অমিতাভ সরকার
তুমি ফিরে আসিবে যে জানিতাম
গীতিময় সন্তোষ সেনগুপ্ত
তখন রেকর্ডে রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে হলে স্বয়ং কবিগুরুর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হতো। পুলিনবিহারী সেনের(১১.০৮.১৯০৮-১৪.১০.১৯৮৪)(পরবর্তীকালে পুলিনবিহারী নিজেও একজন বিদগ্ধ রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হয়েছিলেন) খুব ইচ্ছে তাঁর গায়ক বন্ধুটি রবীন্দ্রসংগীতের এবার রেকর্ড বের করুক। ইতিপূর্বে ১৯৩৫ সাল থেকে সে নিয়মিত রেডিওতে রবীন্দ্রসংগীত গাইছে।
বন্ধুটির কিছু বেসিক গানের রেকর্ডও মার্কেটে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। এরমধ্যে তার নিজেরও রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি একটা আত্মিক টান তৈরি হয়েছে। পঙ্কজ মল্লিকের ‘প্রলয় নাচন নাচলে যখন’ শুনে কবিগানের বিহ্বলতা যেন আরও ঊর্ধ্বগামী।

সেইজন্য তরুণ গায়কটি রবীন্দ্রসংগীতের বিখ্যাত ট্রেনার, স্বরলিপিকার অনাদিকুমার দস্তিদারকে নিয়ে গিয়েছেন বিটি রোডে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের বাড়ি। উদ্দেশ্য কবিকে গান শোনানো। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন দার্শনিক সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, প্রশান্তচন্দ্র, আর কবিগুরু তো আছেনই। গান দুটি ছিল- ‘আজ কি তাহার বারতা’ এবং ‘কেন বাজাও কাঁকন।’ দ্বিতীয় গানটির রেকর্ড অপেক্ষা নবীন শিল্পীর কণ্ঠের গানই সুরেন্দ্রনাথের বেশি ভালো লাগলো। পুনরায় রেকর্ড করে তবে কবির অনুমতি পাওয়া গেছিল। ১৯৪০ সালের মার্চে বেরোল রেকর্ড এবং অচিরেই তা জনপ্রিয়তা অর্জন করলে পুজোর জন্য আবার সেই বছরই গ্রামোফোন কোম্পানি এই শিল্পীর আরও দুটো রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করলো। এক পিঠে ‘বাকী আমি রাখবো না’, অন্য পিঠে ‘মোর পথিকেরে বুঝি এনেছো’। সেদিনের সেই প্রতিভাবান শিল্পী হলেন সন্তোষ সেনগুপ্ত। পরবর্তীকালে ১৯৫৫ সাল অবধি আরও বহুবার-অল্প লইয়া থাকি তাই, ভালোবেসে যদি সুখ নাহি, কার বাঁশি নিশিভোরে,তোমার পতাকা যারে দাও, কাঁদালে তুমি মোরে, বেদনায় ভরে গিয়েছে, জানি জানি হল যাওয়ার আয়োজন- ইত্যাদি বহু রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করলেও এই প্রবাদপ্রতিম সংগীত সাধকের অন্যতম কাজ হলো রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্য এবং নৃত্যনাট্যের গানগুলির রেকর্ড প্রকাশ এবং সেইজন্য এইচএমভির সম্মতি আদায়। ১৯৫৫ সালে মঞ্চে রবীন্দ্র-নৃত্যনাট্যের পরিবেশন উনিই শুরু করেন। চণ্ডালিকা সে-বছরই এলপি রেকর্ডে প্রকাশিত হলো। ১৯৬১ সালে বিশ্বকবির জন্মশতবর্ষে সন্তোষ সেনগুপ্তের তত্ত্বাবধানেই ‘শ্যামা’ রেকর্ড করা হলে এইধরনের রেকর্ডের প্রচুর চাহিদা হয়েছিল। একে একে শাপমোচন, বাল্মিকীপ্রতিভা-য় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সুপ্রীতি ঘোষ, সুচিত্রা মিত্র, দেবব্রত বিশ্বাস, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগর সেন, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের দিয়ে গান গাওয়ানো এবং দেশ-বিদেশে রবীন্দ্রনাথের এইসব অনন্য সৃষ্টিকর্মকে প্রসারিত করার ক্ষেত্রে সন্তোষ সেনগুপ্তের অবদান অনস্বীকার্য। রথী ঠাকুর ওইসব নৃত্যনাট্য দেখে ওঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। এছাড়া ১৯৬১ সালে বিশ্বকবির জন্মশতবার্ষিকীকে সারা দেশব্যাপী শ্রদ্ধা উৎযাপন, তৎসহ বিভিন্ন শিল্পীদের (এমনকি গীতা দত্ত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় প্রমুখদের মতো বোম্বের শিল্পীদেরও) দিয়ে বেতার, রেকর্ড প্রভৃতি বিভিন্ন মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ানো, অনুষ্ঠান করা, রবীন্দ্র গানের সম্প্রচার, পাবলিশিটি -ইত্যাদির মাধ্যমে জনমানসে রবীন্দ্রনাথের গানকে ছড়িয়ে দেওয়া – সর্বোতোভাবে রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষা, চর্চা, বিশুদ্ধ স্বরলিপিতে সঠিকভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীতের প্রসার এবং জনপ্রিয় করে তোলার মতো বৃহৎ কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন সন্তোষ সেনগুপ্ত, স্বয়ং।
রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কাজ করলেও তিনি নিজে কিন্তু গান শিখেছিলেন কাজী নজরুলের কাছেও। সেসব গান উনি আবার অন্যদেরও শিখিয়েছেন। বিদ্রোহী কবি অসুস্থ হয়ে পারায় তাঁর গান রেকর্ড কোম্পানী আর রেকর্ড হচ্ছিল না, সেইসময় সন্তোষ সেনগুপ্ত নিজে উদ্যোগ নিয়ে ‘best love songs of Nazrul’,’say it with roses’ -মতো এলপিডি রেকর্ড করেন। রেকর্ড দুটোর সাফল্যের পরে অনেক নতুন শিল্পীরাও নজরুল গীতি রেকর্ড করতে শুরু করেন। ‘আমারে নহে গো ভালোবাসো মোর গান’, ‘বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই’,’হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে’, ‘কেউ ভোলে না কেউ ভোলে’, ‘তুমি শুনিতে চেয়ো না’-র মতো নজরুল গীতি তাঁর কণ্ঠে আজও বিখ্যাত। নজরুল সন্তোষ সেনগুপ্তকে খুব স্নেহ করতেন। তাঁর প্রিয় ‘কাজিদা’-র গানের পাশাপাশি বন্ধু প্রণব রায়, শৈলেন রায়, সুবোধ পুরকায়স্থের লেখা গান যেমন গেয়েছেন, তেমনি অতুলপ্রসাদের গানেও রেখে গেছেন স্বকীয়তা। অতুলপ্রসাদের মৃত্যুর পর যখন তাঁর গানের প্রসার কমতে থাকলো, তখন সন্তোষ সেনগুপ্ত যে অতুলপ্রসাদী সংগীতের প্রসার এবং প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাই নয়, দীর্ঘকাল যাবৎ বেতারে অতুলপ্রসাদী সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি অতুলপ্রসাদের লেখা সাতটি গানে সুরদান করেছিলেন সন্তোষ সেনগুপ্ত স্বয়ং। গানগুলি হলো যথাক্রমে- তুমি কবে আসিবে, করুণ সুরে ওকি গান গাও, আমি বাঁধিনু তোমার তীরে, মম মনের বিজনে, মোর আজি গাঁথা হলো না মালা, বঁধু ক্ষণিকের দেখা এবং আমি বসে আছি তব দ্বারে।
সন্তোষ সেনগুপ্ত ছিলেন বাংলা গানের ধারক ও বাহক। গান অনেকেই গেয়েছেন, স্বনামধন্যও হয়েছেন -কিন্তু রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল গীতি, অতুলপ্রসাদ- বাংলা আধুনিক গানের একটা পূর্ণ পরম্পরাকে উনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং তার ঐতিহ্যকে আগামীর জন্য ছড়িয়ে দিয়েছেন, অগণিত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে।
বাংলা গানে সন্তোষ সেনগুপ্তের আবির্ভাব বেসিক গানের মাধ্যমেই। ১৯৩৫ সালে রেডিওতে গান গাওয়া শুরু। সে বছরই সেনোলা থেকে ‘শ্রীযুক্ত সন্তোষ সেনগুপ্ত- বিএ’ নামে বেরোয় ওঁর গানের রেকর্ড- ‘আজি শাওন ঝরে’, অপর পিঠে ‘আজও পড়ে গো মনে’। প্রথমটি হাসিরাশি দেবীর এবং পরেরটি নরেশ্বর ভট্টাচার্যের রচনা। দুটো গানেরই সুরকার শৈলেশ দত্তগুপ্ত। তিন মাসের ৮ হাজার কপি বিক্রি এবং সন্তোষ সেনগুপ্তের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসাবে খ্যাতিলাভ। পরের কয়েক বছরে আধুনিক গানের পাশাপাশি হিন্দি, ভজন, ঠুংরি, গীত মিলিয়ে আরও খান পঁচিশ রেকর্ড বেরিয়েছিল। সবগুলো বাজারে ভালো চলেছে। কলেজ পড়াকালীন ছবি আঁকা, টেনিস, ফুটবল এসবেও অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু আস্তে আস্তে কখন যে ‘অ্যামেচার’ নামের আড়ালে সংগীতকেই জীবন ও জীবিকা করে ফেললেন নিজেই বুঝতে পারেননি। শৈলেশ দত্তগুপ্তের কাছে বাংলা গান শিখেছেন। গুরু শৈলেশ দত্তগুপ্তের সুরে প্রচুর শিল্পীর গান হিট হয়েছে। এই প্রবাদপ্রতিম শিক্ষকের প্রতি সন্তোষ সেনগুপ্ত আজীবন কৃতজ্ঞ থেকেছেন। ১৯৪২ সালে ওঁর ‘শৈলেশদা’-র সুরে প্রণব রায়ের কথায় ওঁর কণ্ঠে ‘জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা’ ছিল একটা মাইলস্টোন, যা এত যুগ পরেই বিখ্যাত। এছাড়া -যদি ভুলে যাই, তুমি কি আসিয়াছিলে হে নিরুপমা, তুমি তো আমারে দাও নাই -ইত্যাদি গানও তখন বেশ জনপ্রিয় হয়। এছাড়া সুরসাগর হিমাংশু দত্তের সুরে- প্রেম কোথা জেগে রয়, নাম কি গো পূরবী, বাণী বনে মোর গানে ইত্যাদি গান সন্তোষ সেনগুপ্তর কণ্ঠে বিখ্যাত হয়। এছাড়া কমল দাশগুপ্তের সুরে -আমার এ ভালোবাসা, মোর সকল দাবি ছাড়বো, জানি না তোমার নয়নে- ইত্যাদি গানও শ্রোতাদের কাছে সেসময়ে সমাদৃত হয়েছিল। এছাড়া নন্দিনী(১৯৪১) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ওঁর সিনেমায় গান গাওয়া শুরু। দিগভ্রান্ত মুশকিল আসান, ক্ষুধিত পাষাণ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে সহকারী সংগীত পরিচালনার কাজ করলেও চিরকুমার সভা(১৯৫৬), দেবকীকুমার বসুর ‘অর্ঘ্য’(১৯৬১) চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব সন্তোষ সেনগুপ্তের উপর ছিল। এই সবকটি সিনেমাতেই তিনি রবীন্দ্র সংগীতের দারুণ ব্যবহার করেছেন। শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, পূরবী চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র এমনকি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কেও পাঁচ-ছয়ের দশকে সিনেমার জন্য রবীন্দ্রসংগীত গাইয়েছেন। রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার ও বিস্তার সন্তোষ সেনগুপ্তের অবিস্মরণীয় কাজ। ১৯৮৪ সালের ২১শে জুন তাঁর চলে যাওয়ার দিন। ‘সংগীত ও আনুষঙ্গিক জীবন’ ওঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। জন্ম ১৯০৯ সালের ২৮শে মার্চ। আদি নিবাস ঢাকার বিক্রমপুরে মধ্যপাড়ায় হলেও বাবার বদলির চাকরির কারণে তাঁর ছোটোবেলা অতিবাহিত হয়েছিল জলপাইগুড়িতে। শৈশব থেকেই অসীম প্রতিভাধর মানুষটি গান শুনতেন এবং রেকর্ডের শিল্পীর মতোই হুবহু গানটি গাইতে পারতেন। মূলত কে. মল্লিকের রেকর্ড ছিল তখন তাঁর পছন্দ।
সাত-আট বছর বয়সেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে আরেক পা দিয়ে বেলো করে অর্গ্যান বাজাতেন।
জলপাইগুড়ির স্টেশনমাস্টার বাবা কৃষ্ণচন্দ্র সেনশর্মার সংগীতাসক্তি ছেলের ওপর যথেষ্ট পরিমাণে বর্ষিত হয়েছিল। দৌলতপুর কলেজে ছাত্রাবাসে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে পরিচয় এবং অনুরাগ জন্মানো শুরু। এ সময় খেলাধুলোর পাশাপাশি যোগব্যায়ামও করতেন। পরবর্তীকালে কলকাতায় স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। এইসময় বন্ধু দীপক চৌধুরীর সূত্রে বন্ধুর মা কবিগুরুর ভাগ্নী সরলা দেবী, কবিগুরুর দিদি স্বর্ণকুমারী দেবীর সঙ্গে আলাপ এবং ওঁদের স্নেহ লাভ। এই সময় প্রণব রায়ের সূত্রেই সন্তোষ সেনগুপ্তের বিদ্রোহী কবি নজরুল, উমাপদ ভট্টাচার্য, অনিল বাগচীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। ১৯৩৫ সাল থেকেই গানের জয়যাত্রার বর্ণনা -পূর্বেই উল্লিখিত। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতের ভিত যেমন মজবুত করেছেন, তেমনি রেকর্ড এবং বেতারে গান গাওয়াকালীন সময়েও শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। সন্তোষ সেনগুপ্তকে খেয়াল, ঠুংরি শেখাতেন মঞ্জু সাহেব নামের এক উস্তাদ; আরেক ওস্তাদজী শেখাতেন ভজন, গীত -এসব। বাংলা বেসিক গানের জন্য সুরকার উমাপদ ভট্টাচার্য, শৈলেশ দত্তগুপ্তের কাছে তালিম নিয়েছিলেন। এঁরা সবাই ছিলেন রেকর্ড কোম্পানি দ্বারা নিযুক্ত শিক্ষক।
সেইসময় আধুনিক গানের শিল্পীদেরও শাস্ত্রীয় সংগীতে রীতিমতো ব্যুৎপত্তি ছিল। এছাড়া হিমাংশু দত্ত, কমল দাশগুপ্তও ছিলেন তাঁর শিক্ষক। এইচএমভির ট্রেনার দিলীপকুমার রায়ের (রজনীকান্ত সেনের দৌহিত্র) কাছেও দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদের গান শিখেছিলেন।
এছাড়া সন্তোষ সেনগুপ্ত নিজেও আকাশবাণীতে রবীন্দ্রসংগীত শিখিয়েছেন। মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন মহৎ, উঁচু মনের। প্রয়োজনের সময় গুণী শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দিতে সবাই পারে না। এই ঋষিপ্রতিম মানুষটি পেরেছিলেন। বিবাহ ১৯৩৭ সালে। স্ত্রী অরুণা সেনগুপ্ত এবং ওঁর সংসারজীবন যথার্থই ছিল আনন্দপূর্ণ। আর বাকি সবটাই শুধু গান আর গান।
১৯৩৫ সালে সেনোলা কোম্পানিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগত কারণে সম্ভব না হলেও ১৯৩৯ সালে অধিকর্তা হেমচন্দ্র সোমের অনুরোধে সন্তোষ সেনগুপ্ত এইচএমভিতে যোগদান করেন। কলম্বিয়া, এইচএমভিতে প্রযোজক হিসাবে কাজও করেছেন।
দীর্ঘ সংগীত জীবনে গান গাওয়া, গান শেখানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলা গানের উত্তরাধিকারকে নিজের এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করবার গুরু দায়িত্ব ওঁর মতো কেউ পালন করেছেন, কিনা সন্দেহ। নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী, সুরকার -পরিচিতির পাশাপাশি এইজন্যও সন্তোষ সেনগুপ্ত চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
নেপথ্যে থেকে বাংলা গানের অগ্রগতির পিছনে ওঁর সক্রিয় অথচ নীরব কর্মকাণ্ডের জন্য বাঙালি সংস্কৃতি আজও ওঁর কাছে ঋণী। চলে যাওয়াতে তো শ্রদ্ধা জিনিসটা হারিয়ে যাওয়ার নয়।
সন্তোষ সেনগুপ্ত তাই রয়ে যান- ‘কেন ফিরে ফিরে চলে যাও’, ’জানিনা তোমার নয়নে’, ‘মধুরাতি সারা হলে’ কিংবা ওঁর বিখ্যাত সেই গানের মধুর করুণ রসে- ‘জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা, মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল’ কিংবা ‘দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি’, ‘জীবনে যত পূজা হলো না সারা’, ‘না চাহিলে যারে পাওয়া যায়’-র মতো রবীন্দ্রনাথের গানে।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
