দীপান্বিতা

চিনুয়া আকেবে

বিখ্যাত ইগবো বা ইবো লেখক চিনুয়া আকেবে জন্মেছিলেন নাইজেরিয়ার ওগিডিতে। তাঁর আসল নাম অ্যালবার্ট চিনুয়া লুমেগি। বাবা ছিলেন মিশনারী স্কুলের শিক্ষক। যদিও চিনুয়া তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রথাগত ইগবো সংস্কৃতির মূল্যবোধ পেয়েছিলেন কিন্তু তাঁরা ছিলেন ধার্মিক প্রোটেস্ট্যান্ট এবং তাঁকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করে রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী রাজপুত্র অ্যালবার্ট-এর নামে নাম রাখেন ছেলের।

আকেবে ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে উমুয়াহিয়া সরকারি কলেজে পড়েন। ওলে সইংকা, এলেখি আমাদি, জন ওকিগবো, জন পেপার ক্লার্ক ও কোল ওমোস্টো প্রমুখ বিখ্যাত নাইজেরীয় লেখকদের মতো তিনিও ইবাদানের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ইংরেজি, ইতিহাস ও ঈশ্বরতত্ত্বে শিক্ষালাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ব্রিটিশ নামটি পরিত্যাগ করেন এবং দেশীয় নাম চিনুয়া রাখেন। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক হন। লাগোস নাইজেরীয় বেতার কোম্পানিতে যোগ দেবার আগে তিনি আফ্রিকা, আমেরিকা ভ্রমণ করেন ও কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতার কাজ নেন। ১৯৬০ সালে তিনি ভয়েস অব নাইজেরিয়ার বৈদেশিক বিভাগের ডিরেক্টর হন। 

১৯৬৭-৭০ খ্রিস্টাব্দে নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি বিফফ্রিনে সরকারি বিভাগে ছিলেন এবং আমেরিকা ও নাইজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এই সময়ের লেখায় তাঁর স্বাধীনতা উত্তর নাইজেরিয়ার ওপর তীব্র ব্যক্তিগত হতাশার প্রতিফলন রয়েছে।

১৯৬৭ সালে আকেবে তাঁর বন্ধু কবি ক্রিস্টোফার ওকিবোর সঙ্গে একটা প্রকাশনা কোম্পানি খোলেন এনুগুতে। কিন্তু ওকিবো গৃহযুদ্ধে নিহত হন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি নাইজেরিয়ার নতুন ধরনের লেখালেখির মুখ পত্রিকা ওকিকে সম্পাদনা করেন। পরে নাইজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ইংরেজিতে অধ্যাপনা করে ১৯৮১ সালে অবসর নেন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে আকেবে সাম্মানিক অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে সাক্ষাৎ হয় সেখানকার অন্যতম সদস্য জেমস বল্ডইনের সঙ্গে। ১৯৯০-এর দশকে তিনি বার্ড কলেজের ফ্যাকাল্টি সদস্য ছিলেন। সেখানে তিনি অস্নাতক ছাত্রদের সাহিত্য পড়াতেন।

লাগোস-ইবাদান হাইওয়েতে ভয়ংকর গাড়ি দুর্ঘটনায় ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে তিনি চিরস্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। গতিবিধি হুইলচেয়ারেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। 

১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম উপন্যাস থিংস ফল এপার্ট প্রকাশিত হয়। বিশ্বের ৫০ টি ভাষায় অনুবাদ হয় গ্রামের ক্ষমতাশালী লোক ওকোনকোর উত্থান ও পতনের গল্প। এর দু’বছর পর প্রকাশিত হয় নো লঙ্গার অ্যাট ইজ এবং তারপর অ্যারো অফ গড। পরবর্তী উপন্যাস আ ম্যান অফ দ্যা পিপল মূলত দুর্নীতি, ক্ষমতার লড়াই নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক লেখা। 

ছোট গল্প, কবিতার সংকলন এবং শিশুসাহিত্যও রচনা করেছিলেন। গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখেন বিওঅ্যাব, সোল ব্রাদারসাভান্না ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত বহুবাচিক উপন্যাস। 

প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি খ্যাতিলাভ করেন মর্নিং ইয়েট অন ক্রিয়েশন ডে, হোপস এন্ড ইমপোর্টিমেন্টস্ এবং দীর্ঘ প্রবন্ধ দা ট্রাবল উইথ নাইজেরিয়া লিখে। মার্গারেট রং পুরস্কার ছাড়াও অনেক সম্মান পান তিনি। ২০০৭ সালের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার আন্তর্জাতিক খ্যাতি দেয়। 

১৯৮৩ সালে মালান আমিন কানোর মৃত্যুর পর তিনি পিপলস রিডেম্পশান পার্টির জাতীয় উপসভাপতি নির্বাচিত হন। নাইজেরিয়ার হাইনেমান এডুকেশনাল বুকস-এর পরিচালক হিসেবে প্রচুর আফ্রিকার লেখকদের বই ছাপিয়েছেন ও উৎসাহ দিয়েছেন। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দ্বিভাষিক পত্রিকা উহ্বা নাদি ইগোবো চালু করেন যা পরবর্তীকালে ইগবো শিক্ষার মূল্যবান উৎস হয়ে দাঁড়ায়। 

আকেবের নিজস্ব ভাষা হল প্রচলিত ইংরেজি সঙ্গে পিগডিন, অর্থাৎ ইগবো শব্দ, প্রবাদ, প্রকার ও বুলির মিশ্রণ। ম্যাড ম্যান গল্পে চরিত্রগুলি কেবল ইগোবো ভাষায় কথা বলে ও সেই সামাজিক রীতি মেনে চলে। 

আফ্রিকান গল্পে ইংরেজির ব্যবহারকে তিনি নিয়তই সমর্থন করে এসেছেন এবং আক্রমণ করেছেন সেই সব সমালোচকদের যাঁরা আফ্রিকার সাহিত্যকে তাঁর মত করে বুঝতে অক্ষম হয়েছেন। প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *