প্রীতন্বিতা


ঈগল নিহারিকাতে অতিকায় মানুষ

ঈগল নীহারিকাতে রয়েছে তারকা তৈরির সুতিকাগার। ওখানে আছে ধূলিকণা ও গ্যাসের সুবিশাল কতগুলি স্তম্ভ। সার্পেনস্ কনস্টেলেশনে একগুচ্ছ তারকার সমন্বয়ে গঠিত এই ঈগল নীহারিকা। দেখতে অনেকটা ঈগল পাখির মত। একটি বিখ্যাত টিভি চ্যানেলে এই নীহারিকার কতগুলি ছবি প্রকাশের পর বেশ হইচই সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। দর্শকদের দাবি ছিল যে সেখানে দেখা গেছে অতিকায় মানুষের মুখ। ঈগল নীহারিকার তারকা মেঘে মানব সদৃশ প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠার অজানা রহস্য বিজ্ঞানীরা জানাতে পারেননি।

তারকা জন্মের এই সক্রিয় অঞ্চলটি ৬৫০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। নীহারিকা থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের টাওয়ার প্রায় ১০০ লক্ষ কোটি কিলোমিটার উঁচু। ১৭৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে জাঁ ফিলিপ দ্য চেস্যু এটি আবিষ্কার করেছিলেন। বৈজ্ঞানিক ক্যাটালগে এর পরিচিত নাম মেসিআর ১৬ এবং এনজিসি ৬৬১১ হিসেবে। 

১৯৯৫ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এই ছবিগুলি তুলতে পেরেছিল। এগুলি থেকে কোন এক নীহারিকার অভ্যন্তরে কী ঘটে সেসব অনেকটাই বোঝা যায়। এদের মধ্যে সৃষ্টিস্তম্ভের ছবি বেশি বিখ্যাত। এই স্তম্ভের ছোট অন্ধকার এলাকাগুলি প্রোটোস্টার বলে মনে করা হয়। ২০০৫ সালে স্পিৎজার টেলিস্কোপ অবশ্য ক্যাসিওপিয়াতে আরো বড় তারকা সৃষ্টির স্তম্ভ খুঁজে পেয়েছে। এসব স্তম্ভগুলিকে দেখলে মনে হবে যেন কোন চুনাপাথরের গুহার মেঝে থেকে উঠে আসা স্ট্যালাগমাইট। স্তম্ভগুলি আসলে মহাকাশে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ধূলিকণায় প্রস্তুত যা তারকা জন্মের প্রসূতিঘর। এদের অভ্যন্তরে ও পৃষ্ঠদেশে বিজ্ঞানীরা ঘন গ্যাসের দানা খুঁজে পেয়েছেন। এগুলির নাম ইভাপোরেটিং গ্যাসিয়াস গ্লোবিউলস যাদের অন্দরমহলের গর্ভে তৈরি হয় তারকা শিশু। 

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন যে ঈগল নীহারিকাতে তারকা জন্ম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল অন্তত ১০ লক্ষ বছর আগে। দীর্ঘতম স্তম্ভটি লম্বায় ৭ আলোকবর্ষ, অর্থাৎ এটির এক মাথা থেকে অন্য মাথায় যেতে আলোর লেগে যাবে সাত বছর। এসব স্তম্ভের সুবিশাল ঘনত্ব অভ্যন্তরীণ গ্যাসকে মাধ্যাকর্ষণজনিত সংকোচনে তারকা জন্মের কারণ ঘটায়। স্তম্ভগুলির প্রান্তে নবীন উজ্জ্বল তারাগুলির মাত্রাধিক বিকিরণ নিম্ন ঘনত্বের সমস্ত পদার্থকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয় এবং এভাবেই তারকা জন্মের সুতিকাগার প্রকাশ্যে চলে আসে। যেহেতু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দৃশ্য সুবিশাল দূরত্বের জন্য আলোক তরঙ্গের বয়ে আনতে বহু বহু বছর লেগে যায় তাই মনে করা হচ্ছে যে ওই সব সৃষ্টিস্তম্ভের অতীত ঘটনা এখন আর নেই, পরিবর্তে গড়ে উঠেছে তারকা জন্মের কারখানা। এমনটাও মনে করা হচ্ছে যে স্তম্ভগুলি ৬ হাজার বছর আগে নিকটবর্তী এক সুপারনোভা বিস্ফোরণের ধাক্কায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে পৃথিবীতে এই ঘটনার ছবি কয়েক হাজার বছরের আগে দেখা সম্ভব হবে না।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *