বিদ্যাসাগরকে ইংরেজ সরকার সি আই ই খেতাব দিলে গ্রাম থেকে এক শিক্ষক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসে জানতে চাইলেন,

‘সি আই ই-এর মানে কী।’

বিদ্যাসাগর গম্ভীরভাবে উত্তর দিলেন,

‘ছাই।’

.

.

কান্তকবি রজনীকান্ত সেন ছিলেন উকিল। তাঁর এক মক্কেল রামচন্দ্র ভাদুড়ি একদিন এসে বললেন,

‘রজনী, বন্ধুকন্যার বিয়েতে তো গেলে, তা কী দিলে ? খেলে কী ? পেলেই বা কী ?’

রজনীকান্ত বললেন,

‘ভোজশেষে দিলাম দৌড়, খেলাম আছাড় আর পেলাম ব্যথা।’

.

.

রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবসময়ই সভাসমিতি লেগেই আছে। এসময় একদিন নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়ের মেয়ের বিয়ে। তিনি রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিয়ের দিন কবিকে মহারাজা সকাল সকাল আসতে বলেছিলেন। কবি এলেন সন্ধ্যায়, হন্তদন্ত হয়ে। মহারাজ অনুযোগ করে বললেন,

‘আমার কন্যাদায়, কোথায় আপনি সকাল সকাল আসবেন, তা না, এত দেরি করে এলেন।’

কবি উত্তরে বললেন,

‘মহারাজ, আমারও মাতৃদায়। দু’জায়গায় সভা করে এলুম।’

.

.

হুতোম পেঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহের অনবদ্য রচনা। মূল মহাভারতের অনুবাদকও তিনি। অল্পবয়স থেকেই তিনি কৌতুকপ্রিয় ছিলেন। স্কুলের সহপাঠীদের হামেশাই তিনি মাথায় চাঁটি মারতেন। সহপাঠীরা একদিন শিক্ষকের কাছে নালিশ করল। কালীপ্রসন্নকে ডেকে শিক্ষকমশাই কৈফিয়ৎ চাইলেন। জবাব দিতে গিয়ে কালীপ্রসন্ন ভয় তো পেলেনই না উল্টে গর্ব করে বললেন,

‘আমি জাতে সিংহ। জাত্যাভিমান কিছুতেই ত্যাগ করতে পারি না, তাই এরকম করে থাকি।’ প্রতিভাস ম্যাগাজিন

সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *