাট্যভারতীতে ‘পথের ডাক’, রংমহলে ‘চাঁদবিবি’,’জীবন সংগ্রাম’, স্টার থিয়েটারে ‘শ্যামলী’, ‘শ্রেয়সী’, ‘পরিণীতা’, ‘সূর্যমহল’,‘রাজনর্তকী’,’শকুন্তলা’,’শ্রীকান্ত’; মিনার্ভায় ‘সারথী শ্রীকৃষ্ণ’, ’পিতা-পুত্র’, ’মহানায়ক শশাঙ্ক’, ’কালো টাকা’- ইত্যাদি বহু নাটকের সুররচনা করে প্রশংসা লাভ করেছেন। যাত্রার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন শেষজীবনে। ‘মীরার বঁধুয়া’,’নটী বিনোদিনী’ ইত্যাদি পালানাটকে দুর্গা সেনের সুরসৃষ্টি গ্রামোফোন রেকর্ডে অন্যতম নজির হয়ে রয়ে গেছে। গান ছাড়াও নিজে খেলাধুলো, সাঁতারেও পারদর্শী ছিলেন। এসবের পাশাপাশি বেড়ানোও বেশ পছন্দ করতেন।

অনেক প্রাপ্তি, অনেক অপ্রাপ্তি, অনেক অসম্মান রেখে স্ত্রী কমলা সেন, তিন কন্যা, পুত্র প্রশান্তকে রেখে সুরসাধক দুর্গা সেনের আটষট্টি বছরের ইহজীবনের সমাপ্তি ঘটে ১৯৮২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী। 

বর্তমানে দুর্গা সেন বাংলার সংগীত জগতে হারিয়ে যাওয়া একটি নাম। তবে আজও যখন ‘কত গানের কুসুম ফোটে’(গৌরীকেদার ভট্টাচার্য) -সেই ফুলের ভিড়ে কি ‘নত মুখে কেন ফিরে চলে যাও’(তালাত মাহমুদ), কিংবা ‘রহিয়া রহিয়া কে ডাকে আমায়'(সত্য চৌধুরী)-এর মতো অনুপম সুরের গান আজও কি আমাদের আবেগকাতর সংবেদনশীল মনকে একটুও উতলা করে না?  

বিঃদ্রঃ- শিরোনামের গানটি দুর্গা সেনের স্বকণ্ঠে ১৯৩৬ সালের রেকর্ড হিসাবে ফেসবুকে সোমক চন্দের  গ্রামোফোন রেকর্ড সংগ্রহ থেকে প্রাপ্ত।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *