ছ’য়ের দশকে বহুরূপীর রবীন্দ্র নাটক ও শম্ভু মিত্রের নাটক – প্রযোজনা
কৃষ্ণপদ দাস
প্রথম পর্ব
(ভূমিকা — আধুনিক বাংলা-নাট্যের আলোচনায় অন্যতম ব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র। অভিনেতা, নাট্যকার, পরিচালক এবং সংগঠকের ভূমিকায় থেকে প্রথম গ্রুপ থিয়েটারের সূত্রপাতের জনক তিনিই। প্রথম গ্রুপ থিয়েটার ‘বহুরূপী’ — যা তৈরীর কৃতিত্ব শম্ভু মিত্রের। গণনাট্য সংঘ থেকে বেরিয়ে এসে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে নিয়ে ‘বহুরূপী’ খুব স্বল্প সময়েই বিশেষ উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছে রবীন্দ্র-নাট্যের প্রযোজনা দিয়ে — যা পাঁচের দশক থেকে শুরু হয়েছিল। পাঁচের দশকে ‘রক্তকরবী’, ছয়ের দশকে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে ‘বিসর্জন’ ‘রাজা’ নিয়ে জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠে বহুরূপী। বহুরূপীর পাশাপাশি এল নান্দীকার, শৌভনিকের মত নাট্যদল। তবে আমার এই মুহূর্তের উপস্থাপনা শম্ভু মিত্রের মৌলিক নাট্যভাবনা এবং বহুরূপীর নিজস্ব প্রযোজনায় রবীন্দ্র-নাটক।)
স্বাধীনতা উত্তর বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রায় সকলেই গণসংস্কৃতির প্রশস্ত রাস্তায় পা মিলিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির অভূতপূর্ব অগ্রগতি লক্ষ করে ভারতের শ্রমজীবী মানুষের মনেও সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা অঙ্কুরিত হয়। স্বাধীনতা দেশপ্রেম ও মানবমুক্তির । সংজ্ঞায় শ্রেণিসংগ্রামের তত্ত্ব যুক্ত হল । এরই পটভূমিতে প্রতিষ্ঠিত গণনাট্য সংঘের কর্মসূচিতে যে সকল প্রগতিশীল শিল্পী-নাট্যকর্মী এগিয়ে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন যুবক শম্ভু মিত্রও । গণনাট্য সংঘের ‘ল্যাবরেটরি’, ‘জবানবন্দী’, ‘নবান্ন’ নাটকের প্রযোজনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল তার । অভিনয়ে ও পরিচালনায় তার দক্ষতা স্বীকৃত হয় । কয়েক বছর বাদে গণনাট্য সংঘ থেকে বেরিয়ে এসে শম্ভু মিত্র ও মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য সম্মিলিত প্রয়াসে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বহুরূপী’ নাট্য সংস্থা (১৯৫০, ১ মে) । বাংলা নাটকের ইতিহাসে সূচিত হল এক স্মরণীয় পর্ব ।
বহুরূপীর নাট্যাদর্শ ও প্রযোজনারীতি গণনাট্য সংঘের পথে অগ্রসর হয়নি বলে শম্ভু মিত্র সমালোচিত হলেও তার জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি । বিশেষ করে রবীন্দ্রনাটকের উপস্থাপনা ও প্রযোজনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল স্রষ্টার । রবীন্দ্ৰনাটকের ব্যাপক পরিচিতির মূলেও তাঁর অবদান বিস্মৃত হবার নয় । সে কারণেই বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্যকার কুমার রায় বলেছেন –
“ভারতীয় থিয়েটারের রূপরেখা শম্ভু মিত্র প্রযোজিত, নির্দেশিত রবীন্দ্রনাটক অবলম্বন করেই আঁকা যায় । যে ইতিহাস তিনি এ ক্ষেত্রে তৈরি করে গেছেন তাকে আজকের বিশ্লেষণী চোখে, আজকের দূরত্বে কেউ হয়তো বিচার করতে পারেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত রবীন্দ্রনাটক প্রযোজনায় তার সাফল্য অস্বীকার করা যায় না ।” ১
পাঁচের দশকেই বহুরূপী রবীন্দ্রনাটককে এক বিশেষ উচ্চতায় তুলে ধরেছিল । ছয়ের দশকেও বহুরূপীর পাশাপাশি অন্যান্য কিছু দলও রবীন্দ্রনাটকের একাধিক প্রযোজনা করেছে । ১৯৬১ সাল ছিল রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ । সেই জন্যে রবীন্দ্রনাটক অভিনয়ের একটা নতুনতর প্রচেষ্টা দেখা দিচ্ছিল । বহুরূপীর ‘বিসর্জন’ ও ‘রাজা’ ছাড়াও নান্দীকার অভিনয় করেছে ‘চার অধ্যায়, সুন্দরম ‘ডাকঘর’ এবং শৌভনিক মঞ্চস্থ করেছে একাধিক রবীন্দ্ৰনাটক ‘রাজা ও রাণী’, ‘তাসের দেশ’, ‘বাঁশরী’, ‘ঘরে-বাইরে’, ‘শেষ রক্ষা । থিয়েটার ইউনিট প্রযোজনা করেছে ‘নৌকাডুবি’ ও ‘শোধবোধ’। আসলে রবীন্দ্র নাট্যভাবনা, নাট্যাঙ্গিক সমস্ত শ্রেণির মানুষের কাছে বোধগম্য না হওয়ায় রবীন্দ্রনাটককে । বহুকাল মঞ্চনীরব থাকতে হয়েছে । শম্ভু মিত্র আদ্যন্ত একটি ভারতীয় নাট্যকলার সন্ধানে নিয়োজিত ছিলেন, সেই সূত্রে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের কথাও ভাবতেন । ঐতিহ্য কী, আধুনিকতা কী এসব ভাবতে ভাবতেই ‘আধুনিক কালকে বুঝতে বুঝতে, ব্যক্তি ও সমাজের বন্ধনকে ও দ্বন্দ্বকে গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে করতে, পথ । চলে এল প্রাক্তন যুগের এক রবীন্দ্রনাথের প্রাঙ্গণে । ২
শম্ভু মিত্রই প্রথম রবীন্দ্রনাথের কাব্য ও নাট্যভাষা আয়ত্তে এনেছিলেন বুদ্ধি দিয়ে, হৃদয় দিয়ে এবং আন্তরিক ভালোবাসা দিয়ে, বিজ্ঞানীর মতো অনুসন্ধিৎসু মন দিয়ে । তাই একথা আজকে কেউ অস্বীকার করবেন না যে, তিনি একটা যুগ তৈরি করে গেছেন— ঐতিহ্যকে অস্বীকার না করেই; তিনি রবীন্দ্রনাটককে মঞ্চে পুনরাবিষ্কার করে গেছেন ।
(ক) বিসর্জন
রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন’ নাটকটি বহুরূপীর প্রযোজনায় ও শম্ভু মিত্রের নির্দেশনায় দিল্লির । আইফ্যাক্স হলে মঞ্চস্থ হয় ১৯৫১ সালের ২৭ অক্টোবর। এই নাটককে সময়োপযোগী । করে মঞ্চস্থ করেছিল বহুরূপী । এই নাটকের বার্তা দেশকালজয়ী । কেননা যুগে যুগে সব । দেশে আদর্শের নামে, ধর্মের নামে নরমেধ যজ্ঞ অতীতেও ঘটেছে, আজও ঘটছে । ১৯১৬-তে ‘বিসর্জন’-এর ইংরেজি রূপান্তর ‘স্যাক্রিফাইস’ রবীন্দ্রনাথ যখন লিখছেন জাপানের পথে জাহাজের ডেকে বসে, এক বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ তখন লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তে দেশ-বিদেশের নগর প্রান্তরকে করেছে প্লাবিত । উৎসর্গ পত্রে তিনি লেখেন— “I dedicate this play to those heros who bravely stood for peace when human sacrifice was claimed for the God of war”. ‘রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, এই নাটকে প্রেম আর প্রতাপের মধ্যে ভাবের বিরোধ বেঁধেছে । একদিকে অহিংস প্রেম, অপর দিকে সংস্কারাশ্রয়ী হিংসার উন্মত্ত উল্লাস । একদিকে মহারাজ গোবিন্দমাণিক্যের অটল আদর্শনিষ্ঠা ও আত্মপ্রত্যয়, অন্যদিকে শক্তির উপাসক রঘুপতির মোহান্ধতা ও দাম্ভিক ব্রহ্মতেজ— এই দুয়ের সংঘাতে দিশাহারা জয়সিংহের দুঃসহ চিত্তদাহ, যার চরম নিবৃত্তি আত্মবিসর্জনে । রাজর্ষি গোবিন্দমাণিক্যের অঞ্চল স্থিতপ্রতিষ্ঠ আদর্শ বিশ্বাসে রানি গুণবতীর দেশাচারমূলক অন্ধ আবেগ স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাহৃত রঘুপতি আত্মপ্রেমের কাছে নিষ্কলুষ জয়সিংহের আত্মবলি করুণ রসকে আরো ঘনীভূত করে । তুলেছে, অন্যদিকে অপর্ণা তার রিক্ততা হাহাকার ও বিদীর্ণ হৃদয় নিয়ে দর্শকদের সামনে নিজেকে তুলে ধরেছে । প্রেয় ও শ্রেয়র দ্বন্দ্বে জয়সিংহ ক্ষতবিক্ষত, সত্য ও মিথ্যার মায়ায় দোদুল্যমান; রঘুপতি অন্ধ বিশ্বাস ও হিংস্র সংস্কারের নাগপাশ থেকে মানবিক প্রেম ও প্রীতিতে উত্তীর্ণ । সমগ্র নাটকের সার্থক রূপায়ণে দর্শকবৃন্দ সংঘাতের শিখরে বিচরণ করতে করতে স্তম্ভিত বিস্ময়ে উপনীত হন এক মঙ্গলময় পরিণতিতে, যেখানে বজ্ৰদগ্ধ । পুরোহিত রঘুপতি অশ্রুধৌত পরিশোধিত চিত্তে সাড়া দেয় অর্পণার আহ্বানে ।
সেকালের অনেক সমালোচক বলেছেন যে মঞ্চের চরিত্রদের যে কোনও রকম একমুখী ভাবকে পরিচালক বর্জন করেছিলেন বলে তারা হয়ে উঠেছিল রক্ত-মাংসের স্ত্রী-পুরুষ, সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে যাদের সহজেই আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ৩ ধীরস্থির দয়াবান গোবিন্দমাণিক্য (কুমার রায়) যে কত নিঃসঙ্গ, তার স্ত্রী বা তাই । তার অতরের অংশভাগ নয়, তা যেমন প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে, তেমনি প্রথানিষ্ঠ, প্রাণ । হত্যায় দ্বিধাহীন, ধর্মের নামে মিথ্যাচারের অসংকোচ, আপাত দৃষ্টিতে নিষ্ঠুর রঘুপতি । (অমর গাঙ্গুলী) যখন জয়সিংহের আত্মবলিতে হাহাকারে ভেঙে পড়েন, তখন গর্বোদ্ধত অহংকারের অন্তরালে সুগভীর স্নেহের প্রবাহ আর গোপন থাকে না, আর জয়সিংহের (শম্ভু মিত্র) দুই পরস্পরবিরোধী প্রত্যয়ের মাঝখানে পড়ে যে দোদুল্যমানতা, তা শুধু দুটি ভাবের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার ব্যাপার নয়রঘুপতি ও গোবিন্দমাণিক্য দুজনের সঙ্গেই তার হৃদয়ের, জীবনের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য । শিশুকাল থেকে রঘুপতি তাকে মানুষ করেছে; কালী মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতির । সঙ্গে মিশে আছে রঘুপতির প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা, সেখানে ভিন্নমুখী টান দিয়েছে । শুধু গোবিন্দমাণিক্যের স্বভাবসঙ্গত প্রত্যয় নয়, তাকে জোরদার করেছে রাজার নির্মম, নির্ভয় ব্যক্তিত্ব । আর তাতে প্রেমের স্পর্শ এনেছে সরল, একাকিনী বালিকা অপর্ণা । কিন্তু দর্শককে গভীরভাবে আলোড়িত করে জয়সিংহের আত্মবলি । অবশ্য তাকেও । ছাপিয়ে যায় রঘুপতির মমদ শোকসন্তাপ । কালী প্রতিমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার আগে তার সেই আর্ত হাহকার—
“দে ফিরায়ে জয়সিংহ মোরে ! দে ফিরায়ে ! দে ফিরায়ে রাক্ষসী পিশাচী ! শুনিতে কি পাস আছে কর্ণ ? জানিস কী করেছিস ? কার রক্ত করেছিস পান ?” ৩
‘বিজর্সন’-এর স্মারক পত্র থেকে জানা যায়—
“পৃথিবীর অজস্র রাজনৈতিক বেদীর সামনে আদর্শের নামে, ভবিষ্যতের নামে, ঐতিহ্যের নামে ব্যক্তিগত মানুষের সুখ, দুঃখ আশা আর ভালোবাসা সমস্ত কিছুকে । অবজ্ঞায় ভূলুণ্ঠিত করে এক বিরাট নরমেধ যজ্ঞের আয়োজন ইচ্ছা । সমাসন্ন সেই ভয়ঙ্কর বিসর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো ‘বিসর্জন’ নাটকে বাঁচবার পথের একটা দিশা পাব ।” ৪
‘বিসর্জন’ নাটকের সঙ্গে সরাসরি হয়তো মধ্যবিত্ত জীবনে সম্পর্ক নেই । তাই, রঘুপতির দম্ভ, গোবিন্দমাণিক্যের আজ্ঞা দেশকালোত্তীর্ণ মানবের সঙ্কট । রবীন্দ্রনাট্যে শ্রেণি-উত্তীর্ণ যে কোনও মানবের আর্তনাদ শোনা যায় । তবুও নাটক অবশ্যই মধ্যবিত্ত জীবনপ্রান্ত স্পর্শ করে থাকে। বিশেষত বহুরূপীর বিশিষ্ট প্রযোজনারীতি ও সমকালীনতার জন্য ।
আসলে জয়সিংহের এই দাহ দেখা দিয়েছে হৃদয়ের দুটি পরস্পর গতি থেকে । একদিকে পশুবলির প্রতি বিতৃষ্ণা, অন্যদিকে গুরুর প্রতি আনুগত্যের অভ্যাস জয়াসহ চিরকাল থেকে গেছে এই দুয়ের মাঝখানে । কিন্তু বর্তমান অভিনয়ে এই অন্তর্দাহের মূল । কারণগুলি যেমন একদিকে স্পষ্টতর শব্দে ধ্বনিত হয়েছে— এত স্পষ্ট এবং মর্মভেদী আর কখনো শুনিনি, তেমনি অন্যদিকে একালের এযুগের কতকগুলো ভাবানুষঙ্গ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে । এরা অস্পষ্ট ব্যঞ্জনার মতো, তবু তারা অর্থবহ । জয়সিংহ শুধু রঘুপতি নামক পণ্ডিত, দাম্ভিক পুরোহিতের দ্বারা আবদ্ধ নয়, সে প্রথার দাসত্বে আবদ্ধ । কিন্তু অভিনয়ের ব্যঞ্জনা এইখানে যে সে একালের ভাবানুষঙ্গ এনে দাঁড় করাচ্ছে, মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এই প্রথা শুধু ধর্মের, মন্দিরের, দেশাচারের প্রথাও নয় । বারবার মনে হয়েছে এ জগতে, এ যুগে তাছাড়াও আরও প্রথা আছে যে নিষ্ঠুর স্পর্ধিত, যে প্রথার কাছে আমার জয়সিংহ প্রতিদিন আত্মরক্তদানে নিহত। ৫ এ-কথাগুলো রবীন্দ্রনাথের, যা নাটকের চিরন্তন বাণী । নাটকের এই চিরন্তন বাণীর ব্যঞ্জনা মানব-সঙ্কটকেই নতুন রূপে আমাদের চেনায় । ছয়ের দশকের ভারতের রাজনৈতিক সঙ্কট, দেশনেতাদের দোলাচলতা, অসংখ্য প্রাণের নিত্য বলিদানের কথা এ প্রসঙ্গে মনে জাগে । ক্ষমতার সেই উল্লাস এর বিষয়বস্তুকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে ।
“But Sambhu Mitra has given it through passion, movement and action a certain dimension. His interpretation goes beyond the surface story of king Gobindamanikya’s edict blood sacrifice and emphasizes of humanism and Love.” ৬
এই নাটকটিতে জয়সিংহের ভূমিকায় অভিনয় করেন শম্ভু মিত্র স্বয়ং । ১৯৬১-র নভেম্বর ‘ক্যাপিটাল’ পত্রিকায় শম্ভু মিত্র পরিচালিত এ অভিনীত ‘বিসর্জন না ? সম্পর্কে লেখা হয়—
“But it is not in individual performance that ‘Visarjan’ serves the highest praise. Its claim to wider recogniu that Sambhu Mitra is doing the same kind of work o Bengali Stage as Satyajit Roy is doing on the Bengali Screen; and this is not praising Sambhu Mitra too much. The importance of dialogue in productions to non-Bengali audiances; but I am happy to learn that that the group’s recent performances in New Bohurupee’s, may help integrate the country, whatever the theme.” ৭
যুগান্তর পত্রিকা ‘বিসর্জন’-এর অভিনয় সম্পর্কে লেখে—
“…বহুরূপীর কৃতিত্ব এবং মৌলিকতা এইখানে যে, তারা বিসর্জনের কোনও আক্ষরিক অর্থকে বিনষ্ট হতে না দিয়েও একটি প্রবল আবেগময়, নিষ্ঠুর যন্ত্রণাদায়ক উপলব্ধিকে সার্থকভাবে অনুবাদ করেছেন ।… নাটকের প্রশ্নগুলির সঙ্গে তারা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই সমসাময়িক চিন্তার উত্তাপ এনে যুক্ত করেছেন । এই উত্তাপ বর্তমানকে চিরন্তনের সঙ্গে যুক্ত করেছে । এই উত্তাপ আমাদের অন্তরের সংঘাতকে রবীন্দ্রনাটকের অন্তর্নিহিত সংঘাতের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে ।” ৮
‘বিসর্জন’-এর পর রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকটি বহুরূপী মঞ্চস্থ করল ১৯৬৪ সালে । নাটকটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে শম্ভু মিত্র বাংলা থিয়েটারকে উপহার দিয়েছিলেন এক অন্য অভিজ্ঞতা । ‘রাজা’ একটি আত্ম-জাগরণের নাটক । রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন—
“…the human soul has its inner drama, which is just same as any thing else that concers man.” ৯
একক মানুষ বাইরে এবং ভেতরের অন্ধকারের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করতে চাইছে । সেখানে প্রত্যেকের নিজের মতো করে রাজা আছেন যার কাছে আত্মনিবেদন করতে হয় । রানি সুদর্শনার আত্মপলব্ধির সেই তীর্থযাত্রাই এই নাটকের কাহিনি । নাটকের রাজা কোনও কুমুটধারী রাজা নয় । তিনি বিশেষ গুণবান একজন উত্তম মানুষ । নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রানি সুদর্শনা, দেশের নাগরিকবৃন্দ, বিদেশের রাজা ও পথিকদল সবাই যে রাজার অন্বেষণে ছুটে বেড়া, সে রাজা নিচক আধ্যাত্মিক চেতনা প্রসূত রাজা নন । এই অদৃশ্য রাজা সঙ্কটমুহূর্তে যেমন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রানিকে এবং জনগণকে রক্ষা করেন । রাজা যে দেশকে ভালোবাসে তা তার এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে । দিয়েই প্রমাণিত । এই অদেখা রাজাকে চোখের সামনে দেখতে চেয়ে রানি সুদশনা । নিজেকে সাধারণ নাগরিকদের দলে নামিয়ে এনেছে । তার অবস্থা অনেকটা বিদেশ পথিক দলের মতো—
“সত্যি বলছি ভাই, রাজা আমাদের এমনি অভ্যেস হয়ে গেছে যে, এখানে কোথাও রাজা না দেখে মনে হচ্ছে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু পায়ের তলায় যেন মাটি নেই ।” ১০
সুদর্শনা রাজাকে শক্তি, ক্ষমতা ও রূপের মধ্যে দিয়ে পেতে চায় কিন্তু এ সবই তো বিমূর্ত । সুদর্শনা নিজের আমিত্ব ও অহংবোধকে বজায় রেখে ভালোবাসা পেতে চায় । তার ইচ্ছে সে যেভাবে রাজাকে ভালোবাসে রাজাও যেন তাই-ই করেন । এ যেন আধুনিক বস্তুবাদী সমাজের শিক্ষিত নরনারীর সমস্যা । কিন্তু ভালোবাসা তো পুঁজি নয়, একে দিয়ে আর যাই হোক বিনিময় চলে না।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
ক্রমশ
![]()
