দীপান্বিতা
এইচ জি ওয়েলস্
হার্বার্ট জর্জ বা এইচ জি ওয়েলসকে কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জনক বলা হলেও তিনি ইতিহাস, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে সমসাময়িক উপন্যাস আর পাঠ্যপুস্তকও লিখেছেন। ইংল্যান্ডের কেন্ট কাউন্টির ব্রুমলেতে ১৮৬৬ সালে তাঁর জন্ম। মা সারা নীল বিভিন্ন অভিজাত গৃহে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন আর বাবা জোসেফ ওয়েলস ছিলেন পেশাদার ক্রিকেটার এবং একজন দোকানদার।
তাঁদের জীবনে স্বাচ্ছন্দের অভাব ছিল। বাবা-মা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তাঁরা কেউ আর বিয়ে করেননি। ওয়েলস ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছিলেন। তিনি হাতের কাছে যা পেতেন সব পড়ে ফেলতেন। ওয়েলস টমাস মোরলে অ্যাকাডেমিতে পড়তে পড়তে পড়া ছাড়তে বাধ্য হন, কেননা তাঁর বাবার পা ভেঙে যায় এবং তিনি আর ক্রিকেট খেলতে পারলেন না। ফলে ছেলের পড়াশোনার খরচ দিতে পারতেন না। ১৪ বছর বয়সে ওয়েলস একজন বস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন যে অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা তাঁর পরবর্তী লেখাতে প্রতিফলিত হয়েছে। কিপস্ নামের এই গল্পে এক অনাথ ছেলে শিক্ষা ও অনেক সম্পদের অধিকারী হয়ে উচ্চবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়। তাঁর এই শিক্ষানবিশের অভিজ্ঞতা দা হুইলস অফ চান্স আ বাইসাইক্লিং আইডিল গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।

১৮৮৩ সালে লন্ডনের নরমাল স্কুলের একটি স্কলারশিপ পাওয়ার সময়েই তিনি বিজ্ঞান সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ আবিষ্কার করেন। টমাস হেনরি হাক্সলের বিচক্ষণ তত্ত্বাবধানে তিনি জীববিদ্যা ও ডারউইনবাদ সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছিলেন। এখানেও তিনি তাঁর শিক্ষা শেষ করতে ব্যর্থ হন। ফলে তাঁকে বৃত্তিটাও হারাতে হয়। চরম অর্থকষ্টে পড়ে তিনি লন্ডনের ফিটরয় রোডে কাকা-কাকিমার কাছে থাকতে শুরু করেন। এ সময় তিনি তাঁর কাকার স্কুলে পড়ান এবং সেখানে পার্টটাইম পড়াশোনাও করতে থাকেন।
১৮৯১ সালে তিনি তাঁর সম্পর্কে তুতো বোন ইসাবেলা মেরিকে বিয়ে করেন। ইসাবেলা থাকতেন ওই একই বাড়িতে। চার বছর পর এই বিয়ে ভেঙে যায়। ওয়েলস তখন তাঁর একজন ছাত্রী অ্যামি ক্যাথারিন রবিনসকে ১৮৯৫ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের দুজন ছেলেও হয়। অবশ্য অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল যেগুলি তাঁর লেখায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এঁদের মধ্যে অ্যাম্বার রিভস্ এবং রেবেকা ওয়েস্ট-এর সঙ্গে তাঁর খুবই গভীর সম্পর্ক ছিল।
অনেকদিন ধরে লেখালেখি করলেও ওয়েলস ১৮৯৫ সালে তাঁর কিছু গল্প প্রকাশ করেন। প্রথম দিকে তাঁর প্রকাশিত গল্পগুলির মধ্যে সিলেক্ট কনভারসেশন উইথ অ্যান আঙ্কেল, দ্যা টাইম মেশিন, দ্য ওয়ান্ডারফুল ভিজিট, দা টলেন ভেসিলাস অ্যান্ড আদার ইন্সিডেন্টস্ এসব ছিল প্রধান। এছাড়া তাঁর কিছু প্রবন্ধ সংকলন এবং এর পরে দ্য ইনভিজিবল ম্যান, হোয়েন দ্য স্লিপার ওয়েকস্, লাভ এন্ড মিস্টার লিউইশ্যাম, দ্যা ফার্স্ট মেন ইন দা মুন ইত্যাদি আরো অনেক বই প্রকাশিত হয়। অ্যান্টিসিপেশন্স ছিল তাঁর প্রায় বেস্টসেলার যাতে পৃথিবী দু হাজার সালে কেমন হবে তার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। তিনি প্রচুর লিখেছেন। ১৯৪৬ সালে আগস্ট মাসে নিজের বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
