সাহেবদের স্বর্গ ভারতীয়দের মতো হলেও একটু তফাৎ আছে। মৃত্যুর পর সবাইকে একটা গেট দিয়ে স্বর্গে যেতে হয়। আর সেই গেট পাহারা দেন সেন্ট পিটার। তিনি সবার উপযুক্ত পরিচয়ের প্রমাণ পেলে তবেই গেট দিয়ে স্বর্গে যাওয়ার ছাড়পত্র দান করেন। মৃত্যুর পর আইনস্টাইন স্বর্গে যাওয়ার জন্য গেটের সামনে এসে দাঁড়ালেন। সেন্ট পিটার ভালোমতো দেখে বললেন, ‘তুমি তো দেখতে আইনস্টাইনের মত। প্রমাণ দিতে পারো সত্যি তুমি কে?’ আইনস্টাইন কয়েক সেকেন্ড ভেবে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি কিছু চক আর একটা ব্ল্যাকবোর্ড পেতে পারি?’ সেন্ট পিটার আঙুলে তুড়ি দিলেন আর সঙ্গে সঙ্গে ব্ল্যাকবোর্ড ও চক এসে হাজির। জটিল অংক আর সংকেত দিয়ে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব ভালোমতো উপস্থাপন করলেন। সেন্ট পিটার মুগ্ধ হয়ে বললেন, ‘তুমি সত্যিই আইনস্টাইন। স্বর্গে তোমাকে স্বাগত।’তারপর মারা গেলেন পিকাসো এবং স্বর্গে যাওয়ার পথে গেটের সামনে এলে সেন্ট পিটার তাঁর কাছেও প্রমাণ চাইলেন। বিনীত ভঙ্গিতে পিকাসো বললেন, ‘আমি কি এই চক আর ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার করতে পারি?’সেন্ট পিটার অনুমতি দিলে পিকাসো মাত্র কয়েকটি আঁচড়ে এক মুড়াল এঁকে ফেললেন। সেন্ট পিটার আনন্দে হাততালি দিয়ে বললেন, ‘নিঃসন্দেহে তুমি সেই বিখ্যাত চিত্রকর পিকাসো। এসো, ভিতরে এসো।’এবার মারা গেলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। স্বর্গের গেটের সামনে এলে সেন্ট পিটার মাথা চুলকে জানতে চাইলেন, ‘তোমার আগে আইনস্টাইন আর পিকাসো দুজনেই নিজেদের পরিচিতির প্রমাণ দিয়ে ভিতরে যেতে পেরেছে। তুমি তোমার কি প্রমাণ দেবে?’ সেন্ট পিটারের কথা শুনে জর্জ ডব্লিউ বুশকে একটু বিভ্রান্ত দেখালো এবং তিনি জানতে চাইলেন, ‘আইনস্টাইন আর পিকাসো কে?’সেন্ট পিটার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘এসো জর্জ, ভিতরে এসো।’
.
.
বার্নার্ড শ নিজের পোশাক সম্পর্কে বেশি সচেতন ছিলেন না। একবার একটি ঘরোয়া সভায় তিনি যখন বক্তৃতা দিচ্ছেন তখন দেখা গেল ঢিলেঢালা প্যান্টটা বারবার কোমর থেকে নিচে নেমে যাচ্ছে। বক্তৃতা দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে শ বাঁ হাতে সেটা টেনে ঠিক করছিলেন। ওই দৃশ্য দেখে এক মহিলা ডান দিকে পাশের আরেক মহিলাকে বললেন,
‘এইভাবে বারবার প্যান্ট তোলা কি শ-এর মতো নাম জাদা মানুষের ক্ষেত্রে উচিত?’
কথাটা কানে গেলে শ মহিলার দিকে ফিরে বললেন,
‘ম্যাডাম, প্যান্টটা যদি আরো নিচে নেমে যেতে দিই তবে কি ব্যাপারটা ভালো দেখাবে?’
.
.
স্বামী বিবেকানন্দ জয়পুরে থাকাকালীন সেখানকার সুবিখ্যাত পন্ডিত সুরজনারায়ণ এলেন তার সঙ্গে শাস্ত্র আলোচনা করতে। পন্ডিত গর্বের গলায় স্বামীজিকে বললেন,
‘আমি অবতারে বিশ্বাস করি না। আমি একজন বেদান্তি। আমার সঙ্গে তোমাদের অবতারের কোন পার্থক্য নেই।’
জবাবের স্বামীজি বললেন,
‘ঠিকই বলেছেন। হিন্দুদের কাছে তো মৎস্য, বরাহ এবং কচ্ছপও অবতার। আপনি এদের মধ্যে কোনটি?’
.
.
হিটলার একবার অধিকৃত বুদাপেস্ট শহরে একটা পাগলা গারদ পরিদর্শনে গেছেন। সেখানে সব রোগীকে আগে থাকতে শিখিয়ে রাখা হয়েছিল যে হিটলার ঢোকা মাত্র সবাই একসঙ্গে হাত তুলে হের হিটলার বলে অভিবাদন জানাবে। হিটলার তো এলেন। লাইন দিয়ে দাঁড়ানো রোগীরা সবাই হাত তুলে চেঁচিয়ে উঠলো। হিটলার হঠাৎ দেখেন শুধু একজন হাত তুলে স্যালুট জানায়নি। তিনি রেগে মেগে সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন,
‘কী ব্যাপার, তুমি যে অভিবাদন করলে না?’
লোকটি কাচুমাচু ভঙ্গিতে জবাব দিল,
‘স্যার, আমি পাগল নই। আমি এই হাসপাতালের ওয়ার্ডেন।’
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
সংগৃহীত
