বিখ্যাত শিকারি কুমুদনাথ চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের কাছে বাঘ শিকারের গল্প শোনাচ্ছিলেন। গল্প করতে করতে হঠাৎ তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

‘আপনি কি কখনো বাঘ শিকার করেছেন ?’

রবীন্দ্রনাথও গম্ভীরভাবে জবাব দিলেন,

‘এক আধটা নয়। বোধহয় গুনে শেষ করা যাবে না।’

রবীন্দ্রনাথের  জবাব শুনে উপস্থিত সবাই হতবাক। তাঁরা জানতেন, কবি কোনদিনই বাঘ শিকার করেননি। তাঁদের মধ্যে একজন আমতা আমতা করে বললেন,

‘গুরুদেব, আপনি সত্যি বাঘ মেরেছেন ?’

রবীন্দ্রনাথ মুচকি হেসে বললেন,

‘আরে আমি বাগ বা ছারপোকার কথা বলছি, কুমুদের মত টাইগার বা বাঘ মারিনি।’

.

.

চার্লি চ্যাপলিন তখন মৃত্যুশয্যায়। পাদ্রিকে ডেকে আনা হয়েছে শেষসময়ে ধর্মীয় আচরণের জন্য। মৃত্যু পথযাত্রী চ্যাপলিনের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে পাদ্রী শান্ত স্বরে বললেন, ‘ঈশ্বর যেন আপনার আত্মাকে শান্তি দেন।’ চার্লি তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলেন, ‘কেন দেবেন না ? আমার আত্মা আসলে তো তাঁর নিজেরই।’ 

.

.

নোবেলজয়ী পদার্থবিদ রিচার্ড ফেইনম্যান মজা করতে ওস্তাদ ছিলেন। তাঁর একটা অদ্ভুত দক্ষতা ছিল, যেকোন সিন্দুকের তালা তিনি অনায়াসে খুলে ফেলতে পারতেন। নিজের এই ক্ষমতা সম্পর্কে তাঁর অভিমত ছিল যে ব্যাপারটা ঠিক বিজ্ঞানের কোন জটিল জট খোলার মত। ১৯৪০ সালে আমেরিকার পরমাণু বোমা তৈরির ম্যানহাট্টান প্রকল্পে তরুণ পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি অ্যালামস কেন্দ্রে। যে বাড়িটায় বিজ্ঞানীরা কাজ করতেন তার নাম ছিল ওমেগা বিল্ডিং। ওখানে তিনটি অসম্ভব সুরক্ষিত ভল্টে বোমা তৈরির নকশা ও নথিপত্র থাকত। চূড়ান্ত সামরিক সর্তকতাকে ফাঁকি দিয়ে মাছিও গলতে পারত না। সবকিছুর দায়িত্বে ছিলেন ডঃ ফ্রেডেরিক ডি হফম্যান। তিনি একদিন প্রয়োজনে দুটো ভল্ট খুলে দেখেন একখণ্ড হলদে কাগজে একটা সাংকেতিক বার্তা লেখা রয়েছে আর তলায় একটা সই, ‘জ্ঞানী ব্যক্তি।’ হফম্যান প্রায় হার্টফেল করেন। তিনি মহা হইচই বাঁধিয়ে দিলেন। আসলে গুপ্তচররা পুরো প্রকল্পটা বানচাল করার চেষ্টায় ছিল বলেই হফম্যানের এত আতঙ্ক। পরে ঘটনাটার দায় স্বীকার করে ফেইনম্যান বলেছিলেন, ‘আরে, বইতে চিরকাল পড়েছি, লোকরা ভয় পেলে মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ভাবতাম ওটা বাজে কথা, লেখকরা বানিয়ে লেখে। মুখের রং আবার পাল্টায় নাকি? ব্যাপারটা সত্যি কিনা পরীক্ষা করে দেখতে গিয়েই তো যত বিপত্তি। দেখলাম লেখকদের কথাটাই ঠিক। ভয়ে হফম্যানের মুখটা ধূসরবর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তারপর হলদেটে সবুজ। নিজের চোখে দেখেও আমার ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছিল না।’ 

.

.

মার্ক টোয়েন তরুণ বয়সে একটা পত্রিকার অফিসে চাকরি পেয়েছিলেন। কয়েক মাস বাদে পত্রিকার সম্পাদক একদিন টোয়েনকে ডেকে বললেন, ‘আপনার মত অলস আর অপদার্থ লেখককে আমাদের দরকার নেই। আপনাকে বরখাস্ত করা হলো।’

মার্ক টোয়েন শান্ত গলায় জবাব দিলেন,’আমি যে অলস আর অপদার্থ তা আমি প্রথম দিন থেকেই জানতাম। এই সহজ কথাটা বুঝতে আপনার চার মাস লাগলো। আপনার মাথায় দেখছি গোবর ছাড়া আর কিছুই নেই।’

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *