সৌমিতা রায় চৌধুরী
পর্ব – ১৭
১৯৭১ সালে জয়দীপ পিকচার্সের ব্যানারে পূর্ণেন্দু রায় চৌধুরী পরিচালিত বাংলা ভাষার গোয়েন্দা কমেডি চলচ্চিত্র ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্টেন্ট’ মুক্তি পায়।
দিগম্বর চ্যাটার্জীর মেয়ে নুপুর চ্যাটার্জীর জন্য তার বাবা পাত্র নির্বাচন করেন। কিন্তু আধুনিকা, শিক্ষিতা, সুন্দরী নুপুর বাবার নির্বাচিত পাত্রের বিষয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে অতি সাধারণ ভাবে পাত্রের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সেই ব্যক্তি জানায় পাত্র মোটা, কালো এবং বেঁটে। পাত্রের এমন বর্ণনা শুনে নুপুর রাশভারী বাবার ওপরে কিছু বলতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
নুপুর কলকাতায় পালিয়ে আসে এবং অঞ্জন মুখার্জী নামে একজন সজ্জন, সুদর্শন ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অঞ্জনের মা সেই সময় তার পুত্রের জন্য পাত্রী নির্বাচন করছিল। কম বয়সে ভাল মাইনের চাকরি পাওয়ার জন্য পাত্রীর আনাগোনায় অঞ্জন বীতশ্রদ্ধ ছিল। তাই মায়ের নির্বাচিত পাত্রীর ব্যাপারে সে বিরূপ মনোভাব পোষণ করেছিল। এই সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা নুপুরের সাথে অঞ্জনের সাক্ষাত হয়। অঞ্জন সহজেই নুপুরের সমস্যা বুঝতে পারে। অঞ্জন নুপুরকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। নুপুর মরিয়া হয়ে চাকরির চেষ্টা করতে থাকে।
দীগম্বর চ্যাটার্জী মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতে ভানু গোয়েন্দা এবং জহর অ্যাসিস্টেন্টের আবির্ভাব ঘটে। চাকরির খোঁজে নুপুর যখন মরিয়া তখন অঞ্জন নুপুরকে খুশীবানু ছদ্মনামে স্টুডিও পাড়ায় নিয়ে যায়। তার মা একজন বাঈজী এবং সে ফৈজাবাদ থেকে এসেছে বলে পরিচয় দেয়। বাংলার বাইরে থেকে এসেছে শুনেই স্টুডিওতে হইচই পড়ে যায়। জহর অ্যাসিস্টেন্ট এই খবর সংগ্রহ করে এবং ভানু গোয়েন্দাকে জানায়। এইভাবেই তারা দশ হাজার টাকার জন্য গোয়েন্দাগিরি চালিয়ে যেতে থাকে।
এছাড়াও অনেকেই নুপুর চ্যাটার্জীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এই অবস্থায় নুপুর ও অঞ্জন কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়। এইভাবে কিছুদিন লুকোচুরি খেলার পরে অঞ্জনের বাড়িতে তার মা এসে উপস্থিত হন। দীগম্বর চ্যাটার্জীও মেয়ের খোঁজ করতে করতে ওই বাড়িতে এসেই উপস্থিত হন।
ছেলেকে তার বাড়িতে একটি মেয়ের সাথে থাকতে দেখে অঞ্জনের মা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। একইরকম অভিব্যক্তি ঘটে দীগম্বর চ্যাটার্জীরও। কথায় কথায় অঞ্জনের মা জানায় যে দীগম্বর চ্যাটার্জীর মেয়ের সাথেই তিনি তার পুত্রের বিয়ে স্থির করেছিলেন। এদিকে দীগম্বর চ্যাটার্জীও কথায় কথায় জানান অঞ্জন মুখার্জীর সাথেই তিনি মেয়ের বিয়ে স্থির করেছিলেন। অবশেষে দুই বাড়ির ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। অঞ্জন মুখার্জীর সাথেই নুপুরের বিয়ে স্থির হয়। এই পরিস্থিতিতে ভানু গোয়েন্দা আর জহর অ্যাসিস্টেন্ট দশ হাজার টাকা দাবি করলে দীগম্বর চ্যাটার্জী জানান তিনি নিজেই মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন। তাই অর্থপ্রাপ্তি তাদের ঘটবে না। বিয়ে স্থির হওয়া উপলক্ষে আনন্দঘন মুহূর্তে সামান্য কিছু প্রাপ্তিই তাদের জন্য যথেষ্ট।
এই হাস্যরসাত্মক গল্পটি রচনা করেছেন প্রণব রায়। প্রযোজনা করেছেন বাদল রাজ সিনহা। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুপুর চ্যাটার্জীর চরিত্রে লিলি চক্রবর্তী, অঞ্জন মুখার্জীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভেন্দু চ্যাটার্জী। দীগম্বর চ্যাটার্জীর চরিত্রে পাহাড়ি সান্যাল, ভানু গোয়েন্দার চরিত্রে ভানু ব্যানার্জী, জহর অ্যাসিস্টেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জহর রায়। অন্যান্য বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নৃপতি চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম ঘোষ, নীলিমা চ্যাটার্জী, হরিধন মুখার্জী, বীরেন চ্যাটার্জী, শৈলেন গঙ্গোপাধ্যায় ও শীতল বন্দোপাধ্যায়। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন শ্যামল মিত্র। মহিলা কণ্ঠের গানগুলি গেয়েছেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
(পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়)
