চিরঞ্জয় চক্রবর্তী

অমরবাবু ঠিক দশ বছর আগে অবসর নিয়েছেন। তিনি স্কুলে বাংলা পড়াতেন। সরকারি স্কুলে পড়াতেন বলে অনেক জেলায় ঘুরেছেন। তাদের চাকরির এটাই শর্ত, বদলি হতে হবে।অনেকেই কলকাতার বাইরে যেতে চায় না।শহরে গোটা কয়েক স্কুলে তাঁরা ঘুরে ফিরে পড়ান।এমন লোকও দেখেছেন, যিনি একই স্কুলে সারাজীবন কাটিয়ে গেছেন।নিয়ম একটা থাকলেও,নিয়ম সবার জন্য নয়। তবে অমরবাবু মনে করতেন বদলি মানে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়া শুধু নয়,নতুন স্কুল,নতুন ছাত্র এবং নতুন আর্থ-সামাজিক পরিবেশ।নতুন আবিষ্কার। এতকিছু নতুনের সাথে নিজেও নতুন।কিছু যোগ, কিছু বিয়োগ করতে করতে থিতু হওয়া। তাঁর ছত্রিশ বছরের চাকরি জীবনে তিনি এগারোবার বদলি হয়েছেন। আটটা জেলায় কাজ করেছেন।কলকাতা, হাওড়া, হুগলী,দুই চব্বিশ পরগণা,বর্ধমান, বাঁকুড়া ও দার্জিলিং।সব সময়ে যে বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে পেরেছেন এমন নয়,স্কুলের পাশে ভাড়া নিয়েছেন। কোথাও ছাত্রদের বাড়ি, কোথাও সহকর্মীর বাড়ি। নিজে কোথাও বাড়ি করেন নি। কারণ পৈতৃক বাড়ি বেশ বড়,হাত-পা ছড়িয়ে পরিবার নিয়ে থাকতে কোনও অসুবিধা হয়নি। তাই বাইরে গিয়ে একা একাই থেকেছেন।একা একা থাকতে থাকতে তিনি  নিজেকে চেনার চেষ্টা করতেন। ঋষিরা বলে গেছেন,”আত্মানাং বিদ্ধি” তিনি সেই চেষ্টাই করেছেন। এর ফলে তার একটা বোধ হয়েছে বা নিজের কাছে জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে,’আমি বর্তমান সমাজে মানাচ্ছি কিনা?বা নিজেকে মানাতে গেলে কী কী করতে হবে?আমাদের সমাজ তো পতাকার রঙের সাথে পাল্টে যায়।

#

এ বিষয়ে অমরবাবুর কয়েকটা অনুভব যদি আমরা দেখি, যা তিনি স্কুল থেকে অবসর গ্রহণের পরে লিপিবদ্ধ করেছেন।তিনি তখন এমএসসি পড়েন, একদিন সকালে মাছের বাজারে নিজের স্কুলের হেড স্যারের সঙ্গে দেখা।এটা সেটা কথা হওয়ার পর স্যার বললেন, কাল টিফিনের পরে স্কুলে আয় , ‘তোকে আমার দরকার।’’ স্যার যেমন বলেননি কী দরকার, তরুণ অমরবাবু সেদিন জিজ্ঞাসা করতে সাহস পাননি, ‘স্যার, কেন ডাকছেন?’সম্মতি জানিয়ে বাজার থেকে বাড়ি এসেছিলেন।

#

বাবার তখন অফিসে লক-আউট চলছে। প্রায় সময়েই বাবা বাড়িতে থাকেন।আফিসের গেটে মিটিং হলে যেতে হয়, কারণ না হলে অধস্তন কর্মচারীরা মালিকের দালাল বলে দেগে দেয়।পশ্চিমবঙ্গে তখনও বামেরা ক্ষমতায় আসেনি। লোকে ওদের বিশ্বাস করত। ওরা যদি বলে , অমুকবাবু মালিকের দালাল। তাহলে সাধারণ কর্মচারীরা বিশ্বাস করে শুধু নয় অন্যভাবে তাকায়। যারা দেখা হলে বলে, ‘বাবু নমস্কার’ তারা কেমন পাল্টে যায়।বাবার সহকর্মী সত্যকাকুও অন্য একটা সেকশনের ইন-চার্জ, তিনি এইসব মিটিং-এ না যাওয়ার ফলে দালাল বনে গেছেন।সবাই ভাবে তিনি বোধ হয প্রতি মাসে মালিকের থেকে কিছু পান। তাই আন্দোলন না করে ঘরে বসে থাকেন।বাবা এইটা এড়াতে চেয়েছিলেন।তিনি অমরবাবুর কাছে সব শুনে বলেছিলেন, ‘হেড স্যার কেন ডেকেছেন, সেটা জানার দরকার নেই। তোমার গুরু, তাঁর ডাকে তোমাকে যেতে হবে।’

#

পরদিন স্কুলে গিয়ে অমরবাবু জানতে পারেন,মনোরঞ্জন স্যার বিএড পড়তে যাবেন, এই অবসরে স্কুলে পড়াতে হবে।পদটা স্থায়ী নয়, অবসরকালীন কয়েকমাসের জন্য নিয়োগ।সেই সময়ে এইরকম নিয়োগে কোনও সুপারিশ লাগত না, বিজ্ঞাপন লাগত না, এমনকি বিরোধিতাও ছিল না।বিষয়টা অমরবাবুর কাছে মেঘ না চাইতেই জলের মতো। স্কুলে কয়েকমাস পড়াতে পারলে একটা অভিজ্ঞতা হবে, এমএসসি পাশ করে কোনও স্কুলে গেলে নিশ্চয়ই কাজে লাগবে।বাবা খুব আনন্দ পেয়েছিলেন। অন্তত কয়েকমাসের জন্য ঈশ্বর স্বস্তি দিলেন।বললেন, ‘শুরু করে দাও।’

#

অমরবাবু স্কুলে যোগ দিলেন। কিন্তু তাঁর এই কর্ম দীর্ঘস্থায়ী হল না। যদিও পদটি কয়েকদিনের জন্য।সেই কয়েকদিনও তিনি চাকরি করতে পারলেন না।যেদিন যোগ দিলেন, সেদিন ছিল বৃহষ্পতি বার।মনোরঞ্জন স্যারের রুটিন অনুযায়ী প্রথম ক্লাশটা নেই।তাই স্টাফরুমে না ঢুকে বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।স্কুলে ঢুকেই অমরবাবু বুঝতে পেরেছিলেন, সবাই জেনে গেছে, তিনি যোগ দেবেন।স্কুলে ঢুকে হেড স্যারের সাথে দেখা করে দোতালায় উঠে এসেছিলেন। কিন্তু স্টাফরুমে ঢুকতে পারেন নি।চৌকাঠ পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এসেছিলেন। যাঁরা এই ঘরে বসে আছে প্রায় সবাই তাঁর মাস্টারমশাই, তাঁদের সাথে একাসনে বসার কথা ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রেয় মনে হয়েছিল।কিন্তু সেটা হল না।বাংলার গোপীকান্ত স্যার ডেকে ঘরে নিয়ে তাঁর পাশে বসালেন। তারপর বললেন,’ তুই তো বাংলায় ভালোই ছিলিস,  ফাইভ সি ক্লাশটা নিয়ে নে বাবা। এতটা এসেছি তো! খুব ক্লান্ত লাগছে। ‘খুব আনন্দ নিয়ে ক্লাস করতে গিয়েছিলেন ।সেখানে পড়াতে হবে কবিতা।ক্লাস ফাইভ তাই কোন মতে ম্যানেজ করে নিলেন। ফিরে এসে দেখলেন স্যার অন্য ক্লাসে চলে গেছেন। তাই কিছু বলার সুযোগ হলো না। নিজের ক্লাস আছে। ক্লাসে যেতে হবে। এই ঘটনাটা প্রায় প্রতিদিনই ঘটতে থাকলো।কোনওদিন ইংরেজি, কোনোদিন অঙ্ক,কোনওদিন সংস্কৃত বলতে গেলে সারাদিনে সাতটা ক্লাসই নিতে হতো। শরীরের উপর একটা ধকল যাচ্ছিল।সকালবেলা ভাত খেয়ে এসে সারাদিন বকবক করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। কয়েকটা দিন পর অমরবাবু হেড স্যার কে বলার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন, “স্যার আমি রোজ সাতটা ক্লাস করতে পারছি না, শরীর দিচ্ছে না,আমি টানতে পারছি না” বলবেন বলে গেছিলেন কিন্তু বলতে পারিনি।কারণ গুরুর বিরুদ্ধে নালিশ করা ঠিক? এই কয়েকদিনেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার গুরুজনেরা সবাই রক্তমাংসের মানুষ তাদের কাম ক্রোধ লোভ হয় সব আছে কেউই তার ঊর্ধ্বে নয় অথচ এতদিন জানতেন এরা অনেক উচ্চ স্তরের মানুষ এদের মাথায় করে রেখেছেন, সেই ভুলটা ভাঙলো  স্টাফ রুমে বসে। স্কুলের চাকরিটা যদিও অস্থায়ী ছিল তা সত্ত্বেও তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। মাত্র কয়েক মাস তিনি টানতে পারেননি। 

#

এমএসসি পাস করে সরকারি স্কুলে চাকরিটা পেয়ে যান। মধ্য কলকাতার পুরনো স্কুলে স্টাফরুমে আর অসুবিধা হয়নি। কারণ সবাই অপরিচিত বয়সে বড় হলেও সবাই সহকর্মী। আর আগের অভিজ্ঞতা অনেকটা বয়স্ক করে তুলেছিল। তিনি বেশিরভাগ সময় কথা বলতেন না সবাই বলতেন তিনি শুনতেন। বুঝেছিলেন যে সময়ে তিনি যুবক সেটা সহজ সরল সময় নয় তাই সব বিষয়ে মাথা গলাাতে চাইতেন না। ঠিক করেছিলেন প্রাইভেট পড়াবেন না।কেউ দেখতে চাইলে এমনি পড়াবেন।স্কুলের ছুটির পর বা কারও বাড়িতে পড়াবেন।কারণ স্বামী সুহিতানন্দজী বলেছিলেন, ডোন্ট ওয়েস্ট আর ডোন্ট ওয়ান্ট।কিছু নষ্ট করবে না আর কারও কাছে কিছু চাইবে না।

#

তাছাড়াও এর পিছনে একটা গল্প আছে।তখন অমরবাবু বিএসসি পার্ট টু দেবেন,মতিঝিলের টেক্সট বুক লাইব্রেরিতে এক ভদ্রলোক অনুরোধ করলেন, তাঁর ছেলেকে পড়াতে।অমরবাবু রাজি হয়ে যান। ছাত্র দশ ক্লাশে পড়ে, মাথা পরিষ্কার নয়।অমরবাবু সোম-বুধ-শুক্র যাবেন। কথা হল এর বিনিময়ে তিনি একশত টাকা প্রতি মাসে পাবেন।তিনি পরদিন থেকে লেগে গেলেন।গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করাই তো তার কাজ। তিনি সেই ব্রতই নিয়েছেন এবং ঘোড়াদের সে  কথা না জানাই ভালো। ভদ্রলোক মাসের শেষে একটা বাদামি রঙের খাম দিলেন।বেশ লাগছিল, জীবনের প্রথম  উপার্জন।নিজের পরিশ্রমে উপার্জন। সেই খাম মা”কে দিয়েছিলেন।মা’র খুব আনন্দ, বাড়ির সবাই, আত্মীয় পরিজন সবাই জেনে গেল, “অমর একশত টাকা উপার্জন করতে পারছে।” পরদিন সকালে উঠতে মা বলেছিলেন, অমু কাল কতটাকা দিয়েছিস?

-কেন একশো টাকা?

-ওখানে তো আশি টাকা আছে।

অমরবাবু লিখছেন, “মায়ের থেকে খামটা নিয়ে, টিউশান বাড়ি গিয়েছিলাম।ভদ্রলোক অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।আমাকে দেখেই বলল, কী চাই?

-আপনি কত দিয়েছেন?

-আশি টাকা!

-আপনার সঙ্গে তো কথা হয়েছিল একশত টাকা। আপনি কমালেন কেন?

-তুমি তো এখনও গ্রাজুয়েট হও নি।

টাকার খামটা ওনার সামনে রেখে চলে এসেছি।”

এরপর থেকে অমরবাবু আর প্রাইভেট টিউশন করেন নি।ছাত্রদের বিনিপয়সায় পড়িয়েছেন।

#

অবসরের পর গত দশবছর পড়েন এবং পড়ান।আগের থেকে একটু বেশি কথা বলেন। তবে কথা বলেন ছাত্রদের নিয়ে। তাঁর কোনও কোনও ছাত্র শিক্ষকতা করছে, কেউ ডাক্তার হয়েছে, কেউ ইঞ্জিনীয়ার হয়েছে,সব তিনি জানেন শুধু নয়, একটা ডাইরিতে লিখে রাখেন।তার মানে এই নয় তিনি নিঃশুল্ক ডাক্তার দেখাবেন বা বাড়ির প্লানের জন্য টাকা দিতে হবে না, তাই লিখে রাখেন, শুধু আনন্দের জন্য।

#

একবার তিনি দাঁতের যন্ত্রনায় কয়েকদিন ভুগে এক ডাক্তারের কাছে গেছিলেন।অমরবাবু একটুতেই কাহিল হয়ে পড়েন। সামান্য জ্বর হলেও মৃত্যুর কথা ভাবেন।অন্যথায় তিনি খুবই শক্ত, এটা কেন হয়, তিনি নিজেও বলতে পারেন না। দাঁতের যন্ত্রনায় অসম্ভব কষ্ট নিয়ে ডাক্তারখানায় অপেক্ষা করছিলেন। আরও অনেক রুগি তাঁর আগে এসে বসে ছিল।ডাক্তারবাবু   পৌঁছালে কেন জানেন না, তাঁকেই প্রথমে  চেম্বারে ঢুকতে বলা হয়। তিনি কোনওদিকে না তাকিয়ে ঢুকে পড়েন। ডাক্তারবাবু সাময়িক স্বস্তির ব্যবস্থা করে দেন। তারপর তিনি ভিজিটের কথা জিজ্ঞাসা করতেই ডাক্তারবাবু প্রণাম করে বলেন, ভিজিট হয়ে গেছে স্যার। তিনি চিনতে পারেন না। ডাক্তারবাবু পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি হুগলী জেলা স্কুলে তাঁর ছাত্র ছিলেন।

-ভিজিট তো তোমায় নিতেই হবে বাবা।

-আপনার থেকে থেকে আমি কেমন করে নেব?আপনি আমার মাস্টারমশাই।

-এই পৃথিবীতে সবাই তোমার সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে সম্পর্কিত।তুমি যদি কারও থেকে ভিজিট না নাও, তাহলে তোমার ব্যবসা লাটে উঠে যাবে।আর আমার সামর্থ্য আছে,আমি তো তোমাকে পড়িয়ে সরকার থেকে বেতন নিয়েছি।তুমি কেন নেবে না?

শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে কথাগুলো বলেছিলেন। ডাক্তার কোনও কথা বলেনি তবে আবার প্রণাম করেছে। তিনি কোনও কথা না বলে একটা পাঁচশো টাকার নোট টেবিলে উপর রেখে দিয়েছেন।ডাক্তারবাবু চেম্বারের বাইরে এসে রিকশায় তুলে দিয়েছিলেন।অমরবাবু রিকশায় উঠতে উঠতে বলেছিলেন, ‘এইতো গুরুপ্রণামী দিলে।’

#

ইদানিং অমরবাবু খবরের কাগজ পড়েন না, আগে বসার ঘরে গিয়েবাড়ির লোকদের সিরিয়াল দেখা বন্ধ করে দূরদর্শনের সংবাদটা শুনতেন , তাও দেখেন না।মনটা খুব খারাপ।তাঁর ছাত্রদের মধ্যে নয়জনের চাকরি চলে গেছে, এছাড়া তিনজনের বউও আদালতের রায়ে চাকরি হারিয়েছে।অমরবাবুর নিকট বারোজন রাস্তায় বসে পড়েছে।অবশ্য অমরবাবুর কথায় চাকরি হারা সবাই তাঁর ছাত্র, মেধাবি ছাত্র।তাঁরা সবাই ভালবেসে শিক্ষকতা করতে এসেছিল। কেউ কেউ অন্য চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতা করতে এসেছিল। আজ সবাই পথে।তাঁর সারাজীবনের সঞ্চয় হঠাৎ হারিয়ে গেছে। 

#

বিধাননগরের ধর্ণামঞ্চ থেকে ফিরে, রাতে তিনি কিছু খান নি।প্রায় একসপ্তাহ শুধুই কেঁদেছেন।এদের কী হবে? তার ভাবনা চিন্তায় তিনি কোনও কূল কিনারা পাচ্ছেন না।ইদানিং তিনি চা খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আসলে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।কারণ তিনি সব সময়ে ভাবছেন, এই ঘটনার জন্য তিনিও দায়ী।যে প্রজন্ম এই ঘটনা ঘটিয়েছে,তাদের মধ্যে তাঁর ছাত্রও নিশ্চয়ই আছে।তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা ছাত্রদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারেন নি। তাই এই ঘটনা ঘটেছে।

#

ঘটনার অন্তর্তদন্তে নেমে অমরবাবু স্থির নিশ্চিত তিনিই দায়ী।তিনি এক বাক্স আলপিন কিনেছেন।তিনি জানেন শুধু নয় স্থির নিশ্চিত শাস্তি তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।এতগুলো ছেলে মেয়ে রাস্তায় বসে আছে। তাদের সন্তানরা, তাদের পরিজনরা অপরাধীদের শাস্তির জন্য প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করছে।তাদের এই সম্মিলিত প্রার্থনা কি ফলপ্রসু হবে না? নিশ্চয়ই হবে।এমনকি মহামারী কালেও সারাপৃথিবী জুড়ে সন্ধে ছ’টায় ঘন্টা, বাসন, হর্ন বাজিয়ে রোগ তাড়াতে পারলে এখন হবে না কেন?কয়েকলক্ষ মানুষ রোজ প্রার্থনা করছে।এই ভয়টা ওনাকে শঙ্কিত করেছে।

#

অমরবাবু ইদানিং পাড়ার ডাক্তারদের কাছে যাচ্ছেন,বিভিন্ন রোগের উপসর্গ জানতে চাইছেন।তিনি নিশ্চিত তাঁর কোনও দূরারোগ্য ব্যাধি হবে।অন্তর্জালেও খোঁজ করছেন। নিজের দেহে সেরকম কোনও উপসর্গ খুঁজে পাননি।তিনি একবাক্স আলপিন কিনেছিলেন। কেন কিনেছিলেন ভুলে গেছেন।আলপিনের বাক্সটা হাতে নিয়ে মনে পড়ল, এটা কিনেছিলেন নিজের হাতে উপসর্গ পরীক্ষা করবেন বলে।বসার ঘরে সেন্টার টেবিলে এতদিন পড়েছিল। কাজের মেয়েটা দিয়ে বলল, ‘তুমি আজকাল খুব ভুলে যাচ্ছ। কবে থেকে পড়ে আছে জানো?’ 

কাজের মেয়েটা চলে যেতেই অমরবাবু একটা আলপিন বের করে ডানহাতের তর্জনীতে ফুটালেন।কষ্ট হচ্ছে। তার মানে অসার হয়নি।আলপিনটা ফেলে দিলেন।সিদ্ধান্ত নিলেন রোজ সকালে উঠে ডানহাতের তর্জনীটা পরীক্ষা করবেন।তিনি জানেন এই আঙ্গুলে কুষ্ঠ হবে।আজ নয় কাল। কাল না হলে পরশু হবে।পরশু না হলে তারপরে হবে।হবেই হবে।সবার হবে।যারা যারা এই আঙ্গুল ব্যবহার করে নতুন দিনের সূচনা করেছিল সবার হবে।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine    

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *