প্রীতন্বিতা
ইটি নগরালোকে
দুজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভিনগ্রহের সভ্যতাকে জানার জন্য এক নতুন কায়দার উদ্ভাবনা করেছেন। এই কায়দা হল, ভিনগ্রহীদের গ্রহের শহরগুলির আলো দেখা।
‘ভিনগ্রহের শহর খোঁজা দুরূহ ব্যাপার। তার জন্য ভবিষ্যৎ টেলিস্কোপ প্রজন্মের প্রয়োজন আছে। এছাড়া এর জন্য অতিরিক্ত সংস্থানের প্রয়োজন নেই। যন্ত্রসীমার মধ্যেই মানুষ আগামী বছরগুলিতে তা তৈরি করে নিতে পারবে এবং আমরা যদি সফল হই তবে তা আমাদের পৃথিবীতে অবস্থানজনিত ধ্যানধারণা বদলে দেবে।’ বলেছেন ওই গবেষকদের একজন।
তিনি আরো জানিয়েছেন যে যদিও সব বুদ্ধিমান ভিনগ্রহের লোক শহর বানায় না, তারা হয়তো রাত্রিবেলায় বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে জানে। এই আলো থেকে সংকেত নির্ধারিত হতে পারে।

এই আলো খুঁজে পাওয়া কতটা সহজ হবে? প্রথমে গ্রহের আলো থেকে এই আলোকে পৃথক করা দরকার। মাতৃতারকা থেকে যে আলো পড়ে গ্রহটি আলোকিত হয় তা বিকল্প আলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। যেমন ঘটেছে পৃথিবীর ক্ষেত্রে।
এই আলোর পরিবর্তনকে লক্ষ রাখতে হবে। গ্রহের কক্ষপথে প্রদক্ষিণের সময় যখন তার অন্ধকার দিকটা আসে তখন তার থেকে বিকল্প আলো বেশি দেখা যায়, দিনের আলোতে যা দেখা সম্ভব হয় না। এখনকার উন্নততম টেলিস্কোপেও সেই সামান্য সংকেত ধরা পড়ে না।
ওই গবেষকদের মতে, সবচেয়ে উন্নত টেলিস্কোপে বড়জোর একটা টোকিওর মত নগরীর আলো দেখা যায় কুইপার বেল্টের দূরত্ব থেকে যেখানে রয়েছে প্লুটো, এরিস ও হাজার হাজার ছোট বরফের টুকরো দিয়ে তৈরি অঞ্চল। তাই যদি সেখানে শহর থাকে এখন আমাদের চোখে তা ধরা পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীদের একজন বলেছেন, ‘আমাদের সৌরজগতের ধারে কোন ভিনগ্রহের শহর থাকার কথা নয়, কিন্তু বিজ্ঞানের নীতি হলো এটাকে পরীক্ষা করা।’ গ্যালিলিওর আগে একটা প্রাচীন ধারণা ছিল যে ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় তাড়াতাড়ি মাটিতে পড়ে। কিন্তু গ্যালিলিও প্রমাণ করে দেখান যে দুটো বস্তুই পড়তে একই সময় নেয়।
আরেকটি ভিনগ্রহ নিরীক্ষণ-এর প্রচেষ্টার কথা ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে, তা হল পৃথিবীর টেলিস্কোপ কোন রেডিও বা টেলিভিশনের সংকেত ধরতে পারে কিনা। কোন ভিনগ্রহের সভ্যতাও ওই প্রযুক্তি অবলম্বন করতে পারে। হয়তো এই কারণেই আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি রেডিও-দূরদর্শন সম্প্রচার থেকে কেবল ও ফাইবার অপটিক্সের দিকে এগিয়ে গেছে। বিকল্প আলোর সাহায্যে ইটিকে দেখার এটাই হতে পারে সবচেয়ে বড় উপায়। প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine
