পাঠক মিত্র

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও তাঁর প্রবন্ধ

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র বিজ্ঞানী হয়ে বাঙালিকে স্বনির্ভর করে তুলতে ব্রতী হয়েছিলেন । বাঙালি উদ্যোগপতি হোক তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন । উদ্যোগপতি হিসেবে তাঁকে পরিচয় দিয়েছে তাঁর বেঙ্গল কেমিক্যাল । যদি তাঁর বেঙ্গল কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে তিনি বেঁচে থাকেন, তাহলে বাঙালির মনের দৈনদশাই প্রকাশ পায় । আচার্য শুধু রসায়নবিদ ছিলেন না । তিনি শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, পরোপকারী এবং দেশসেবক । স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদী আন্দোলন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন নি।

বাঙালির অন্নসমস্যা নিয়ে তিনি অনেক আগেই পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন যে বাঙালি শ্রমের মর্যাদা আত্মভিমানের বশে ভুলে যায় । তিনি বলেছেন, –‘বাঙালি আজ সামান্য চাকুরিয়া মাত্র । বাঙালি আজ ‘বাবু’ বলিয়া পরিচিত। সামান্য কায়িক পরিশ্রমে বাঙালি অপমান বোধ করে। কায়িক পরিশ্রমের কাজে বাঙালি ভয় পায়।’ বাঙালির শ্রমবিমুখতা আর নিশ্চেষ্টতা বাঙালি ক্রমশঃ পিছিয়ে পড়ছে বলে তিনি আক্ষেপ করেছেন। তাঁর এমন কথা প্রবাদের মত শোনা যায় এখনো। আচার্য রায় বাঙালির নানা সমস্যা তাঁর পর্যবেক্ষণে তুলে ধরেছেন। সেই পর্যবেক্ষণ তাঁর নানা প্রবন্ধের নাম থেকেই বোঝা যায়। ‘অন্ন সমস্যা ও বাঙালির নিশ্চেষ্টতা’, ‘কৃষি ব্যবসায় ও বাঙালি যুবকের অন্ন সমস্যা’, ‘শ্রমের মর্যাদাবোধ: বাঙালির অন্ন-সমস্যায় পরাজয়’, ‘শ্রমের মর্যাদাবোধ: বাঙালির পরাজয়’, ‘মধ্যবিত্ত বাঙালির বেকার সমস্যা’, ‘বাঙালির দাস মনোভাব’, ‘বাঙালির মস্তিষ্ক ও তাহার অপব্যবহার’, ‘বাঙালির শক্তি ও তাহার অপচয়’ ইত্যাদি নানা প্রবন্ধে তিনি বাঙালির দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। 

বাঙালির দুর্বলতা তুলে ধরেও তিনি বাঙালির প্রাণে নবীন বলের সঞ্চার দেখতে পেয়েছেন বলে তাঁর ‘বাঙালির ভবিষ্যৎ’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। যদিও তা বঙ্গ সাহিত্যের মধ্য দিয়ে জাতীয়জীবন গঠনের মূলমন্ত্র গড়ে তোলার স্যার আশুতোষের আহ্বানকে লক্ষ্য করে উল্লেখ করেছিলেন । স্যার আশুতোষ বলেছিলেন, ‘মায়ের বিশ্ববিজয়ী সৌধ নির্মাণ করিতে হইবে।…..মায়ের মন্দির গঠনে সকল সন্তানেরই তুল্য অধিকার বলিয়া, প্রত্যেককেই যে তুল্য-পরিমাণে দ্রব্যসম্ভার জোগাইতে হইবে, এমন কোনও কথা নেই। যিনি যাহা পারেন, লইয়া আসুন ও মাতৃমন্দিরের প্রাঙ্গণে সমবেত হউন। আমরা জননী বঙ্গভাষার বিশ্ববিজয়ী সৌধ নির্মাণ করিব।’ আচার্য স্যার আশুতোষের আহ্বানে সকলকে সাড়া দিতে বললেন। বললেন, ‘আজ আপনারাও মাতৃযজ্ঞের এই মন্ডপে, এই সারস্বত -সম্মেলন-বাসরে এই মহামন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করুন। বাংলা ভাষার উন্নতিবিধানে সকলে বদ্ধপরিকর হউন। আজ মাতৃভাষার এই যজ্ঞ বেদিমূলে বসিয়া, আসুন আমরা সমবেত কন্ঠে গগন-পবন প্রতিধ্বনিত করিয়া ফেলি—‘আমরা ঘুচাব মা তোর দৈন্য, মানুষ আমরা নহি ত মেঘ।’ 

তিনি শুধু বাঙালির কথা ভাবেন নি। তিনি দেশের কথা ভেবেছেন, দশের কথা ভেবেছেন। এই দেশ এক জাতি হয়ে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড়ো বাধা যা হল যে জাতিভেদ সমস্যা তা তিনি তাঁর এই নামাঙ্কিত প্রবন্ধে বলেছেন। এই জাতিভেদ যে জাতি গঠনে মূল বাধা তা তাঁর ‘জাতিগঠনে বাধা–ভিতরের ও বাহিরের’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। অথচ এই জাতিভেদ ঋগবেদের যুগে ছিল না। পন্ডিতদের কথা ধরেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যে দেশে বর্ণভেদ ছাড়া জাতিভেদের অন্য কোনো ভিত্তি ছিল না, সে দেশে এই হাজার রকম জন্মগত জাতির উৎপত্তি কিরূপে হল?’ এ প্রশ্নের সাথে ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক সমস্যার কথাও তাঁর এক অসাধারণ পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা যেতে পারে । তাঁর ‘আমাদের আদর্শ ও কর্তব্য’ প্রবন্ধে বলেছেন–‘…. উত্তরবঙ্গে (তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা) যে শতকরা আশি জন মুসলমান, এরা এল কোথা থেকে? সকলেই যে ইরান, তুরাণ থেকে এসেছে একথা কে বিশ্বাস করবে? যদি বল মুসলমান রাজাদের অত্যাচারে সব হিন্দু মুসলমান হয়েছে, তাহলে তো দিল্লি, মুর্শিদাবাদ, ও ঢাকার সব লোক মুসলমান হয়ে যেত। কিন্তু হয়েছে তার ঠিক উল্টো। দিল্লির যত দূরে, তত বেশি মুসলমান হয়েছে, যত কাছে তত কম হয়েছে। কেন? তথাকথিত নিম্ন ও অস্পৃশ্যজাতির প্রতি আমরা যে অত্যাচার করেছি তাতে জর্জরিত হয়ে তাঁরা ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন।’

একজন রসায়নবিদ হয়েও নিজের বিষয় নিয়ে শুধু তাঁর ভাবনা ছিল না। বিলেতে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে তিনি বিলিতি পোষাক বর্জন করেন এবং যে পোশাকে তাঁর ছবি দেখি সেই ধুতি চাদর তিনি পোশাক হিসেবে গ্রহণ করলেন। তখন কংগ্রেসের সবেমাত্র জন্ম হয়েছে। কিন্তু এই পোশাকে তাঁর স্বদেশেপ্রেমের পরিচয় ঘটে। যদিও তিনি কংগ্রেসের সদস্য হননি তখন। স্বদেশী আন্দোলনের সাথে যুক্ত না হয়েও তিনি মানুষের জন্য, বিশেষ করে শিক্ষার জন্য তাঁর অবদান কম নয়। দেশের নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করেছেন। নিজের গ্রামে খুলনার রাড়ুলী-কাটিপাড়া শিক্ষা পরিষদ গঠন করে ছাত্র ও বিধবাদের জন্য দশ হাজার টাকা দান করেছেন এবং বাগেরহাটে কলেজ স্থাপন করেছেন। অনাথ শিশুদের জন্য ট্রাস্ট গঠন করেছেন। ছাত্রদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেলেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। রয়েল কমিশনের সামনে শিক্ষাবিভাগের বিভেদনীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। রাউলাট আইনের প্রতিবাদ সভায় তিনি সামিল হয়েছেন। 

সমাজসেবা করবেন অথচ মানুষের দুঃখে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না, তা কি হয় ? তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য। খুলনার দুর্ভিক্ষে তিনি রিলিফ কমিটি গঠন করেন। সমাজের কাজের সঙ্গে যে মানুষ নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, সেই মানুষটি স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেবেন না তা হয় নাকি। অবশেষে স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দিলেন 1922 সালে। এই সালের সেপ্টেম্বরে উত্তরবঙ্গের জেলাতে ভয়াবহ বন্যা হলে তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘বেঙ্গল রিলিফ কমিটি’। এই কমিটির অন্যতম সম্পাদক সুভাষচন্দ্র। তাছাড়া কে নেই এই কমিটিতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , সি আর দাশ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, নীলরতন সরকার, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, আশুতোষ চোধুরী প্রমুখ বিশিষ্ট মানুষজন। এই কমিটি ত্রাণ সংগ্রহ করেছিল নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা সহ অন্যান্য সামগ্রী। আর সরকার বরাদ্দ করেছিল মাত্র কুড়ি হাজার টাকা। বন্যাত্রাণের কাজে সুভাষচন্দ্রের প্রশংসা করেছিলেন আচার্য। বলেছিলেন, সুভাষের সংগঠনের কাজে কোনো ফাঁক দেখতে পেলাম না। 

সমাজ সেবার কাজের সাথে স্বদেশী আন্দোলনে নিজেকে আরো নিয়োজিত করলেন। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তার পাঠালেন। শুধু তাই নয়, ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ র বিরোধিতা করলেন সক্রিয়ভাবে। যে মানুষ জাতিভেদ সমস্যা জাতি গঠনে বাধা বলে মনে করেন, তিনি সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে থাকতে পারবেন কেমন করে। এমনকি সাম্রাজ্যবাদ শক্তি দখলদারির চেষ্টায় যুদ্ধ অনিবার্য করে তুলতে সচেষ্ট হয়ে পড়ছে, সেই সময়ে রোঁমা রোলাঁর আহ্বানে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের ইস্তাহারে স্বাক্ষর করেন। পরে হিটলারের সোভিয়েত আক্রমণেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। 

সর্বোপরি আচার্য রায়ের কর্মজীবনের অবদান শিক্ষা ক্ষেত্রে। ছাত্রদের জন্য নিজের সরল জীবনযাপন এক আলাদা শিক্ষা দিয়ে গেছেন। জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে শিক্ষক আর ছাত্রের সম্পর্কে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিলিতি ডিগ্রি অথচ নিজেকে বিলিতি কায়দায় বদলে ফেলেন নি। ছাত্রের কাছে এমন শিক্ষকের জীবন অবশ্যই প্রেরণার। আজকের শিক্ষা যেখানে ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, সেখানে আচার্যের জীবন এখনো পথ দেখাতে পারে। তিনি বলেছেন ‘.. অর্থই পরমার্থ জ্ঞানে যাঁরা বিদ্যা ও বুদ্ধি বিক্রয় করছেন, ন্যায়নীতি বিবর্তত ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের শিক্ষক বলে গণ্য করা যায় কি? ছাত্র ও শিক্ষকের সম্পর্ক কি ক্রেতা বিক্রেতার? ছাত্র ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে বিদ্যা ক্রয় করতে আসে না।….বিদ্যালাভ করিতে আসে।…এহেন বস্তু লইয়া কারবার করলে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই সর্বনাশের পথ প্রশস্ত হয়। ‘ আচার্যের সেই সময়ের এই কথার প্রত্যেকটি শব্দ আজকের সময়ে প্রশ্ন হয়ে দেখা যায় কিনা, সে প্রশ্ন না-করাই ভালো। তাই আজকের শিক্ষানীতির প্রতিটি ছত্রে শিক্ষার বাণিজ্যেকরনের রাস্তাই দেখিয়ে দেয়।  

শুধু তাই নয় শিক্ষাপ্রণালী নিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি শিক্ষাপ্রণালী আর জীবিকার্জন নিয়ে তাঁর কথা আজকে দিনে যেন আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেছেন, ‘ …লেখাপড়া চাই, গন্ডমূর্খ হলে কিছুতেই চলবে না। কিন্তু অকর্মণ্য ডিগ্রিধারী হয়ে কোনও লাভ নেই, গৌরব নেই। আমাদের পোড়া কপাল যে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ছাপ’কে অন্ন-সংস্থানের একমাত্র উপায়—‘নান্যদন্তি’ বলে জ্ঞান করেছি। এই ধারণাটা ভূতের মতো আমাদের ঘাড়ে চেপে আছে—কিছুতেই নামতে চায় না। ‘ এই সাপেক্ষে আর একটা কথা বলেছেন, ‘আমরা চাকরির জন্য ডিগ্রির চেষ্টা করি। আবার ডিগ্রির জন্য এক টাকা মূল্যের পুস্তকের পাঁচ টাকা মূল্যের নানারকম নোট কিনে থাকি। এ যেন সেই বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বীচি। কেবল নোট মুখস্থ আর গৎ আওড়ানো। কাজেই বিদ্যা আমাদের পুঁথিগত। ডিগ্রি লাভের এই চেষ্টায় মৌলিকতা নষ্ট হয় এবং প্রতিভার স্ফূরণ হয় না।’ বর্তমান এই শিক্ষাপ্রণালীকে মানুষের অন্তরকে পিষে ফেলার যন্ত্র হিসেবে তিনি দেখেছেন। তাই তিনি বলেন, ‘এতে জ্ঞানলিপ্সা উদ্দীপ্ত হওয়া দূরে থাক একেবারে তা বিনষ্ট হয়ে যায়, ছাত্রের মন সঙ্কুচিত হয়ে অসাড় ও কৌতূহলশূন্য হয়…।’ এভাবে ডিগ্রির সংখ্যা বাড়লেই যে জ্ঞানতৃষ্ণা বাড়ছে তা যে বলা যায় না, তিনি তা পরিষ্কার করে বলেছেন। তিনি বলেছেন,’ ম্যাট্রিকুলেশনে ছাত্রের সংখ্যা প্রত্যেক বৎসরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, বৃদ্ধিমাত্রই কি স্বাস্থ্যের লক্ষণ ? দেশে জ্ঞানতৃষ্ণা বাড়ছেে বলে অনেকেই আশ্বস্ত হন। কিন্তু এ কি স্বাস্থ্যকর তৃষ্ণা ? এ বিসূচিকার তৃষ্ণার মত ভয়ঙ্কর .. ! ‘ তাঁর মতে এইসব ছাত্ররা প্রকৃত জ্ঞানপিপাসু বা ডিগ্রিপ্রার্থী নয়। এঁদের উদ্দেশ্য গলাধঃকরণ, উদ্গীরণ আর ডিগ্রিগ্রহণ। এমনতর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে একশ ছ’বছর আগে প্রকাশিত ‘জাতি গঠনে বাধা–ভিতরের ও বাহিরের’ তাঁর প্রবন্ধে জাতীয় শিক্ষা সম্পর্কে তিনি যে প্রশ্ন রেখেছিলেন সেই প্রশ্ন এই সময়েও যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে । তিনি বলেছেন— ‘জাতীয়’ শিক্ষা চাই। কিন্তু জাতীয় শিক্ষা কি ? আর্য সমাজের লোকে জাতীয় শিক্ষার অর্থ করেছেন বেদ পাঠ করা, কেন না তাঁদের মতে বেদ অভ্রান্ত ।..কেহ বা বলবেন–রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ পাঠ কর । মুসলমান জাতীয় শিক্ষা অর্থে বলবেন, কোরান পড় । খ্রীষ্টান বলবেন–বাইবেল পড় । …মনুস্মৃতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা হয় কি ? বেদ বেদান্ত পাঠ্য হলে বাঙলার শতকরা ৫২ জন মুসলিম কি করবে ?’ তিনি আরো বলেছেন, ‘…যে শিক্ষায় শুধু মেরুদন্ডহীন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে, মনুষ্যত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় না,…দুর্বল অসহায় শিশুর মত সংসার পথে ছেড়ে দেয়, সে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি ?’ 

আচার্যের কথায় বলা যায় এই শিক্ষাপ্রণালীতে ছাত্ররা সঠিক মানুষ হয়ে উঠতে পারে না । তাঁর মতে যে-শিক্ষা ছাত্রদের প্রকৃত জ্ঞানপিপাসু হতে শেখাবে, শ্রমের মর্যাদা দিতে শেখাবে আর কর্মঠ হতে শেখাবে । কিন্তু সেই শিক্ষা আজ একশো শতাংশ পাশের হারে দিতে পেরেছি কিনা তা জোর গলায় বলা যায় না। 

আচার্যের কুড়িটি প্রবন্ধের সংকলন পাঠকের কাছে তাঁর পরিচয় রসায়ন-বিজ্ঞানী ব্যতিরেকে তাঁর জীবন ও আদর্শের এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে হাজির করেছেন সংকলক শ্যামল চক্রবর্তী । আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রসায়নবিজ্ঞানী হয়েও সমাজ পর্যবেক্ষণে তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টি ধরা পড়েছে তাঁর প্রবন্ধে । সাবলীল ভাষায় বাঙালি ও দেশের সমস্যা প্রামাণ্য যুক্তিতে তিনি ব্যক্ত করেছেন তাঁর অভিমত । তাঁর এই অভিমত আজকের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অযৌক্তিক গোঁড়ামির অগ্নিকে প্রশমিত করার ভাবনার রসায়ন নতুন করে জোগাতে পারে ।  

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের প্রবন্ধ

-সম্পাদনা ও সংকলনে শ্যামল চক্রবর্তী

-আজকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *