তাপস সরকার

লেখক পরিচিতি 

( সৃজনশীল সাহিত্য কর্মে নিয়োজিত কিশোর  বয়স থেকেই। প্রথম পঠিত গ্রন্থ রামায়ণ, মহাভারত ও গীতা। গদ্যসাহিত্য ও উপন্যাসেই সাবলীল। যদিও শতাধিক গল্প ও দশ-বারোটি উপন্যাসের রচয়িতা কিন্তু সেসব হারিয়ে গেছে অপ্রীতিকর কারণে। প্রিয় বিষয় মহাকাশবিদ্যা। কল্পবিজ্ঞান ও কিশোর সাহিত্য প্রিয় লেখা।কিছু গল্প নব্বইয়ের দশকে বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত। উন্মীলন নামে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকায় নিজের গল্প ও দুটি উপন্যাস ছাপা হলেও সেই উদ্যোগ থেমে যায়।প্রতিভাস সাহিত্য ম্যাগাজিন চলছে পনের বছর যা মায়ের নামে। সেখানে মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদিত লেখা স্মৃতিচিত্রণ ও বেশ কিছু ছোটগল্প। নব্বইয়ের দশকে কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে কিছুদিন লিটল ম্যাগাজিন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থেকে জেলায় জেলায় সাহিত্য আসরে ঘোরাঘুরি। বিশ্বকে নিজের ঘর বলে ভাবতে অভ্যস্ত। মায়ের মৃত্যুর পর অবসাদে দীর্ঘদিন লেখায় বিরত। তারপর আবার লেখা শুরু কিশোর সাহিত্য ‘গাছবাড়ির বাসিন্দা ‘ দিয়ে। পেশায় অর্থনীতি বিষয়ের অধ্যাপক। ) 

অধ্যায় : কুড়ি

তবুও আমরা মানুষ দেখার অভিযান ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারলাম না। মানুষ দেখা বা মানুষ খোঁজা। আরও স্পষ্টভাবে বললে বলতে হয়, ঠিক মানুষের সন্ধান। তবে এসব অভিযানের সব কৃতিত্ব একা রিক্তই দাবি করতে পারে। আমার শখ বা উৎসাহ মিটে গেছে আর হরহামেশা বিরক্তি প্রকাশ করি ওই সোনার পাথরবাটি ঠিক মানুষের দেখা পাচ্ছি না বলে। আমার মত মানুষগুলির এমনই স্বভাব, ঘন ঘন পরিবর্তন দেখতে চায়, কোন বিষয়ে লেগে থাকতে পারে না। মা বলত, লেগে থাকলে মেগে খেতে হয় না। যতই আপ্রাণ চেষ্টা করুক না মা, আমাকে যেমনটা বানাতে চেয়েছিল তেমনটা হইনি কোনমতেই। লেগে থাকতে পারিনা কোন ব্যাপারে, আর তাই ভিক্ষাবৃত্তি স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। সঙ্গদোষ বলেও একটা ব্যাপার আছে। আমি যে এলাকার যে শহরে বসবাস করি তা রাজ্যের দক্ষিণপ্রান্তে দক্ষিণী জেলার অন্তর্গত, আর এই এলাকার সমস্ত লোকের এমনই স্বভাব। দিনরাত এই লোকগুলোর সঙ্গেই ওঠাবসা, চলাফেরা। স্বভাব তো বটেই, চেহারাটাও হয়ে গেছে তাদেরই মত। এদের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ বলে বস্তুটি নেই, আর নেই দায়িত্ববোধ ও কাণ্ডজ্ঞান। এরা শুধু টাকা চেনে, আর তা পেতে চায় কাজকর্ম না করেই। লোভ রিপুর প্রবল তাড়না তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। জন্মাবার পরই তাদের প্রধান লক্ষ্য কোনক্রমে বিয়েটা সেরে ফেলা এবং যৌবন থাকতে থাকতেই ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতি নিয়ে বিপুল বটবৃক্ষ সংসার গড়ে তোলা। যেভাবেই হোক অন্যের সম্পদ হস্তগত করা হল তাদের প্রাত্যহিক কার্যকলাপের জ্বালানি। মিথ্যে আর মিথ্যেকথা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং স্বভাব-চরিত্রের মূল উপাদান। এদের মধ্যে ব্যতিক্রমও যে নেই এমন নয়। একটি ব্যতিক্রম আমি প্রত্যক্ষ করেছি আমার জীবনে। সেই ব্যতিক্রমটির কথাই বলতে চলেছি। ব্যতিক্রমটির নাম হারা। 

তার ভালো নাম হারাধন। কেউ আর তা জানে না। এলাকাসুদ্ধ লোক তাকে হারা বলেই চেনে। তার নিজেরও বুঝি ভালো নামটি মনে নেই। সেও নিজেকে হারা নামেই পরিচয় দেয়। যামিনী ডেকোরেটর্সে কাজ করত সে, অনুষ্ঠান বাড়িতে বাঁশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম বয়ে বয়ে নিয়ে যেত। যামিনীর তিন ছেলে, কোনোটিই বাপের ব্যবসা দেখল না। বড় ছেলে মদ-গাঁজা খায়, দ্বিতীয়টি চুরি-ছিনতাই করে জেল খেটে মরছে আর ছোট ছেলে বিয়ের পর বাড়ির দালালি করে আর টাকা চেয়ে বাপকে মারেধরে। সেই দুঃখে যামিনী গলায় দড়ি দিল, ডেকোরেটর্সের ব্যবসা লাটে উঠল আর হারারও চাকরি গেল। কিছুকাল এ-ঘাটে ও-ঘাটে জল খেয়ে হারা শেষপর্যন্ত ট্যাঙ্কার কাছে কাজ পেল, তাও অনিয়মিত কাজ। ট্যাঙ্কার ক্যাটারিং-এর ব্যবসা, নানা অনুষ্ঠানে সারাবছর সে খাবার সাপ্লাই করে। হারার এক ভ্যানরিক্সা আছে। সে ভ্যানে করে খাবার আর বাসনপত্র ইত্যাদি বয়ে নিয়ে যায়। অন্যসময় ট্যাঙ্কার মায়ের ফরমায়েশ খাটে। পাড়া-বেপাড়ার নানা বাড়িতে হারার ডাক পড়ে নানা কাজে। ঘর ধোওয়া, বাড়ি ঝাঁট দেওয়া, জল বওয়া, মুদি বা বাজারের মালপত্র এনে দেওয়া, বাড়ির ছাদ বা ঘর মোছা, জঞ্জাল সাফ করা ইত্যাদি কোন্ কাজে হারা নেই? পঞ্চাশ-একশ-দু’শ, যে যা টাকা দেয় হাসিমুখে নেয় এবং যা খুশি কাজ করে দেয় আর লোকের বাড়ির নানান বাতিল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য হারা নিয়ে যায়। যা দেখে বোঝে ফেলে দেওয়ার উপযুক্ত তাই সে চাইতে থাকে এবং শেষপর্যন্ত আদায় করে ছাড়ে। তার ঘ্যানঘ্যানানি শুনে আর বিরক্ত হয়ে লোকে যা সে চাইবে তা দিয়ে মুক্তি পেতে চায়। চেয়েচিন্তে সে সোনারপুরে কয়েক কাঠা জমি কিনে গোটা একটা বাড়ি বানিয়ে ফেলেছে। বিয়ে করেছে, চার-পাঁচটি ছেলে-মেয়ের বাবা পর্যন্ত হয়েছে এবং মেয়েগুলির বিয়ে দিয়ে ছেলেকেও বিয়ে করিয়েছে। তবুও হারা যা দেখবে তাই চাইবে লোকের কাছে। পুরনো ফ্যান বা লাইট বা ঘড়ি, টাইলস্, ব্যাগ, চেয়ার, বালতি, ঘটিবাটি, টিভি ইত্যাদি কী না সে চেয়ে পায়? লোকে বিরক্ত হলেও হারাকে ডাকে, কারণ হারা কাজে ফাঁকি দেয় না এবং সে চুরি করে না। সে যা নেবে না দিলে বেজার হবে কিন্তু না বলে তৃণটি নেবে না। তাই নানা কাজে হারাকেই ডাকে সবাই।

আমিও হারাকেই ডাকি, সপ্তাহে বা মাসে একবার-দু’বার-তিনবার। গ্যারেজ ধোওয়া, ঘরের লাইট-ফ্যান মোছা, পুরনো কাগজ বিক্রি করা, সিঁড়ির তলার জঞ্জাল সাফ করা, বাড়ির চারপাশে ঝাঁট দেওয়া, ছাদে জল ঢেলে পরিষ্কার করা ইত্যাদি কাজের কি কোন শেষ আছে? হারাকে না পেলে অসহায় হয়ে যাই। বাড়িতে মিস্ত্রি রংয়ের কাজ বা ছাদ মেরামত করে গেছে, সিঁড়িতে এবং ল্যান্ডিং-এর সর্বত্র নোংরা আর বালি কিচকিচ করেই যাচ্ছে। হারা এসে ধুয়েমুছে সাফ করে না দিয়ে যাওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই। হারা কাজ করে, আমি সঙ্গে থেকে কাজ দেখাই। সে বকবক করে যায়, কাজও থামায় না কথাও থামায় না। ট্যাঙ্কা আর তার মা তাকে কিভাবে নিষ্পেষণ করে, কিভাবে তাকে খাটায় অথচ প্রাপ্য টাকা দেয় না, নানা বাড়ির লোকরা কেন কিভাবে কেবল তাকেই পেতে চায়, আমার দাদার চেম্বারে বা ঘরে সে কী কী কাজ করে, তার নিজের বাড়ির কোন্ কোন্ অসমাপ্ত কাজ সে সম্পন্ন করবে, তার ছেলেমেয়েদের কী কী চালচলন বা আচার-আচরণ তার ফিরিস্তি সে একটানা শোনাতেই থাকে, অবিশ্রাম কাজও চলে সঙ্গে সঙ্গে। রোগাপাতলা, বেঁটেখাটো অথচ শক্তসমর্থ চেহারা, চোখের কোলে পিচুটি জমা, খোঁচা খোঁচা না-কাটা দাড়ি, ইদানিং দাড়িতে পাক ধরেছে আর বয়সের ভার সামর্থ্য খানিকটা খর্ব করেছে। ভারী জিনিস বেশি আর নিচু হয়ে তুলতে কষ্ট হয় বা বসে বসে মোছামতি করতে ক্লান্তি আসে। বয়স তো ষাট হবে বা পেরিয়েছে, কিন্তু চেহারায় চল্লিশ বছর ধরে একই আছে প্রায়। টসকায়নি আপাতদৃষ্টিতে কোন কোণায়। সেই একই ঢঙ্গে ছোটাছুটি করে রাস্তা ধরে দেখি সারাদিন, ভ্যান চালিয়ে একই ভঙ্গিতে মালপত্র বয়ে নিয়ে যায়। পুরনো স্যান্ডো গেঞ্জি আর বারমুডা বা হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি ভাঁজ করে পরনে। হারা ব্যস্ত সারাদিন কাজের তাড়নায়। বেলা দুটো-তিনটে নাগাদ সে রেক্সিনের বাজারব্যাগে তার পোশাকপত্র নিয়ে যাদবপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে বাড়ি যাওয়ার। ট্যাঙ্কার ক্যাটারিং-এর অর্ডার থাকলে তাকে সন্ধে পর্যন্ত থেকে যেতে হয় বা সারারাত। তখন সে পাড়ার পাঠাগার ক্লাবে রাত কাটায় বা বাঘাযতীনে ছোট মেয়ের বাড়িতে থেকে যায়। হারাকে ছাড়া উপায়ও নেই, আবার তাকে ডেকে কাজে বহাল করলে নাজেহাল হতে হয় সে যতক্ষণ থাকে। তাই তাকে ডেকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে আমি পালিয়ে যাই সামনে থেকে। সে ছোড়দা-ছোড়দা বলে যতই কাছে রাখতে চায় আমাকে আমি ততই এড়িয়ে থাকি। হারার চোখ ভয়ানক। সে চোখ ফাঁকি দিতে পারে না কোন বস্তু। ‘ছোড়দা, টিভিটা পড়ে আছে ক্যানো বাবা? দ্যাখো না আর, তাই না?’ পাঁচ-ছ’ বছর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় কেনা বাক্স টিভিটা ফেলে রেখেছি তিনতলার ঘরে, নতুন বড় মাপের এলইডি টিভি তার স্থান নিয়েছে। দোতলার দেয়ালে বসার জায়গায় পুরনো টিভি পড়ে আছে। কেন পড়ে আছে জানিনা, পড়ে আছে তো পড়েই আছে। তিনতলার ঘরে নানা কাজে হারাকে নিয়ে গেলে সে থেকে থেকে শোনায় কেবল, ‘সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরি বিশ্রাম নিতি নিতি টিভি দেখতুম। একটা টিভি থাকলে ভালই হয়। ও ছোড়দা, বলি তোমার ওই টিভিটা কী করবে? ওটা দ্যাখো না তো তুমি, তাই না?’ হারার টিভির জন্য হা-হুতাশ শুনতে শুনতে পাগল হয়ে যাই। পালিয়ে যাব কোথায় ? দেখলেই শোনায় তার হাহাকার। বিরক্ত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে দিয়ে দিলাম তাকে সেই টিভি। নাচতে নাচতে টিভি ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়ে চলে গেল। এক-দু’মাস পর মনে হলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিরে, টিভি দেখছিস তো?’ হারা নিরাসক্ত গলায় জানালো, ‘কখন আর দেখি ছোড়দা বলো? ছোট মেয়ে চাইলো, দিয়ে দিলুম।’ শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম। রেগেমেগে বললাম, ‘দিলাম তোকে, দিয়ে দিলি মেয়েকে? দাঁড়া, আবার কিছু চেয়ে দ্যাখ্, সোজা ভাগিয়ে দেব।’ হারা আমাকে বোঝাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, সান্ত্বনা দিতে দিতে বলে, ‘ও ছোড়দা, ভেবো নি গো। মেয়ে বলেছে আমাকে একটা নতুন টিভি কিনি দেবে। কাজকাম করে বাড়ি ফিরি ঘুম পেয়ি যায়। ও ছোড়দা, ভোরবেলা উঠি তো, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। টিভি আর দেখা হয় না। ছোট মেয়ে নিয়ি গেল দেখি না বলেই। আমাকে একটা কিনে দেবে মেয়ে।’

এমনি করে আমার কাছ থেকে নিয়ে যায় পুরনো টিউবলাইট, বাল্ব, টেবিলপাখা, বাক্স, স্টোভ এবং আরও কত কী। কিছু আবার বিলিয়ে দেয় মেয়েকে। ঘর ধুয়ে, গাড়ি মুছে, আবর্জনা পরিষ্কার করে একশ-দু’শ টাকা নিয়ে যায়, কিন্তু নিজের জন্য খরচ করে না কিছুই। একটা গামছাও কেনে না, খাবারও নয়। সব সে চেয়েচিন্তে নেয় এবং পায়ও লোকের কাছে। টাকা নিয়ে করে কী? হ্যাঁ, বাড়ি করেছে, একতলা বাড়িতে ছাউনি শুনেছি অ্যাসবেসটসের। বড় শখ তার ঢালাই ছাদ করবে, দোতলা বানাবে। তার জন্যই হয়তো সব টাকা জমিয়ে রাখে। পরে একদিন খবর পেলাম যে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি সবাই তার ঘাড়ে বসে খায়। দক্ষিণের লোকেদের যা চরিত্র হারার ছেলেও তাই। কাজ না করে ঘুরে বেড়ায় আবার বাবার কাছে ফুর্তির জন্য টাকা চেয়ে নেয়। না পেলে ঝগড়া করে এবং বাপকে ধরে পেটায়। মেয়েরাও কারণে-অকারণে বাপের কাছে হাত পাতে। হারা ছেলে বা মেয়ে কাউকে ফেরায় না, হাড়ভাঙ্গা খাটুনির টাকার সে ছেলে আর মেয়েকে হাসিমুখে বিলিয়ে সুখ পায়। 

হারা তার বাড়িতে এক মন্দির বানাচ্ছে। কবে থেকে বানাচ্ছে সেই মন্দির? যবে থেকে তাকে দেখছি শুনে আসছি তার মন্দির নির্মাণের কথা। হারার মন্দির আর বিড়লাদের মন্দির সমগোত্রীয়, কোনজন্মে তার নির্মাণ শেষ হয় না। চিরকাল মন্দিরের কাজ চলতেই থাকে। হারার মন্দির বানানোর কাজও বুঝি সম্পূর্ণ হতে শুনব না কোনদিন। আমার বাড়িতে মার্বেল আর টাইলসের কাজ হল, যা অতিরিক্ত পড়ে রইল হারা চেয়ে নিয়ে গেল মন্দিরে লাগাবে বলে। জলের কল, বেসিন, পাইপ, পাখা, ভেলভেটের কাপড়, চুমকি, পর্দার কাপড়, পর্দার রড ইত্যাদি কত কত বস্তু সে বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের জন্য চেয়ে নিয়ে গেছে। সব দিয়ে সে তার মন্দির সাজাবে। সঙ্গে ফিরিস্তি দেয় কে কে তাকে কী কী দিয়েছে মন্দিরের জন্য। এমনিতেও কার কাছে সে কী পায় তার কথা শোনায় সর্বক্ষণ, তাতে যে কেবল মন্দিরের জন্য পাওয়া জিনিসের হিসেব থাকে এমন নয়, দাতা লোকেদের গল্প বলে আমাকেও দাতা হওয়ার নেশা ধরিয়ে দিতে চায়। গ্যাস ওভেন, হিটার, ইন্ডাকশন ওভেন, টোস্টার ইত্যাদি যা বাড়তি বা ঝড়তি হয়ে যায় সবই যায় হারার খপ্পরে। বাড়িতে বলি, ‘হারার হল রাহুর গ্রাস। সবসময় মুখ হাঁ করেই আছে। যা পাবে সব গিলে খাবে।’ পুরাণে বর্ণিত আছে, রাহু মুখসর্বস্ব অস্তিত্ব, দেহ বলে কোন বস্তু নেই, তাই সে সব গেলে কিন্তু খেতে পারে না। যা খায় তা তার কোন কাজে লাগে না। হারারও রাহুর মত দশা। কাজ করে বা চেয়েচিন্তে যা সে পায় সব যায় অন্যের ভোগে, সে ছেলেমেয়ে হোক বা মন্দিরের ঠাকুর।

হারার মন্দিরের গল্প তার চরিত্রের মতোই চমকপ্রদ। সে হল রাধাকৃষ্ণের মন্দির। দোলপূর্ণিমার সময় সে মন্দিরে বড় করে পুজো দেয় আর উৎসবের আয়োজন করে। বড় করে ভোগ দেয়, লোক নেমন্তন্ন করে খাওয়ায়। উৎসব উপলক্ষে বসে কীর্তনের আসর, চলে নাচগান। হারা সেদিন পাটভাঙ্গা নতুন ধুতি পরে আর চাদর গায়ে দেয়। সকাল সকাল স্নান সেরে পুজোয় বসে, উপোস করে সকাল থেকে। অতিথিদের সে আদর-আপ্যায়ন করে। প্রত্যেকবারই বায়না ধরে আমাকে যাওয়ার জন্য, পাড়া-বেপাড়া থেকে কে কে গেছে তার উৎসবে সেই তালিকা শোনায়। আমি তবু যাই না। সে দুঃখপ্রকাশ করে সদাসর্বদা। আমার দাদা সপরিবারে গিয়েছে, আমার মেয়ে আর তার মাও গিয়েছিল একবার। তাতেও খুশি হয় না হারা, বড়ই তার অনুযোগ আমি যাই না বলে। যাওয়া হয়ে ওঠেনা নানা কারণে। জীবনে অনেক আকর্ষণ, অনেক ভালোলাগা রয়েছে যাদের পেতে ব্যস্ত থাকি সর্বসময়। হারার মন্দির বা বাৎসরিক উৎসব তাদের মধ্যে একটিও হতে পারেনি আমার কাছে। আমি বেঁচে আছি আমার নিয়মে, সেখানে হারা বা তার উৎসবের ছাপছোপ দেখা পাওয়া যায় না।

তবুও হারার মন্দির আমার জগতে একটি প্রসঙ্গ হয়ে থেকেই যায়, আমি চাই বা না চাই। ওকে নানা কাজে ডাকতে হয়, কাটাতে হয় ওর সঙ্গে কিছু না কিছু সময়, আর তখন সে শুধু শোনায় তার মন্দিরের কথা। মন্দির ঘিরে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পরিকল্পনার পাশাপাশি সে আড়েঠারে জানাতে থাকে আমি কিভাবে তার স্বপ্নপূরণে সহায় হতে পারি।

‘ছোড়দা, তোমার সব জানলা আর দরজাতে তো পর্দা আছে?’

তার প্রশ্ন আমাকে অবাক করে। কেমন একটু থতমত খেয়ে যাই, ইতিবাচক উত্তর জানাই দ্বিধাগ্রস্তভাবে। হারা বলতে থাকে,

‘তাহলি আর কোন পর্দা লাগাতি হবে না। ভালো বাবা, ভালো। কোথাও আর রড লাগাতি হবে না, তাই না বাবা?’

হারার মতলবটা কী তাই নিয়ে সন্ধিগ্ধ হতে থাকি। ওর চরিত্র মুখস্থ হয়ে গেছে বলেই সাবধান হওয়া প্রয়োজন মনে করি। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও পার পাই না। হারার চাহিদার আঘাত খেতেই হয়।

‘তোমার ওই পর্দার রডগুলি তো পড়ি আছে, তাই না বাবা? আমার ঠাকুরের মন্দিরে পর্দা লাগাতুম। একটা রড পেলিই হয়ি যেত।’

সত্যিই পর্দা লাগাবার লম্বা পাইপ কয়েক টুকরো ছিল পড়ে এতদিন। হারা যখন দেখল আর পেতে চাইল তার মধ্যে ওই পাইপ আমারও কিছু কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা করে ফেলেছিলাম। তাকে সেটা জানালে তার মুখ কালো হলেও সে বলল,

‘তোমার কাজে যদি লাগে তো লাগাও। দেখো যদি থাকে কিছু পড়ি তো দিও আমাকে। মন্দিরে পর্দা লাগাতুম কিনা।’

তারপর থেকে দেখা হলেই পর্দা লাগাবার প্রসঙ্গ তোলে হারা। ততদিনে পাইপ বাড়িতে ব্যবহার করে ফেলেছি। কিন্তু হারার ক্রমাগত তাড়নায় আমি অস্থির। রড কোথায় পাই ওর মন্দিরের পর্দা লাগাবার জন্য? বাড়িতে বলি,

‘হারার জন্য মনে হচ্ছে এবার পর্দা লাগাবার পাইপ কিনেই না দিতে হয়!’

বাড়িতে ছাদ ও অন্যান্য কিছু মেরামতির কাজে হাত দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ল। সরাসরি নিজে মিস্ত্রি না লাগিয়ে এক ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করে নিলাম। মালপত্র-মিস্ত্রি সব জোগাড় করে সে কাজের তদারকি করবে। মিস্ত্রিরা কাজ করে যায়, সিঁড়ি-ঘরদোর নোংরা হয়ে থাকে। ঠিকাদারের লেবার যা পরিষ্কার করে তা দায়সারা। বাধ্য হয়ে হারাকে ডাকি। সে অন্য সব কাজ সেরে বাড়ি যাওয়ার আগে কাজে লাগে। বাড়ির গেটের কাছে রাস্তায় বালি রেখেছিল ঠিকাদার। হারার চোখে পড়ে তাতে। আমার কাছে জানতে চায়,

‘ছোড়দা, তোমার তো কাজ হয়ি গেছে, তাই না বাবা? ওই বালি আর লাগবেনি। আমার মন্দিরে ইট আর বালি লাগবে। ভাবলুম, যদি ছোড়দার কাছে বালি পাওয়া যায়, ছেলে বলল তোমাকে বলতি।’

কাজ হয়ে গিয়েছিল ঠিকই, বালিও পড়েছিল রাস্তায় খানিকটা যেমন বললাম। কিন্তু চুক্তিমত ঠিকাদার তখনও রাবিশ সরায়নি। লোকটার সঙ্গে রোজই খটাখটি হয় নানা কারণে। হারাকে বললাম,

‘দ্যাখ্ হারা, ও ঠিকাদারের বালি। ও রাবিশ সরাবে, বালি নিয়ে যাবে। যদি বালি আমি চাই তো রাবিশ আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে। ও আগে রাবিশ ফেলুক, যদি বালি পড়ে থাকে তোকে দিয়ে দেব। কিন্তু ঠিকাদার যদি তার বালি নিয়ে যায় আমি তার কাছে চাইতে পারব না।’

‘না-না ছোড়দা, ঠিকাদার নিয়ি গেলি নিয়ি যাক। যদি রেখি যায় তো আমি নিয়ি যাব, কেমন?’

হারার সঙ্গে যেদিন কথা হলো তার পরদিন সন্ধেবেলা ঠিকাদার এসে রাস্তা থেকে রাবিশ আর বালি দুটোই নিয়ে চলে যায়। হারা এসে আমাকে বলে,

‘বালি নিয়ি গেছে ঠিকাদার, ছোড়দা?’

আমি জানাই,

‘হ্যাঁ রে, নিয়ে গেছে। যদি রেখে যেত তোকে দিতাম। আমি বালি চাইনি, তাহলে বদমাশটা রাবিশও আমার ঘাড়ে চাপিয়ে যেত। ওই রাবিশ তখন তোকেই আবার ফেলার ব্যবস্থা করতে হত।’

হারা সতেজ গলায় বলল,

‘ভালো করেছ ছোড়দা। রাখতি হবে নি বালি। যাক, ওর বালি ও নিয়ি গেছে। ও ভালোই হলো, কী বল ছোড়দা?’

সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে হারা। আমার ভিতরে কী যেন খচখচ করতে থাকে। মুখে তা প্রকাশ করি না, তবে কী যেন একটা অশান্তি থেকেই যায়।

দু’দিন পরই বাড়ির পিছনে সয়েল লাইন মেরামতের কাজে হাত দিতে হয়। এবার চেনা প্লাম্বার সুজিতের সঙ্গে চুক্তি করি। পুরনো মাটির পাইপ সরিয়ে সুপ্রিমের কমলা সয়েল পাইপ বসিয়ে পিট বানিয়ে তার ওপর ঢালাই চাপিয়ে নেট সিমেন্ট পালিশ করে দেবে কথা হয়। দলবল নিয়ে কাজ সারে সুজিত পরিপাটি, রাবিশের বস্তাগুলি বাড়ির সামনে প্যাসেজে ফেলে যায় পরদিন সকালে ভ্যান এনে সরিয়ে দেবে বলে। আর বস্তাখানেক বালি বাড়ির পিছনে জলের রিজার্ভারের পাশে ফেলে রাখে। সুজিতের এক সাগরেদ দিলীপ সব গুছিয়ে রাখছিল। বালিটা এমনি ফেলে যাচ্ছিল, বকেঝকে একটা বস্তায় ভরিয়ে রাখি এবং বলি বাড়ির সামনের প্যাসেজে রাবিশের বস্তার পাশে গিয়ে রাখতে যাতে নিয়ে যেতে ভুলে না যায়। বস্তাভরা বালি পড়ে থাকা মানে বাড়ির প্যাসেজে আবার রাবিশ জমে থাকা। দিলীপ গররাজি হতে থাকে, অত ভারী বস্তা অতটা বয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকে না তার। আমিও তাকে জোরাজুরি করি না, কারণ আমার মনে ভেসে ওঠে তখনই হারার মুখ, ঠাকুরের মন্দিরের কাজে লাগাবে বলে তার এক বস্তা বালি পাওয়ার জন্য আকুতি। দিলীপ চলে যাওয়ার পরপরই আমি হারাকে ফোন করি। বলি,

‘এক্ষুনি চলে আয়। তোকে বালি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এসে নিয়ে যা।’

হারা কাজ করছিল ট্যাংকার বাড়িতে, কাজ ফেলে ছুটে আসে। বাড়ির সামনে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়, উৎসাহে টগবগ করছে। বাড়ির গ্রিলের গেটে হাত রেখে উত্তেজিত ভঙ্গিতে জানতে চায়,

‘বালি কোথায় রেখিছ গো ছোড়দা?’

দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলি,

‘গেট খুলে যা বাড়ির পিছনে। দ্যাখ্ গিয়ে এক বস্তা বালি সুজিতরা কাজের পর রেখে গেছে।’

শুনে হারার সেই টগবগানি কি একটু ম্লান হয়ে যায়? বুঝতে পারিনা। গেট খুলে গিয়ে বালি দেখে আসে হারা। রাস্তায় ফিরে এসে ওপর দিকে তাকিয়ে আমাকে প্রশ্ন করে,

‘ও বালি কার গো ছোড়দা?’

আমি তাকে সপাটে বলি,

‘ও তোকে দেখতে হবে না। ওটা সুজিতরা এনেছিল কাজের জন্য। লাগেনি বলে ফেলে গেছে। পরে হয়তো নিয়ে যাবে। তুই তার আগে নিয়ে চলে যা। তোর ভ্যানটা নিয়ে আয়। সুজিতরা জানতেও পারবে না। জিজ্ঞেস করলে বলে দেব, কে নিয়ে গেছে আমি জানি না।’

হারার সেই উত্তেজনা সেই উৎসাহ নিভে গেছে, কিন্তু মুখে হাসি অটুট আছে। বিষণ্ন হলেও তাতে রয়েছে নিরাসক্তি, অপার্থিব কী এক সুষমামণ্ডিত, যে হাসি জ্ঞানীব্যক্তিরা হাসে মূর্খদের বোকামি দেখে। আমাকে অবাক করে দিয়ে হারা নিস্পৃহ গলায় মুখে সেই মৃদু হাসি রেখে জানায়,

‘না গো ছোড়দা, ও অতটা বালি আমি একা নিয়ি যেতি পারবুনি। রেখি দাও, লাগবেনি আমার।’

আমি হতভম্ব হয়ে যাই। বলে কী হারা? ওকে যেচে কিছু দিতে চাইছি যা পেতে ও ব্যাকুল অথচ হেলায় সে তা প্রত্যাখ্যান করছে সুমধুর হেসে, এমন আজব কান্ড জন্মে ঘটেনি। আমি নিজেকে সামলে বকুনি দিয়ে বলি,

‘দু’টো বস্তায় ভাগ করে নিয়ে যা। তোর তো ভ্যান রয়েছে, তাতে চাপিয়ে নিয়ে যাবি। বলছি নিয়ে যা, নয়তো সুজিত নিয়ে গেলে আর পাবি না।’

হারা সেই একই হাসি মুখে রেখে বলে নিরাসক্ত গলায়,

‘ওর বালি ওকে নিয়ি যেতি দাও। ও আমার লাগবেনি।’

প্রতিবেশী দেবরায় বাড়ির ড্রাইভার অলক বাইক রেখে দাঁড়িয়ে ছিল। সে হারাকে পরামর্শ দেয়,

‘নিয়ে যা না। তোর ভ্যান তো ক্লাবের মাঠেই আছে। স্যার যখন বলছে তোর অত চিন্তা কী?’

হারা আমাকে ছেড়ে অলোককে বোঝায়,

‘সুজিতের সঙ্গে দিনেরাতে দেখা হয়। ওকে না বলি ওর বালি নিয়ি যেতি পারবুনি। সুদুমুদু বদনাম কিনতি যাবু কেন?’

আমি হারাকে ধমক লাগাই,

‘সুজিতকে যা বলার আমি বলব, তোকে তা ভাবতে বলছে কে। তোর বালি লাগবে, তুই নিয়ে যা। আমি তোকে দিচ্ছি।’

হারা সেই অপরূপ হাসি মুখে রেখে অনড় ভঙ্গিমায় বলে,

‘না গো ছোড়দা, ও বালি নিতি পারবুনি। আমি যাই এখন, মেলা কাজ পড়ি আছে।’

অলোক বোঝায়, আমি বোঝাই। হারাকে নরম করা যায় না। ও চলে যায় তাড়াহুড়ো দেখিয়ে। আমি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। অলক বলে,

‘ছাড়ুন তো। ন্যালাক্ষ্যাপা পাগলা কোথাকার। মানুষ নাকি?’

আমি ভাবতে থাকি, মানুষ তাহলে কে। হারা আমার ভিতর পর্যন্ত নাড়িয়ে দিয়ে যায়। আমি বোবা হয়ে থাকি, মুহ্যমান থেকে যাই। হারা মানুষের সমস্ত অসুখগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আর একই সঙ্গে দেখিয়ে দেয় আমার অসুখটাও। কেবল ‘না বলিয়া পরের দ্রব্য অপহরণ করা’ নয়, ‘অপরের দ্রব্য অপহরণে কাউকে প্রলুদ্ধ বা প্ররোচিত করা’-টাও তো অসুখ অবশ্যই। হারা, সেই অসুস্থ দক্ষিণ অঞ্চলের হারা আমার মত সুসভ্য সুনাগরিককে মুখে সপাটে থাপ্পড় মেরে বুঝিয়ে দিয়ে যায় কেন আমি অসুস্থ, কারণ আমি ডার্ক ডাইমেনশন দিয়ে গড়া এক অতিকায় অন্য বিশ্বের অস্বাভাবিক বাসিন্দা।

আমি ছুটে চলে যাই রিক্তর কাছে। তাকে গিয়ে হারার কাহিনী সবিস্তারে জানাই। শুনতে শুনতে রিক্তর মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সে উজ্জ্বীবিত গলায় বলে,

‘তাহলে তুই বিশ্বাস করতে পারছিস তো এভাবেই ঠিক মানুষের সন্ধান একদিন পাওয়া যেতে পারে?’

আমি চঞ্চল গলায় তাকে প্রশ্ন করি,

‘হারাকে দিয়ে ঠিক মানুষ পাব কিভাবে? হারা নিশ্চয়ই ঠিক মানুষ নয়?’

‘নয়। কিন্তু হারা ঠিক মানুষের দিকে একটা পদক্ষেপ। সে কিছুটা ঠিক মানুষ অবশ্যই। ঠিক মানুষ খুঁজতে শুরু করেছিস বলেই তুই তাকে দেখতে পেলি। আরও খুঁজলে তুই আরও দেখতে পাবি এমন আরও অনেক মানুষ আছে যারা এমনই ঠিক মানুষের যাত্রাপথে থাকছে। তাদের পেতে পেতে আর বুঝতে বুঝতে তুই একদিন সত্যিই ঠিক মানুষকে খুঁজে পাবি।’

‘সে কি আর ইহজন্মে খুঁজে পাব?’

আমি সন্দেহ প্রকাশ করি। রিক্ত সান্ত্বনা দিয়ে সাহস জোগায়।

‘বিশ্বাস রাখলে নিশ্চয়ই পাবি। জানিস না, বিশ্বাস হারানো পাপ? তাছাড়া এই যে ঠিক মানুষের যাত্রাপথের মানুষগুলোকে খুঁজে পাওয়া, তাই বা মন্দ কী? তাদের দেখা পেলেও তুই বেঁচে যাবি, নিজেকে আর একা মনে হবে না। পৃথিবীটাকে মনে হবে মানুষের পৃথিবী। অসুখ-অশান্তি ভুলে যাবি কিছুটা হলেও।’

‘তাহলে চল্, আজ থেকে সেই মানুষদের খুঁজে বার করি যারা কিছুটা হলেও ঠিক মানুষ, যারা রয়েছে ঠিক মানুষ হওয়ার যাত্রাপথে।’

রিক্ত আমার সঙ্গে সহমত হয়। আমরা অভিযানের লক্ষ্য কিছুটা পাল্টে দিই। সরাসরি ঠিক মানুষ খোঁজার পরিবর্তে দেখতে চেষ্টা করি কে বা কারা ঠিক মানুষ হওয়ার যাত্রাপথে নিজেদের রাখতে ভালোবাসে, ঠিক ওই হারার মতো।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন| Prativas magazine

(পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *