বিশ্বনাথ দাসচৌধুরী

ডুগডুগির আওয়াজের সাথে সাথে নির্ভেজাল হাঁক –

মালাই চাই…. মালাআআআইই

সময়ের অগ্রসরতার সাথে সাথে আজ বিলুপ্ত সব কিছু।

খুব ইচ্ছে হয় ওই ডাক শুনে মা এর কাছে আবদার করি

কুড়ি পয়সার জন্য;

পয়সাটি নিয়ে এক দৌড়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে ওই মালাইকাকুর কাছে চলে যাই 

লাফাতে লাফাতে বলি কাকু একটা মালাই দাও।

বাক্সের ঢাকনা খুললেই রঙ-বেরঙের বরফমালাই উঁকি দেয় – 

লাল, গোলাপি, সবুজ, হলুদ আরো কত কি!

গোলাপি রঙের বরফমালাইটি হাতে নিয়ে বাড়ির চারিদিক টহল দেওয়া;

আর মুহূর্তে মুহূর্তে তার স্বাদ নেওয়া।

অনেক সময় পয়সা না পেলে চারটি আলু চুরি করে সোজা মালাইকাকুর কাছে

মালাইটি নিয়ে ঘরমুখো না হয়ে মাঠমুখী; 

মহানন্দে সাবাড় করে বাড়ি

একদম নিতান্ত ভদ্র, বাধ্য ছেলে আমি। 

.

সেই মালাই, সেই মালাই কাকু আজ আর নেই। 

পরিবর্তে বড় বড় কোম্পানির বরফমালাই;

নামও বেশ বহুজাতিক গোছের – 

স্কুপস, বার, কোন, পেপসিকেল ইত্যাদি।

সাথে ঝাঁ চকচকে স্টল

দামও বেশ অবন্ধুত্বপূর্ণ।

কিন্তু শৈশবের ওই মালাইকাকুকে তো আর চোখে পড়ছে না।

এই বিশ্বায়নের যুগে সে কি তবে হারিয়ে গেল?

উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি,

উত্তর চাইছে আমার শৈশব।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *