পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফেইনম্যান কেমন আমুদে লোক ছিলেন তার একটি পরিচয় উল্লেখ করেছেন আল সেকেল। ঘটনাটি তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন,
‘আমি আর ফেইনম্যান প্রায়ই নানা জায়গায় একসঙ্গে যেতাম। এসব ক্ষেত্রে ফেইনম্যান নিজেই তাঁর ভ্যান চালাতেন। তাঁর গাড়ির ছিল নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এর সারা গায়ে তিনি তাঁর বিখ্যাত সব ডায়াগ্রামগুলি এঁকে রেখেছিলেন। আর লাইসেন্স প্লেটে লেখা ছিল কোয়ান্টাম। আমি একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, গাড়ির গায়ে আঁকা ডায়াগ্রামগুলি কেউ কখনো চিনতে পেরেছিল কিনা। ফেইনম্যানের উত্তরটা ছিল এরকম, ‘আরে, একবার কোথাও যাওয়ার সময় আমি আমার সঙ্গীদের নিয়ে একটা ম্যাকডোনাল্ডের স্টোরে গিয়ে ঢুকলাম। একজন হঠাৎ গাড়িটার কাছে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কেন ভ্যানের সারাগায়ে ফেইনম্যানের ডায়াগ্রামগুলি এঁকে রেখেছি। তো সেই লোকটাকে আমি বললাম, কারণ আমিই হচ্ছি ফেইনম্যান। তো আমার উত্তর শুনেই লোকটা পাগলের মত হাসতে হাসতে অজ্ঞান হয়ে গেল।’
.
.
পোশাক পরিচ্ছদের দিকে খুব একটা যত্ন নিতেন না আইনস্টাইন। তাঁর স্ত্রী সবসময় এই নিয়ে অভিযোগ করতেন। তিনি চাইতেন তাঁর স্বামী কাজেকর্মে যাওয়ার সময় পেশাদার লোকেদের মতো বেশভুষা করে যেন যান। আইনস্টাইন যুক্তি দেখাতেন, ‘কেন আমি তেমন করতে যাব? আমাকে তো সেখানে সবাই চেনে।’ তারপর একদিন আইনস্টাইনের ডাক পড়ল জীবনের প্রথম একটি বড় কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার জন্য। স্ত্রী ভদ্রমহিলা তাঁকে ভালমত ধোপদুরস্ত হয়ে যাওয়ার জন্য বায়না করতে লাগলেন। আইনস্টাইন শান্তভাবে যুক্তি দেখালেন, ‘কেন আমি তেমন করতে যাব? আমাকে তো সেখানে কেউ চেনেই না।’
.
.
শান্তিনিকেতনে তখন খুব বসন্ত রোগের প্রকোপ। ডাক্তার এসেছেন টিকা দিতে। ওষুধপত্র নিয়ে ডাক্তার কবির কাছে যেতেই কবি বলে উঠলেন, ‘না না, আমাকে টিকা দিতে হবে না। আমার অত বছরে বছরে বসন্ত আসে না। যাদের ফিরে ফিরে বসন্ত আসে তাদের টিকা দাওগে যাও।’
.
.
শান্তিনিকেতনে জগদানন্দ রায় ছাত্রদের নানারকম নামকরণ করতেন। একবার একটি ছেলে তাঁকে নিমগাছের দাঁতন আর কচি নিমপাতা এনে দেওয়ায় রায়মশাই বললেন, ‘ওরে হারু, তুই যখন নিম এনে দিলি এবার থেকে তোকে নিমাই বলে ডাকব।’ ওই ক্লাসে একটি দুষ্টু ছেলে ছিল। সে রায়মশাইয়ের কথা শুনে বলে উঠল, ‘স্যার, এবার থেকে আমি রোজ আপনাকে পাকা জাম এনে দেব। আমাকে জামাই বলে ডাকবেন তো ?’ প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
সংগৃহীত
