দীপান্বিতা
ওয়াশিংটন আর্ভিং
যদি জিজ্ঞেস করা হয় দিয়েত্রিচ নিকারবোকার আসলে কে চট করে উত্তর দেওয়া হয়তো সহজ নয়। অথবা জোনাথান ওল্ডস্টাইলা বা জিওফ্রে ক্রেয়ন কে ছিলেন, এই প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়া কঠিনই হবে। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় রিপ ভ্যান উইংকেল সম্পর্কে তাহলে অনেকেই নিশ্চয় এই নামটি চিনতে পারবেন। আসলে রিপ ভ্যান উইংকেল বিশ্ববিখ্যাত একটি চরিত্রের গল্প এবং ওপরের নাম তিনটি এই গল্পের যিনি রচয়িতা তাঁর ছদ্মনাম। লেখকের আসল নাম ওয়াশিংটন আর্ভিং। তাঁকে মার্কিন ছোটগল্পের জনক বলা হয়। তাঁর লেখা ছোটগল্পের বিখ্যাত সংকলন গ্রন্থটির নাম দা স্কেচ বুক যেখানে রিপ ভ্যান উইংকেল এবং লেজেন্ড অফ স্লিপি হলো নামে দুটি সাড়াজাগানো গল্প স্থান পেয়েছে।

১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর জন্ম। বাবা উইলিয়াম ছিলেন একজন বণিক, মায়ের নাম সারা স্যান্ডার্স। সে সময়টা ছিল মার্কিন বিপ্লবের শেষ দিক। বাবা-মা ছিলেন যথেষ্ট দেশপ্রেমিক। জন্মের পর মা নাম রাখতে গিয়ে তাই মার্কিন স্বাধীনতার স্থপতি ওয়াশিংটন ছাড়া অন্য কোন নাম ভাবেননি। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের একাদশতম সন্তান। ছোটবেলা থেকেই লেখকের পড়াশুনার নেশা, ভালোবাসতেন বেশি রবিনসন ক্রুসোর মতো অ্যাডভেঞ্চার গল্প। প্রথাগত পড়াশুনা হিসেবে তিনি আইন পড়েছিলেন।
লেখক বিয়ে করেছিলেন মাটিলডা হফম্যান নামে এক কিশোরীকে। দুর্ভাগ্যক্রমে সেই স্ত্রী বিয়ের অল্প দিন পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে মারা যান। লেখক তাতে এতটাই বিষণ্ণ হয়ে পড়েন যে আর কোনদিন বিয়ে করার কথা ভাবতে পারেননি। একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে লেখক জানিয়েছিলেন যে বছরের পর বছর তিনি মাটিলডার নাম নিতে পারতেন না, তাঁর সম্পর্কে কোন কথা বলতেও কষ্ট হতো, আর তিনি স্বপ্নে অনবরত প্রেয়সীকে দেখতেন।
১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্ক শহরেই লেখক মারা যান। তিনি তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পেরেছিলেন। বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি বলেন যে বালিশগুলিকে আরেকবার শেষবারের মতো তিনি সাজিয়ে নিচ্ছেন।
দ্য স্কেচবুক ছাড়াও লেখক অনেক বই লিখেছিলেন। এদের মধ্যে ইতিহাস, জীবনী, ভূগোল, অ্যাডভেঞ্চার জাতীয় নানা রচনা ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন স্বাদের প্রবন্ধ। তবে লেখক বিখ্যাত হয়ে আছেন কালজয়ী গল্পগুলির জন্য।
প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
