অমিতাভ সরকার
‘ও দূর কে মুসাফির’
স্মরণে শাকিল বদায়ুনি
পরপর টানা তিন তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেটা গায়ক, বা সুরকার হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেই, এখনও অবধি যা রেকর্ড। বলিউডে প্রেমের গানের অবিসংবাদিত সম্রাট তিনি। যখন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সমকালীন অন্যান্য গীতিকাররা, যেমন- শাহীর লুধিয়ানভি, হসরত জয়পুরী, মজরুহ সুলতানপুরী, কাইফি আজমি, শৈলেন্দ্ররা যখন তৎকালীন সামাজিক অবস্থা, অবক্ষয়, দেশভাগ, উন্নয়ন, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি নানান ভালো-মন্দ দিক নিয়ে গান লিখছেন, তখনও এই কবির কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে শাশ্বত প্রেমের গান। প্রেমই শ্রেষ্ঠ দাওয়াই, যা কিনা মানুষ তথা সমাজের সব রোগ সারিয়ে তুলতে পারে, জাতি-ধর্মকে পিছনে ফেলে মানবতারই জয়গান রচনা করা এই কবি হলেন শাকীল বদায়ুনি।

“হাম দরদ কা আফসানা দুনিয়া কো সুনা দেঙ্গে হর দিল মে মহব্বত কি এক আগ লাগা দেঙ্গে” -এই ছিল তাঁর আত্মদর্শন। ইনকিলাব আর শাবাব -এর মধ্যে শাকিল শাবাব-কেই প্রাধান্য দিতে চেয়েছিলেন।
তবে ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’, ‘কোন দরওজা সে আওয়াজ দে’, ‘আফসানা লিখ রাহি হুঁ’ -র মতো প্রেমের গানের পাশাপাশি শাকিল বদায়ুনি ভক্তি সংগীতও লিখেছেন।
যেমন- ‘মন তরপত হরি দর্শন’,’ইনসাফ কা মন্দির হ্যায়’, ‘মেরি পত রাখো গিরিধারি’, ‘মধুবন মে রাধিকা নাচে রে’, ‘মোহন কি মুরালিয়া বাজে’ ‘অ্যায় দুনিয়া কে রখওয়ালে’, ‘পোহে পনঘট পে নন্দলাল’-র মতো গান আজও কালজয়ী।
উর্দু শায়েরির পাশাপাশি শাকিল বদায়ুনির লেখা ভজন হিন্দুধর্মের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। ধর্মবিভেদ দূর করে মানুষকে মানুষের কাছে থাকার, পাশে থাকার বার্তা বারংবার তাঁর রচনায় ফুটে উঠেছে। ভাবলে আশ্চর্য লাগে, বৈজু বাওরা, মুঘল-ঈ-আজম- মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটযুক্ত সিনেমাতে হিন্দু ধর্মের ভক্তিমূলক গানের গীতিকার, সুরকার গায়ক সবাই ছিলেন মুসলিম। গানগুলো বিখ্যাত হওয়ার পথে এগুলো সেদিন কিন্তু কোনো বাঁধা সৃষ্টি করেনি। আজকের এই সময়ে কেন এত বিভেদ, কেন এত ধর্মান্ধতা? ভারতবর্ষে মতো বৃহৎ সর্ব ধর্মসমন্বয়ের দেশে যেখানে একজন মুসলিম গীতিকারের কলমে রচিত রাধাকৃষ্ণের ভজনে আন্দোলিত হয় ভারতীয় সংস্কৃতির আকাশ-বাতাস, যেখানে যুদ্ধের বদলে ভক্তি, প্রেম সহিষ্ণুতা, আধ্যাত্মিকতাকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে যাঁর লেখনী থেকে- ‘মন্দির মে মসজিদ মে তু অর তু হি হ্যায় ইমানোঁ মে, মুরলি কি তনন মে তু অর তু হি দুয়ারে আমিন , দুনিয়া হ্যায় আবাদ…’-র মতো লেখা বেরোয়, কিংবা যাঁর সৃষ্টিতে ‘নানহা মুন্না রাহি হু’, ‘আপনে আজাদি কো হামনে’, ‘এক শাহনেওশাহ নে বনওবা কে তাজমহল’-এর মতো দেশাত্মবোধক গান মানুষের মনকে দেশের জল-মাটি, ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায় – সেই ‘শায়ার-ঈ-ফিতরাত’ শাকীল বদায়ুনির মতো মানবতার প্রকৃষ্ট উপাসককে কি আজ বেশি করে চর্চা করা প্রয়োজন নয়? এখানেই ওঁর প্রতিভার অনন্যতা, যা সেই যুগের অস্থির সময়েও জাতিধর্মকে গৌণ করে শুধুমাত্র অন্তরের ভক্তিকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে ‘ভালোবাসা’-র মহৎ উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণই তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে শেখায়।
ঈশ্বর, আল্লাহ, গড -তো এই ভালোবাসারই আরেক নাম। প্রকৃতি, বস্তু, আকাঙ্ক্ষা এমনকি সব মানুষের মধ্যেই যার অচ্ছেদ্য উপস্থিতি। আর সেই উপস্থিতিকে অনুভব করা এবং করানোর জন্যই কবির কলমধারণ। শাকিল বদায়ুনি সেই আদর্শ মেনে চলতেন। অন্যান্য প্রেমের গীতিকারদের মধ্যে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেও শাকীল বদায়ুনি কিন্তু একদমই এসবে আসক্ত ছিলেন না। তবে ভক্তি, ভজনের পাশাপাশি গজল, কাওয়ালি, মুজরা, হাসির গান সব ধরনের লেখাতেই ওঁর অনায়াস দক্ষতা- শব্দের প্রয়োগ, ব্যঞ্জনা, আবেদন – এক স্বতন্ত্র ভাবময় ঘরাণা তৈরি করেছিল। চারের দশকের মধ্যভাগ থেকে ছয়ের দশক- পঁচিশ বছরের এই সংক্ষিপ্ত সময়েও গীতিকার হিসাবে ছাপ রেখে গেছেন।
বর্তমান উত্তর প্রদেশের বদায়ুন প্রদেশে তাঁর জন্ম ১৯১৬ সালের ৩রা আগস্ট। আসল নাম শাকীল আহমেদ। ছোটোবেলা থেকেই সাহিত্যে অনুরাগ ছিল। উর্দু, আরবী, ফারসী, হিন্দি ভাষায় অনেক অল্প বয়সেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। সম্পর্কে চাচা জিয়ায়ুল কাদিরি বদায়ুনি ধর্মীয় কবিতা লিখে বেশ নাম করেছিলেন। তাঁর প্রভাবে শাকিল বিভিন্ন মুশায়রায় কবিতা পাঠ করতে যেতেন। এখান থেকেই তাঁর লেখার ভিত তৈরি হয় যা ১৯৩৬ সালে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার আগেই শাখাপ্রশাখা মেলেছিল। স্নাতক সমাপ্ত করে দিল্লিতে সিভিল সাপ্লাইস বিভাগে করণিকের সরকারি চাকরিও করেন বছরখানেক(১৯৪২-১৯৪৬)। এরপর শুধুমাত্র কবিতা লিখবার জন্যে ভাগ্যান্বেষণে বোম্বে চলে আসেন। বোম্বেতে আসায় উনি ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছিলেন, অনেকের ক্ষেত্রে যেটা সহজ হয় না। বোম্বেতে একটি মুশারায় প্রয়োজক এ আর কারদারের সঙ্গে হঠাৎই পরিচয় এবং সেই সূত্র ধরেই সংগীতকার নৌশাদের সঙ্গে…। আসে দর্দ(১৯৪৭) সিনেমায় গীতিকার হিসাবে কাজের সুযোগ। ‘দর্দ’-য়ে উমা দেবীর(টুনটুন) কণ্ঠে ‘আফসানা লিখ রাহি হুঁ দিল-এ-বেকারার’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর বাকি জীবনটায় গান লিখেই জীবিকা অর্জন করে গেছেন।
মনে করা হয় শাকিল-নৌশাদ জুটি ‘দর্দ’ সিনেমার মাধ্যমেই তৈরি হয়, যা ১৯৬৫ পর্যন্ত প্রচুর হিট গান উপহার দিয়েছ। এঁদের দুজনের একসঙ্গে করা শেষ কাজ ‘সংঘর্ষ’ (১৯৬৮)সিনেমায়। (শোনা যায়, নিজের ছবি ছাড়া নৌশাদ শাকিল বদায়ুনিকে অন্যত্র কাজেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তবে সুর করার পাশাপাশি পারফেকশনিস্ট নৌশাদ গানে ব্যবহৃত শব্দচয়নের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুতে ছিলেন। আপাদমস্তক ভালো না লাগলে সেই গানে সুরই বসাতেন না। গীতিকার হিসাবে খ্যাতিলাভ করলেও তাঁর কণ্ঠও ছিল চমৎকার। শাকিল বদায়ুনি গুলাম মহম্মদের সুরে ১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের দমনে আয়োজিত মুশায়রায় ‘হাঙ্গামা-ঈ-গাম সে তঙ আ কার’ নামক নিজের রচনায় কণ্ঠদান করেছিলেন, যার রেকর্ড ইউটিউবে পাওয়া যায়।)। মেলা, দিদার, কোহিনূর, মাদার ইন্ডিয়া, দিল দিয়া দর্দ লিয়া, বৈজু বাওরা, মেরে মেহবুব, গঙ্গা যমুনা, মুঘল-ঈ-আজম, লিডার, পালকি -র মতো সিনেমার কালজয়ী গান এই জুটির ফসল। মেরে মেহবুব তুঝে, নয়ন লড়গই রে, তু গঙ্গা কে মওঝ মে’-র মতো গান চিরকালীন প্রেমের গান হিসাবে বেঁচে থাকবে। তবে তিনবার মনোনয়ন লাভ করলেও পরপর তিনটি ফিল্ম ফেয়ারের কোনোটিই নৌশাদের সুরারোপিত গানে কথা লিখে আসেনি। সুরকার রবি-র সুরে যথাক্রমে ‘চৌধবী ভি কা চাঁদ’ সিনেমার ‘চৌধবী ভি কা চাঁদ’(১৯৬০),‘ঘরানা’(১৯৬১) সিনেমার ‘হুসনেওয়ালে তেরা জবাব নেহি’ (উল্লেখ্য এই গানের জন্য মহম্মদ রফি শ্রেষ্ঠ গায়ক, এই সিনেমার জন্য রবি শ্রেষ্ঠ সুরকার, এবং দুর্গা খোটে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন।) এবং হেমন্তকুমারের সুরে (হেমন্ত মুখোপাধ্যায়) ’বিশ সাল বাদ’ সিনেমার(১৯৬২) ‘কাহি দীপ জ্বলে কাহি দিল’-গানের জন্য শাকিল বদায়নিকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের পুরস্কার পান(উক্ত গানের জন্য লতা মঙ্গেশকরকে দ্বিতীয় ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন।)। এছাড়া ফিল্মফেয়ারে মনোনয়ন পাওয়া শাকিল বদায়ুনির রচিত অন্যান্য তিনটি গান ছিল নৌশাদ সুরারোপিত ‘মুঘল-ঈ-আজম’(১৯৬০)-এর ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’, ‘মেরে মেহবুব’(১৯৬৩) সিনেমার ‘মেরে মেহবুব তুঝে’ এবং সংগীত পরিচালক রবির সুরসৃষ্টিতে ‘দো বদন’(১৯৬৫)- এর ‘নজিব মে জিসকে’। নৌশাদের পরে সবচেয়ে বেশি গান লিখেছেন সুরকার রবির জন্য। অন্যান্য সুরকারদের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
হেমন্তকুমারের সুরসৃষ্টিতে তাঁর গানগুলি খুব জনপ্রিয় হয়। হেমন্তের সুরারোপিত বিন বাদল বরসাত(১৯৬৩), সাহেব বিবি অউর গোলাম(১৯৬২), ‘বিস সাল বাদ’-এ গানের রচয়িতা ছিলেন শাকিল। ‘সাহেব বিবি অউর গোলাম’-য়ে গীতা দত্তের কণ্ঠে ‘না যাও সাইয়া’, ‘বিস সাল বাদ’-য়ে হেমন্তের স্বকণ্ঠে এবং সুরে জারা নজরো সে ক্যাহে দো জি-র মতো গান শাকিল বদায়ুনির শ্রেষ্ঠ রচনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
এছাড়া রবির সুরে গেহরা দাগ, ফুল অউর পত্থর, গ্রাহস্থি -ইত্যাদি সিনেমা উল্লেখযোগ্য। দাদি আম্মা, দাদি আম্মা, লাগে না মোরা জিয়া, ম্যায় কি হুসন কি, ডিংডংডং, মোরি ছমছম বাজে রে পায়েলিয়া, শুন লে পুকার আয়ি, অগর কোন হামারা সাহারা দেগা-র মতো গান উল্লেখযোগ্য। শচীন দেববর্মন, গোলাম মহম্মদ, সি রামচন্দ্র, রোশন ইত্যাদি সুরস্রষ্টাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। মহম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে তাঁর কথায় প্রচুর সংখ্যক গান গেয়েছেন। শামশাদ বেগম, সুরাইয়া, মুকেশ, গীতা দত্ত, সুমন কল্যাণপুর, তালাত মাহমুদ, মান্না দে, ঊষা মঙ্গেশকর, মহেন্দ্র কাপুরের গাওয়া অল্প কিছু গানের রচয়িতা শাকিল বদায়ুনি।
আগেই বলেছি, শাকিল বদায়ুনির লেখা সর্বাধিক সিনেমার গানই নৈশাদের সুরে। পরবর্তী স্থানে আছেন সুরকার রবি। গান রচনায় শব্দ বা কথা ব্যবহারে রবি শাকীল বদায়ুনিকে অনেকটাই স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছন্দতা দিতেন, যেটা নৌশাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পাননি। রবির সঙ্গে পনেরোটি সিনেমায় একশো চোদ্দোটি গানের নব্বইটি গানই হিট। সিনেমার গান বাদে উর্দু কবি শাকিল বদায়ুনির কাব্য সংকলন -‘রানাইয়াঁ’ (১৯৪৪), ‘নঘমা-এ-ফিরদৌস’ (১৯৪৮), ‘শবিস্তান’ (১৯৫৮), ‘রঙ্গিনিয়াঁ’ (১৯৬১)’, ‘হানাম ও হারাম’,নাগমা-ঈ-ফিরদৌস’,‘দূর কোই গায়ে’, ‘ধরতি কো আকাশ পুকারে ’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে শাকিল বদায়নির প্রথম ভালোবাসা ছিল গজল। ওঁর রচিত দুটি বিখ্যাত গজলের লাইন- ‘অ্যাই মহব্বত তেরে আনজান পে রোনা আয়া/জানে কিঁউ আজ তেরে নাম পে রোনা আয়া’, ‘মেরে হামনাফাস, মেরে হামনামা’-র কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয়। গানদুটো বেগম আকতারের কণ্ঠে বিখ্যাত হয়ে গেছে। উর্দু কবি হিসাবে বিভিন্ন প্রাইভেট অ্যালবামে ওঁর গজলও বিখ্যাত।
এ জগৎ বড়োই আজব। বিচিত্র যেখানে নিয়ম, সেখানে চাওয়া-পাওয়ার অঙ্ক মেলানোটাও বেশ দুস্কর। এখানে মানুষ বাইরের জিনিস নিয়ে বেশি প্রভাবিত হয়- স্বকীয়তার ভাঁড়ার কার্যত শূন্য হলেও তাতে মাথাব্যথা থাকে না কারোরই। তবে স্রষ্টারা আলাদা হন। পার্থিব তুচ্ছ কোনো কিছুই তাঁদের চোখ এড়ায় না। প্রতিভাটা তো ভিতরের জিনিস।
ভারতীয় সিনেমায় রোমান্টিক হিট গানের শাহেনশাহ শাকিল বদায়ুনি বাইরের অপেক্ষা অন্তরের আবেদনকে বেশি প্রাধান্য দিতেন, মনের আনন্দকে প্রেমের আবেগে জারিত করে রেখে গেছেন কালোত্তীর্ণ সব সৃষ্টি- যা কোনোদিন হারিয়ে যাওয়ার নয়। হিন্দি উর্দু যে ভাষাতেই লেখা হোক না কেন, ওঁর কবিতা বা গানের বাণীর কথা ছিল সহজ, মর্মস্পর্শী, চেনাজানা শব্দের ব্যবহারে বলা হয়ে যেত না-বলা অনেক কিছু। তাতেই মুগ্ধ হতেন পাঠক, দর্শকরা। হতেন বলছি কেন! এখনও হন। অমরত্বের কোনো অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ কাল হয় না।
এইজন্যই হয়তো শাকীল বদায়ুনির রচনা গান-কবিতার আজও এত প্রসিদ্ধি। ওঁর মতো শায়েরকে কেন যে ভারত সরকার থেকে কোনো সর্বভারতীয় স্তরের সম্মান দিতে ভুলে গেছেন, সেটা ভাবলে অবাক লাগে৷ তবে দেরিতে হলেও ভারতীয় ডাক পরিষেবা ২০১৩ সালের মার্চ মাসে এই কিংবদন্তী স্রষ্টা গীতিকারের নাম-ছবিসহ ডাকটিকিট প্রকাশ করে।
নব্বইটার মতো হিন্দি সিনেমা, মেরেকেটে সাতশোর মতো গান। অকালে ইন্তেকালের কারণে বেশি গানের সৃষ্টি সম্ভব হয়নি। কিন্তু যা লিখেছেন, তাতেই মানুষ তাঁকে মনে রেখেছে। অমর হয়ে গেছে সেইসব সৃষ্টি।
তাঁর মতো স্রষ্টারা বুঝি এরকমই হন। বাহ্যিক কোনো প্রভাবে প্রভাবিত হন না। শুধু সৃষ্টি করে যান। তা সে আবহমান কালের মানুষ মনে রাখুক না রাখুক।
ডায়াবেটিস রোগের কারণে আকস্মিকভাবে ১৯৭০ সালের ২০শে এপ্রিল মাত্র তিপ্পান্ন বছরে জীবন শেষ না হলে শাকিল বদায়নির কলমে আরও অনেক অমর সৃষ্টির সৌগন্ধলাভের সৌভাগ্য আমরা পেতাম। সব তো হওয়ার থাকে না। কী আর করা যাবে!
শাকীল বদায়ুনির নিজের কথা দিয়ে এই শ্রদ্ধার্ঘ্যে ইতি টানলাম-
‘ম্যায় শাকিল দিল কা হু তারযুমান/মুঝে ফিকর হ্যায় মেরি শায়েরি/মেরি জিন্দেগি সে জুদা নেহি।’
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
![]()
