বঙ্কিমচন্দ্রের দাদা পালামৌ-এর লেখক সঞ্জীবচন্দ্র প্রবেশনারি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হবার পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছেন। পাশ করলে জজের চাকরি হবে। সেই সময় ১৮৮৪ সালে পথগুলির নামকরণ সম্পর্কে একটা কমিশন বসে। কয়েকজন দেশী ও সাহেব, জজ আর সঞ্জীবচন্দ্র ছিলেন সেই কমিশনের সদস্য। তাতে ঠিক হলো রাস্তার নামকরণ করে টিনের ওপর সেই নাম লিখে দেওয়া হবে। এক জর্জ প্রস্তাব দিলেন যে সব রাস্তার বদলি নামগুলিকে ইংরেজি করে দিতে হবে। যেমন, ছিদাম মুদির গলি নামের নিচে ইংরেজিতে লেখা হবে, ছিদাম গ্রসারস লেন। এভাবে ইংরেজিতে লেখার জন্য অতিরিক্ত ৭৫ টাকা খরচ করতে হবে। না হলে বদলি নাম কেউ বুঝবে না।
তখন সঞ্জীবচন্দ্র সেই সাহেবকে বললেন,’স্যার, আরো ৭৫ টাকা বেশি ধার্য হোক। তাহলে আইন আদালতের সঙ্গে যুক্ত যত মানুষ আছে সকলের নামই তর্জমা করে দেওয়া যাবে। যেমন, হাকিম কালীপদ মিত্রকে কে চিনবে? তার নামের নিচে লেখা হোক ব্ল্যাক ফুটেড ফ্রেন্ড। এ কথা শুনে সবাই হেসে উঠলেন এবং জজ সাহেবের মুখ অপমানে লাল হয়ে গেল এবং সঞ্জীবচন্দ্রকে তিনি পরীক্ষায় পাশ করাননি।
.
.
রবীন্দ্রনাথ শেষজীবনে চেয়ারে ঝুঁকে বসে লিখতেন। কেউ একদিন কবিকে এভাবে ঝুঁকে লিখতে বসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন,
‘ঝুঁকে না বসলে আজকাল আর লেখা বেরোয় না। কুঁজোর জল কমে গেছে, তাই উপুড় করতে হয়।’
.
.
আইনস্টাইন নানা জায়গায় বক্তৃতা দিতে গেলে তাঁর গাড়ির ড্রাইভারও বক্তৃতাকক্ষের পিছনে বসে অন্যদের সঙ্গে বিজ্ঞানের বক্তৃতা শুনত। একবার কোথাও যাওয়ার সময় কথা প্রসঙ্গে ড্রাইভার আইনস্টাইনকে জানালো যে বিজ্ঞানীর হয়ে বক্তৃতা সে নিজেও দিতে পারবে, কারণ শুনে শুনে তার মুখস্থ হয়ে গেছে। আইনস্টাইন ছিলেন বেশ আমুদে লোক। ড্রাইভারের কথা শুনে তিনি ঠিক করলেন, এবার যেখানে বক্তৃতা দিতে যাচ্ছেন সেখানে তাঁরা দুজনে গোপনে তাঁদের ভূমিকা পাল্টে ফেলবেন। ড্রাইভারও প্রস্তাব শুনে আনন্দে রাজি। তো বক্তৃতাকক্ষে ড্রাইভার আইনস্টাইন পরিচয় দিয়ে মঞ্চে উঠল আর আইনস্টাইন স্বয়ং বসলেন শ্রোতাদের সঙ্গে পিছনের সারিতে। ড্রাইভার কিন্তু নিখুঁত ভাষণ দিলো, একচুল কিছু ভুল বলল না। কিন্তু মুশকিল হলো শেষ লগ্নে। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর শ্রোতাদের মধ্যে থেকে একজন ড্রাইভারকে একটা জটিল প্রশ্ন করে বসল। আইনস্টাইন প্রশ্ন শুনে নিজে যখন প্রমাদ গুনছিলেন তখন ড্রাইভার একটুও না ঘাবড়ে বলল, ‘এই প্রশ্নটার উত্তর জলের মতো সোজা। আমি বাজি রেখে বলতে পারি, এই ঘরে লাস্ট বেঞ্চে আমার যে ড্রাইভার বসে আছে সেও প্রশ্নটার উত্তর এক্ষুনি দিয়ে দিতে পারবে।’
.
.
বিখ্যাত নাট্যকার ও লেখক অস্কার ওয়াইল্ড যখন একটি নামি লেখায় আত্মমগ্ন ঠিক সেই সময় তাঁর কানে ভেসে এলো বাবুর্চি আর ভৃত্যের কথাবার্তা। ভৃত্য জিজ্ঞেস করল, ‘হ্যাঁরে, স্যার কি কোন কাজ করছেন?’ বাবুর্চি জবাব দিল, ’আরে না না, শুধু কাগজে কী যেন লিখছেন।’
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
সংগৃহীত
