আশিস ভৌমিক

লেখক পরিচিতি

 (জন্ম 5 ই এপ্রিল 1974, গ্রাম -বৃন্দাবনচক , পাঁশকুড়া , পূর্ব মেদিনীপুর ।প্রাথমিক পড়াশোনা গ্রামে ।উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতায় ।সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক ।গৃহ শিক্ষকতার ফাঁকে ফাঁকে সাহিত্য চর্চা । বিভিন্ন লিট্ল ম্যাগাজিনে লিখে চলেছেন ।  প্রথম কাব্যগ্রন্থ “”হিরণ্ময়ী ” । দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ” কালবেলা “।

প্রথম পর্ব

বিখ্যাত হলিউড থ্রিলার মুভি 2012 -এর কথা মনে আছে নিশ্চয়। ২০০৯ সালের মার্কিন চলচ্চিত্র, যেটি রচনা এবং পরিচালনা করেছিলেন রোলান্ড এমেরিখ। প্রযোজনা করেছেন হ্যারাল্ড ক্লোজার, মার্ক গর্ডন এবং ল্যারি জে. ফ্রাঙ্কো। চলচ্চিত্রে মায়াবাদ ও মেসোআমেরিকান লং কাউন্ট পঞ্জিকা থেকে সূত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ২০১২ সালের রাহস্যিক বিষয়ের আকস্মিক ও প্রচণ্ড পরিবর্তনের ঘটনা বর্ণনাকারে উন্মোচিত হয়েছে। পৃথিবীর ভূত্বক অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং এর ফলে সৃষ্ট চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্ব ধ্বংস হওয়ার মুহূর্ত নিখুঁত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। একদিকে প্রবল ভূ-আলোড়নে ধ্বসে পড়া বহুতল, রাস্তায় বড় বড় ফাটল আর আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা, প্রান বাঁচাতে লোকজনের দৌড়াদৌড়ি আর অন্যদিকে উত্তাল সমুদ্র সুনামি।

মায়া সভ্যতা’- কথাটা শুনলেই কেমন একটা রহস্যের কুয়াশাঘেরা শিরশিরে অনুভূতি হয়। হ্যাঁ, আমি সেই মায়ান সভ্যতার নিদর্শন,পুরাণ তাদের বিশ্বাস লোকাচার, শিক্ষা আর অবশ্যই পুরাণের আড়ালে কিছু রহস্যময়তার শেকড় খুঁজতে চলেছি। তার আগে মায়ানদের সম্বন্ধে দুচার কথা বলে নিই।

রহস্যে ঘেরা মায়া সভ্যতার ইতিহাস!

চার হাজার বছর আগের কথা। সভ্য মানুষের জীবন যাপন কিংবা সভ্য সমাজের কথা ভাবাটা অন্তত সেই সময়কালে অবান্তর ছিল বটে! কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য কথা। যে যুগে পৃথিবীর অনেক অংশের মানুষ ঘর তৈরি করতে শেখেনি মানুষ, সেই যুগেও এমন জাতি ছিল যারা নিজেদের সংস্কৃতি সভ্যতায় রীতিমত সচ্ছল জীবন যাপন করত সগৌরবে! প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মায়ারা চাষাবাদ করা শুরু করে এবং কৃষিজীবী গ্রামের উৎপত্তি ঘটে। সবচেয়ে বহুল প্রচলিত গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রথম মায়া জনবসতি নিঃসন্দেহে প্রশান্ত উপকূলের সোকোনুস্কো অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বিশ পঁচিশ তলা পর্যন্ত ভবনও তৈরী করেছিল তারা। শুধু তা নয়, জ্যোতির্বিদ্যা আর ভাষা নিয়েও ছিল তাদের অভাবনীয় জ্ঞান! অবাক করার মত বিষয় বটে! এমনই হৈ চৈ ফেলে দেয়া ইতিহাস সৃষ্টিকারী জাতি ছিল মায়ানরা। যা বছরেরে পর বছর রয়েছে অন্যান্য জাতির কাছে একদমই অজানা। অদ্ভুত এক পান্ডুলিপি আবিষ্কার হলো হঠাত, যার কোনো অক্ষর নেই, বর্ণ নেই। ভাষা যায় না বোঝা। কিন্তু কিছু একটা বলা আছে তাতে, কিছু একটা যে বলা আছে সেটা ঠিকই বোঝা যায়। ছোট ছোট ছবি পাশাপাশি আঁকা। নৃতত্ববীদদের মনযোগ কাড়লো। ফলত ধীরে ধিরে আবিষ্কৃত হলো অনেক কিছুই। আলোয় আসলো মায়ান সভ্যতার সাতকাহন।

বিশেষজ্ঞদের মতে মায়ারা ছিল মেসো আমেরিকা, বা বর্তমান মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে পরাক্রমশালী প্রাচীনতম জাতি। মায়ারা অন্যান্য জাতির মত বিচ্ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল না, তারা ভৌগলিক একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার মাঝেই ছিল। মায়ারা প্রধানত গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, এল সালভেদরের উত্তরাংশ, কেন্দ্রীয় মেক্সিকোর তাবাস্কো আর চিয়াপাস সহ আরো প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসতি স্থাপন করেছিল। সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকার কারণেই অন্য অনেক শক্তিশালী জাতি মায়াদের লোকালয়ে প্রবেশ করতে বা আক্রমণ করতে পারতো না।

মায়া সভ্যতার লোকেদের তৈরি করা পাণ্ডুলিপি থেকে জানা যায় যে, তারা ভাবের আদান-প্রদান করার জন্যে একটি ভাষার ব্যবহার করত। অদ্ভুত এবং মজাদার ছিল মায়াদের সেই ভাষার লিখিত রূপটি। তাদের কোনো বর্ণমালা ছিল না, তারা লেখার জন্যে ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করত। খানিকটা হায়ারোগ্লিফিক লেখা। তাদের লেখায় প্রায় ৮০০টির বেশি ছবি তারা ব্যবহার করেছিল। মায়ানদের এইসব লেখা থেকে তাদের সভ্যতা আর সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারা যায়। এছাড়াও মায়ারা গাছের বাকল দিয়ে তৈরি করা কাগজ দিয়ে বই বানাতো, সেগুলোকে বলা হয় কোডেক্স। মায়ান সভ্যতার মাত্র ৪টি কোডেক্স উদ্ধার করা হয়েছে অক্ষতভাবে। মায়া জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে আমরা যা জানি তার বেশিরভাগই আমরা সংগ্রহ করি কোডেক্স নামক বার্ক-পেপার বইয়ের পাতায় তৈরি বিস্তারিত নথি থেকে। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, ফ্রান্সিসকান মিশনারিরা তাদের ধর্মকে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় মায়াদের প্রায় সমস্ত লিখিত নথি পুড়িয়ে ফেলেন। আজ, মাত্র তিন বা চারটি মায়া কোডেক্স  অবশিষ্ট আছে। এর মধ্যে তিনটির নামকরণ করা হয়েছে ইউরোপীয় শহরগুলির নাম অনুসারে যেখানে এগুলি রাখা হয়েছে – ড্রেসডেন, প্যারিস এবং মাদ্রিদ। চতুর্থ বই গ্রোলিয়ার কোডেক্স, যা বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত, তার সত্যতা এখনও বিতর্কিত। কোডেক্সগুলি সম্ভবত দ্বাদশ শতাব্দীর আগে লেখা হয়নি , তবে মায়ারা অনেক আগে লেখা বইগুলি অনুলিপি করে থাকতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যান্থনি আভেনির মতে, কোডিসগুলি আচার-অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করা হত, প্রায়শই জ্যোতির্বিদ্যার ঘটনার সাথে সংযুক্ত করে।

কোডেক্সগুলির পৃষ্ঠাতে সাধারণত একজন দেবতাকে চিত্রিত করা হয় এবং দেবতা কী করছেন তা বর্ণনা করে এমন গ্লিফের একটি সিরিজ থাকে। এই বইগুলির অনেক পৃষ্ঠায় এমন সংখ্যার তালিকাও রয়েছে যা মায়াদের চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রের পর্যায় এবং মঙ্গল ও শুক্রের গতিবিধির ভবিষ্যদ্বাণী করতে সাহায্য করেছিল। এর একটি উদাহরণ ড্রেসডেন কোডেক্সের তিনটি পৃষ্ঠার একটি সিরিজ যা শুক্রের পর্যায়গুলি লিপিবদ্ধ করে এবং সেই সাথে অশুভ এবং শুভ গ্রহের সাথে সম্পর্কিত তিজোলকিন তারিখ এবং গ্লিফের একটি তালিকা। মায়ারা বিশ্বাস করত যে শুক্র বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সহিংসতা এবং দুর্ভাগ্যের সাথে জড়িত ছিল। সিরিজের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় এই সম্পর্কটি স্পষ্ট, যেখানে শুক্রের প্রতিনিধিত্বকারী দেবতা কুকুলকানের একটি চিত্র দেখানো হয়েছে, যিনি শত্রুকে বর্শা দিয়ে মারার ভঙ্গিতে রয়েছেন। মায়ানরা আঠারোটি মাস নিয়ে বছর গননা করত আর প্রত্যেক মাস ছিল কুড়ি দিনের (১৮×২০=৩৬০) আর পাঁচ দিন অতিরিক্ত নির্দিষ্ট সময়ে যোগ করা হোত। এই পাঁচদিন তারা অনাগত দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ভয়ে কালাতিপাত করত এবং দেবতাদের তুষ্ট করতে নানান আধ্যাত্মিক ক্রিয়াকর্ম করতো।

পণ্ডিতরা মায়া সভ্যতার যুগের শুরু নিয়ে অবিরত আলোচনা করে যাচ্ছেন। বেলিজের কিউল্লোতে মায়া বসবাসের সাম্প্রতিক আবিষ্কারের কার্বন পরীক্ষা হতে পাওয়া তারিখ অনুযায়ী এটি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৬০০ বছর আগের। তারা বিস্ময়কর কাঠামো নির্মাণ করে। মায়ার বর্ষপঞ্জিকা তথাকথিত মেসআমেরিকানর দীর্ঘ গণনীয় বর্ষপঞ্জিকার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা খ্রিস্টপূর্ব ১১ই আগস্ট, ৩১১৪ খ্রিস্টাব্দের সমতুল্য। আর এই বর্ষপঞ্জির শেষ ছিল ২০১২, ২৩ শে/ মতান্তরে ২১শে ডিসেম্বর। এটিই ছিল মায়ানদের এক যুগ। এর ওপরেই চলচ্চিত্রটি আখ্যায়িত। যদিও পৃথিবীর ধ্বংসের কথা উল্লেখ ছিলনা কিন্তু বানিজ্যিক চলচ্চিত্র সাফল্যের কথা মাথায় রেখে একটু আধটু ইতিহাস বিকৃতি বা গুজব ছড়ানো হয়েই থাকে!

যাইহোক আমার গন্তব্য পুরাণ। আর সব পুরাণের মতো এর সুচনা করবো সৃষ্টি তত্ত্ব দিয়ে। স্পেনীয় আক্রমণে বেশিরভাগ বিনষ্ট হলেও কিছু গোপন দলিল বা নিদর্শন রয়েই যায় আর কিছু জমা থাকে শ্রুতি হিসেবে লোকমুখে যা কৌতুহলীরা সংগ্রহ করে। আমি মায়ানদের পুরাণ “পপোল ভুহ” নিয়ে বলতে যাচ্ছি। যেখানে সৃষ্টি তত্ত্ব অর্থাৎ পৃথিবীর বাসযোগ্য হয়ে ওঠা এবং মানুষের সৃষ্টির পৌরাণিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।

উপনিবেশ-পূর্ব মায়ারা দক্ষ শিল্পী ছিলেন, তারা চমৎকার মূর্তি, মৃৎশিল্প এবং অলংকার তৈরি করতেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ভালো লেখক ছিলেন বলে জানা যায়। তারা হরিণের চামড়া এবং গাছের ছালের মতো পচনশীল উপাদান থেকে বই তৈরি করতেন এবং পাথরে স্থায়ী গ্লিফিক বিবরণও লিখতেন। তবে, মায়া সংস্কৃতি সম্পর্কে আধুনিক ধারণা সীমিত, মূলত কারণ বিজয়ী স্প্যানিশরা পরিকল্পিতভাবে মায়া বই ধ্বংস করেছিল এবং ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসকে দমন করেছিল, যা তারা শয়তান উপাসনা দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করত।

মায়া সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনাগুলির মধ্যে একটি হল এই পপোল ভুহ, যা প্রায়শই মায়া সৃষ্টির মিথ হিসেবে পরিচিত। পোপোল ভুহ, ‘কাউন্সিল বুক’ কিংবা ‘বুক অব দ্য কমিউনিটি’ হিসেবে পরিচিত এই বইটির আসল কপি কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, স্প্যানিশরা অন্য বইগুলোর মতো এটিও পুড়িয়ে ফেলে। তবে ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে এক কিশে মায়া রোমান হরফে নিজের ভাষায় এটি লিখে রাখে। পরবর্তীতে ফ্রান্সিসকো জিমেনেজ নামক এক পাদ্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি তা স্প্যানিশে অনুবাদ করেন। এই ডকুমেন্ট নিয়ে গবেষণার কমতি নেই। ইতিহাসবিদ, জ্যোতির্বিদ থেকে শুরু করে দার্শনিকরাও এটি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেছেন মায়া সভ্যতার রহস্য। আসলে স্প্যানিশ দমনের সময়কালে, পশ্চিম গুয়াতেমালার উচ্চভূমিতে বসবাসকারী কুইচে ব্যান্ডের অভিজাত সদস্যরা গোপনে ” পোপোল ভুহ” রচনা করেছিলেন , যার অর্থ “পরিষদ বই” বা “পরামর্শের বই”, অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যার মধ্যে। এই বিশাল কাব্যিক রচনাটি মায়া জনগণের একটি আধা-ঐতিহাসিক বিবরণ। পোপোল ভুহ একটি জটিল পৌরাণিক ব্যবস্থা বর্ণনা করে যা আকাশ, পৃথিবীর দেবতা, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনা এবং মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সহ দেবতাদের পরিচয় বহন করে। যদিও এটি তারিখবিহীন, অভ্যন্তরীণ প্রমাণ থেকে জানা যায় যে এটি 1550-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে লেখা হয়েছিল, স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা মায়া মাতৃভূমি জয় শুরু করার তিন দশক পরে।

পোপোল ভু– এর লেখক দাবি করেন যে এই কাজের বিষয়বস্তু একটি পূর্ববর্তী বই মায়ান কোডেক্স থেকে এসেছে, যা লেখার সময় তখনও তার কাছে ছিল। স্প্যানিশ কর্মকর্তাদের সমসাময়িক বিবরণ থেকে জানা যায়, যাদের অনেকেই এই ধরনের কোডেক্সগুলি ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে রেখেছিলেন যা পরে হাত বদল হয়। এগুলো বিশেষভাবে প্রস্তুত হরিণের চামড়া এবং ভাঁজ করা বাকল বইয়ের উপর প্রচুর পরিমাণে মায়া ধর্মীয় সাহিত্য (কোডেক্স) লেখা ছিল। কুইচে লেখকরা যে মূল উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন তা সম্ভবত এই ধরণের পচনশীল উপাদান দিয়ে তৈরি ছিল।

পোপোল ভুহ– এর পৌরাণিক কাহিনীগুলিকে প্রাচীন মায়া বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে কতটা গ্রহণ করা যেতে পারে তা নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ সময়ের দাবি মেনে তাতে নতুন গৃহীত পৌরাণিক বিশ্বাসে কিছু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

কিংবদন্তী আর উপকথায় ভরপুর পোপোল ভুহ-এ বৈজ্ঞানিক তথ্যও কম নয়, বিশেষ করে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে অনেক কিছুই লিপিবদ্ধ করা আছে এখানে। কোনো গ্রহ বা নক্ষত্র কখন দেখা যাবে, কখন আবার হারিয়ে যাবে, সবই হিসাব করে দেখানো হয়েছে এখানে। মায়াদের কাছে প্রতিটি নক্ষত্র ও প্রতিটি গ্রহই একেকটি দেবতার প্রতিরূপ। নক্ষত্রের উদয়াস্ত পর্যবেক্ষণ করে তারা বিভিন্ন উৎসব পালন করত, শিকারে যেত, যুদ্ধের মহড়া দিত কিংবা দুর্ভিক্ষের প্রস্তুতি নিত।

বিশ্বের প্রতিটি উপকথাতেই তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যের ব্যাখ্যা, মহাজগৎ কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে কিংবা কীভাবে মানুষ সৃষ্টি করা হল। পোপোল ভুহতে লিপিবদ্ধ সে উপকথাগুলোই তুলে ধরা হল।

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *