সৌমিতা রায় চৌধুরী

পর্ব – ২০

আশির দশকে বলিউডে চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগ শুরু হয়। শিল্পী সত্ত্বার পাশাপাশি অর্থকরী দিকেও বলিউড চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এই সময়ের বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম হল ‘দোস্তানা’। 

রাজ খোসলা পরিচালিত ছবিটি সেই বছরে চতুর্থ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে বলিউডে জায়গা করে নেয়। ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন যশ জোহর। সেলিম জাভেদের গল্পের ওপর ভিত্তি করে চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। বিজয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন, শত্রুঘ্ন সিনহা করেছেন রবি চরিত্রের অভিনয়। গল্পের নায়িকা শীতলের চরিত্রে অভিনয় করেন জিনাত আমন। এছাড়া বিশেষ চরিত্রগুলিতে ছিলেন প্রেম চোপড়া, অমরিশ পুরী, প্রাণ এবং হেলেন। চলচ্চিত্রটির কালজয়ী গানগুলি পরিচালনা করেন লক্ষ্মীকান্ত প্যারেলাল। 

পুলিশ অফিসার বিজয় এবং আইনজীবী রবি অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। কর্মক্ষেত্রে কিন্তু বিজয় যেসব অপরাধীদের ধরে রবি তাদের পালাতে সাহায্য করে। দাগা এমনই এক অপরাধী। বিজয় এবং রবি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় শীতলের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং উভয়েই শীতলের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। বিজয় এবং শীতলের মধ্যে একটি প্রাথমিক সম্পর্ক তৈরি হয়। অভিন্ন হৃদয় বন্ধু হলেও বিজয় তার প্রেমের সম্পর্ক রবির কাছে প্রকাশ করেনি। অপরদিকে রবি বিজয়ের কাছে শীতলের প্রতি তার আসক্তির কথা জানায়। বিজয় মনে মনে ভেঙে পড়লেও রবির কাছে কিছু প্রকাশ করে না। বরং রবি যাতে তার ভালবাসার মানুষটিকে কাছে পায় সেইজন্য নিজের প্রেমকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

এদিকে দাগা রবিকে বিজয় এবং শীতলের একটি ছবি দেখিয়ে উভয়ের বিশ্বাস ভঙ্গ করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবি এবং বিজয় পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। এই ভুল বোঝাবুঝির পরিপ্রেক্ষিতে রবি দাগার পক্ষ নেয়। পরে সত্য জানতে পারলে রবি অনুতপ্ত হয়। দাগা রবি এবং শীতলকে আটক করে। বিজয় উভয়কে বাঁচাতে সেখানে আসে। দাগা তাকেও বেশ বেকায়দায় ফেলে। রবি এবং বিজয় সেখান থেকে কোনোক্রমে মুক্ত হতে সমর্থ হয় এবং দাগাকে তাড়া করে। দাগা বিজয়কে গুলি করার চেষ্টা করলে বিজয় আগেই সতর্ক হয়ে দাগাকে গুলি করে। দাগা নিহত হয়। এরপর উভয় বন্ধুর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটে। 

ছ’টি কালজয়ী গান দিয়ে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিংবদন্তি শিল্পী মহম্মদ রফি, কিশোর কুমার, আশা ভোঁসলে ও লতা মঙ্গেশকর এই ছবির গানগুলিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। মহম্মদ রফির কণ্ঠের “মেরে দোস্ত কিসসা ইয়ে কেয়া হো গয়া” মহম্মদ রফির একটি অনবদ্য কণ্ঠশিল্প। “সালামত রহে দোস্তানা হামারা” কিশোর কুমার ও মহম্মদ রফির এক অমর সৃষ্টি। কিশোর কুমারের কণ্ঠে “বহুত খুব সুরত এক লেড়কি” দর্শকদের মন জয় করেছে। আশা ভোঁসলে ও কিশোর কুমারের গাওয়া “দিললাগি নে দি হাওয়া” ছবিটিতে একটি রোমান্টিক মুহূর্ত সৃষ্টি করেছিল। “কিতনা আসান হি কহেনা ভুল যাও” গানটিকে লতা মঙ্গেশকর অমরত্ব দান করেছেন। 

১৯৮১ সালে ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের সেরা অভিনেতার পুরস্কার যুগ্মভাবে পেয়েছেন অমিতাভ বচ্চন ও শত্রুঘ্ন সিনহা। ওই একই পুরস্কার গীতিকার হিসেবে পেয়েছেন আনন্দ বক্সি। সেরা প্লেব্যাক গায়কের পুরস্কার লাভ করেন মহম্মদ রফি। 

প্রতিভাস ম্যাগাজিন | Prativas Magazine

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *