দীপান্বিতা
জে ডি স্যালিঞ্জার
একটি মাত্র উপন্যাস লিখে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া মুখের কথা নয়। তেমনই অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করে গেছেন জেরম ডেভিস স্যালিঞ্জার, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কিন সাহিত্যিক। তাঁর বিতর্কিত উপন্যাস দ্য ক্যাচার ইন দ্যা রাই প্রকাশিত হয় ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে এবং প্রায় ৯১ বছরের দীর্ঘজীবনে তিনি ওই একটি মাত্র উপন্যাস লিখেছেন। জীবদ্দশায় তিনি কখনোও আর কোন উপন্যাস প্রকাশ করেননি। এরপর ১৯৬১ সালে তিনি প্রকাশ করেন ফ্র্যানি অ্যান্ড জুয়ি, পরের বছর রেইজ হাই দা রুফবিম, কার্পেন্টারস অ্যান্ড সীমুর অ্যান ইন্ট্রোডাকশন নামে দুটি নভেলার এক সংকলন। দা নিউ ইয়োর্কারে তাঁর অন্য একটি নভেলা আত্মপ্রকাশ ঘটায় ১৯৬৫ সালে এবং এটিই তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত রচনা যদিও তিনি তারপরও বেঁচেছিলেন ২০১০ সাল পর্যন্ত।

দ্য ক্যাচার ইন দা রাই উপন্যাসটির অংশবিশেষ লেখক কিন্তু আগে ছোটগল্প হিসেবে প্রকাশ করেছিলেন। উপন্যাসের মূল চরিত্র হোল্ডেন কলফিল্ড, যাকে বলা হয় এ যুগের হাকলবেরি ফিন। তার বাধ্যতামূলক ও ভাবলেশহীন পরিক্রমা ক্ষেত্র হল স্কুল থেকে নিউইয়র্ক শহর। কোন বড় মাপের উপন্যাসের বিষয়বস্তু হওয়ার উপযুক্ত হতে পারে না এই যাত্রাপথ, কিন্তু আশ্চর্য দক্ষতার সঙ্গে স্যালিঞ্জার জনৈক হতাশ ও অবসাদগ্রস্ত কিশোরের দৃষ্টিকোণ দিয়ে যেভাবে সবকিছু তুলে ধরেছেন তা এই প্রজন্মের অন্তরকে ভাষায় প্রকাশ করেছে। হয়তো এই বই সব পাঠকের ভালো লাগবে না কিন্তু প্রত্যেকেই এখানে এমন কিছু না কিছু পাবে যা সে ভুলতে পারবে না। কেন্দ্রীয় চরিত্র কলফিল্ডের উদ্বেগ ও উদাসীনতার সঙ্গে কেউ যদি একাত্ম হতে নাও পারে তাহলে নিজেকে খুঁজে পাবে তার হতাশা ও বিতৃষ্ণার মধ্যে। আর যদিও বা তার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বা পরের পর সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরক্তি জাগে তো তখনো মনে হবে এই মুখ বেশ পরিচিত।
স্যালিঞ্জারের জন্ম হয় ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে নিউ ইয়র্ক শহরে। বাবা একজন ইহুদি চিজ আমদানিকারী ছিলেন। লেখকের ডাকনাম ছিল সনি। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি চিকিৎসক সিলভিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং পরে তা ভেঙ্গেও যায়। ১৯৫৫ সালে তিনি আবার বিয়ে করেন যা ১২ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
কিছুদিনের জন্য স্যালিঞ্জার একটি মিলিটারি অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বীরদর্পে লড়াই করেছিলেন। নরমান্ডি আক্রমণ ও হার্টজেনওয়ার্ল্ডের যুদ্ধে তিনি যুক্ত ছিলেন।
পরিচিত পরিবেশকে এড়িয়ে থাকতে তিনি ভালোবাসতেন। সাক্ষাৎকার বা পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ তিনি সযত্নে পাশ কাটিয়ে যেতেন। তিনি বলেছিলেন যে লিখতে তিনি খুবই ভালোবাসেন, কিন্তু যা লেখেন তা নিজের আনন্দের জন্যই এবং যেন তাঁকে সেটা করার জন্য একা থাকতে দেওয়া হয়।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
