তপোপ্রিয়

অন্যলোকের বাসিন্দারা 

কোন এক আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কোন একজনের বিচরণ কি কেবলই কাকতালীয়, নাকি তা পূর্বনির্ধারিত? 

সেই ময়ূরপঙ্খী-উড়ান দুপুরে একদিন অমলতাসের তলায় একটি কিশোর আনমনা তাকিয়েছিল সামনে, দিগন্তটা অনেক অনেক দূরে। নির্বাক কোন অচিনপুরীতে দুপুরের গায়ে জড়ানো ছিল ঝিনুকখোঁজা পাখির পালক আর বিন্দু বিন্দু রোদের চুমকি, রাত্রির গায়ে তখন বিভ্রান্ত জ্যোৎস্নার ছত্রাক আদর। 

আমাকে আমার অচেনা মনে হয় ওইভাবে বা অন্যভাবে যেভাবেই দেখি। যেখানে দাঁড়িয়ে সেখানে যে আমি, তার সঙ্গে বড়ই অমিল অতীত যে কোনো আমির। আবার ভবিষ্যতের অনেক আমির পূর্বদর্শন কেবলই আমাকে বিহ্বল করে।

আজ আমার দুপুরগুলিতে একগুচ্ছ কাঁটা। লক্ষ লক্ষ কাঁটার বেড়াজালে আবদ্ধ আমাকে নিঃশ্বাস ফেলার জন্য দাঁড়িপাল্লায় মেপে নিয়ম করে দেওয়া হয় ততটুকুই আহার-পানীয় যা না পেলে মৃত্যু দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত কয়েদি জেলখানায় বেঁচে থাকবে না। আমার জন্য বরাদ্দ ছশ গ্রাম আকাশ, দুশ গ্রাম হাওয়া, দেড়শ গ্রাম রোদ আর পঞ্চাশ গ্রাম মুক্ত অঞ্চল। আমি এই জীবনে এমনই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে অবাক লাগে যখন ওই কিশোরকে দেখি, আমগাছের ভাঙা ডালটায় বসে মনের আনন্দে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে কোন এক গতিশীল স্বয়ংক্রিয় যানের রূপদানে ব্যস্ত। তার সঙ্গে যখনই চোখাচোখি হয় দুটি দৃষ্টিতে দু’রকম স্বাদ অনুভব করি। আমার চোখে শুধুই বিস্ময় আর অবিশ্বাস, আর ওই কিশোরের চোখে থাকে ভীতিমিশ্রিত বিরাগ।

এমনি করে হারিয়ে যাওয়া অতীতকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা আমার ধাক্কা খায়, আমাকে তখন লাগে যেন কুপনিবাসী নির্বাসিত এক প্রেতবাস্তব। বিসর্জিত অথৈ শামুকসর্পিল কালপ্রবাহের অমগ্য আকর্ষণে আমার যাবতীয় উত্তরাধিকার—– স্বজন, সম্পদ, স্বভূমি ও সঙ্গীসাথী। একটি করে কয়েকশ অথবা কয়েক হাজার, কয়েক লক্ষও হতে পারে, গাছগাছালির চেনা মুখগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে যারা ছিল আমার শৈশব-কৈশোরের সহচর। নানা চেহারার ভূমিখন্ড, উঠোন, ঘর, জলাজমি, লতাঝোপ, জীবজন্তু, পতঙ্গ বা পাখি যাদের দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম তারা যে আজ কোথায়! আর আকাশের নানা রং, নানা রূপ। নানা মেজাজের ঝড়বাদল, দিনের নানা সময়, নানা ঘটনাবলীর আবর্তন। এদের প্রত্যেকের বিবরণ ঔপন্যাসিত একেকটি অধ্যায়। আর সব মানুষগুলি। আমার মা। 

সময়াকর্ষিত আমার এই যে গতিশীলতা, এ যেমন বিস্ময়ের তেমনি আমি স্তম্ভিত হই কালচিত্রের নানা প্রদেশে আমার অবস্থানগুলি আবিষ্কার করে। সময় মানচিত্রের অগণিত প্রদেশে অগণিত স্থানবিন্দু ,তার সবগুলিতে কেউ থাকতে পারেনা। আমিও নেই, আমার অবস্থান মাত্র স্বল্পসংখ্যক বিন্দুতে। কিন্তু ওই বিন্দুগুলি কি আমার জন্য নির্দিষ্ট ছিল, নাকি কাকতালীয়ভাবে সেসব বিন্দুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক?

সময়ের পাকে পাকে জড়িয়ে থাকা ঘটনার বিবরণীতে আমার সঙ্গে মায়ের বিচরণ ইতিহাস হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আমাকে অথর্ব করে রাখে। আমি কোন ব্যাখ্যা পাই না, বিগত যা বিগতই কেন থাকে। 

ঘটনাসমূহের অনুরণন পুনরাবর্তনে ফিরে ফিরে আসে। তাদের দেখি আর মেলাতে চাই। এই ঘটনাগুলিই আজন্ম ঘটে আসছে জীবনে, তবুও তারা অন্যরকম। প্রকৃতি তার দৃশ্য সাজায়, দৃশ্যপট যদিও বা এক থাকে কুশীলবরা পাল্টে যায়। এই বিয়োগবন্ধুর উপত্যকায় বসে আমি কেবল খুঁজে বেড়াই নিথর পান্ডুলিপির বিবর্ণ পাতাগুলি। 

মাঝরাত্তিরের একটা ঝড়ের কথা বেশ মনে পড়ে। সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। ছোটবেলায় ঝড় দেখতাম ঈশান কোণে, বাঁশঝাড় ছিল ওই দিকটায়। তার মাথায় অনেকটা দূর পর্যন্ত আকাশ। জানতাম বাঁশবাগানের মাথার ওপর দেখা যাচ্ছে যে আকাশটাকে তার তলায় শুয়ে আছে থৈথৈ জলাভূমি। ঝড় আসার আগে তার মুখ দেখা যেত ওই আকাশটার গায়ে। কচি কচি পাতার আঙুল মেলে বাঁশগাছের লকলকে ডগাগুলি ঝড়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে মাথা তুলে একতে-ওকাতে হেলে থাকত। আমার মনে হত বুঝি ওরা কথা বলছে মাথার ওপরে আকাশটায় অদৃশ্য হয়ে থাকা কোন অতিথির সঙ্গে। ঝড় আসার আগে ওই আকাশটা কাজলগোলা হয়ে যেত, আবার ফাঁকফোকর থেকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন শুভ্রতা খণ্ডগুলিও মিশে থাকত তার সঙ্গে। মাথা তোলা বাঁশগাছের লিকলিকে ডগাগুলিতে শুরু হত সঘন আন্দোলন। বাঁশ পাতার রং পাল্টে পায়েসবর্ণ হয়ে যেত, একগুচ্ছ সাদা বক ওই আকাশ আর বাঁশঝাড়ের ব্যবধানটুকু দিয়ে উড়ে যেতে থাকত উশৃংখল। 

দিনের বেলায় ঝড় আসার এটাই পরিচিত মুখ। আজ আর এই মুখ দেখতে পাই না। এমনই শত-সহস্র মুখ হারিয়ে গেছে কোন এক নিশানাহীন গম্ভীর নৈঃশব্দে। ঘনায়মান ঝড়ের এই চেনা চেহারার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন হয়ে আছে আমার মায়ের একটা মুখ। জমিতে শীতকালীন ধান তখন সবুজ পাখনা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। ওইসময় ঝড়ের দাপটে তাদের ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। দিগন্তবিস্তৃত ধান জমির ওপর দিয়ে দামাল ঝড় মত্ত উল্লাসে ছুটে চলার প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাস ছড়িয়ে যায় আর তাতে সবুজ সমতলে চক্রাকার খাঁজ রচনা করে সদলে শুয়ে পড়ে ধান গাছেরা। ঝড়ের চিঠি এলেই তাই মায়ের মুখে বড়ই দুশ্চিন্তা, জমিতে ধান গাছেরা অনাথ পড়ে আছে। ঝড়ের দৌরাত্মে কী যে দুর্দশা হয় তাদের! ঘরে বসে মা অসহায় মুখে কেবলই দুশ্চিন্তা ঝরাতো গলা থেকে। মাকে দেখে আর কথা শুনে মনে হত কায়াটা ঘরে থাকলে কী হবে অন্তরাত্মা পড়ে আছে ওই ধান জমিতেই। যদি মা নিজেও সশরীরে খোলা জমিতে থাকতে পারত ধান গাছগুলিকে বুঝিবা বুকে আগলে জড়িয়ে রক্ষা করত ঝড়ের তাণ্ডব থেকে। 

ঝড়ের মুখ, সঙ্গে আমার মায়ের মুখের দুর্ভাবনা বড়ই জীবন্ত দেখি চোখের সামনে যদিও সেই ঝড় বা সেই মায়ের মুখ আর বাস্তবে দেখব না। এমনই লক্ষ লক্ষ মুখের বিন্যাস আমার মানসিক সংগ্রহশালার দেয়ালে দেয়ালে। কোন এক সম্ভ্রান্ত অবসরে বসে আত্মমগ্ন দর্শক হয়ে দেখি সেইসব অজস্র মুখ আর ভাবি, একদিন আমার মুখগুলিও এভাবেই হয়ে যাবে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। বর্তমান পদক্ষেপ যদিও অতীত থেকেই উঠে আসে তবুও কী আশ্চর্য, অতীত আর বর্তমান বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। 

রাত্রির এক ঝড়ের গল্প শোনাতে যাচ্ছিলাম। কিভাবে ঝড় এসেছিল বা কেমন ছিল তার বর্ণবৈচিত্র্য সেই কাহিনী মনে নেই, তবুও ওই ঝড় এখনোও অবিস্মরণীয়। আসলে ঝড়টা নয়, স্মরণীয় ঝড় যা ঘটিয়েছিল। সময়টা সেই বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস। বাবা মারা যাওয়ার এক দু’বছর পর। প্রাথমিক শোক সামলে মা ততদিনে লক্ষ্য একটা মোটামুটি নির্দিষ্ট করে নিয়েছে, জমিজমা নির্ভর করে বেঁচে থাকা ছাড়া অন্য আর কোন উপায় ছিল না। সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়। চাষবাস সম্পর্কে মায়ের অভিজ্ঞতা তখন প্রায় শূন্য। পরে অবশ্য অনেক কিছুই শিখে নিতে হয়েছিল। সেসময় আমাদের সঙ্গে থাকত লাবণ্যপ্রভা নামে এক বিধবা মহিলা, বয়সে সে মায়ের চেয়ে খানিকটা বড়। আমরা ডাকতাম তাকে লাবিজেঠিমা। সে আর মা পরস্পরকে দিদি আর আপনি করে বলত। মা আড়ালে তার সম্পর্কে বলত শুনতাম দিদিকে,

‘তোর বাবা আমার কপালে এই গলগ্রহটা রেখে গেছে।’

আসলে লাবণ্যপ্রভা ছিল আমাদের আশ্রিতা, বিনিময়ে তার ছিল সাংসারিক কাজকর্ম সামলাবার চুক্তি। ঠিক কাজের লোক নয়, আবার ওই রকমই খানিকটা। একসময় একান্নবর্তী বড় বড় পরিবারে এমন উদ্বৃত্ত লোকের ঠিকানা পাওয়া যেত। তাদের সঙ্গে হয়ত পরিবারের আত্মীয়তাও থাকত না। 

পূর্ববঙ্গে আমাদের গায়ের বাড়ি দেখাশোনা করত লাবণ্য। ওদেশ ছেড়ে আসার সময় বাবা তাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর সে আমাদের পরিবারেরই পাকাপাকি সদস্য হয়ে আটকে গেল। গাঁয়ে থাকার সুবাদে জমিজমা, চাষবাস সব ছিল তার নখদর্পণে। প্রথম প্রথম মা তারই ওপর সব ছেড়ে দিয়েছিল। 

সন্ধেবেলা নয়, ঝড়টা এসেছিল বেশ রাতের দিকে। ঘন অন্ধকারে লেপটে থাকা তখন চারপাশ। আদিম কোন মানব সভ্যতার মতো বৈদ্যুতিক আলোর কোন উপস্থিতি নেই কোনখানে। হারিকেন আর কুপি জ্বালিয়ে নৈশকালীন আলোর ব্যবস্থা। এদিকে ওদিকে সবদিকে মাঠ আর মাঠ, নয়তো বন-জঙ্গল, ঝোপঝাড়। আবার আছে গাছগাছালি ছাওয়া টিলাজমি, গভীর খাদ বা জলাজমি। অনেকটা অনেকটা দূরে একটা-দুটো নির্লিপ্ত ঘরবাড়ি, যাদের বাসিন্দারা রাত সাতটা-আটটার মধ্যেই খাওয়া-দাওয়া সেরে আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে অভ্যস্ত। রাতের গায়ে অন্ধকার তাই জমজমাট। তাকে আরোও আঠালো করে প্রহরে প্রহরে সমস্বরে শেয়ালের হুক্কা-হুয়া। অন্ধ নিস্তব্ধতা আচমকা শেয়ালের ডাকে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়াটা যদি বা কোন চিত্রনাট্যের সশরীর উত্থাপন আবার তার যবনিকা পাক যেন নিথৈ নীরবতায় আকন্ঠ ডুব।

সেই নিদ্রানিশ্চল বিবশ সাম্রাজ্যের বিচিত্র অন্ধকার প্রেক্ষাপটে ঝড়ের প্রসঙ্গ কেমন বার্তা যার অভিজ্ঞতা নেই বুঝবে না। যেন কোথাও অবশ শূন্যে অনন্ত নাগের সরোষ হাহাকার, শ্রবনেন্দ্রিয় ছাড়া অন্যসব অনুভূতি যখন অচল। রাতে ঝড় এসেছিল হয়ত খাওয়া-দাওয়ার পরই। বাইরে তার তান্ডব চলল পুরোদমে, ঘরে আমরা নিথর। ঝড়ের চেহারা সব ঘরে সমান বোঝা যায় না। যাদের দালানকোঠা তারা ঝড় দেখবে একরকম, যারা থাকবে বেড়ার ঘরে তাদের কাছে ঝড়ের অন্য রূপ। আমরা থাকতাম যে ঘরে তার দেয়ালগুলি মাটির, চালায় বাঁশের কাঠামো বানিয়ে তার ওপর বিছিয়ে দেওয়া উলুখড় জাতীয় উপাদানের ছাউনি। এমন ঘরের মধ্যে থাকলে ঝড় মনে হয় অন্য মাত্রার। 

উঠোনের পাশ থেকে খানিকটা দূর পর্যন্ত এগিয়ে গেছে আমবাগান। সেই আম গাছগুলির রয়েছে নিজস্ব একেকটি মুখ। তাদের ছায়ায় সকালে-দুপুরে সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম। কারো-কারো শিকড় গুঁড়ির কাছাকাছি বেরিয়ে এসেছিল সিংহাসনের মত। সেখানে অনেক অনেক একাকী দুপুরে বসে চলত কত না কথোপকথন। তারাও আজ আর আমার জগতে নেই। 

বাইরে ঝড়ের উল্লাস আর ঘরে বসে মায়ের যথারীতি দুশ্চিন্তা। সেবার আম গাছগুলিতে প্রচুর আম হয়েছিল, পাতা আর দেখা যায় না। গাছে আম যথেষ্ট হলে মায়ের খুব আনন্দ। মা বলত, 

‘আমে ধান, তেঁতুলে বান।’

আম যখন এত হয়েছে ধানের ফলন ভালোই হবে। কিন্তু এই ঝড় না ধানের সর্বনাশ করে! মায়ের তাই দুশ্চিন্তা। হাওয়ার একেকটি ক্রমাগত ঝাপটা হৈ-হৈ করে বয়ে যায় আর তাতে ঘরের চালার কাঠামো মড়মড়াৎ আর্তনাদ তোলে। ভয় তার জন্যও, চালা উড়েও যেতে পারে। লাবণ্যের সঙ্গে বসে বসে মা নানারকম দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে,

‘এ হে! এই ঝড়ে আম আর কিছু থাকবে না গাছে। সব পড়ে যাবে।’

গাছতলায় পড়া আমগুলি কুড়িয়ে আনার কথাও হচ্ছিল। লাবণ্যের তাতে খুবই উৎসাহ। ইচ্ছে মায়েরও কম নয়। আবার ঝড়ের মধ্যে বাইরে যাওয়ার সাহসও ছিল না তখনই। মড়মড়মড়াৎ এবং ঝপাস ধরনের এক ভূমিকম্পের আওয়াজ। মা বলল, 

‘গাছ-টাছ পড়ল নাকি উপড়ে?’

ঝড় কিছুটা থিতিয়ে এলেই লাবণ্যকে সঙ্গে নিয়ে মা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে তখনও ঝিরঝির। মাথায়-পিঠে মা আর লাবণ্যের পুরনো কাপড়ের আচ্ছাদন, যতটা না ভেজা যায়। হাতে ঝুড়ি। সেই ঝুড়িতেও হল না, ঘর থেকে বস্তা নিয়ে যেতে হল। গাছতলায় আম বিছিয়ে আচ্ছাদন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার ওপর একটা বিশাল আমের ডাল ভেঙে পড়েছিল। 

বাইরে ঘুটঘুটে প্রেতলৌকিক অন্ধকার। তবে ঝড়ের পর আকাশ জুড়ে ছিল এক অপার্থিব আলোর আভাস। তার মধ্যেই চলল মায়েদের আম কুড়োনো, প্রায় রাত কেটে গেল। ভোর হওয়ার উপক্রম। পশ্চিমের ভিটেতে ছিল আমাদের একটা বড় ঘর। প্রস্থে অন্তত পনের ফিট আর দৈর্ঘ্যে পঞ্চাশ ফিটেরও বেশি। আম কুড়িয়ে রাখা হচ্ছিল সেই ঘরে। সকালে উঠে দেখেছিলাম, ঘরের মেঝেভর্তি কেবল আম আর আম। আম জমে মেঝের উচ্চতাই উঠে গেছে কয়েক ফিট। 

সেই আমবিছানো ঘর, সেই ঝড়ের রাত, মায়ের মুখ আর আম কুড়োতে কুড়োতে তার উত্তেজিত গলার স্বর আমার কাছে এখনোও আশ্চর্য জীবন্ত। ফিরে তাকিয়ে স্পষ্ট দেখি, হারিয়ে যাওয়া সেইসব মুখ। তবুও অবাক লাগে, আমি কি সত্যি ছিলাম? প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *