সুতপন চট্টোপাধ্যায়
হিরো কাকু
তখনও চেন্নাই হয়নি। মাদ্রাজ। বদলি হয়ে সেই অচেনা, অজানা, শহরে বসবাস। ভাষা জানি না। আচার আচরণ জানি না। না জানলে কি হবে? বদলি তো আর আ্টকানো যায় না। একদিন মধ্য দুপুরে এসে পৌঁছলাম মাদ্রাজ শহরের পশ্চিমে আশোকনগর নামের এক শান্ত, নিরিবিলি ছবির মত একটি পুর্ব নির্ধারিত বাসস্থানে। একা নয়, সঙ্গে অনিন্দিতা ও আমার একবছরের ছেলে রুন । কলকাতার বাইরে চাকরি সূত্রে আমার এই প্রথম আসা। দু দিন পরে কন্টেনার আসবে। ততদিন সামনের “সারাভানা ভবন” হোটেল থেকে তিন বেলা খাবার আসবে। তার ব্যবস্থা করে রেখেছিল আমার অফিসের কলিগ সন্মুগম।
বাড়িটি দোতলা। আমরা একতলায়। সামনে বাগান আছে। নীচে একটা লম্বা বসার ঘর, এক পাশে রান্না ঘর, স্টোর রুম। অন্য দিকে পর পর দুট রুম। শেষে ওয়াশ রুম। পিছনে একটা সুন্দর ছোট্টো বাগান। কলকাতা শহরের কোলাহল থেকে যেন নিঃশ্বাস ছেড়ে বাঁচা গেল। বি্কেলের মধ্যেই কাজের লোক ঠিক করে দিল সন্মুগম। মেয়েটির নাম আম্মমা। আনিন্দিতা বলল, আমি তোমায় আমু বলে ডাকব। মেয়েটি একগাল হেসে দুদিকে ঘার নাড়াল। রাজী?
আবার সে দুদিকে মাথা নাড়াল। সন্মুগম বলল, রাজি ম্যাদাম। সেই প্রথম অনিন্দিতা বুঝল, দু দিকের মাথা নাড়ানো মানে ইয়েস। এই শিক্ষা আমাদের তারপর থেকে অনেক কাজে লেগেছে। সে অন্য কথা।
সমস্যাটা অন্য। আমু তামিল ছাড়া কিছুই জানে না। আমরা তামিল জানি না।। আমু ইংংরাজি ও হিন্দি বোঝে না। কঠিন সমস্যা। সব কিছু হাতের ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিতে হয়ে। এও এক নতুন কলা। অনিন্দিতা খুব তাড়াতাড়ি শিখে ফেলবে বলেই আমার ধারণা, না হলে আমাদের বিপদ। আমি অফিস চলে যাব। আর সে সারা দিন রুনকে নিয়ে একা!
–আর ইয়উ নিউ টেনেন্ট? বাড়ির ডান দিকের একফালি জায়গা থেকে আমাকে দেখে প্রশ্নটা এলে, আমি অবাক না হয়ে পারিনি। সেই প্রথন দেখলাম আমদের বাড়ির ডান দিকে একটা টিউবওয়েল আছে। এই ধরনের টিউবওয়েল দেখিনি কোনও দিন। একবার হ্যেন্ডেলে চাপ দিলে সরু সূতোর মত জল ওঠে। দেখি এক তরুণ কল থেকে জল তুলেই প্রশ্ন করল।
আমি বললাম, কদিন আগে এসেছি। কলকাতা থেকে।
ছেলেটি বলল, গ্রেট। সিটি অফ বিবেকানন্দ্।
আমি ঘাড় নাড়লাম। তুমি বিবেকানন্দের নাম জানলে কি করে?
–বই পড়ে। গ্রেট ম্যান। বোধহয় বেস্ট ম্যান ও বিরাট দার্শনিক। আমরা খুব শ্রদ্ধা করি।
শুনে বুকটা অনেকটাই ফুলে উঠল। মনে মনে বললাম, আমারা তো তাকে তেমন পড়িও না। মানিও না। যা বলেছেন তা বুঝতেও চাই না। কেবল জন্মদিনে ফুলের মালা দেই।
তূমি কোথায় থাকো?
ছেলেটি উপরের তলা দেখিয়ে বলল, দোতলায়। আমাদের বাড়ী। আমি আমার ভাই, বাবা ও মা।
–জল তুলছ কেন? জল উপরে যায় না?
–এখন সামার। এখানে জলের খুব ক্রাইসিস। ওপরে জল যায় না। তাই জল উপরে তুলতে হয়। মা ভালো করে হাঁটতে পারে না। ওনার জন্য জল তুলে রাখতে হয়।
–তোমার বাবা ও ভাই?
–আমার বাবা সি পি ডব্লুডির ইঞ্জিনিয়ার। ভাই আর আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি। আমার ফাইনাল ইয়ার। ভাই ফার্স্ট ইয়ার। তুমি?
আমি নতুন চাকরি নিয়ে মাদ্রাজে এসেছি। এখানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা।
জানি, আমাদের আগেই উনি এই প্রপার্টি কিনেছিলেন।
তোমার নাম?
আমি শিবশঙ্কর, আর আমার ভাইএর নাম জয়শঙ্কর। কোন সমস্যা হলে ডেকে নেবেন। আমরা খুব খুশি হয়েছি আপনারা কলকাতার লোক। বিবেকানন্দের শহর থেকে এসেছেন। মাকে ও বাবাকে বলব। ওনারাও তাকে খুব শ্রদ্ধা করেন। বলে দু বালতি ভর্তি জল সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিয়ে গেল।
আমি অনিন্দিতাকে বললাম। সে আশ্বস্ত হল, তাহলে ইংরাজীতে কথা বলার লোক পাওয়া যাবে। সে ইংরাজির ছাত্রী। সাময়িক ভাবে ভাষার অসুবিধাটা মিটল এই বিদেশ বিভূঁইয়ে। অল্পদিনের মধ্যে শিব আর জয় আমাদের খুব কাছের জন। তারা পালা করে মায়ের জন্য জল তোলে কলেজ ফেরত। দেখে খুব ভাল লাগত। আবার খারাপ লাগত, আমাদের বাড়িতে করপোরেশনের জল আসে, ওদের উপরে ওঠে না কেন? পরে জেনে ছিলাম জলের নিচু চাপ। তাই উপরের অংশটির দামও কম। লোকে টিউব কল বসিয়ে নেয় নিজের খরচে।
২
অচিরেই রুন একজন বন্ধু জোগাড় করে ফেলল। অফিস থেকে এসে শুনি প্রশান্ত নামের একটি ছেলে রুনের ভীষণ বন্ধু হয়েছে। সে রুণকে নিয়ে তাদের মেসে চলে গেছে। নতুন নামকরণ করেছে তার হিরো। আমাদের উল্টোদিকের একটি বাড়িতে তিনটি ছেলের পিজি। তারা সবাই ইঞ্জিনিয়ার, টিসিএস এ চাকরি করে। তাদের মধ্যে প্রশান্ত নামের ছেলেটি ভিলাইএর বাঙালি সন্তান। বাড়ির বাইরের বাগানে খেলতে খেলতে তাকে কাকু বলে ডাকে রুন। ব্যাস, মাতৃভাষার আগমন বার্তায় গলে যায় আমাদের গোটা পরিবার। আর সেই থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। রুন তখন দু তিনটে শেখা শব্দের মধ্যে একটি দিয়ে তাকে ঘায়েল করেছে। তারপর প্রশান্ত অনিন্দিতার অনুমতি নিয়ে তাকে নিয়ে গেছে তার বন্ধুদের দেখাতে।
প্রশান্ত রোগা লিকলিকে, শ্যাম বর্ণ, চোখ দুটো ভাসাভাসা, নাক টিকলো, কথা বলে ধীরে। কলকাতার বাঙালিদের মত একটানা অজস্র শব্দ বলার অভ্যাস নেই। ছোট ছোট বাক্যে কথা বলে। রুনকে ফেরত দিতে এসে আমার সঙ্গে আলাপ।
আপনাদের পেয়ে আমি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। দিদির সঙ্গে বাংলায় কথা বলে প্রাণটা হাল্কা হয়েছে। এবার আপনার সঙ্গে গল্প করব। না হলে বাাঁচব না। তামিল আর ইংরাজি বলতে বলতে আমি হাফ্ ডেড। বলে থামল সে। আমি অবাক হয়ে তার ফুসফুস সম্প্রসারণ দেখছিলাম।
বললাম, বস, বস, খুব ভালো হল, আমরাও বাঁচবো। আমরাও ফিশ্ অউট অফ ওয়াটার।
একসঙ্গে টানা কথা বললাম বলে কিছু মনে করলেন না তো দাদা?
তার দাদা ডাকের মধ্যে এক অমলিন আন্তরিকতা ছিল। বললাম, আরে না না। চা খাবে?
খাব।
কত দিন হল মাদ্রাজে?
প্রায় এক বছর। আমি কিছু কিছু তামিল বলতে পারি। কুঞ্চমা কুঞ্চমা। বলে নির্মল হাসল প্রশান্ত।
আমিও হাসলাম, কেননা আমিও এই শব্দটা অফিসে অন্তত একশবার শুনি নানান প্রসঙ্গে।
তোমার বাড়িতে কে আছেন?
–বাবা, ভিলাই স্টিলে, মা স্কুল টিচার। এক বোন এবার ইস্কুল লিভিং। আর আমি চলে এসেছি অনেক দূরে। টি সি এসের অফার না বলতে পারিনি।
–না বলবে কেন? কজন পায় এমন অফার? টি সি এস অনেক বড় ও দামি কোম্পানি। তুমি দারুণ ব্রান্ডে জয়েন করেছ। ছেড়ো না সহজে। লাক ফেভার করলে তোমায় বাইরেও পাঠিয়ে দিতে পারে।
–ঠিক বলেছেন দাদা। দিলে চলে যাব। আমার কেরিয়ারের একটা মোড় ঘুরে যাবে।
আমি বললাম, একদম ঠিক বলেছ।
এইসব কথার মধ্যে রুন তাকে মাঝে মাঝেই মনে করিয়ে দিচ্ছে, চকলেট কিনতে কখন যাবে?
আমি বারণ করলাম। কে কার কথা শোনে? সে তো লোভ আগেই ধরিয়ে দিয়েছে। অনিন্দিতা বলল, ওকে বেশি চকলেট দিও না। দাঁতে পোকা হবে।
রুন ঝাঁপিয়ে চলে গেল প্রশান্তর কোলে। আমাদের প্রবাস জীবনে প্রশান্তর আবির্ভাব যেমন অতর্কিত, তার প্রস্থানও তেমনই আকস্মিক। মাস পাঁচেক পরেই প্রশান্ত বদলি হয়ে গেল বম্বে। যাবার সময় বলে গেল, একদিন আবার দেখা হবে। দিদি, রুনকে দেখবেন। ও খুব বড় হবে। আমারও আর হয়ত বেশি দিন এ দেশে থাকা হবে না। বিদেশের ঘন্টা বাজতে শুরু হয়েছে। অনিন্দিতা বলল, সে তো দারুণ খবর। অন্য জীবন তৈরি হয়ে যাবে। আমাদের ভুলে যেও না তুমি। যাবার আগের দিন প্রণাম করে বিদায় নিল। আমাদের মন খুব খারাপ। কথাটা রুনের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। রুন পেল একটা বিশাল সাইজের ক্যাডবেরি।
৩
পরের বছর শিব দারুণ ফলাফল করে অল্প সময়ের মধ্যেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হল। আমরাও অশোকনগরের বাড়ি ছেড়ে কোডাম্বাক্কাম এলাকার ইউনাইটেড ইন্ডিয়া কলোনিতে উঠে এলাম। প্রায় শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি। রুনের খুব মন খারাপ। আগে প্রশান্ত চলে গেছে এবার শিব। তার মনের মত কাকু আর কেউ রইল না। নতুন জায়াগা। এখানে বাড়িটা আধুনিক ফ্ল্যাট বাড়ি। সে প্রশান্তকে খুব মিস করে। আমরাও মিস করতাম। যে দিন রুন সবুজ বমি করল, তখন প্রশান্তই তাকে কোলে করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। যে দিন প্রবল ঝড় উঠেছিল, আমাদের বাড়ি ধুলো, গাছপালা, নোংরাতে ভরে গিয়েছিল, সেদিন প্রশান্ত লোক ডেকে পরিষ্কার করিয়েছিল। সে তামিল জানত। সে না থাকলে আমাদের বিপদের একশেষ। নতুন বাসস্থানে তেমন কেউ নেই। আমাকে মাঝে মাঝে ট্যুরে যেতে হয়। রুন আর অনিন্দিতা একাই থাকে। তবে এই শহরে নিরাপত্তা অচেনা শব্দ। মানুষ বিনম্র, শ্রদ্ধশীল, নরম মনের। কেউ কার ও সাতে পাঁচে নেই। যে যায়গায় আমাদের বাড়ি তার উল্টো দিকে মেয়েদের ফতিমা কনভেন্ট। দিনের বেলা ছাত্রীরাই পাড়া ভরিয়ে রাখে। আমরা মাঝে মাঝেই প্রশান্ত ও শিবের কথা আলোচনা করি। তারা না থাকলে এখানের প্রথমিক শুরুটা জটিল হত।
অনেকদিন বাদে জয় এসে একটা চিঠি দিয়ে গেল। প্রশান্তর। বম্বে থেকে লিখেছে, দাদা, যা ভেবেছিলাম তাই হল। আজ অফিস থেকে আমাকে আমেরিকায় পাঠানোর কথা বলেছে। পেন্সিলভানিয়ায় একটা প্রোজেক্ট-এর কাজ নিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই আমেরিকা চলে যাব। তোমাদের কথা খুব মনে পড়ল। বাবা মাকে জানালাম। তোমরা তো আমার নিজের দাদা দিদি। এখনো কি এই বাড়িতেই আছো? আছো ভেবেই লিখলাম।
চিঠি পেয়ে আনন্দের সীমা নেই। বুক ভরে উঠল। একদিন অফিস থেকে ফোন করে জানলাম সে আচিরেই চলে যাবে। তার সঙ্গে আর দেখা হয়নি।
৪
রুন ভারতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেবার পর আমেরিকা চলে গেছে বেশ কিছু কাল। গবেষনার কাজে। সে আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকে। নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ায় গবেষণার কাজে। বছরে একবার আমাদের সঙ্গে মাস খানেক কাটিয়ে যায়। তখন ভিডিও আবিস্কার হয় নি। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সে আমাদের ফোন করে। গল্প কম আলোচনা বেশি। আমরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছিলাম রুনের মধ্যে অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। সেটাই স্বাভাবিক।
একদিন সে ফোন করে বলল তোমরা হোয়াটসআপ ডাউন লোড কর। তাহলে কথা বলা যাবে যে কোন সময়ে , যে কোন লোকেশান থেকে। আবার ভিডিও কলে কথা বলা যাবে।
আমরা এক নতুন বিশ্বের সূচনা দেখলাম। দু জনেই দুজনের মোবাইলে অ্যাপ নামিয়ে নিলাম। পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কথা বলা যায় বৈঠকখানার আড্ডার মতো। যতক্ষণ ব্যাটারি অনুমতি দেয়। দুরত্ব কমে এল। দুই দেশের। ছেলের জলজ্যান্ত মুখ দেখে চাপা দুঃখ উবে গেল। তবে যেটা ভেবে ছিলাম, যে অনেকক্ষণ কথা বলে যাবে, তা আর রইল না। টেলিগ্রাফিক মেসেজের মতো তিন লাইনের কথার পর অন্য প্রান্তের কথা ক্রমাগত কমে আসতে লাগল।
একদিন ভিডিও কল করল রুন। বলল, চিনতে পারছ? বলত দেখি এরা কারা?
দেখি দুজন বয়স্ক মানুষ। দু জনেরই মাথায় সাদাচুল ইতস্তত এখানে ওখানে। আমি ভেবেছি এরা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আমি ও অনিন্দিতা অসহায় তাকিয়ে আছি তিনজনের দিকে।
রুন বলল, আমার বাঁদিকের জন হিরো আঙ্কেল আর ডান দিকে শিব আঙ্কেল। এরা আমার বাড়ির খুব কাছেই থাকেন। দুজনই খুব বড় চাকুরে। শুনে আমাদের সেই মাদ্রাজের দিন মনে পড়ল। আমাদের দেখে তারা দুজনেই হাই হাই বলে চিৎকার করে উঠল। আমি রুনকে বললাম চিনলি কি করে?
প্রশান্ত বলল, হিরোই আমাকে রিকগ্নাইজ করেছে। আমার ভ্রুর কাটা দাগ দেখে। ঠিক মনে করে রেখেছে। তারপর আমি শিবকে নিয়ে আসি। আমরা তিনজন খুব কাছাকাছি থাকি। হোয়াট এ প্লেজেন্ট সারপ্রাইজ! আফটার লঙ লঙ ইয়ারস্!
অনিন্দিতা বলল, আমি ত ভাবতেই পারছি না। রুন তাহলে তোর কোন অসুবিধা হচ্ছেনা বল?
রুন বলল, না। আমাদের মাড্রাসের বাড়ির মত হিরো কাকু সব সময় আমার খোঁজ রাখে।
আমি হাসতে হাসতে বললাম, কিন্তু আমি দেখছি দুজনেই মাথা সাদা ও খালি করে ফেলেছো? এত কম বয়সে করলে কি করে?
দুজনে একসঙ্গে উত্তর দিল, ব্যস্ততা দাদা। বলে একে অপরের দিকে তাকাল। এক ঝলক হতাশার ছায়া ফুটে উঠল যেন দুজনের মুখে! প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
