প্রীতন্বিতা

কেপলার ১৮৬ এফ

এটি একটি গ্রহ। এই গ্রহটি আবিষ্কারের ফলে এটা নিশ্চিত যে পৃথিবীর আকারের গ্রহ অন্যান্য তারাদের এলাকায় অবস্থান করছে এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পৃথিবীর মতো আরো একটা জগতকে পাওয়ার এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া হলো।

এর আকার পৃথিবীর তুলনায় দশ শতাংশ বেশি। কিন্তু এর ভর, আকার ও আয়তন জানা নেই। আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল যে এটি পাথুরে হওয়ার সম্ভাবনা। এই আবিষ্কারের আগে পৃথিবীর আকারের গ্রহগুলির মধ্যে কেপলার ৬২ পৃথিবীর থেকে আকারে চল্লিশ শতাংশ বেশি ছিল। 

কেপলার ১৮৬ এফ তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে ১৩০ দিনে একবার এবং পৃথিবী সূর্য থেকে যা শক্তি গ্রহণ করে তার এক-তৃতীয়াংশ ভাগ গ্রহণ করে সে তার নক্ষত্র থেকে। যদি এই গ্রহের উপরিভাগে দাঁড়ানো যায় তার নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্য ভরদুপুরে আমাদের সূর্য ডোবার এক ঘন্টা আগের সূর্যের মতোই মনে হবে। 

কেপলার ১৮৬-এর পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে সিগন্যাস নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে কেপলার ১৮৬ এফ নিয়মে আছে। এই নিয়মে আরো চারটে গ্রহ রয়েছে একই কক্ষপথে। নক্ষত্রটি এফ ডোয়ার্ফ বা রেড ডোয়ার্ফ নামে চিহ্নিত যেগুলি ছায়াপথের সত্তর শতাংশ তারা দিয়ে তৈরি। এফ ডোয়ার্ফরা কোন অসংখ্য নক্ষত্রের সমষ্টি। তাদের নক্ষত্রের আকার ও ভর সূর্যের প্রায় অর্ধেক। 

নাসার কেপলার মহাকাশ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করেছেন যে প্রথম পৃথিবীর আকারের গ্রহ নক্ষত্রকে বাসযোগ্য এলাকায় প্রদক্ষিণ করছে। নক্ষত্র থেকে দূরত্বের মাত্রায় তরল জল হয়তো গ্রহের উপরিভাগে থাকে। এই আবিষ্কার নিশ্চিত করে যে পৃথিবীর আকারের অন্য কোন গ্রহ সূর্য ভিন্ন অন্য নক্ষত্রের বাসযোগ্য এলাকায় অবস্থান করছে। 

অন্য যেসব গ্রহ বাসযোগ্য এলাকায় আবিষ্কৃত হয়েছিল তারা পৃথিবীর থেকে অনেকটাই বড়। তুলনায় কেপলার ১৮৬ এফ পৃথিবীর মতো।

তবে বাসযোগ্য এলাকায় আছে মানে এই নয় যে গ্রহটি বাসযোগ্য। গ্রহটির তাপমাত্রা মূলত নির্ভর করে তার আবহাওয়ার ধরনের ওপর।

চারটি সঙ্গী গ্রহ কেপলার ১৮৬ বি, কেপলার ১৮৬ সি, কেপলার ১৮৬ ডি এবং কেপলার ১৮৬ ই তাদের নক্ষত্রকে যথাক্রমে প্রতি চার, সাত, তের এবং বাইশ দিনে ১ বার প্রদক্ষিণ করে। জীবন থাকার পক্ষে বড়ই উষ্ণ তাদের তাপমাত্রা এ কথা জানা গেছে। এই চারটি অভ্যন্তরীণ গ্রহের আকার পৃথিবীর দেড় গুণের কাছাকাছি।

এর পরের পদক্ষেপের গবেষণা হলো পৃথিবীর সমতল গ্রহের মধ্যে প্রাণের সন্ধান করা এবং তাদের রাসায়নিক গঠন বোঝা। 

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *